পার্সোনালাইজড গাইনোকোলজি
পার্সোনালাইজড মেডিসিনের এর চারটি ধাপ রয়েছে, কীরকম? একি খায়? না গায়ে মাখে?
এখানে রইলো এই টপিকের বাংলা ভার্সন
For the English Version of this topic click here
🎡 চাকা আবিষ্কারের পর বিজ্ঞান বোধহয়, এত বড় বৈপ্লবিক আবিষ্কার আর করেনি।
পার্সোনালাইজড মেডিসিনের এর চারটি ধাপ রয়েছে, ইংরেজিতে যাকে বলা হয় চারটে P’s,
PREDICTION and PREVENTION OF DISEASE
PRECISE DIAGNOSIS
TARGETED and PERSONALIZED INTERVENTION
MORE PARTICIPATORY ROLE FOR PATIENT
🙄 কিন্তু একি খায়? না গায়ে মাখে?
কীরকম? জামা কিনতে গিয়ে অনেকেই আমরা দোকানে যা রেডিমেড জামা পাই তাই নিয়ে ফেলি। তারপর হয়তো ট্রায়াল রুমে গিয়ে সেটা পড়ে দেখি, সেটা আমাদের বড় হচ্ছে না ছোট হচ্ছে। তারপর বিল দিয়ে বাড়িতে ফেরত।
🤦🏽♀️ বাড়িতে এসে দেখতে পাই কখনো হাতাটা একটু বেশি লম্বা, কলারটা একটু ছোট। পেটের কাছটা একটু টাইট।🧐 সুতরাং যা জামা কাপড় আমরা কিনে নিয়ে আসি তা অনেক সময় আমাদের সঠিক মাপের হয় না। অনেক ক্ষেত্রেই কেনা জামা প্যান্টগুলো আবার অল্টারেশন করার দরকার হয়। নয়তো মনকে বলতে হয় - ও একটু এদিক ওদিক করে হয়ে যাবে।
😤 এরকম দায়সারা ভাব ফ্যাশনে চলতে পারে কিন্তু আধুনিক মেডিক্যাল সাইন্সে? নইব নইব চ।
👉🏾 কিন্তু চাইলেই কী তাই পাওয়া যায়? শতাব্দী পুরনো যে মেডিক্যাল সাইন্স রয়েছে, তার ধারণাটাও অনেকটা রেডিমেড জামা কেনার মতো। কয়েকটা ওষুধ আর সার্জারি আছে -
👴🏼 মোটের ওপরে কোনটা কোন পেশেন্টের জন্য কাজে লাগে- সেই রকম ভাবে পেশেন্ট কে ট্রিটমেন্ট করা হয়।
সেটা ট্র্যাডিশনাল ট্রিটমেন্ট।
👉🏾 কিন্তু অনেক সময় সেই চিকিৎসা পেশেন্টের চাওয়া,পাওয়া, নিজস্ব ইচ্ছে-অনিচ্ছের অংক মেলাতে অক্ষম। জীবন বাঁচলেও জীবনটা ঠিক যেন সেজে ওঠেনা।
👉🏾 গাইনোকোলজি মেডিকেল সাইন্সের এমন একটা বিভাগ যেখানে শুধুমাত্র চিকিৎসা নয়, গাইনোকলজিক্যাল অঙ্গ গুলোর সাথে মিশে থাকে মহিলার আবেগ অনুভূতি। emotion। মহিলাদের সাথে জড়িয়ে থাকে তার পরিবার আর সমাজের নানা রকম আশা-ভরসা।
👉🏾 চিকিৎসাতে এই চাহিদার মধ্যে কিছু-কিছু চাওয়া-পাওয়া সব মহিলার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা সার্বজনীন। যেমন, অপারেশনে যেন কষ্ট কম হয়, ব্যথা কম হয়, তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে পারি, রক্তপাত যেন কম হয়।
👉🏾 কয়েক শতাব্দীর এই সার্বজনীন আশা-আকাঙ্ক্ষা গুলোর সাথে আজকাল মিশেছে এক অন্য ধরনের দিক। কীরকম?
