মন ও মেনোপজ
যে ইস্ট্রোজেন এসে মহিলাদের এতখানি উপকার করে সেই ইস্ট্রোজেনের বিদায় বেলা বা মেনোপজ হলে তখন মহিলাদের মানসিক অবস্থা কিরকম দাঁড়ায়? কিন্তু না। হেরে যাওয়া তো মানুষের ধাতে নেই।
এরকম তো প্রায়ই হয়। অনলাইনের আকর্ষণীয় সেলে আপনি নতুন স্মার্টফোন কিনতে যাচ্ছেন ঠিক তখনই আপনার বিচক্ষণ বন্ধু রাজশ্রী আপনাকে বলল
— তোর ফোনটা তো দিব্যি চলছে। মাস ছয়েক ওয়েট করে যা, তারপর দেখবি আরো ১০-১৫ হাজার টাকা দাম কমে গেছে।
কিন্তু তখন আপনার উঠলো বাই তো কটক যাই,
কোথায় রাজশ্রী আর কোথায় আপনি। তখনই তখনই ব্যাংক সেলে না কিনতে পারলে মনটা আই-ঢাই। কিনেই ফেললেন।
যদি ভেবে থাকেন এরকমটা শুধু আপনার সাথেই হয় তাহলে ব্যাপারটা একদম ভুল।
আমরা সবসময় চাইছি এমন কিছু যা আমাদের তৎক্ষণাৎ আনন্দ দেবে যাকে বলা হয় ইনস্ট্যান্ট প্লেজার।
সাইকোলজির ভাষায় এর একটা দারুন পরিভাষা রয়েছে তার নাম Temporal discountingআমরা মানুষরা সাধারণত হাতের কাছেই পাওয়া আনন্দে বিশ্বাসী হয়ে কখনো কখনো এমন নানা ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। হয়তো বছর দুয়েক পরে নিজের দিকেই তাকিয়ে মনে হয়, এই আমি-ই কীভাবে এরকম একটা বিচ্ছিরি পরিকল্পনাহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।
বিখ্যাত সাইকোলজিস্ট Richard Herrnstein 1961 সালে সর্বপ্রথম মানুষের এ ধরনের হিতাহিত জ্ঞান শূন্য আবেগপ্রবণ ডিসিশনের হদিস পান। এর আরো বিজ্ঞানসম্মত কিছু নাম রয়েছে Now bias or Present bias,
কিন্তু প্রকৃতি বা evolution মহিলাদের মধ্যে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিরুদ্ধে এক বিশাল রক্ষাকবচ দিয়েছেন। তার নাম মহিলা হরমোন ইস্ট্রোজেন।
ছেলেদের প্রধান হরমোন যেমন টেস্টোস্টেরন। মহিলাদের তেমন ইস্ট্রোজেন,
একটি বাচ্চা মেয়ে একদিন নারী হয়ে ওঠে, এই ইস্ট্রোজেনের প্রভাবেই। কিভাবে এই ইস্ট্রোজেন মহিলাদের ভুল সিদ্ধান্ত নিতে বিরত করে তার প্রমাণ পাওয়া গেল 2014 সালে জার্নাল অফ নিউরোসাইন্সে প্রকাশিত গবেষণায়।
সেখানে ইউনিভার্সিটি অফ নর্থ ক্যারোলাইনার Chistopher T. Smith আর Charlotter A . Boettiger 91 জন মহিলার ওপরে এক যুগান্তকারী রিসার্চ করে আবিষ্কার করলেন মহিলা শরীরের ইস্ট্রোজেন আর ডোপামিন বলে এক ধরনের কেমিক্যাল আমাদের ব্রেনের ফ্রন্টাল লোবের কার্যকারিতাকে কি অদ্ভুত ভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। ব্রেনের সামনের এই ফ্রন্টাল লোবেই লুকিয়ে থাকে মহিলাদের ব্যক্তিত্ব।
🤔কিন্তু ব্যাপারটা কী?
