অস্টিওপোরোসিস - কিছু সমাধান
হেরে যাওয়া খেলা শুধু সৌরভ শচিন কোহলি জেতান না। আপনিও পারবেন - যদি কৌশল জানেন।
অনেক সময়েই হাতে পায়ে শরীরে ব্যথা। একটু বয়স হলেই হাড় ভেঙে হাসপাতালে ভর্তি। এক গাদা টাকা খরচ। এত ঘরে ঘরে। পঁচিশ তিরিশ বছরে এই সমস্যা শুরু হয় কিন্তু বোঝা যায় না। হাড় নষ্ট হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ওস্তাদের দাবার চালের মতো আপনি উল্টে দিতে পারেন। সেই সন্ধান রইলো এখানে। বয়সকালে ভালো থাকতে হলে ভালো হাড়ের জন্য ভালো অভ্যাস গড়তে হবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।
ভারতে 30% মহিলা অস্টিওপোরোসিস ভোগেন। অর্থাৎ প্রতি তিনজন মহিলার মধ্যে একজন। তবে শুধু মহিলারাই নন, অনেক ভারতীয় পুরুষও অস্টিওপোরোসিস ভুগে থাকেন।
ভারতবর্ষের মতো দেশে তাই অর্ধেকের বেশি মানুষ, দুর্বল হাড় নিয়ে জীবন কাটান। সারা পৃথিবীতেই অস্টিওপোরোসিস কম বেশি এক সমস্যা। কিন্তু উন্নত দেশে যে বয়সে অস্টিওপোরোসিস আসে তার 20 বছর আগে ভারতীয়দের এই রোগ আক্রমণ করে। দ্বিতীয়বার এটা ভাবলেই বুঝতে পারবেন পৃথিবীর সব থেকে বেশি হাড় হালকা মানুষ আমাদের দেশে। ভারতীয় জনসংখ্যা অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় অস্টিওপোরোসিসে বেশি ভুগবে যদি না আমরা এর বিরুদ্ধে সতর্কতা অবলম্বন করি।
🟩 অস্টিওপোরোসিস নিয়ে এত হইচই কেন?
আমাদের গড় আয়ু এখন অনেক বেশি তাই, অস্টিওপোরোসিসের মতো সমস্যাগুলি বয়সকালে আমাদের আগের চেয়ে আরও বেশি বছর ধরে আমাদের ক্ষতি করতে থাকে।
সংখ্যাতত্বের হিসেবে, যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে যে আপনি বা আপনার কাছের এবং প্রিয়জন অস্টিওপোরোসিসে খারাপভাবে আক্রান্ত হতে পারেন। যদি না এর বিরুদ্ধে সঠিক সময় আমরা সঠিক ব্যবস্থা নি। যে ভবিষ্যতের দিকে ভারত এগিয়ে চলেছে, তাতে কোন সন্দেহ নেই, আগামী ভবিষ্যতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অস্টিওপোরোসিসের পেশেন্ট পেতে চলেছে ভারতের হাসপাতাল।
অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে যথাসময়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়াই হল আসল কাজ। আমাদের প্রতিদিনের কাজকর্মের মাধ্যমে অস্টিওপোরোসিসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
🟩 অস্টিওপোরোসিস কি?
চলুন বুঝে নি অস্টিওপোরোসিসের কি?। অস্টিও মানে হাড়; -পোরোসিস মানে, হাড় ফুটো এবং দুর্বল বা ভঙ্গুর হওয়াকে বোঝায়। এইরকম হাড় সহজেই ফ্র্যাকচার হতে পারে, যা চিরজীবনের মতো আমাদের পঙ্গু করে দিতে পারে। এমনকি যদি আমাদের ফ্র্যাকচার নাও হয়, তবে রোগটি আমাদের দৈনন্দিন কাজ এবং এক্সারসাইজ করার ক্ষমতা খুব খারাপভাবে কমিয়ে দিতে পারে। তবে এর থেকে উদ্ধারের কৌশল আছে।
🟩 অস্টিওপেনিয়া কি?
