চল্লিশের পরে গাইনোকলজিক্যাল দেখভাল
তাই চল্লিশের পরে এক ডজন গাইনোকলজিক্যাল প্রবলেমের ব্যাপারে আগাম সমাধান রইল এখানে। আজকের লেখাটি লম্বা এবং কাজে লাগার মত প্র্যাকটিক্যাল তথ্যে ভরপুর
এখানে রইলো এই টপিকের বাংলা ভার্সন
For the English Version of this topic click here
আমাদের কাছে অনেক পেশেন্টই আসেন যাদের মনে হয় আগে থেকে একটু প্রিপারেশন নিতে পারলে অনেক গাইনোকলজিক্যাল সমস্যায় এড়িয়ে যাওয়া যেত।
তাই চল্লিশের পরে এক ডজন গাইনোকলজিক্যাল প্রবলেমের ব্যাপারে আগাম সমাধান রইল এখানে। আজকের লেখাটি লম্বা এবং কাজে লাগার মত প্র্যাকটিক্যাল তথ্যে ভরপুর সুতরাং হাতে কাগজ পেনসিল আর চা, নিয়ে বসে পড়ুন।
শরীর থাকলেই তার মেন্টেনেন্স থাকে আর মেন্টেনেন্স এর জন্য চাই কিছু প্রিপারেশন।
কথায় বলে life Begins at 40, এই বয়সে অনেক কিছু চেঞ্জ হয়। আপনি আরো বেশি প্রাণোচ্ছল হয়ে ওঠেন। জীবনের অগ্রাধিকার গুলোকে স্পষ্ট করে চিনতে শেখেন। অফিসে, পারিবারিক জীবনে নিজের গণ্ডিতে আরো বিখ্যাত হয়ে উঠতে শুরু করেছেন। পুরনো স্কুলের বন্ধু আর হারিয়ে যাওয়া আত্মীয়দের সাথে হঠাৎ করে দেখা হয়ে যেতে শুরু করেছে। জীবনে অনেক কিছু পাল্টানোর সাথে সাথে গাইনোকলজিক্যাল অ্যাপ্রচেও চেঞ্জ আনতে হয় বেশ কিছু।
🗿 ওভারিয়ান সিস্ট
👉🏾 এই বয়সে যে ধরনের ওভারিয়ান সিস্ট দেখা যায় সেই সিস্ট এর ভেতরে কি আছে সেটা দেখা প্রচন্ড গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখুন সিস্ট দেখতে হলে ট্রান্স ভ্যাজাইনাল আল্ট্রা সাউন্ড বা TVS এর জুড়ি নেই। যদি উপায় থাকে তাহলে এই পদ্ধতিতে আল্ট্রা সাউন্ড করান। পেটের ওপর দিয়ে আল্ট্রা সাউন্ড করলে ততটা ইনফরমেশন আসে না।
👉🏾 সন্দেহ থাকলে ডাক্তারবাবুর কাছে আবারো ফিরে যান এবং প্রয়োজনমতো এমআরআই বা সিটি স্ক্যান করে, সিস্ট এর কিরকম ভাবে ট্রিটমেন্ট হবে সেটার ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। সব সিস্টের অপারেশন দরকার হয় না। কার অপারেশন দরকার হবে বা হবেনা সেগুলো কিছু আন্তর্জাতিক নিয়মের ওপর নির্ভর করে। এই নিয়ম গুলো তৈরি করা হয়েছে পেশেন্টের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার জন্য
🩸 ব্লিডিং এর প্রবলেম
👉🏾 চল্লিশের পরে ব্লিডিং এর যে সমস্যাগুলো হয় সে সমস্যাগুলো একটু অন্যরকম ভাবে দেখা হয়। তার ট্রিটমেন্ট আলাদা। 40 এর আগে যখন ব্লিডিং এর প্রবলেম হয় সেই সমস্যাগুলোতে সিম্পটম কন্ট্রোল করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জীবনের প্রথম দিকে ওষুধ পত্র দিয়ে সিম্পটম কন্ট্রোল হয়ে গেলেই যেন অনেকটা নিশ্চিন্ত।