এটা বহু দশক ধরেই জানা যে, মহিলাদের শরীরে বিভিন্ন হরমোন মেন্সট্রুয়াল সাইকেলের বিভিন্ন দিনে up down করে।
গবেষণা করতে গিয়ে দেখা গেল ইস্ট্রোজেন হরমোনের ক্ষমতা মহিলাদের মেনস্ট্রুয়াল সাইকেলের একটি বিশেষ সময় সবথেকে বেশি তীব্র।
কোন সময় সেটা? ঠিক যে সময় মহিলাদের ওভুলেশন হয়। মানে ওভারি থেকে এগ বের হয়।
ভেবে দেখুন ঠিক এই সময়টাই মহিলাদের প্রেগনেন্সি হওয়ার সময়। আর ইস্ট্রোজেন ঠিক এই সময়টাতেই মহিলাদের বলে আরো ভালো করে ভাবনা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নাও। শুধু আবেগে ভেসে যেও না।
ঠিক ওভিউলেশন এই সময়টাতেই ইস্ট্রোজেন কেন এরকম সক্রিয় হয়ে ওঠে তার নানা কারণ থাকতে পারে, কিন্তু বিজ্ঞানীরা যে কারণটা নিয়ে সব থেকে বেশি অবাক তার উত্তর লুকিয়ে আছে বিবর্তন বা evolution এর মধ্যে।
ভেবে দেখুন লং টার্ম রিলেশনশিপে যাওয়ার আগে মহিলাদের প্রত্যেকটি শারীরিক সম্পর্ক বা সেক্সুয়াল একটিভিটির দাম অকল্পনীয়। এবং সেই রিলেশনশিপ যদি স্থায়ী না হয় তাহলে তার থেকে সবথেকে বেশি দাম চোকাতে হয় মহিলাদেরই।
আর ঠিক তাই ইস্ট্রোজেন মহিলাদের এই টেম্পোরাল ডিসকাউন্টিং বা ক্ষণস্থায়ী আনন্দের থেকে দুই হাত দিয়ে আগলে রক্ষা করে।
তবে হ্যাঁ জন্ম থেকেই তো ইস্ট্রোজেন মহিলাদের থাকে না। শরীরে প্রথম ইস্ট্রোজেনের আনাগোনা শুরু হয় টিন এজ বয়েস থেকে। হরমোন আর ব্রেনের সম্পর্ক সাবালক হতে প্রচুর সময় দরকার। মহিলাদের ইস্ট্রোজেন এবং সেরিব্রাল কর্টেক্স বা ব্রেনের যেখান থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিই, এই দুয়ের সম্পর্কের পরিপূর্ণতা পেতে পেতে প্রায় বছর ২৫ সময় চলে যায়। আর ততদিন বিশেষত টিন এজ বয়স বা বয়স সন্ধির সময় ১২ থেকে ১৯ বছর পর্যন্ত নানা ধরনের টিন এজ ট্যানট্রাম চলতে থাকে।
এই বয়সের বাচ্চা যাদের বাড়িতেই আছে তারাই এই কথার সাথে সহমত হবেন, সেই ব্যাপারে সন্দেহ নেই। কিন্তু যে ইস্ট্রোজেন এসে মহিলাদের এতখানি উপকার করে সেই ইস্ট্রোজেনের বিদায় বেলা বা মেনোপজ হলে তখন মহিলাদের মানসিক অবস্থা কিরকম দাঁড়ায়?
মেনোপজ প্রত্যেকটি মহিলার জীবনে অবশ্যম্ভাবি। তখন ওভারি দুটোই ঘুমিয়ে পড়ে। ওভারি ইস্ট্রোজেনের প্রধান কারখানা। মেনোপজে ইস্ট্রোজেন বেরোনো বন্ধ হয়ে যায়।
সন্দেহ করা হয় ইস্ট্রোজেনের অভাবে এই বয়সে মহিলাদের মন অনেক সময় খারাপ হতে থাকে। ডিপ্রেশন, অ্যাংজাইটি, টেনশন, নার্ভাসনেস, প্যানিক অ্যাটাক, হঠাৎ মন খারাপ হয়ে যাওয়া এবং অকারণ বিরক্তিও অনেক সময় বাড়াবাড়ি পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
শুধু তাই নয় ৫০% বা প্রতি দুজন মহিলার মধ্যে একজন মহিলার ঘুম কমে আসে। হাতের চাবিটা কোথায় রেখে দিয়েছেন বা রান্নায় লবণ দিয়েছেন, কিনা এইসব ভুল ভ্রান্তি আসতে থাকে জীবনে।আরো শোনা যাচ্ছে এই বয়স থেকে শুরু হয় ব্রেন ফগ বলে এক ধরনের হালকা ভুলে যাওয়ার প্রবণতা। চিকিৎসা না হলে ব্রেন ফগ বাড়তে থাকে ক্রমাগত।
আর এই বয়সেই আসে রিটায়ারমেন্ট। যেটাতে মহিলাদের মানসিক স্বাস্থ্য আরেকটা ধাক্কা খায়। তবে হ্যাঁ সব সমস্যার কারণ যে শুধু মেনোপজ, তা নাও হতে পারে।
অনেক সময় এই বয়সে পারিবারিক নানা রকমের স্ট্রেস তৈরি হয়। ছেলে মেয়ের ভবিষ্যৎ। হাজবেন্ডের চাকরি স্থলে ওঠা নামা হয় এই বয়সেই।
নিজেদের আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং মুদ্রাস্ফীতির সাথে লড়াই শুরু হয় এই বয়সে। অল্প বয়সে অনেকেই এক্সারসাইজের মধ্যে থাকলেও এবার আস্তে আস্তে মনে হয়- অনেক তো হলো এবার একটু আয়েশ করি। আর এত ছোটাছুটি করে কি হবে?