মানুষের দেহের কোন হাড় নরমাল থেকে অস্টিওপোরোসিসের পর্যায়ে যাবার আগে, একটি মধ্যবর্তী পর্যায়ে যায়। একে বলে অস্টিওপিনিয়া। আবার অস্টিও মানে হাড় আর পিনিয়া মানে কম।
🟩 আমাদের শরীরে হাড়, কি কাজ করে
হাড় আমাদের শরীরকে শক্তি এবং সাপোর্ট দেয়। হাড় না থাকলে আমরা নরম প্রাণীর মতো মাখনের বল হয়ে থেকে যেতাম। হাড় দেয় আমাদের সুরক্ষাও । হাড় আমাদের নড়াচড়া, হাঁটা, দৌড় ইত্যাদি করতে সাহায্য করে। এছাড়াও হাড় হল শরীরে ব্লাড সেল তৈরি হবার অন্যতম বড় কারখানা। ব্লাড আমাদের শরীরে অক্সিজেন বহন করে এবং রোগ ও ক্যান্সারের বিরুদ্ধে আমাদের প্রয়োজনীয় ইমিউনিটি দিয়ে থাকে।
হাড় ক্যালসিয়াম মেটাবলিজমের জন্য বিশেষ ভূমিকা নেয়। ক্যালসিয়াম জমিয়ে রাখে হাড়। কোন এমার্জেন্সি তে শরীরের সবচেয়ে বেশি যখন ক্যালসিয়াম প্রয়োজন হয়, তখন তা খরচ করে।
🟩 অস্টিওপোরোসিসের কি ?
হরমোনের পরিবর্তন অস্টিওপোরোসিসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলির মধ্যে অন্যতম, যা পুরুষ এবং মহিলা দুজনের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক বয়স বাড়ার পার্ট হিসাবেই ঘটে।
তা ছাড়াও, অফিস-বাড়িতে বসে-বসে কাজ এবং খাবারে ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনের ঘাটতি, অস্টিও-আর্থ্রাইটিস বা দুর্বল হাড়ের পারিবারিক ইতিহাস, - এ সবই পরবর্তী জীবনে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। এছাড়াও যারা ক্যান্সারে আক্রান্ত, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি চললে এবং স্টেরয়েড ওষুধের অনেকদিন ব্যবহার এই রোগের ঝুঁকিকে কয়কাংশে বাড়িয়ে তোলে।
🟩 আমরা কিভাবে পাল্টাতে পারি?
জীবনে আমাদের প্র্যাকটিকাল হতে হবে। আমাদের শরীরে হরমোনের পরিবর্তন স্বাভাবিক, একে আমরা আটকাতে পারবো না। হরমোনের পরিবর্তন ঘড়িও থামাতে পারবো না। আমরা আমাদের ফ্যামিলি হিস্ট্রি এবং জিন পাল্টে ফেলতে পারব না। সত্যি কথা বলতে গেলে, অস্টিওপোরোসিসের কারণগুলির বেশিরভাগই আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
তা বলে কি কোন উপায় নেই?, নিশ্চয়ই আছে- অস্টিওপোরোসিসের সবচেয়ে প্রভাবশালী দুটি কারণ পরিবর্তন করা কিন্তু আমাদেরই হাতে।
◉ 1) আমাদের শারীরিক কার্যকলাপ এবং
◉ 2) খাদ্যাভ্যাস। আমরা যদি একটু সঠিক ডায়েট মেনে চলি
◉ এবং 3) শারীরিক এক্টিভিটিতে জোর দিই, তবে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ অনায়াসেই আরো ভালো করতে পারি।
🟩 আমরা কি সত্যিই হাড় ভালো করতে পারি?
