ফাইব্রয়েড - কত ধরনের ?
লোকেশন বা অবস্থানের ওপরে ভিত্তি করে ফাইব্রয়েড এর প্রকারভেদ। কিন্তু আল্ট্রা সাউন্ড রিপোর্ট হাতে পেলে এই নামের সঙ্গে তুলনা করে দেখতে পারেন যে আপনার ফাইব্রয়েড ঠিক কোন ধরনের।
ইউটেরাস এর কোন অঞ্চলে বা লোকেশনে ফাইব্রয়েড তৈরি হয়- তার ওপর ভিত্তি করে নানা ধরনের ফাইব্রয়েডের শ্রেণীবিভাগ করা হয়।
যদি আপনার ফাইব্রয়েড হয়ে থাকে তাহলে এই তথ্য জানা থাকলে আপনি বুঝতে পারবেন যে কোন ধরনের ফাইব্রয়েড এ কি ধরনের ট্রিটমেন্ট হতে পারে।
সাধারণত আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান করে বা এমআরআই স্ক্যান করে দেখে নেওয়া যায় ফাইব্রয়েড ঠিক কোথায় আছে।
ভালো ভাবে বোঝার জন্য আমরা ইউটেরাসকে একটা ঘরের মতো কল্পনা করবো। আপনার ইউটেরাসের সার্ভিক্স বা প্রবেশদ্বার ধরুন সেই ঘরের দরজা। এই দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকলে আপনি ঘরের যেই অংশটা দেখবেন সেটা ঘরের ভেতরের দেওয়াল বা ইউটেরাসের ভেতরের গহ্বর।
প্রেগনেন্সি এলে এই ঘরেই বাচ্চা থাকে।
তখন অবশ্যই ইউটেরাস নরমাল সাইজের থেকে ৪০০ গুন বড় হয়ে যায়।
আর ইউটেরাসের ভেতরের লেয়ার থেকেই প্রতি মাসে মহিলাদের পিরিয়ড হয়। ফাইব্রয়েড সাধারণত থাকে ইউটেরাসে বাইরের লেয়ার বা দেওয়ালের মাংসপেশিতে।
বোঝার সুবিধের জন্য ধরে নেয়া হোক যে ঘরের ইটের দেওয়ালে,
মোটের উপর তিন ধরনের ফাইব্রয়েড।
এক ধরনের ফাইব্রয়েড থাকতে পারে ঘরের দেওয়ালের ভেতরের দিকে। অর্থাৎ ঘরের দেওয়াল থেকে ফাইব্রয়েড তৈরি হয়ে ফাইব্রয়েড এর প্রভাবে ঘরের ভেতরের দিকে ফুলে আছে। ফাইব্রয়েডের এই অবস্থান ইউটেরাস এর যে ভেতরের লেয়ারকে প্রভাবিত করে। আর যেহেতু এই লেয়ার বা স্তর থেকেই পিরিয়ডের ব্লিডিং তৈরি হয় তাই জন্য এই ধরনের ফাইব্রয়েড এ ব্লিডিং এর সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
এই ধরনের ফাইব্রয়েড কে বলা হয় সাবমিউকোসাল ফাইব্রয়েড।
এই ধরনের নামগুলো শুনতে এবং মনে রাখতে খটোমটো। কিন্তু আল্ট্রা সাউন্ড রিপোর্ট হাতে পেলে এই নামের সঙ্গে তুলনা করে দেখতে পারেন যে আপনার ফাইব্রয়েড ঠিক কোন ধরনের।
দ্বিতীয় ধরনের ফাইব্রয়েড থাকে ইউটেরাসের দেওয়ালে বা ঘরের দেওয়ালেই।
কিন্তু এর ফোলার দিকটা থাকে ঘরের বাইরের দিকে বা ইউটেরাসের বাইরের দিকে। এই ধরনের ফাইব্রয়েড গুলো সাধারণত ইউটেরাস এর প্রতিবেশী বা পটির রাস্তা এবং প্রস্রাবের রাস্তার সমস্যা তৈরি করে। এই ফাইব্রয়েডগুলোর পোশাকি নাম সাবসেরোসাল ফাইব্রয়েড।