আর এই আয়েশের হাত ধরে, গুটিগুটি পায় আসে নানা অসুখের হাতছানি। কিন্তু না। হেরে যাওয়া তো মানুষের ধাতে নেই।
যদি তাই থাকতো তাহলে 60 লক্ষ বছরের মানুষের ইতিহাসে আমরা জয়ী হতাম না। তাই সময় এসেছে ঘুরে দাঁড়াবার।
আজকাল মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। এবং মহিলাদের জীবনে সাফল্য বেশিরভাগটাই আসে মেনোপজের পরেই।
ভেবে দেখুন লতা মঙ্গেশকর 1980 সালে যখন থোরিসি বেওয়াফাই ছবির গান গাইছেন- হাজার রাহে মুরকে দেখি, তখন ওনার বয়স 51- তারপর এই লতা মঙ্গেশকর কত কিছুই না করেছেন। সেটা বলার জন্য আর আমার ভিডিও দেখতে হবে না
1997 সালে দিল তো পাগল হ্যায়, মুভিতে যখন উনি গান গাইছেন তখন ওনার বয়স তখন 68
স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার সদ্য প্রাক্তন চেয়ারপারসন অরুন্ধতী ভট্টাচার্য, পেপসি কোম্পানির প্রাক্তন অধিকর্তা ইন্দ্রা নুয়ি সবাই পৃথিবীকে সমৃদ্ধ করে গেছেন তাদের মেনোপজের পরেও।হ্যাঁ ওনাদের কত বছর বয়সে মেনোপজ হয়েছেন সেটা আমিও জানি না। কিন্তু বয়স দেখে যতটা অনুমান করা যায়।
এমনকি ফোর্বসের 100 Most Powerful Women of the World এর 2024 এর লিস্টে যে 10 জন মহিলা রয়েছেন তার মধ্যে দুজন বাদে বাকি আট জনই মেনোপজ পেরিয়েই তাদের জীবনের খ্যাতির শীর্ষে উঠেছেন। তাই হেরে যাওয়া নয়। শিখতে হবে নতুনভাবে বাঁচার রহস্য।
আমাদের মা, মাসি, ঠাকুমাদের, কাছ থেকে এই ধরনের বিদ্যা আমরা শিখতে পারবো না। তার কারণ ওনাদের সময় জীবনের গড় আয়ু ছিল অপেক্ষাকৃত কম।
আর আজকে সেটা বাড়ছে। তাই এর জন্য আপনাকে শিখতে হবে শুধুমাত্র বিজ্ঞানের হাত ধরেই। পিছনে ফিরে তাকিয়ে বা ইতিহাসের পাতায় চোখ রেখে শুধু মেনোপজের পরের জীবন সাজানো আর বোধহয় সম্ভব নয়। কারণ আপনি নতুন যুগের মহিলা। ভালোভাবে বাঁচতে হলে নিত্যনতুন বিজ্ঞানের সাথে বন্ধুত্ব করা ছাড়া আর আপনার কোনই উপায় নেই।
2019 সালে প্রকাশিত Isaacson এ রিসার্চ 2022 এর Saif এর রিসার্চ এমনকি Marc Milstein এর The Age-Proof Brain বই এও আমরা দেখতে পাই সামান্য কিছু প্রতিরোধ এবং স্ট্রাটেজি জানা থাকলে মহিলারা কাটিয়ে উঠতে পারবেন এই মেনোপজ সংক্রান্ত সমস্যা গুলো।
2022 সালে Saif এর গবেষণায় দেখতে পাচ্ছি মাত্র আঠারো মাসের নিয়মিত চেষ্টা চালালেই মহিলারা পুনরুদ্ধার করতে পারেন তাদের স্বাস্থ্য।
কমে আসে হার্ট অ্যাটাক এর সম্ভাবনা, স্ট্রোক, ভুলে যাওয়া রোগ, এমনকি আলঝাইমারের মতো সমস্যাও। শুধু তাই নয়। SWAN (Study of Women's Health Across the Nation) বছরের পর বছর চলতে থাকা এই নতুন যুগের রিসার্চেও আমরা জানতে পারছি যে একটু চেষ্টা করলেই ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। এবং মেনোপজের সমস্যা গুলো সারা জীবন আপনাকে আর তাহলে ভোগাবে না।
এই প্রসঙ্গে Dr. Hadine Joffe আর Dr. Heather Hirsch যারা Brigham and Women's Hospital and Harvard Medical School এর উচ্চপদস্থ বিজ্ঞানী তাদের হাত ধরে দেখে নেই যে কোন ছোট ছোট কয়েকটি পদক্ষেপেই মহিলারা মেনোপজের পরও তাদের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করতে পারেন। এবং লড়াই করতে পারেন সাময়িক অসুবিধাগুলোর সাথে।
কি কি সেই উপায়?