এটা অনিবার্য যে আমরা বয়সের সাথে সাথে, আমাদের হাড়ের কিছু অংশ হারাবো। মানুষের শরীর প্রতি সেকেন্ডে কিছু হাড় তৈরি করে এবং কিছুটা ভাঙে।
এ প্রক্রিয়া চলতেই থাকে। বলা যেতে পারে এ শরীরের এক স্বাভাবিক ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। ব্যাপারটা কিছুটা মজার তাইনা? কিন্তু এখানেই লুকিয়ে আছে ভালো হাড়ের চাবিকাঠি।
কিন্তু এখন, কিছু চমকপ্রদ সত্যের জন্য নড়েচড়ে বসুন। আপনি যখন 12 বছর বয়সী একটি মেয়ে ছিলেন, তখন আপনার 206 টা হাড় ছিল। যখন 62 বছর, তখনও 206- সংখ্যা এক দেখতে এক, কিন্তু একই উপাদান থেকে নয়। তারা একই ক্যালসিয়াম বা ফসফরাস অণু থেকে তৈরি হবে না।
বুঝতে অসুবিধে হলে একটা এক্সাম্পল শুনুন। ধরুন আপনার ফ্ল্যাটের ইঁট গুলো প্রতি ঘণ্টায় পাল্টে যাচ্ছে। আপনার অজান্তে রাজমিস্ত্রী পুরনো গাঁথনির ইঁট একটা একটা করে সরিয়ে নতুন তাজা ইঁট দিয়ে দিচ্ছেন । দশ বছর পরে দেখলেন পুরনো একটা ইঁট -ও নেই। বাড়ি এক, ডিজাইন এক, ঘরের টেবিলের ফুলদানিও একচুল নড়ে নি। কিন্তু দেওয়ালের ইঁট সব পাল্টে গেছে। দেওয়ালে যা ফাটল, ফুটিফাটা সব সেরে গেছে। আপনার বিল্ডিং মজবুত হয়ে গেছে আগের থেকে বেশ কয়েক গুণ।
না, কল্পবিজ্ঞানের গল্প নয়। আমাদের শরীর প্রতিমুহূর্তে আমাদের সুযোগ দিচ্ছে আমাদের পুরনো ভুলচুক সারিয়ে দেওয়ার।
আমাদের শারীরিক প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে প্রতি ঘন্টায় হাড়ের ক্যালসিয়াম কণা শরীর থেকে ইউরিন দিয়ে বের করে দেয়। যদি আপনি শরীরকে উপযুক্ত পরিবেশ দেন তাহলে শরীর আবার নতুন কাঁচামাল থেকে শক্তিশালী হাড় আবার তৈরি করবে।
এই ঘটনাটি আমাদের শরীরকে পুনরায় সংশোধন করার এক সুযোগ দেয়। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এই প্রক্রিয়াটির 'মেকিং' এর যে অংশ তাকে উন্নত করা। যাতে আমাদের শরীর মজবুত হাড় তৈরি করতে আরও উৎসাহিত হয়। তার আগে দেখে নিন দুর্বক হাড় টেস্ট করার কি কি উপায় আছে।
🟩 আমার হাড় দুর্বল হলে কিভাবে বুঝব?
হাড়গুলি পাতলা কিংবা দুর্বল হতে শুরু করলে আমাদের ব্যথা বেদনা শুরু হয়ে যেতে পারে। কিন্তু ব্যথা মানেই অস্টিওপোরোসিস নয়। একটি অপেক্ষাকৃত সস্তা পরীক্ষা আছে যা বোন মিনারেল ডেনসিটি টেস্ট নামে পরিচিত। ব্যথা বাড়লে এরকম টেস্ট করে দেখতে পারেন। এগুলি, ডাক্তারবাবুরা আপনার হাড়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য ব্যবহার করেন। এই পরীক্ষাগুলি বোন ডেনসিটি টেস্ট বা DEXA স্ক্যান নামেও পরিচিত। এগুলি সহজ পরীক্ষা, এই টেস্টে আপনার কোন ব্যাথা লাগে না। টেস্ট গুলো জানার জন্য এই লিংকে ক্লিক করে পড়ে নিতে পারেন।
🟩 আমার হাড় কখন রক্ষা, শুরু করা উচিত?
প্রতিবারের মতো, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই শ্রেয়। এবং আমরা আপনাকে খুব জোর দিয়ে সুপারিশ করব হাড় দুর্বল হতে শুরু করার আগে-ই আমাদের সুরক্ষার দিকে কাজ করতে হবে। তার মানে আমাদের 12 বছর বয়সের পর থেকেই ফিজিক্যাল এক্টিভিটি চালিয়ে যাওয়া উচিত।
12 বছরের নিচে আমরা, তথাকথিত বাচ্চারা সাধারণত শারীরিকভাবে বেশ সক্রিয় থাকে, কিন্তু তারপরে আমরা আস্তে আস্তে ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি কমিয়ে দিই। তা সে পড়াশোনার কারণেই হোক কিংবা ব্যক্তিগত কোন কারনে বা চাকরি সূত্রে, আমাদের অজুহাতের কোন অভাব হয় না।
কিন্তু বাস্তবে এই সময়ই অর্থাৎ 12 বছরের পর থেকে আমাদের ধীর গতি কাটিয়ে, সঠিক প্ল্যানিং করে এক্সারসাইজ চালিয়ে যাওয়া উচিত।
🟩 কিভাবে মজবুত হাড় পাবো?
