গাইনোকোলজিক্যাল সার্জারি - ভর্তি হবার দিন
নানা প্রশ্ন ভিড় করে হাসপাতালে ভর্তি হবার সময়। চশমা নেব? বই নেওয়া যাবে? বাড়ির ওষুধ নেব কি? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছি।
For English version of this article click here
গাইনোকোলজিক্যাল ওয়ার্ডে আপনাকে স্বাগত! গাইনোকোলজিক্যাল সার্জারি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ও আপনার মনে সার্জারির ভয় কাটাতে এই আর্টিকেল লিখেছি।
এখানে আপনি সার্জারির সময় ভর্তি হওয়া নিয়ে মনের অনেক প্রশ্নের উত্তর পাবেন। এরপরেও যদি আপনার কোনো প্রশ্ন থেকে থাকে, তবে ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীদের জিজ্ঞাসা করতে দ্বিধাবোধ করবেন না।
অ্যাডমিশন
চেকআপের সময় সার্জারির সিদ্ধান্ত নিলে, ডাক্তার আপনাকে হাসপাতালে ভর্তির একটি নির্দিষ্ট তারিখ বা ডেট দেবেন। এই দিনটি আপনার সুবিধা-অসুবিধার ওপর নির্ভর করে ঠিক করা হয়। অর্থাৎ, ওই নির্দিষ্ট দিনে যদি আপনার কোনো অসুবিধা থাকে, তাহলে আপনি ডাক্তারের কাছ থেকে আপনার সুবিধামতো ডেট চেয়ে নিতে পারেন।
ভর্তির দিন অহেতুক ভয় না পেয়ে বা তাড়াহুড়ো না করে, হসপিটাল অ্যাডমিশন ডেস্কে যোগাযোগ করুন এবং সমস্ত ফর্মালিটি যথাযথ ভাবে সঠিক জায়গায় পূরণ করুন।
এই সমস্ত কিছুতে আপনার আধঘন্টা থেকে একঘন্টা সময় লাগতে পারে। সমস্ত অফিসিয়াল কাজ শেষ হলে, স্বাস্থ্যকর্মীরা আপনাকে আপনার বেডে পৌঁছে দেবেন। আপনার সঙ্গে আপনার একজন আত্মীয় বা বন্ধু সেখানে যেতে পারেন। আপনি যদি কোনো পার্সোনাল কেবিনে থাকেন, তবে সেখানে আপনার সঙ্গে পরিবারের একজন সদস্য বা বন্ধু থাকার অনুমতি পেতে পারেন ।
এই ব্যাপারে বিভিন্ন হাসপাতালের নিয়ম আলাদা হতে পারে, তাই অ্যাডমিশনের সময় রিসেপশনে বিস্তারিত জেনে নিন ।
বাড়ির ওষুধপত্র
আপনি যদি নিয়মিত কোনো ওষুধ, যেমন ট্যাবলেট, চোখের ড্রপ, ইনহেলার ইত্যাদি নিয়ে থাকেন , তবে সেগুলি হাসপাতালে সঙ্গে করে নিয়ে আসুন। বাড়ি ফেরার সময় অব্যবহৃত ওষুধগুলো আপনি আবার বাড়িতে নিয়ে যেতে পারবেন।
আপনি যদি রক্ত পাতলা করার কোনো ওষুধ খান (যেমন অ্যাসপিরিন বা ক্লোপিডোগ্রেল),তবে হয়তো সেগুলো আপনাকে কিছুদিনের জন্য বন্ধ রাখতে হতে পারে। এই বিষয়ে সঠিক পরামর্শ আপনাকে ডাক্তারই দিতে পারবেন। এছাড়া HRT, ওরাল কন্ট্রাসেপটিভ পিল অথবা যে কোনো রকমের হার্বাল মেডিসিন যদি আপনি খান, সেগুলোও বন্ধ রাখতে হতে পারে।
যে ওষুধগুলো আপনাকে নিয়মিত বা মাঝে মাঝে নিতে হয়, সেগুলি একটি পরিষ্কার কাগজে বড় বড় অক্ষরে নাম এবং নেওয়ার সময়সহ লিখে আনুন।
ভিজিটিং আওয়ার্স
প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য একটি নির্দিষ্ট ভিজিটিং আওয়ার্স থাকে। হসপিটাল রিসেপশনে আপনার পেশেন্টের কেবিনের বা ওয়ার্ডের ভিজিটিং আওয়ার্স সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে নিন। কারণ, হাসপাতালে ওই নির্ধারিত সময়েই আপনাকে পেশেন্টের সঙ্গে দেখা করতে হবে।
হাসপাতাল একটি নির্দিষ্ট নিয়মে চলে; সেখানে সঠিক সময়ে পেশেন্টদের খাবার, ওষুধ ও বিশ্রাম দেওয়া হয়। এই সময়গুলি বাদ রেখেই ভিজিটিং আওয়ার্স ঠিক করা হয়, যাতে সংক্রমণের সম্ভাবনা সবচেয়ে কম থাকে।
আপনি যদি সেই সময়ের মধ্যে দেখা করতে না পারেন, তবে হসপিটাল রিসেপশনে কথা বলে পেশেন্টের সঙ্গে দেখা করার জন্য অন্য কোনো সময়ের অনুরোধ করতে পারেন।
ইলেকট্রনিক ডিভাইস
সারাদিনের অবসর সময় কাটানোর জন্য টিভি আছে, এমন কেবিন আপনি পছন্দ করতে পারেন। টিভি বিনোদনের একটি ভালো মাধ্যম। তবে, যদি আপনি শেয়ারড রুমে (Shared Room) থাকেন, টিভির আওয়াজ কম রাখুন যাতে অন্য পেশেন্টদের কোনোভাবে অসুবিধা না হয়। টিভির কেবল (Cable) কানেকশন যেহেতু এক্সটার্নাল এজেন্সির কাছ থেকে নেওয়া হয়, তাই টিভির চ্যানেল ঠিকঠাক না চললে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষে খুব তাড়াতাড়ি তা সারাই করা সম্ভব নাও হতে পারে।