🩸 কিছু কাল আগেও পিরিয়ডের সমস্যার জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দিগ্বিদিগ জ্ঞানশূন্য হয়ে, করিয়ে নিতেন hysterectomy,
আর আজকে সেই মহিলারাই জানতে চেষ্টা করেন যে বড় অপারেশনের না গিয়ে hysteroscopy বা অন্য কোনও উপায় আছে কিনা। যাতে তার সমস্যা লাঘব হয় অথচ ইউটেরাসও কেটে বাদ না দিতে হয়।👉🏾 আজকাল অনেক মহিলাই সমাজের নানা স্তরে গুরুত্বপূর্ণ পদে। চাকরি করছেন। অনেকেই কর্মস্থলে এতটাই ব্যস্ত যে তিনি যদি একমাস ছুটি নিয়ে থাকেন তাহলে হয়তো তার কাজের জায়গায় একটা বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
👉🏾 সুতরাং ওনার দাবি থাকতেই পারে যে ওনার ট্রিটমেন্টের অপশন গুলো যেন আলাদা ভাবে ভাবা হয়। কেউ কেউ হয়তো পাহাড়ে চড়তে ভালোবাসেন। তাদের এমনভাবে অপারেশন করতে হয়। যাতে অপারেশন করার কিছু মাস বাদে আবার দিব্যি নন্দা দেবী ট্রেকিং করতে পারেন।
👉🏾 আবার ধরুন, কোন মহিলা হয়তো ক্যান্সার হওয়ার পরেও বলছেন যে উনি মা হতে চান। আজকাল বিজ্ঞান এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যে ওনাকে ট্রিটমেন্ট করে মাতৃত্বের স্বাদ দেওয়া সম্ভব।
👉🏾 আরও একটা উদাহরণ দেই। আজকাল কিছু মহিলার সেক্সুয়াল অরিয়েন্টেশন পাল্টে গেছে। কেউ কেউ হয়তো জন্ম থেকেই মহিলা বা নারী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন। আবার কেউ কেউ হয়তো জেনেটিকভাবে মহিলা হলেও তার সামাজিক পরিচয় ‘পুরুষ’ হিসেবে। এদের ক্ষেত্রে আবার গাইনোকলজিক্যাল সমস্যাগুলোর ট্রিটমেন্ট আলাদাভাবে করতে হয়।
👉🏾 মোটের ওপরে গাইনোকলজির সাথে আবেগ-আধ্যাত্মিকতা-একান্ত ব্যক্তিগত চাওয়া, পাওয়া- এই ব্যাপারগুলো আগে অবজ্ঞা করে হেসে উড়িয়ে দিলেও, আজ বিজ্ঞান এমন অবস্থায় পৌঁছে গেছে, যেখানে এইসব মানসিকতা গুলোকে সম্মান দিয়েই মহিলাটির ট্রিটমেন্ট চলতে পারে।
👉🏾 সুতরাং দেখা যাচ্ছে প্রত্যেকটি মহিলার গাইনোকলজিক্যাল সমস্যা এক হলেও তার ট্রিটমেন্টটা পার্সোনালাইজড বা এক একজনের ক্ষেত্রে একেক রকম। আলাদা।
🌊 এবার একটু গভীরে যাই।
👉🏾 প্রত্যেকটি মানুষেরই জেনেটিক প্রোফাইল আলাদা। যত দিন যাচ্ছে মানুষের আলাদা আলাদা জেনেটিক প্রোফাইলের ব্যাপারে জানতে পারছে বিজ্ঞান। কিছু ক্ষেত্রে বিজ্ঞান এটাও জানতে পারছে যে কোন মহিলার ক্ষেত্রে কোন ট্রিটমেন্টটা আরো ভালোভাবে কাজ করে।
এক্ষেত্রে বোধহয় সবথেকে বেশি অবদান রেখেছে ক্যান্সার বিজ্ঞান। যেখানে আমরা জানতে পারছি যে কোন কোন জেনেটিক মিউটেশনে ঠিক কি কি ধরনের ট্রিটমেন্ট- যেমন কোন সার্জারি, কোন কেমো, বা কী টার্গেটেড থেরাপি কাজ করবে।
👌🏽 এবার একটা অন্য আঙ্গিক।
যেকোনো চিকিৎসার মত গাইনোকলজিতেও early detection বা তাড়াতাড়ি কোন অসুখ নির্ণয় করে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
👉🏾 এযাবৎ কাল এই সমস্ত নির্ণয় গুলো হয়ে আসছিল উপসর্গ-ভিত্তিক। যেদিন শরীর খারাপ হলো সেদিন ডাক্তারের কাছে যাওয়া। এতে অনেক অসুখ ভালো করা গেলেও, অনেকগুলোই আর কিওর হচ্ছে না।