আমাদের হাড়কে সুখী করবে আপনার স্বাস্থ্যকর খাবার, ভাল ব্যায়াম এবং প্রচুর রোদ প্রয়োজন। ক্যালসিয়াম আর ভিটামিন ডি - কে যুক্ত করে ব্যায়াম। নিয়মিত ব্যয়াম না করলে ক্যালসিয়াম আর ভিটামিন ডি নেওয়া অর্থহীন।
ভালো হাড়ের জন্য সবচেয়ে প্রথমে আমাদের দরকার পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়াম। কিন্তু, এটা যথেষ্ট নয়। আমাদের শরীরের হাড়ের সাথে ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়াম ইত্যাদির মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রয়োজন, যাতে নতুন গড়ে ওঠা হাড় মজবুত হয়। এর জন্য দরকার ভালো মানের ব্যায়াম। ভাল ব্যায়াম, রোদ এবং ক্যালসিয়াম এই তিন মিলিয়েই গড়ে উঠবে আপনার শক্তিশালী হাড়।
তবে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে ফার্মেসী থেকে একগুচ্ছ ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট গিলে ফেলা যথেষ্ট নয়। আপনি ভাবলেন, রান্না ঘরে সারাদিন কাটানো মানে আমি দারুন ভাবে ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভ, মোটেও নয়। সারাদিন রান্না ঘরে, দিনের শেষে ক্লান্ত থাকলেও এটি আপনার ভবিষ্যতের জন্য একেবারেই কাজের নয়।
ক্লান্ত হওয়ার অর্থ এই নয় যে আপনি 'অ্যাক্টিভ'। যদি ভাল ব্যায়ামের পরে আপনি ক্লান্ত হন, তবেই আপনি 'অ্যাক্টিভ'।
🟩 রোদ কি করে?
পর্যাপ্ত রোদ ভারতে এশিয়ান স্কিন টোনযুক্ত লোকেদের, ভিটামিন ডি-এর একটি বড় উৎস। রোদ সারা বছর ভিটামিন ডি এর একটি মূল্যবান উৎস। সম্পূর্ন বিনামূল্যে তা পাওয়া যায়।
ভিটামিন ডি এর জন্য ভালো ডায়েট বলে কিছু নেই। আপনি যতই স্বাস্থ্যকর খাবার খান না কেন, আপনি খাবার থেকে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি পাবেন না। অতএব, আপনি যদি খাবারের চটকদার বিজ্ঞাপন দেখেন যা আপনাকে বলে যে, এই খাবার থেকে আপনি প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি ইত্যাদি পেতে পারেন - সেই রকম বিজ্ঞাপন থেকে সচেতন হন। এগুলি ব্যবসায়িক কৌশল ছাড়া আর কিছু নয়। রোদ ছাড়া আপনার হাড় ভালো থাকতে পারে না।
হাড়ের জন্য ক্যালসিয়াম পেতে, প্রতিদিনের খাবারে প্রচুর ক্যালসিয়াম প্রয়োজন। ছোট বাচ্চা, প্রেগন্যান্ট মহিলাদের এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের বেশি ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন। মাঝ বয়সী সবার - ও প্রয়োজন তবে তা অপেক্ষাকৃত কম।
পোস্ত, তিল, চিয়া বা অ্যামারান্থ বীজে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে। দই/ইয়োগার্ট এবং অন্যান্য দুধ জাতীয় খাবারগুলি ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ। আপনি পালং শাকের মতো সবুজ শাক-সবজিতে ক্যালসিয়াম পেতে পারেন।
ক্যালসিয়ামের সবচেয়ে ভালো উৎস হল একটি ব্যালেন্সড ডায়েট। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা যে শুধুমাত্র ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খেলে আপনার হাড় মজবুত হবে। শুধু ট্যাবলেট খেয়ে আপনি আপনার হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি কখনোই করতে পারবেন না।
ক্যালসিয়াম ছাড়াও, আপনার আরও নানা খনিজ পদার্থ প্রয়োজন যা, আপনি শুধুমাত্র একটি ব্যালেন্সড ডায়েটে খুঁজে পেতে পারেন। (একদিন আমি একটি ব্যালেন্সড ডায়েট কি তা লিখব, কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত বায়োলজির স্কুল টেক্সট বই পড়ুন, ব্যালেন্স ডায়েট কি তা জানার জন্য) এছাড়াও, আপনার ভাল মানের প্রোটিনও দরকার, যাতে শরীর আরও ভালভাবে কাজ করতে পারে। অন্যান্য খনিজ এবং ভাল মানের প্রোটিনের সংমিশ্রণ ছাড়া, ক্যালসিয়াম একা আপনাকে ভাল, মজবুত হাড় দিতে পারবে না।
🟩 কিভাবে 'প্রপার' ব্যায়াম সাহায্য করে?