অপারেশনের কিছুদিন পর থেকে মোবাইল ফোন নিজের সঙ্গে রাখতে পারেন। রুমের মধ্যে ফোনে খুব ধীরে কথা বলুন এবং অন্য পেশেন্টের বিশ্রামকেও গুরুত্ব দিন।
চশমা
সাধারণত, পেশেন্টরা যখন হাসপাতালে থাকেন তখন চশমা খুবই কম ব্যবহার করেন। তবুও আপনি প্রয়োজনে সঙ্গে রাখতে পারেন। অনেক পেশেন্ট আছেন, যাঁদের চশমা ছাড়া চলে না। তবে সবসময় হার্ড কেসে চশমা আনার চেষ্টা করবেন। নার্স আপনার ওষুধের দেখাশোনা করতে ব্যস্ত থাকবেন, তাই চশমার দায়িত্ব আপনার নিজের। কিছু চশমা খুবই মূল্যবান এবং পলকা ফ্রেমের হতে পারে। ভেঙে গেলে বা হারিয়ে গেলে যদি আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে, তবে সেই চশমা পরিবারের সদস্যদের কাছে রেখে আসাই ভালো।
দামি জিনিস
মূল্যবান জিনিস যেমন গয়না, ঘড়ি ইত্যাদি হাসপাতালে আসার আগে বাড়িতে রেখে আসবেন। হাসপাতাল খুব ব্যস্ত জায়গা। এসব চুরি বা নিখোঁজ হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার দায়িত্ব নেয় না।
অ্যাডমিশনের আগে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ
সার্জারির কিছুদিন আগে থেকে ডায়েট মেন্টেন করার জন্য ডাক্তারবাবুই পরামর্শ দেবেন। সার্জারির আগে কী কী খাবেন, কোন সময়ে খাবেন, অথবা কী কী খাবেন না, তা বিস্তারিতভাবে ওনার কাছ থেকেই জেনে নিন।
আপনি যদি বাড়ি থেকে সোজা সার্জারির জন্য হাসপাতালে আসেন, তবে স্নান করে আসুন। অপারেশনের পর কিন্তু আপনি কয়েকদিন স্নান করতে পারবেন না ।
হাসপাতালে আসার সময় আপনার সমস্ত টেস্ট রিপোর্ট এবং পুরনো প্রেসক্রিপশন আনতে ভুলবেন না। সেগুলো দেখেই অনেক সময় আপনার অপারেশন ও ওষুধের ডোজ কী হবে, তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ।
যে ওষুধগুলি আপনাকে নিয়মিত খেতে হয়, সেগুলো আলাদা কোনো বক্সে আনুন এবং দেখে নিন ওষুধের নাম ও এক্সপায়ারি ডেট সেখানে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে কি না। এতে সার্জারির পর ডাক্তার বা নার্সদের ওষুধ দিতে কোনো অসুবিধা হবে না।
সঙ্গে আনুন আধার কার্ডের ফটোকপি বা পাসপোর্ট। ইন্স্যুরেন্স থাকলে তার কাগজপত্রও সঙ্গে রাখুন।
হাসপাতালে আপনি আপনার সঙ্গে যে জিনিসগুলো আনতে পারেন:
ড্রেসিং গাউন / হাউস কোট
লিপ বাম
ময়েশ্চারাইজার
আপনার পছন্দের চিরুনি (যদিও হাসপাতালে সাধারণত আপনাকে নতুন চিরুনি দেওয়া হয়)
বিশ্রামের সময় পড়ার জন্য কিছু বই
স্যানিটারি প্যাড/ন্যাপকিন - বাড়ি ফেরার সময় কাজে লাগবে
রাস্তায় পরার উপযুক্ত কিন্তু ঢিলেঢালা এক সেট জামা (বাড়ি ফেরার সময় কাজে লাগবে)
হেডফোন বা কিছু নিত্য প্রয়োজনীয় প্রসাধনী; আপনার কাছে ফোন থাকলে তার চার্জার
এছাড়াও আপনি আপনার সঙ্গে অল্প কিছু খাবার ও স্বাস্থ্যকর পানীয় আনতে পারেন। তবে মাথায় রাখবেন, এমন কিছু খাবার বা পানীয় আনবেন না যার ফলে কোনো সংক্রমণের বা অ্যালার্জির সম্ভাবনা থাকে।
(সারা পৃথিবীতেই দেখেছি হাসপাতালে ন্যূনতম জিনিস নিয়ে পেশেন্ট কে এডমিশন নিতে বলা হয়। এর বোধহয় একটিই কারণ- যাতে কোনও জিনিস হারিয়ে গেলে বা ভেঙে গেলে হাসপাতালের ওপর দোষ না আসে। হাসপাতাল এমনিই ব্যস্ত জায়গা। সেখানে বাস্তবেই অন্যদিকে নজর দেওয়া সম্ভব না। আপনার খুব দরকারি বা বিনোদনের হেডফোন টাইপের কিছু আনতে রিসেপশন এ আগেই কোথা বলে নেওয়া ভালো।)
আপনার সার্জারি ভালো হোক এই শুভ কামনা রইল।
This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice.
Search tool: Admission Day Regular Medicine Visiting Hours Hospital Reception Day Care







