#কোমরে ব্যথা - প্রথম পর্ব
জেনারেল নলেজের এর সেই বিখ্যাত প্রশ্ন মনে আছে তো ? মানুষের শরীরে হাড়ের সংখ্যা কত ? ভুলে গিয়ে না থাকলে আপনি চটপট বলে উঠবেন ২০৬- প্রথম পর্ব। (বাকি পর্বের লিঙ্ক নিচে দেওয়া রইল)
আচার খাবি?
মন্দ হয় না, আছে ?
হ্যাঁ হ্যাঁ
তোর পিসে খুব পছন্দ করে বলে বানানোই থাকে
ছুট্টে গিয়ে রান্না ঘরের সেল্ফ থেকে আচার নামাতেই
আর্তনাদ শুনলাম
কোমরে হাত দিয়ে পিসিমা তখন বেঁকে দাঁড়িয়ে পড়েছে
কোনোভাবে এসে বিছানায়
রইলো পরে আমের আচার
রইলো পরে পিসির বাড়ির চিকেন ঝোল আর বাসমতি
একটু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখলাম মাসল স্প্যাসম বলেই মনে হলো।
বেডরুম থেকে বেরিয়ে আসতেই শুনলাম
তুই খেয়ে যাস কিন্তু, আমি কদিনেই ঠিক হয়ে যাবো
কোমরে ব্যথা কার না নেই ? তবে কুড়ি বছর বয়সে যে কোমরের ব্যথা কে আমরা হারিয়ে দিতে পারি রাতে ঘুমোলেই, সেখানে ৫০ পেরোলেই কোমরের ব্যথা চিরসাথী হয় অনেকেরই।
২০১০ সালের এক গবেষণায় জানা গেছে মানুষের প্রায় ৩০০ টি অসুখের মধ্যে কোমরের ব্যথা মানুষকে পর্যুদস্ত করে সব থেকে বেশি। অফিস কাছারিতে অনুপস্থিতির একটা শীর্ষস্থানীয় কারণ কোমরে ব্যথা।
অনেক মা বলেন সন্তানের জন্মের পর কোমর ব্যথা বাড়ছে। প্রেগন্যান্সির সময়ের কথা আর বিশেষ বলছি না, কারণ শরীর তখন একটা অন্যরকম অবস্থার মধ্যে দিয়ে যায়। শরীর চর্চার কথা সবাই শুনলে বা ভাবলেও, অনেকের পক্ষে সেই সময় শরীর চর্চা করা খুব একটা সম্ভব হয়ে ওঠে না। সাথে বাড়তি ৬-৭ কেজি ওজন পেটে নিয়ে ৬ মাস বাড়িতে থাকলে কেন কোমরে ব্যথা হয় তা সহজেই অনুমেয়।
তবে লাদাখ থেকে ঘুরে এসে কেউ যদি বলেন কোমরে ব্যথা হচ্ছে, বা কোমরে ব্যথার জন্য কেউ যদি বিছানাটাকে যত নষ্টের গোড়া বলে ঠাউরে বসেন, তাহলে কোমর ব্যথা সৃষ্টির আসল কারণ আমাদের অগোচরেই থেকে যায়।
লাদাখে গিয়ে ভারী সুটকেস তোলা ,গাড়িতে লম্বা সময় বসে থাকা বা মোটা গদিতে আরাম করে শোয়ার মতো ছোট ছোট কারণগুলো ভুলে যাওয়া অবশ্য খুব সহজ।
সোফায় কাত হয়ে নেটফ্লিক্স, ল্যাপটপের জীবিকার অনিবার্যতা বা ঘাড় নিচু করে হোয়াটসাপ / ফেসবুক নামক নতুন যুগের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে নিজেকে সঁপে দেওয়া, সবই এত মোলায়েম ভাবে আসে যে কেউই Z।নতি পারে না। টনক নড়ে যখন ব্যথা বাড়ে।
কিন্তু কেন শরীরের মধ্যভাগে ব্যথার এই বাড়বাড়ন্ত হয় ?
এটা তো নিশ্চয়ই জানেন যে আমাদের শরীরের পুরো ওজন এই কোমর দিয়েই সংবাহিত হয় দুই পায়ে। হাড়, লিগামেন্ট, মাংসপেশি এবং তাদের জোড় গুলোর মধ্যে যখনই কোনো ভারসাম্যহীনতা হয় তখনই কোমরের ব্যথা মাথা চাড়া দেয়।
জেনারেল নলেজের এর সেই বিখ্যাত প্রশ্ন মনে আছে তো ? মানুষের শরীরে হাড়ের সংখ্যা কত ? ভুলে গিয়ে না থাকলে আপনি চটপট বলে উঠবেন ২০৬ ।
আর আমাদের কোমরে থাকে প্রায় ১১ টা হাড়। সেই হাড় দিয়ে কোমরের মতো প্রায় গোলাকার একটা কাঠামো তৈরী করা কি শক্ত ব্যাপার ভেবে দেখুন!
বললে বিশ্বাস করবেন না, এই কোমরের হাড় গুলির প্রতিটি অদ্ভুত অদ্ভুত ধরনের জোড় বা সন্ধি দিয়ে পরস্পরের সাথে আটকে থাকে । সমস্ত হাড়গুলো আবার জোড়া থাকে ইলাস্টিকের মতো একধরনের খুব শক্তিশালী জিনিস দিয়ে, যাকে কিনা বলে লিগামেন্ট !