👉🏾 কিন্তু চল্লিশের পরে দাবার চালটা যায় উল্টে। সেখানে সিম্পটম কন্ট্রোলের আগে অগ্রাধিকার পায় তার কারণ খুঁজে পাওয়া। তাই আল্ট্রা সাউন্ড রিপোর্টে সেরকম কোন অ্যাবনরমালিটি ধরা না পড়লেও, যে ব্লিডিং ইরেগুলার বা যে ব্লিডিং এ অ্যানিমিয়া তৈরি হয়ে যাচ্ছে সেই ব্লিডিংয়ে ইউটেরাস এর ভেতরে ক্যামেরা দিয়ে ঢুকে হিস্টেরোস্কপি করে দেখে নেওয়া দরকার ইউটেরাস এর ভেতরে লাইনিং বা এন্ডোমেট্রিয়ামে কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা।
হিস্টেরোস্কপি ডে-কেয়ার প্রসিডিওর। মানে সকালে এসে বিকেলে বাড়ি চলে যেতে পারেন। কিন্তু অনেক মহিলাই ইন্সুরেন্স টাকা দেবে না এই ভয়ে বা আবারও বাড়ির লোককে অসুবিধে ফেলব - এইরকম আশঙ্কায় হিস্টেরোস্কপি না করে দিনের পর দিন ওষুধ খেয়ে সিম্পটম চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।হিস্টেরোস্কপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং চিকিৎসার সঠিক দিক নির্ণয় সাহায্য করে। যদিও ভারতবর্ষের অনেক ইন্সুরেন্স কোম্পানি হিস্টেরোস্কপি কে ইনভেস্টিগেশন বলে গণ্য করে পেশেন্টকে টাকা দেন না। তবে ইন্সুরেন্স দিক বা না দিক আপনার শরীর আপনার নিজের। তাই সঠিক পদক্ষেপ নিতে পিছ পা হবেন না।
40 বছরের পরে ইউটেরাসের ভেতরের লাইলিং বা এন্ডোমেট্রিয়ামে পলিপ, হাইপারপ্লেসিয়া বা আরো নানা রকম সমস্যা হওয়ার চান্স বেড়ে যায়। এই সমস্ত সমস্যা আগে ধরা পড়লে তার চিকিৎসা সহজ।
✂️ হিস্টেরেক্টমি
যদি অ্যাবনরমাল ব্লিডিং এর কারণে চল্লিশের পরে হিস্টেরেক্টমি করতে হয় তাহলে সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্ষেত্রে হিস্টেরেক্টমি করার আগে ইউটেরাস এর ভেতরের লাইনিং মাইক্রোস্কোপের নিচে চেক করে নিন। এটা না করে সরাসরি হিস্টেরেক্টমি করলে বেশ কিছু সংখ্যক মহিলাকে আবারও দ্বিতীয় অপারেশন করতে হয়। অসম্পূর্ণ হিস্টেরেক্টমি অপারেশনকে সম্পূর্ণ করার জন্য। একান্তই যদি ইউটেরাস অপারেশন করে বাদ দেওয়ার আগে ভেতরের লাইনিং পরীক্ষা করা সম্ভব না হয় তাহলে, আপনার ডাক্তারবাবুর সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলুন। সে ক্ষেত্রে আপনার হিস্টেরেক্টমি অপারেশনের সময় বেশ কিছু বাড়তি স্টেপ নিতে হতে পারে।
🫃🏽 চল্লিশের পরে ওজন কন্ট্রোল