সঠিক ব্যায়াম শুধু হাড়কেই মজবুত করে না। তার ঘনত্ব বা ডেনসিটি বাড়ায়। আমার শব্দগুলি ভালো করে মার্ক করুন: 'প্রপার' ব্যায়াম, 'যে কোন' ব্যায়াম নয়।
ব্যায়ামের সুবিধা পেতে সপ্তাহের বেশিরভাগ দিন কমপক্ষে 30 মিনিট ধরে শরীর চর্চা করা উচিত। যদি না আপনি জানেন কিভাবে হাড়ের জন্য ব্যায়াম করতে হয়, তাহলে সম্ভাবনা রয়েছে যে আপনি হাড়ের জন্য একটি 'উপযুক্ত' ব্যায়াম কী, তা হয়তো এখনও জানা নেই। তবে জেনে রাখা ভালো।
হাড়ের জন্য বিশেষ কিছু ব্যায়াম হল ওজন তোলার ব্যায়াম, রেসিস্টেন্স ট্রেনিং, হাই ইম্প্যাক্ট এক্সারসাইজ, ব্যালেন্স ট্রেনিং ইত্যাদি। সামগ্রিকভাবে এই ব্যায়ামগুলি, হাড় এবং আশেপাশের পেশীতে কিছুটা চাপ বা টান তৈরি করে। হালকা হাঁটা, হাড়ের জন্য আপনাকে সেই ধরনের স্টিমুলেশন/উদ্দীপনা দেবে না। ঠিকঠাক ভাবে ফিজিওথেরাপিস্ট বা কোয়ালিফাইড ফিটনেস ট্রেনারদের কাছ থেকে মতামত নেওয়া ভাল, যে কোন নির্দিষ্ট ব্যায়ামগুলি সাহায্য করতে পারে।
স্কিপিং, জগিং, জাম্পিং এবং বাস্কেটবল বা ব্যাডমিন্টন খেলা সব সাহায্য করতে পারে, এমনকি নাচ, সাঁতার বা যোগব্যায়ামের মতো এক্সারসাইজ আপনার হাড় এবং পেশীতে চাপ এবং টান তৈরি করে সাহায্য করতে পারে। এই সমস্তই আপনাকে যথেষ্ট ভালো ফলাফল দিতে পারে।
🟩 কতক্ষণ ধরে এক্সারসাইজ করা প্রয়োজন?
এছাড়াও, মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, একবার আপনি আপনার এক্সারসাইজ বন্ধ করে দিলে সুবিধাও সব বন্ধ হয়ে যায়। এটা প্রায় আপনার খাবার খাওয়ার মত। আপনি আজ যা খাবেন, আপনি আশা করতে পারেন না তা 1 মাস পরে কাজ করবে। একইভাবে, আপনি আজ এক্সারসাইজ করে আশা করতে পারেন না, যে 1 মাস পরে কাজ করে যাবে।
অতএব, এক্সারসাইজের অভ্যাস গড়ে তুলুন আজীবন।
প্রতিদিনের ব্যায়াম আপনার রুটিনের যেন একটি অংশ হয়। এটি শুধুমাত্র আমাদের হাড়কে সাহায্য করে না, আপনাকে হার্ট, লিভার, কিডনির সমস্যাগুলির বিরুদ্ধেও অসাধারণ সুবিধা দিতে পারে এবং ক্যান্সার থেকেও রক্ষা করতে পারে।
🟩 এছাড়া আর কিছু?