আর তৃতীয় ধরনের ফাইব্রয়েড থাকে ইউটেরাসের দেওয়ালের ভেতরে। একে বলা হয় ইন্ট্রাম্যুরাল ফাইব্রয়েড। ম্যুরাল কথাটির অর্থ দেওয়াল, সুতরাং দেওয়ালের মধ্যে যে ফাইব্রয়েড থাকে তাকে বলা হয় ইন্ট্রা ম্যুরাল ফাইব্রয়েড।
এই ধরনের ফাইব্রয়েড গুলো সাধারণত কোনরকম উপসর্গ ছাড়াই বহুদিন থেকে যেতে পারে।
এই ধরনের ফাইব্রয়েড অনেক সময় বিশাল বড় বড় আকারের হয়ে গেলেও মহিলারা অনেক সময় কোন ব্লিডিং এর সমস্যা বা অন্য কোন উপসর্গ ছাড়াই বহুদিন ধরে থাকতে পারেন।
এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো যে ফাইব্রয়েড এর আকার বা সাইজের সঙ্গে তার উপসর্গের কোন মিল নাও থাকতে পারে। একদম মটরশুঁটির সাইজের আকারের ফাইব্রয়েড অনেক সময় প্রচুর উপসর্গ তৈরি করতে পারে।
আবার কখনো কখনো দুটো তরমুজ সাইজের ফাইব্রয়েডও নিঃশব্দে পেশেন্টের শরীরে থেকে যায় মাসের পর মাস।
এইতো গেল ফাইব্রয়েডের অবস্থান কত প্রকারভেদ।
এছাড়াও ফাইব্রয়েডের আরো কিছু বাড়তি প্রকারভেদ রয়েছে।
কিছু ফাইব্রয়েড ইউটেরাস এর বদলে ইউটেরাসের মুখ বা সার্ভিক্স-এর টিস্যুতে থাকে। একে বলা হয় cervical ফাইব্রয়েড। এই ধরনের ফাইব্রয়েড গুলোর অপারেশন সাধারণত খুব পারদর্শিতার সাথে করতে হয়।
কারণ এর খুব কাছে দিয়ে গা ঘেঁষে গেছে কিডনি থেকে নামতে থাকা দুটো ইউরিনের নল। যার নাম ইউরেটার। শুধু তাই না, এই ধরনের ফাইব্রয়েডের খুব কাছেই থাকে ইউটেরাসের রক্তবাহ বা ইউটেরাইন আর্টারি ও ভেইন এর বড় বড় শাখা।
গড়পড়তা মেডিক্যাল ইন্সুরেন্স কৌশলগত ভাবে কঠিন ফাইব্রয়েডের মধ্যে পার্থক্য করে না। এমন কি তারা নতুন প্রযুক্তি বা অভিজ্ঞ সার্জনের কয়েক দশক ধরে শিখে আসা মুন্সিয়ানার তফাত করে না। তারা হাসপাতালের সাথে এমন চুক্তি করে রেখেছেন যে, সব সার্জারির ন্যূনতম খরচ হাসপাতালে ধরে দিয়ে দিলেও হাসপাতাল কিছু বলতে পারে না। পেশেন্টরা এই অর্থনৈতিক চুক্তির ব্যাপারে অন্ধকারে থাকেন । সুতরাং সচেতন পেশেন্ট হিসেবে জেনে নিন খরচ বাঁচানোর জন্য হাসপাতাল প্রযুক্তি বা ভালো সার্জিকাল টিম এড়িয়ে যাচ্ছে কিনা। খোলাখুলি ভাবে আপনার সার্জনের সাথে কথা বলে নিন।
আর কিছু ফাইব্রয়েড থাকে ইউটেরাসের একদম বাইরে ব্রড লিগামেন্ট নামে এক ধরনের ঝিল্লি রয়েছে তার মধ্যে। যেহেতু ব্রড লিগামেন্ট ডিম্বাশয় বা ওভারির খুব কাছে থাকে, এই ধরনের ফাইব্রয়েড গুলো অনেক সময় সাধারণ স্ক্যানে ইউটেরাসের টিউমার বা ফাইব্রয়েডের বদলে ওভারির টিউমার বলে মনে হয়।