চল্লিশের পর আমাদের শরীরের এনার্জি খরচ যায় কমে। মানে মেটাবলিজমের হার অনেক ধীর হয়ে যায়। ওজন বাড়তে থাকে তাড়াতাড়ি। আর এই সময় আপনার ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। কিছুতেই আপনি সময় পাচ্ছেন না। স্বাস্থ্য হতে থাকে অবহেলিত। তাই আগে থেকে শুরু করে না থাকলে এই বয়সে নিয়মিত এক্সারসাইজ শুরু করুন। খাবার একদম পরিমিত। বেশ নজর দিন।
এই নিয়ে আমাদের প্রচুর ভিডিও রয়েছে, তার লিংক নিচে 👇🏽 দিয়ে দেব।
এখনো যদি চিনি বর্জন না করে থাকেন তাহলে আপনার নিজের জন্মদিন আর যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন ছাড়া কেক মিষ্টি খাওয়া বন্ধ করে দিন।চিনি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য যে কতখানি ভয়ংকর ক্ষতিকর সে ব্যাপারে আমাদের লেখার লিংক নিচে দিয়ে দিচ্ছি। আর হ্যাঁ প্রথম প্রথম ব্যায়াম করেও যদি ওজন না কমতে চায় তাহলে হতাশ হবেন না। অনেক সময় দু'বছর কেটে যায় ওজন কমা শুরু হতে।
🚫 চল্লিশের পরে সার্ভাইকাল ক্যান্সার প্রতিরোধ
👉🏾 সার্ভাইকাল ক্যান্সার নিয়ে মহিলাদের পার্টিতে কোন আলোচনা না হলেও প্রতি ঘন্টায় শুধু ভারতবর্ষে আটজন করে মহিলা প্রাণ হারাচ্ছেন। অথচ সার্ভাইকাল ক্যান্সার প্রতিরোধের উপায় গুলো আবিষ্কার হয়ে বসে রয়েছে বেশ কয়েক দশক আগে।
👉🏾 কিন্তু জনসচেতনতার অভাবে হঠাৎ করে সমস্যা চলে আসছে অনেকের জীবনে। আর নয়। পত্র-পত্রিকায় যদি প্যাপ স্মিয়ার নিয়ে জেনে না থাকেন তাহলে আমাদের ডেসক্রিপশন বক্সে লিংক এ প্যাপ স্মিয়ার নিয়ে ঝুড়িঝুড়ি ইনফরমেশন রইল, দেখে নেবেন।
👉🏾 প্যাপ স্মিয়ার আর কিছুই নয়। সার্ভিক্স এর ওপর থেকে ভাসমান কোষ গুলো তুলো দিয়ে তুলে মাইক্রোস্কোপের নিচে রেখে পরীক্ষা করা। প্যাপ স্মিয়ার করতেও খরচ বেশি নয়। সময়ও লাগে না। আর অফিসের লাঞ্চ টাইমে প্যাপ স্মিয়ার করে আবার অফিসে চলে আসতে পারেন নির্দ্বিধায়।
👉🏾 সার্ভাইকাল ক্যান্সার এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি যদি ইংল্যান্ড বা আমেরিকার মতো দেশে থাকেন তাহলে প্রতি তিন বছর অন্তর আপনার বাড়িতে চিঠি পাঠানো হয় প্যাপ স্মিয়ার করানোর কথা মনে করানোর জন্য। আমাদের ১০০ কোটির দেশে এই ধরনের কোন সিস্টেম নেই। তবু আপনি সচেতন হ’ন।
👉🏾 আজকাল অল্পবয়সী দের জন্য HPV বলে এক ভাইরাসের ভ্যাকসিন বেরিয়েছে যা সার্ভাইকাল ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। অনেকে 40 এর পরেও HPV ভ্যাকসিন নেন। আপত্তি নেই। কিন্তু মনে রাখুন এখনো যা আন্তর্জাতিক গাইডলাইন তাতে বলা হচ্ছে HPV vaccine নিলেও নিয়মিত প্যাপ স্মিয়ার বাধ্যতামূলক ।
🔬 চল্লিশের পর ম্যামোগ্রাফি
