টাইটানিক, ভুল, আর আমরা
ডুবে গিয়ে টাইটানিক যেন একটা ক্লাসরুম। ম্যানেজমেন্ট থেকে হেলথসেক্টর। সবাই শিখছে। আমরা কি শিখলাম?
জাহাজের সেকন্ড অফিসার ডেভিড ব্লেয়ার রেগে কাঁই!
হঠাৎ ডিমোশন! শেষমেশ ইস্তফা দিয়েই দিলেন। অভিজাত টাইটানিকে যাবার জন্য বড্ড আকুল ছিলেন ব্লেয়ার। রেগেমেগে ঘরে যা ছিল, তা প্যাকিং বাক্সে ভরে একবস্ত্রে গটগট করে নেমে গেলেন, টাইটানিক থেকে। সেদিনটি ছিল ৯ এপ্রিল, ১৯১২। পরদিনই টাইটানিক ছেড়ে গেল, বেলফাস্ট ডক থেকে।
টাইটানিক কেন ডুবল, সেই নিয়ে নানান তদন্ত হয়েছে। অনেকেই মনে করেন, একটা ছোট্ট ভুল ভয়ানক হয়ে উঠেছিল। সমুদ্রে নজরদারী করার জন্য টাইটানিকে নাকি, কোনো বাইনোকুলার ছিল না। টাইটানিকের নাবিক ফ্রেড্রিক ফ্লিট দাবী করেছিলেন, বাইনোকুলার হাতে থাকলে পাহাড় প্রমাণ গ্লেসিয়ার নজরে আসতো অনেক আগেই।
ব্লেয়ারের মালপত্রের সঙ্গে চলে গিয়েছিল, ইমার্জেন্সি লকারের চাবি। যার মধ্যেই ছিল বাইনোকুলার।
একটা জাহাজ, তাতে বাইনোকুলার কাছে নেই ? ভাবা যায়?
হ্যাঁ, যায়! আমার অনেক পেশেন্টের বাড়িতে, এরকম সমস্যা হয়।
অনেক সময় সহজ জিনিসও, দরকারি সময় পাওয়া যায় না। আজকাল কম বা বেশী পরিমাণের হলেও, অনেকের কাছেই মেডিক্যাল ইনস্যুরেন্স থাকে। অথচ ইমার্জেন্সির সময়, সেই পলিসি বাড়ির লোক খুঁজে পান না।
ইনস্যুরেন্সের এজেন্ট হয়তো লাদাখে বা শহরে থাকলেও, ফোনে হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে না। ইনস্যুরেন্সের ইমেল, হাজার ইমেলের ভিড়ে হারিয়ে যায়।
ঠিক হাসপাতালে ভর্তির সময় ইনস্যুরেন্স পেপার দিতে পারলে, ভাবনা চিন্তা কম হয়। আজকাল অনেক ইনস্যুরেন্সে, হাসপাতালে ভর্তির সময় OTP আসে। জেনে রাখা দরকার, যে মোবাইল নম্বরের সঙ্গে ইনস্যুরেন্স লিঙ্ক করা আছে, সেই নম্বরেই আসবে OTP।
বাড়িতে একটা তালা না দেওয়া আলমারিতে একটা বক্স-ফাইল অর্থাৎ, হাতের নাগালে রাখুন ইনস্যুরেন্সের পেপার। ওপরে বড় বড় করে লাল অক্ষরে লিখুন ‘ইমার্জেন্সি’। আধার কার্ডের ফটোকপি। আর হাজার দশেক ক্যাশ। তালা না দিয়ে রাখলে টাকা কেউ নিয়ে নেবে, সেই ভয় পাবেন না। আমাদের স্বাস্থ্যের দাম আরও অনেক বেশী। এই টাকা, ট্যাক্সি ভাড়া আর দরকারি খুচরো খরচে কাজে লাগবে।
হলি-ডেতে গেলে শুধু একটা ফটো তুলে নিয়ে যান, ইনস্যুরেন্সের ফার্স্ট পেজের। কারণ, আধার আর খানিকটা ফান্ড তো হাতেই থাকবে।
অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে গিয়ে, অনেকেই বিভ্রাটের সম্মুখীন হন। আপনি আশা করি আর হবেন না।
পু : মঞ্জুদি, আপনি যদি লেখাটা কখনও পড়েন সেই আশাতে লিখলাম। আপনি অসুস্থ হবার সময়, ইনস্যুরেন্সের পেপারটা হাতের কাছে রাখতে বলেছিলাম বলে, আপনি আর আমাকে রিং করেননি কোনোদিন। বোধকরি, রাগ বা অভিমান করেই। আপনার সুস্থ হয়ে ওঠার ব্যাপারে সন্দেহ ছিল না, আমার একটুও। তবু বলেছিলাম, যাতে একা হাতে আপনাকে কষ্ট না করতে হয়। আপনার ফোন পেলে ভালো লাগবে।
This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice.
Search tool: Inspiration Diary Medical Insurance Mobile link with insurance Emergency Photo Copy of Insurance's First Page



Thank you for your kind suggestion