উপরের সবগুলি ছাড়াও, কিছু আরও প্রতিদিনের পুষ্টি, ভাল হাড়ের জন্য সহায়ক হতে পারে। এগুলি হল ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, প্রোটিন এবং ভিটামিন কে, এগুলি কিন্তু খুব সহজেই খাবারে পাওয়া যায়। ভিটামিন কে তাজা সবুজ শাক-সবজি, বিশেষত ব্রকলী ও পালং শাক, ডিম, মাংস এবং পনিরেও পাওয়া যায়। ভাল মানের চিজ ভারতে পাওয়া কঠিন হতে পারে, কিন্তু এর পরিবর্তে আমাদের কাছে প্রচুর তাজা সবুজ শাক সবজি রয়েছে, যা আমরা প্রতিদিনের ডায়েটে নিতে পারি।
🟩 যে জিনিসগুলি হাড়ের ক্ষতি করে
এখন পর্যন্ত, আমরা আমাদের হাড়কে মজবুত করতে সাহায্য করবে, এমন কারণগুলি নিয়ে আলোচনা করেছি। হাড়ের জন্য ক্ষতিকর অনেক কারণ আছে যা আমাদের এড়াতে হবে।
খাবারে অত্যধিক নুন ব্যবহার করা, চা বা কফিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যাফেইন থাকে, অত্যাধিক খাওয়া এড়িয়ে চলুন। এছাড়াও অত্যধিক কোলা এবং সফট ড্রিংকস আপনার হাড়ের গঠনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অতিরিক্ত অ্যালকোহল ড্রিংকিং যে ক্ষতিকর, তা অল্পবিস্তার সবাই হয়তো আমরা জানি।
🟩 আমার কি কোনো ঝুঁকি আছে?
আমাদের সবার আছে। প্রকৃতপক্ষে, আমাদের প্রত্যেকেরই হাড়ের ডেনসিটি এবং হাড়ের গুণমান হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। কেউ-ই একেবারেই ঝুঁকি শূন্য অবস্থায় নেই। প্রত্যেকেরই হাড় ভালো করার প্রয়োজন আছে। আমরা যত তাড়াতাড়ি প্রয়োজন সম্পর্কে বুঝতে পারি, ততই আমাদের জন্য ভাল
🟩 হালকা বা দুর্বল হাড়ের প্রথম লক্ষণগুলি কী হতে পারে?
প্রথমত, আমাদের বুঝতে হবে, আমি কবে লক্ষণ দেখতে পাবো, তার জন্য বসে না থেকে আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া। উপসর্গ আসার আগেই আমাদের কাজ করতে হবে। যেকোনো রোগ সারতে পারে যদি তা প্রথম থেকে ভালোভাবে চিকিৎসা করা হয়। যদি আমরা লক্ষণগুলি শুরু হওয়ার আগে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি। এক্ষেত্রেও তাই।
শরীরের অনেক জায়গায় ব্যথা দুর্বল হাড়ের প্রথম লক্ষণ হতে পারে। আমরা যদি যথেষ্ট সতর্ক না হই, তাহলে ফ্র্যাকচার হওয়াটাও অস্টিওপোরোসিসের প্রথম লক্ষণ হতে পারে। এই ফ্র্যাকচারগুলি সাধারণত হয় - কব্জি, মেরুদণ্ড, কোমরের জয়েন্টের নেক অফ ফিমার -এ। যদিও এ আমাদের শরীরের যে কোনও অংশে-ই ঘটতে পারে।
🟩 কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
পুরুষ এবং মহিলা উভয়ই অস্টিওপোরোসিসের ভোগেন। এটি একটি মিথ যে শুধুমাত্র মহিলারা ভোগেন।
আপনার শরীরের ওজন ঠিকঠাক আছে তা নিশ্চিত করুন। অত্যধিক বা খুব কম ওজন - দুটোই এড়ানো ভালো।
ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে এক্সপার্ট সাহায্য নিন এবং সপ্তাহের বেশিরভাগ দিন নিরাপদ এবং 'সঠিক' অনুশীলনে সময় ইনভেস্ট করুন।
আপনি কী ব্যায়াম করছেন সেদিকে নজর রাখুন - শুধু যে কোনো ব্যায়াম করলেই লাভ হবে না।
সূর্যের আলোতে নিজেকে পর্যাপ্ত সময় রাখুন: সূর্য থেকে লজ্জা পাবেন না। গায়ের রং থেকে স্বাস্থ্য অনেক বেশি অমূল্য সম্পদ।
আপনার খাবারে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম এবং প্রোটিন রাখুন।
বার্তাটি আপনার বন্ধুদের কাছে ছড়িয়ে দিন। শুধু একা ভালো থাকা যায় না।
Search tool: Osteoporosis Osteopenia Vitamin D Sunshine Calcium Exercise Bone