👉🏾 শুনতে খারাপ লাগলেও প্রতি আট জন মহিলার মধ্যে একজন মহিলার ব্রেস্ট ক্যান্সার হয়। অথচ ভয় না পেয়ে সতর্ক হলে তার চিকিৎসা থাকে হাতের কাছে। আর একদম প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে চিকিৎসায় পুরোপুরি নিরাময়।
সতর্ক হবেন কি করে? প্রতিমাসে একবার সেল্ফ ব্রেস্ট এক্সামিনেশন। আর বছরে ১ বার ম্যামোগ্রাফি। সেল্ফ ব্রেস্ট এক্সামিনেশন ১২ বছর বয়স থেকে শুরু করে সব মহিলার সারা জীবন। প্রতিমাসে নিজের ব্রেস্ট নিজেই এক্সামিনেশন করতে হয়, সাথে আর্মপিট বা বগলের জায়গাটা। কিন্তু কি করবেন বলুন!! মনেই থাকেনা, তাই কর্মব্যস্ত মহিলারা একে ঠাট্টা করে বলেন পে-ডে-এক্সামিনেশন। যেদিন ওনারা মাইনে পান সেই দিন রাত্রে এসে ওনারা এই টেস্ট করেন। ব্যাস আর ভুলবেন না। সম্পূর্ণ বিনা পয়সায় সেল্ফ ব্রেস্ট এক্সামিনেশন কিভাবে করবেন তার লিংক দেয়া রইল নিচে।👉🏾 বছরে একবার করুন ম্যামোগ্রাফি।এক্সরে ম্যামোগ্রাফির খরচ কম। আর হয়ে যায় তাড়াতাড়ি। ব্রেস্টে সাময়িক চাপ ও অস্বস্তি লাগে। তাই যদি এক্সরে ম্যামোগ্রাফি করতে ইচ্ছে না হয় তাহলে করে নিতে পারেন আল্ট্রাসাউন্ড ম্যামোগ্রাফি।
👉🏾 এটা যেহেতু স্ক্রিনিং টেস্ট তাই এটা করতে কোন ল্যাবরেটরির প্রেসক্রিপশন চাওয়ার কথা নয়। আমি আল্ট্রাসাউন্ড ম্যামোগ্রাফি চাই এ কথা বললেই ল্যাবরেটরি আপনাকে বন্দোবস্ত করে দেবে। এতে সম্পূর্ণ পেইনলেস পদ্ধতিতে দুপাশের ব্রেস্ট এবং আর্মপিট গুলো পরীক্ষা করে নেওয়া হয়।
👉🏾 বছরে একবার এই পরীক্ষা করতে যান বাড়ির সবাই মিলে। আর ফেরার পথে আইসক্রিম খেতে খেতে বাড়িতে আসুন।
🤢 চল্লিশের পরে পেটের সমস্যা
পেটের সমস্যা কার না হয়! দু সপ্তাহের বেশি ক্রমাগত পেট ফুলে থাকা, খেতে ইচ্ছে করছে না, পেটে মাঝে মাঝে ব্যথা হচ্ছে বা নিচু হতে গেলে পেটে খুব চাপ লাগছে বা গ্যাস হচ্ছে এ ধরনের সমস্যা গুলো হতে থাকলে নিদেনপক্ষে whole abdomen ultrasound করান। প্লিজ এটাকে শুধু গ্যাস বলে উড়িয়ে দেবেন না।
গাইনোকলজিক্যাল জটিল কিছু ওভারির সমস্যা বহিঃপ্রকাশ হয় এই ধরনের কিছু সিম্পটম দিয়ে। যাকে গ্যাস বলে উপেক্ষা করেন অনেকেই। গাইনোকলোজিক্যাল কোন সিম্পটমই হয় না এতে।🩸 মেনোপজের শঙ্কা
👉🏾 মেনোপজ সবার জীবনেই একবার আসবে। একদিন পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যায় প্রত্যেকের। সাধারণত আপনার মায়ের বা মাসিদের যে বয়সে পিরিয়ড বন্ধ হয়েছে সেই বয়সেই আপনার পিরিয়ড বন্ধ হয়। একে বলা হয় মেনোপজ।