তবে এতেই শেষ নয়! এর উপরেও থাকে নানা ধরনের ছোট-বড় মাংসপেশি। । কোমরের আশেপাশের হাড়গুলোর জয়েন্ট এতটাই রোমহর্ষক যে ডাক্তারির কোনো ফার্স্ট ইয়ার ছাত্র/ছাত্রীকে জিজ্ঞেস করে দেখুন! পড়তে গিয়ে, আর মনে রাখতে গিয়ে কিরকম বেগ পেতে হয় !
দাঁড়ান দাঁড়ান ! এরপরের ক্রমশ কঠিন আরো জটিলতার কথা খানিক পরে বলছি ।
ফেসবুকে গল্পের ছলে পড়তে গিয়ে এতো জিনিস নিয়ে আপনাকে একসাথে বোর করতে মোটেও চাই না !
তা এহেন জটিল কোমরের কাঠামোয় ব্যথা হলেও, তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কমে যায় নিজে থেকেই। নিদেনপক্ষে কিছু প্যারাসিটামল বা ঠান্ডা-গরম সেঁক,অথবা বাঙালির আদি-অকৃত্রিম মালিশ।
ব্যথা কতটা আয়োডেক্সে যায় আর কতটা নিজের প্রতি বাড়তি নজরে যায় বা কতটাই বা আরেকজনের মালিশের আড়ালে কোমল স্পর্শে যায় সেই বিতর্কে না যাওয়াই ভালো।
যে ব্যথা নিজে থেকে প্রস্থান না নেয় সে ব্যাথার চিকিৎসা মাঝে মধ্যে একটু জটিল হয়ে পড়ে । কোন ওষুধে যে কি কাজ করে বা আদৌ কাজ করে কিনা সেটা বিজ্ঞান এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি।
তাই এক্ষেত্রে আমাদের এক এবং একমাত্র হাতিয়ার, প্রতিরোধ। নিয়মিত লম্বা হাঁটাচলার পাশাপাশি যোগব্যায়াম, পারলে এ্যারোবিক্স।
কাজের করার সময়, দাঁড়িয়ে থাকার সময়, কম্পিউটারের সামনে বসে থাকার দেহভঙ্গি বা পশ্চার - এও নজর রাখুন। হাঁটাচলা লম্বা হওয়া বাঞ্ছনীয়।
বাড়িতে রান্নাঘর থেকে বসার ঘরে ১০ হাজার বার হাঁটাচলা করলেও বিশেষ কিছু সুবিধা করতে পারবেন না।
ভারী সুটকেস, বাজারের ব্যাগ, বা জলের বালতি তোলা থেকে বিরত থাকুন। খাবারে ক্যালসিয়াম এর পরিমাণে নজর দিন।
সকালে ১৫ মিনিট মিষ্টি রোদ আপনাকে দিতে পারে আরো স্বাস্থ্যবান অস্থি।
রোদ আর আপনার ত্বক মিলে যে উৎকর্ষ ভিটামিন D তৈরী করে সেই একই মানের ভিটামিন কৃত্রিম ভাবে তৈরী করতে কালঘাম ছুটে যায় ল্যাবরেটরিতে।
গাড়িতে সফর করলে সিটে বসা এবং নামার সময় সতর্ক থাকুন।
কোমরের ব্যথায়, ব্যথা কমানোর ওষুধ দেয়া হয় আর তার সাথে সাথে অনেক সময়ই মাংসপেশি গুলোকে খানিকটা বিশ্রাম দেওয়ার জন্য মাসল রিলাক্সেন্ট ব্যবহার করা হয়। কদিন আগে প্রকাশিত ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে এক গবেষণায় বহুল প্রচলিত এই মাসল রিলাক্সেন্ট এর কার্যকারিতা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন চিহ্ন উঠে গেলো।
প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মানুষের উপরে চালানো এই গবেষণায় জানা যাচ্ছে এই মাসল রিলাক্সেন্টগুলো কোমরের ব্যথা কমাতে একদমই পারদর্শী নয়।
শুধু তাই নয়, এই মাসল রিলাক্সেন্ট ব্যবহারে মানুষের মধ্যে মাথা ঝিমঝিম থেকে শুরু করে বমি বমি ভাব এবং কখনো কখনো পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা এই ধরনের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া আরো বেড়ে যাচ্ছে।
তাই মাসল রিলাক্সেন্ট খাওয়ার আগে ভালো করে সচেতন থাকুন। এবং, ডাক্তারবাবুর সাথে আলোচনা করে নিন।
এইবার আসি জটিলতর অধ্যায়ে।
অন্ধকার সুড়ঙ্গে এঁকেবেঁকে চলছেন একজন। তার দুপাশে দুই নদী। এক নদী যায় উজানে , আর আরেকজন ভাটিতে। ব্যথা উৎস খুঁজতে আঁতিপাতি করে চললো গবেষণা। জীবিত মানুষের ওপর নানা টেস্টে। সাথে মৃতমানুষের পোস্টমর্টেমে। কি অদ্ভুত তথ্য পেলাম আমরা!....
প্রথম পর্ব - এখানেই
দ্বিতীয় পর্ব ও শেষ পর্ব ( এই লিংকে )
This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice.
Search key words: Low Back Pain Back Pain