ওনাদের ভাষাতেই বলতে গেলে প্রথমেই,
1. Get Moving
চাই নিয়মিত এক্সারসাইজ। শুধুমাত্র নিজের খেয়ালে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে করা যোগ ব্যায়াম নয়। রীতিমতো গুরু রেখে ক্লাসে ভর্তি হয়ে নিয়মিত aerobics চাই। সপ্তাহে তিন থেকে চার ঘন্টা মাঝারি থেকে ভারী এক্সারসাইজ। কোনটা মাঝারি আর কোনটা ভারী এক্সারসাইজ , সে নিয়ে আমাদের প্রচুর ভিডিও রয়েছে। আরও জানতে নিচের কমেন্টে লিখুন।
2. Focus
এই বয়সে মাথায় চলে আসে নানা রকম কাজের চিন্তাভাবনা, দায়িত্ব। কিন্তু প্রতিদিন সকালে ভেবে নিন কোন তিনটে বড় বড় কাজ আজকে আপনাকে করতে হবে। কাগজে লিখে ফেলুন সে লিস্ট। দিন বাড়লেই আশেপাশে নানা রকম বিরক্তি বা মনকে বিক্ষিপ্ত করে দেয়ার মত বিভিন্ন ঘটনা শুরু হবে। কিন্তু নির্দ্ধিধায় আপনি লেগে থাকুন দিনের প্রথমে নির্ধারিত আপনার সেই তিনটি প্রধান কাজের ওপর। এতে দিনের শেষে যে শুধু মানসিক শান্তি আসবে তাই নয়, আপনি জানবেন আপনি কিছু কাজের কাজ করেছেন।
কিছু রিসার্চে এমনও প্রমাণ যে প্রতি ঘন্টায় 11 বারেরও বেশি আমাদের মন এদিক ওদিক বিক্ষিপ্ত হয়ে যায়। এতে মন হয়ে পড়ে অকারনে ক্লান্ত। তাই, ফোকাস।
3. Challenge Yourself
শিখুন নতুন কিছু স্কিল, হবি। করুন নতুন কিছু কাজ,জাপানে একটা প্রবাদ আছে যেদিন আপনি শেখা বন্ধ করবেন সেদিন থেকেই শুরু হবে আপনার বয়স বাড়ার পালা। তাই যদিও এসময় রিটারমেন্ট চলে আসে, যদিও ছেলে মেয়েরা এই বয়সে বাইরে চলে যায় তবুও আপনি জোর করে ভর্তি হয়ে যান ফটোগ্রাফির ক্লাসে বা কবিতা- লেখা- পেইন্টিং বা গান শেখার আসরে।
চাই সামান্য দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। শুধু ঘর গেরস্থালীর কাজ করে নিজেকে খরচ করে ফেলবেন না। নিস্তেজ ভাবে ট্রাভেল এজেন্টের সাথে দেশ-বিদেশের ভ্রমণের নেশা থেকে দূরে থাকুন। এতে আপনার ব্রেন আরও অলস হয়ে যাবে। তবে হ্যাঁ ইচ্ছে করলেই সেই vacation এর হোটেল, ফ্লাইট, আপনি নিজেই প্ল্যান করতে পারেন। এতে ব্রেন পাবে আরো বাড়তি বেঁচে থাকার রসদ।
4. Write It Down
যখনই বিভ্রান্ত লাগছে, মনে হচ্ছে কখন কী করবো কিছুই বুঝতে পারছি না। তখন মনের ভাবটা একটা ছোট চিরকুটে বা ছোট ডায়েরিতে লিখে রাখুন। আপনি কেন রেগে আছেন। কেন মন খারাপ। কেন বিভ্রান্ত লাগছে।লিখুন কাগজে কলমে। যে হরফ আপনার চোখ পড়তে পারবে। শুধুমাত্র ভেবে ভেবে এর থেকে উদ্ধার পেতে চাইবেন না।
একে বলা হয় Emotional Labelling.