আরো এক ধরনের ফাইব্রয়েড রয়েছে। এই ধরনের ফাইব্রয়েড গুলো সাধারণত ফলের বোঁটার মত খুব সরু টিস্যু দিয়ে ইউটেরাসের সঙ্গে লেগে থাকে।এই ধরনের ফাইব্রয়েড কে বলা হয় পেডাঙ্কুলেটেড ফাইব্রয়েড।
সাধারণত এই ধরনের ফাইব্রয়েড অপেক্ষাকৃত ছোট সাইজের হয় এবং সেগুলো অপারেশন করে বাদ দেওয়াও সহজতর। যদিও একটি নির্দিষ্ট ভ্যারাইটির পেডাঙ্কুলেটেড ফাইব্রয়েড অনেক সময় বড় আকারের হয় এবং সেটা ইউটেরাসের ক্যাভিটি বা গহ্বর থেকে সার্ভিক্সের মুখ থেকে বেরিয়ে এসে ভ্যাজাইনার মধ্যে অবস্থান করে। এই ধরনের টিউমার গুলো অপারেশন করার সময় যথেষ্ট পারদর্শী সার্জিক্যাল টেকনিক এবং নানা ধরনের বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন।
আরো এক ধরনের বিরল ফাইব্রয়েড রয়েছে। যে ফাইব্রয়েড কে বলা হয় প্যারাসাইটিক ফাইব্রয়েড।
এই ফাইব্রয়েডের যাত্রা একসময় ইউটেরাসের গা থেকে শুরু হলেও , কালক্রমে সেই ফাইব্রয়েড ইউটেরাস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পেটের গহ্বর এ নানা জায়গায় ঘুরে বেড়াতে থাকে। শেষে অন্য কোনো অর্গ্যান থেকে রক্ত সরবরাহ সংগ্রহ করে বেঁচে থাকে।
দ্বিতীয় আরেক ধরনের বিরল ফাইব্রয়েড এর নাম (Disseminated peritoneal leiomyomatosis বা ডিসেমিনেটেড (ছড়িয়ে পরা) পেরিটনিয়াল (পেটের ভেতরের লাইনিং) লিওমায়োম্যাটোসিস (এই বিশেষ ফাইব্রয়ডের নাম) ।
এই ধরনের ফাইব্রয়েড গুলো সারা পেট জুড়ে বড় বড় সাবুদানার মতো ছড়িয়ে থাকে। সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্ষেত্রে এই ধরনের ফাইব্রয়েড অতীতে কোন ফাইব্রয়েড অপারেশনে মর্সেলেশন বলে এক ধরনের যন্ত্র ব্যবহার করার সাইড এফেক্ট। কারও সার্জারি তে মর্সেলেশন যন্ত্র ব্যবহার হচ্ছে কিনা আগে থেকে জেনে নিন।
এই ধরনের ফাইব্রয়েড ডায়াগনোসিস করতে গিয়ে অনেক সময় মাসের পর মাস কেটে যায়। যদিও এই পেরিটনিয়াল লিওমায়োম্যাটোসিস ফাইব্রয়েড গুলো ক্যান্সার নয়, কিন্তু এই ধরনের ফাইব্রয়েড ট্রিটমেন্ট সার্জারি করে হলেও তা খুবই জটিল। অনেকসময়েই এর চিকিৎসা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice.
Search tool: Submucosal Fibroids Fibroids Fibroid Subserosal Fibroids Intramural Fibroids Parasitic Fibroids DPL Morcellation Machine