👉🏾 অনেকেই ভয়ে থাকেন মেনোপজে এই অসুবিধে হবে সেই অসুবিধে হবে, সেক্সুয়াল লাইফের একদম দফারফা হয়ে যাবে। সবই গুজব। মেনোপজের পরে আরো যাতে ভালোভাবে থাকতে পারেন, তাই এই ব্যাপারে আপনার আরো বেশ ভালোভাবে জানতে হবে। আধুনিক মহিলারা জীবন যাপনের প্রায় অর্ধেক সময় অতিবাহিত করেন মেনোপজের পরে। মেনোপজ নিয়ে আমাদের মাস্টার ক্লাসের লিংক আর খান পাঁচেক ভিডিওর লিংক নিচে রইলো। আশা করবো এই ভিডিও গুলো দেখলে গুজব বাদ দিয়ে বিজ্ঞানসম্মত তথ্যগুলো আপনার সামনে আসবে।
💊 মেনোপজের পর HRT
যেহেতু মেনোপজে ইস্ট্রোজেন হরমোনের অভাব হতে থাকে তাই ১৯৯০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠেছিল। আজকাল এর নানা রকম সুবিধে অসুবিধে সামনে আসার পরে অনেক মহিলাই আর এগুলো নিতে চান না। যাই হোক নেবেন কি নেবেন না, সেটা সম্পূর্ণ আপনার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
কিন্তু মনে রাখবেন শরীরে যদি ইউটেরাস থেকে থাকে, মানে যাদের হিস্টেরেক্টমি হয়নি তাদের শুধুমাত্র ইস্ট্রোজেন দিয়ে HRT দিলে ইউটেরাস, ব্রেস্ট এবং ওভারিয়ান ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা বাড়ে। এ ব্যাপারে নিজে পড়াশুনা করুন।
🩻 হাড়ের যত্ন
যথেষ্ট এক্সারসাইজ, ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার, রেগুলার গায়ে রোদ লাগানো, এসব না হলে 40 বছর থেকে শরীরে হাড়ের ঘনত্ব কমতে শুরু করে মারাত্মকভাবে। তবে ভয় নয়। এই সমস্যা এড়িয়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কিছু রিকমেন্ডেশন আছে। আমাদের হাড় ভালো রাখার ভিডিওতে একসাথে সেসব আলোচনা করেছি। সেখান থেকে দেখে নিতে পারেন। তবে এই ব্যাপারে যথেষ্ট মনোযোগী হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।
🥹 চল্লিশের পরে মনের খেয়াল
👉🏾 আগেই বলেছি এই সময় মহিলারা তাদের সামাজিক, পারিবারিক এবং কর্ম ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ব্যস্ততার মধ্যে থাকেন। নিজের দিকে নজর দেওয়ার সময় ও যেন থাকে না। এই সময় সামান্য সমস্যার ছদ্মবেশে আসে নানা জটিল মানসিক, এবং পারিবারিক সমস্যার অংকুর। এই সিম্পটমগুলোর আড়ালে কখনও লুকিয়ে থাকে গুরুতর মানসিক অবসাদ। পারিবারিক ক্ষেত্রেও নানারকম স্ট্রেস তৈরি হয়। ছেলে মেয়ের ভবিষ্যৎ, হাজবেন্ডের চাকরির স্থলে ওঠা নামা শুরু হয় এই বয়স থেকে। নিজের আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং মুদ্রাস্ফীতির সাথে লড়াই শুরু হওয়ায় অনেকেই জীবনের আশা হারিয়ে ফেলেন।