এইরকম লিখে রাখলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আপনার ব্রেন নিজে থেকেই এর থেকে কিভাবে আপনি উদ্ধার পাবেন সেই অংক কষতে শুরু করে দেবে। একটু ফলো করে দেখুন মজাটা কেমন হয়।
5. Sleep More
আগেই বলেছি এই সময় প্রতি দুজনের মধ্যে একজনের ঘুম কমে আসে। তাই ঘুমাবো বললেই তো ঘুম আসবে না। তার জন্য দরকার ঘুমের কিছু অভ্যাস। ঘুমের জন্য কিছু ট্রিগার তৈরি করা। এবং সর্বোপরি বোঝা যে আমরা অতীতে কিভাবে ঘুমোতাম, আর কীভাবেই বা, শিল্প বিপ্লবের পর থেকে আমাদের কিভাবে কৃত্রিম ঘুমের অভ্যাস, সমাজ আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়েছে।
এই নিয়ে আমাদের Substack পোষ্ট রয়েছে সেখানে পড়তে পারেন। লিঙ্ক নিচে। আর যদি ভিডিও দেখতে চান তাহলে সাবস্ক্রাইব করে অপেক্ষা করুন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ঘুম নিয়ে আমাদের ভিডিও রিসার্চ আসতে চলেছে।
আর হ্যাঁ, দুপুরের পর থেকে চা কফি যতটা সম্ভব কম খান। আর ভালো ঘুমের একটা মূলমন্ত্র আপনাকে চুপিচুপি বলি। সেটা হল বাড়ির বাইরে গিয়ে চুপচুপে ঘেমে নেয়ে নিয়মিত হাঁটা।
6. Treat Underlying Conditions
মেনোপজের সমস্যার আড়ালে অনেক সময় লুকিয়ে থাকে মন খারাপ ডিপ্রেশনের মত আগে থেকেই থাকা কিছু সমস্যা।
এই ধরনের সমস্যা যদি থাকে তাহলে মেনোপজের আগেই চেষ্টা করুন সেই সমস্যাগুলোর সমাধান করে ফেলতে। দুটো ওষুধ খেলেই মনে করবেন না এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। নিয়মিত ডাক্তার দেখিয়ে ডায়াবেটিস, ব্লাড প্রেসার, মন খারাপ বা আর যা যা সমস্যা আছে সেগুলোকে শুরু থেকেই আক্রমণ করতে শুরু করুন।
7. Right Diet
চেষ্টা করুন খাবারে প্রচুর পরিমাণে ফল শাকসবজি এবং প্রোটিন রাখতে। চিনি বাদ। সম্ভব হলে মেডিটেরিনিয়ান ডায়েটের মত কিছু ডায়েট ফলো করুন। কষ্টকর এবং বেশ ব্যয় সাপেক্ষ। কিন্তু আপনি নিশ্চয়ই পারবেন।
সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত যে মেডিটেরিনিয়ান ডায়েটে মানুষের মস্তিষ্ক, স্মৃতিশক্তি ভালো হয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এমনকি ক্যান্সারের বিরুদ্ধেও লড়াই হয় সব থেকে জোরদার। আর শেষ পাতে প্রতিদিন রাখুন একটু টক দই। অবশ্যই চিনি ছাড়া। এতে আপনার শরীরে আসবে প্রচুর বন্ধু জীবাণু।
8. Believe in Yourself
বিশ্বাস করতে শিখুন, বয়সটা একটা সংখ্যা মাত্র। আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে কারো বয়স কমেছে এরকম শোনা যায়নি। যারা সফল হয়েছেন বাড়তি বয়সেই হয়েছেন। তাই মন খারাপ না করে ঝাঁপিয়ে পড়ুন আজকে। এখনই।
This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice.



