🛣️ তাই আজ বিজ্ঞান হাঁটছে অন্য রাস্তায়।
👉🏾 এ এমন অবস্থায় পৌঁছে গেছে বা পৌঁছে যাচ্ছে যেখানে আমরা রিস্ক ফ্যাক্টর ভিত্তিক ডায়াগনোসিসের পথে হাঁটছি। যেখানে দেখা যাচ্ছে যে আমার যদি এই জেনেটিক মিউটেশন থাকে বা আমার ফ্যামিলিতে এই ধরনের অসুখ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে, আমার ক্ষেত্রে ডিটেকশনের ব্যাপারটা আলাদা হবে।
🧐 উপসর্গ আসার আগেই অসুখের বিনাশ হয়ে যাবে।
👉🏾 কারোর ফ্যামিলিতে যদি ওভারি বা ব্রেস্টে ক্যান্সার থেকে থাকে তাহলে, তার মেয়ে বা নাতনিদের সম্পূর্ণ অন্যভাবে ফলোআপ করা হয়। যাতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অসুখটা ধরে তাকে দীর্ঘ জীবন দেওয়া যায়।
🎡 চাকা আবিষ্কারের পর বিজ্ঞান বোধহয়, এত বড় বৈপ্লবিক আবিষ্কার আর করেনি। শরীরের সমস্ত জিন যখন পড়ে ফেলতে পারল মানুষ, তখন দেখতে পেল আমাদের শরীরে প্রত্যেকেরই কিছু জেনেটিক মিউটেশন বা জিনের মধ্যে কিছু কিছু খুঁত রয়েছে।
🧐 এই খুঁত নিয়ে আমরা বেঁচে থাকি। প্রত্যেকের মধ্যেই সেটা আছে। ছোট একটা উদাহরণ দিই।
এর মধ্যে একটা উল্লেখযোগ্য জেনেটিক মিউটেশনের নাম BRCA জেনেটিক মিউটেশন।একটা স্পেশাল মিউটেশন। এই মিউটেশন, ফ্যামিলিতে একজন কারোর থাকলেই প্রত্যেক বংশধরের সেই জেনেটিক মিউটেশন থাকবে। এই মিউটেশনে তৈরি হয় ক্যান্সার। ছেলেদের হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে লাং, প্রোস্টেটের ক্যান্সার।👩🏽 মেয়েদের ক্ষেত্রে ব্রেস্ট, ওভারি, ইউটেরাস এর ক্যান্সার। একটা বড়সড় সংখ্যায়। কিন্তু এখানেই বিজ্ঞানের সাফল্য।
👉🏾 ক্যান্সার বলেই এমন নয় যে তার মৃত্যু আসন্ন। অনকোজেনেটিক প্রোফাইলে এই সমস্ত মহিলারাও আজকাল সুস্থ নিরোগ জীবনের অধিকারিণী হচ্ছেন।
শুধু কী এটাই? আরও আছে।
🔬 আগে ক্যান্সার শুধুমাত্র স্টেজিং বা গ্রেডিং করে বিভক্ত করা হতো। মাইক্রোস্কোপে দেখে। যার যত বেশি স্টেজিং তার তত বেশি শক্তিশালী এবং জটিল ট্রিটমেন্ট দরকার হতো।
👉🏾 আজকালকার দিনে স্টেজিং গ্রেডিং এর সাথে চলে আসছে জেনেটিক প্রোফাইলিং।
👉🏾 এক নম্বর বা প্রাথমিক স্টেজের ইউটেরাস ক্যান্সারকে আরও চারটে ভাগে ভাগ করে ফেলা হচ্ছে। কার ক্ষেত্রে কি ধরনের ট্রিটমেন্ট লাগবে সেগুলো নির্ণয় করে দিচ্ছে সেই ইউটেরাসে ক্যান্সারের জেনেটিক প্রোফাইল।
👉🏾 এমন যদি জেনেটিক প্রোফাইল হয় যে যেখানে আমাদের আরো বেশি আগ্রাসী ট্রিটমেন্ট দরকার, সেখানে তত শক্তিশালী ট্রিটমেন্ট করা হচ্ছে। জেনেটিক স্টাডি না করা গেলে হয়তো চিকিৎসা থেকে যেত অপূর্ণ।
👉🏾 আর যে জেনেটিক প্রোফাইলে দেখা যাচ্ছে, তার অতগভীরে ট্রিটমেন্ট না করলেও হবে তার ক্ষেত্রে অপারেশনের মাত্রা কমে আসছে, চিকিৎসার তীব্রতা কম হলেও চলছে। খরচ বাঁচবে আর তিনি ভালোভাবে তিনি জীবন যাপন করতে পারবেন।
👉🏾 এই জেনেটিক প্রোফাইল গুলোর উপরে ভিত্তি করেই কার কার ক্ষেত্রে কি রকম কেমো লাগবে সেগুলো নির্ণয় করা হচ্ছে।
🧐 কারণ চিকিৎসা বিজ্ঞানের লক্ষ্য একটাই। সেটা কী?