👉🏾 জীবনের শুরুর দিকে অনেকেই এক্সারসাইজের মধ্যে থাকলেও এই বয়সে আস্তে আস্তে মনে হয় অনেক তো হলো এবার একটু আয়েশ করি। এখানেই শুরু হয় নানা রকম সমস্যা। যার মধ্যে রয়েছে নানা রকম গাইনোকলজিক্যাল সমস্যাও। এই ধরনের কোন মনের সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে সাহায্য নিন। দরকার হলে কাউন্সিলিং করান, বা মনের ডাক্তারবাবুর কাছে দেখিয়ে নিন। ভয়ের কিচ্ছু নেই।
👨🏻⚕️ চল্লিশের পরে হেলথ ইন্সুরেন্স
👉🏾 যদি আপনার হেলথ ইন্সুরেন্স করা না থাকে তাহলে চল্লিশ বছরের জন্মদিনে আপনার নিজেকে উপহার দিন হেলথ ইন্সুরেন্স। আজকাল ভালো কোয়ালিটির চিকিৎসা, ভালো ইন্সুরেন্স ছাড়া সামলানো মুশকিল। নিজের অফিসে ইন্সুরেন্স থাকলেও জেনে নিন যে সেই ইন্সুরেন্স আপনার রিটায়ারমেন্টের পরেও চালু থাকবে কিনা। স্বাস্থ্যখাতে খরচ কিন্তু শুরু হয় ষাটের পরেই। যদি তা না থাকে তাহলে অতি অবশ্যই আলাদা হেলথ ইন্সুরেন্স নিন তার কারণ রিটায়ারমেন্ট এর পরে অনেক ইন্সুরেন্স কোম্পানি আর ইন্সুরেন্স নতুন করে স্টার্ট করতে রাজি হয় না।
ইন্সুরেন্স নেওয়ার সময় যথেষ্ট রিসার্চ করুন। দরকার হলে কাছের হসপিটাল গুলোতে গিয়ে জিজ্ঞাসা করে আসুন যে, কোন কোন ইন্সুরেন্স কোম্পানি প্যাকেজ এর বাইরে ইন্সুরেন্স ক্লেম সেটেল করতে পারে।এই ধরনের ওপেন ইন্সুরেন্স পলিসি গুলোর প্রিমিয়াম অপেক্ষাকৃত বেশি। কিন্তু জটিল সমস্যায় কাজেও দেয় অনেক বেশি। প্যাকেজে ট্রিটমেন্ট করালে ডাক্তার, অত্যাধুনিক চিকিৎসা, পছন্দমত ওষুধ এসব কিছুই আপনি নিজের চয়েসে করতে পারবেন না। তাই বিনিয়োগ করুন সঠিক ইন্সুরেন্সে।
তবে হ্যাঁ সব থেকে বড় বিনিয়োগ বোধ হয় রেগুলার এক্সারসাইজ, খাদ্যাভ্যাস এবং মাসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়াতে। তাই সেগুলোও ভুলবেন না
This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice.
Some links:
📺 হিস্টেরোস্কপি কী?
📺 হাইপারপ্লেসিয়া কি? কেন? চিকিৎসা
📺 ওজন কেন কমতে চায় না আমাদের:
📺 **A Clever Weight Control Strategy | Master The Leptin Trap**
👉🏼 চিনিকে চিনুন : https://open.substack.com/pub/drmanas/p/5f1
👉🏼 চিনির ছদ্মনাম - সতর্কতা প্রয়োজন ? https://open.substack.com/pub/drmanas/p/a43
Search tool: Forty 40 after 40 mammography life after forty insurance ovarian cyst abnormal bleeding hysteroscopy losing weight cervical cancer HPV vaccine mammography self breast examination menopause HRT