👉🏾 অসুখ তো ছিল,আছে, থাকবে। কিন্তু এমনভাবে আধুনিক ট্রিটমেন্টগুলো সাজাও যাতে সেই অসুখ এর ট্রিটমেন্ট হওয়ার পরেও ন্যূনতম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নিয়ে মহিলাটি বেঁচে এবং আনন্দে বেঁচে থাকতে পারেন অনেক বছর ধরে।
👉🏾 চলে এসেছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স। মানুষের জেনেটিক প্রোফাইলে থাকে লক্ষ কোটি জেনেটিক মিউটেশন। এই জেনেটিক মিউটেশনের পরেও আমরা কিভাবে নিজেদের গড়ে পিটে নেব - তার দিক নির্দেশ করবে AI।
👉🏾 আমাদের চারপাশের পরিবেশ থেকে আসা কেমিকাল, আপনার নিজের জীবনযাত্রার স্টাইল, খাদ্যঅভাসের সাথে, এই লক্ষ লক্ষ অনিশ্চিত মিউটেশনের মিশ্রণে আপনার ষাট বছর পরে ভবিষ্যৎ কিরকম হবে? কিছুদিনের মধ্যে সে ব্যাপারেও বলে দেবেন ডাক্তারবাবুরা।
👉🏾 তবে সে যাই হোক না কেন, সব কথার মূল কথা একটিই। অসুখগুলো যেন আরো তাড়াতাড়ি নির্ণয় হয়। স্বাস্থ্য - সচেতনতা এক্ষেত্রে এক বড় ভূমিকা নিচ্ছে। সচেতনতা থাকলেই আমরা জানতে পারবো যে কিরকম ভাবে অসুখগুলো প্রতিহত করা যায়, কখন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে, আর কোন ডাক্তারের কাছেই বা যেতে হবে।
🖐🏼 পার্সোনালাইজড মেডিকেশন এর চারটি ধাপ রয়েছে, ইংরেজিতে যাকে বলা হয় চারটে P
1 PREDICTION and PREVENTION OF DISEASE (জন্মের পর থেকেই জেনে ফেলা - এর কী সমস্যা হতে চলেছে। যাতে আগে থেকেই জীবনযাত্রা পরিবর্তন করে এড়ানো যায় সেসব)
2 PRECISE DIAGNOSIS (শুধু অসুখ না, তার তীব্রতা কত হতে চলেছে জানতে পারলে চিকিৎসা হবে আরও সফল। আরও জীবনমুখী)
3 TARGETED and PERSONALIZED INTERVENTION (কার ক্ষেত্রে কোন ওষুধ বা কোন সার্জারি কাজ করবে)
4 MORE PARTICIPATORY ROLE FOR PATIENT ( যেখানে পেশেন্ট নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন ভালো মন্দ বিচার করে। কারণ তিনি নিজের ভবিষ্যৎ আরও ভালভাবে দেখতে পারবেন জেনেটিক তথ্য জানতে পারলে )
👉🏾 আজ বিজ্ঞান জেনেটিক প্রোফাইল গুলো দেখে বেশ কিছু ক্ষেত্রে বলে দিতে পারে যে কোন মেডিসিন কার ক্ষেত্রে কাজ করবে। বাজার চলতি যত মেডিসিন রয়েছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কার্যক্ষমতা 60 থেকে 70% এর বেশি নয়।
কিন্তু ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাওয়া পাওয়া তো আরো বেশি।
👉🏾 এটা ঠিকই যে এই কম কাজ করা ওষুধপত্রগুলো নিয়েই আমাদের গড় আয়ু ২৫ থেকে বেড়ে আজ ৮০ বছর ছুই ছুঁই। তাহলে বুঝতেই পারা যাচ্ছে যেদিন ওষুধপত্রগুলো আরো ক্ষমতাশালী হবে সেদিন আমাদের জীবন যাত্রার মান কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। ভবিষ্যৎ সত্যিই উজ্জ্বল।
This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice.
Reference
[1]
Genomics England, “100,000 Genomes Project,” Genomics England. Accessed: Mar. 11, 2024. [Online]. Available: https://www.genomicsengland.co.uk/initiatives/100000-genomes-project
[2]
NHS England, “NHS England » Taking a more personalised approach to diagnosis and care.” Accessed: Mar. 11, 2024. [Online]. Available: https://www.england.nhs.uk/blog/sue-hill/
Search tool: Personalised Gynaecology Gynecology Precision Oncology AI Genetic Molecular profiling













