কলিগদের কারও ক্যান্সার?
আপনি কী করবেন? কী বলবেন? আর কী বলবেন না, নতুন অফিস এটিকেট। পাশে থাকুন, সাথে থাকুন
কলিগদের কারও ক্যান্সার?
না! ক্যান্সার ছোঁয়াচে নয়।
একসাথে কফি মিটিং চলতে পারে।
নাইট আউটও চলতে পারে।
তার বাড়িও যেতে পারেন।
Sympathy Vs Empathy।
এই দুটির মধ্যে তফাৎ জানুন ।
সহমর্মী হোন, তাঁর সহানুভূতি হয়তো প্রয়োজন নেই।
“আহা, উহু” বলবেন না।
কিছু হয়নি, এরকম বলবেন না।
একদম আগের মতো স্বাভাবিক ব্যবহার করুন।
বাড়তি আগ্রহ দেখাবেন না।
তবে বুঝিয়ে দিন, তাঁর যুদ্ধে তিনি চোখ বন্ধ করে আপনার ওপর ভরসা করতে পারেন।
ইচ্ছে হলে আর্থিক সহায়তা করুন। তবে ক্যান্সারের মতো দীর্ঘ যুদ্ধে একবার কিছু টাকা দিলে তেমন কাজে আসে না। চেষ্টা করুন, অফিসের কয়েকজনকে নিয়ে ছোট ছোট গ্রুপ তৈরি করে প্রতি মাসে একেক গ্রুপ কিছু অর্থ সাহায্য দেওয়ার ব্যবস্থা করতে। কিছুদিনের মধ্যেই অনেক সময় সহকর্মীদের উৎসাহে ভাটা পড়ে যায়, তাই নিজের সামর্থ্য বুঝে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি দিন। একবার প্রতিশ্রুতি দিলে তা রাখা উচিত।
তাঁর কাজের প্রশংসা করুন, তবে কৃত্রিমভাবে নয়।
তাঁকে কাজের দায়িত্ব দিন।
তিনি যদি চান, তবে সঠিক চিকিৎসক খুঁজে পেতে সাহায্য করুন। তবে অযাচিতভাবে গায়ে পড়ে “অমুক ডাক্তার বা অমুক হাসপাতালেই যেতে হবে” এমন জোর করবেন না।
মনে রাখুন, অফিস ছাড়াও তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে উপদেশ দেওয়ার মতো কেউ নিশ্চয়ই আছেন।
কর্পোরেট হাসপাতাল, নর্মাল বেসরকারি হাসপাতাল আর সরকারি হাসপাতাল। এয়ারকন্ডিশন হাসপাতাল মানেই ভালো আর সরকারি হাসপাতাল মানেই যে খারাপ, এমন ভাবনা বোধ হয় ঠিক নয়। ট্রিটমেন্ট ইন্স্যুরেন্সের টাকাতে হলেও, সিনিয়র কনসালট্যান্ট নিজে হাতে চিকিৎসা করছেন কিনা, তা জেনে নিন।
খরচ ও সামর্থ্যের মধ্যে ভারসাম্য রাখা দরকার। সাধারণত সার্জারিতে খরচ বেশি, তারপর রেডিয়েশন, তারপর কেমোথেরাপি। একটি ভালো মানের সার্জারিতে অসংখ্য যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়। কেমোথেরাপির মধ্যে টার্গেট থেরাপির খরচ বেশ বেশি এবং দীর্ঘ সময় ধরে চলে।
নতুন রিসার্চে যেসব ওষুধ আসে, তার বাজারদর বেশি থাকে। কয়েক বছর পর রিসার্চে খরচ হওয়া টাকা উঠে এলে ওষুধের দাম কমে আসে।
ক্যান্সার এর ট্রিটমেন্ট দোকান থেকে টেলিভিশন কেনার মতো নয়। দাম বেশী মানেই, তা ভালো বা ফিচার বেশী, এমন নাও হতে পারে। দাম কম মানেই যে সঠিক ট্রিটমেন্ট এমনও নয়। পড়াশোনা করে ট্রিটমেন্ট নিতে হয়। যাই হোক, এসব ভেবে, ওঁর ট্রিটমেন্টের বাজেট তৈরি করতে সাহায্য করুন।
মনে রাখা প্রয়োজন, সব ভালো ডাক্তারই যে একটি হাসপাতালেই থাকবেন এমনটা ভাবাও ঠিক নয়। ভালো ডাক্তার যে, যেকোনো একটি নির্দিষ্ট শহরে বা একটি নির্দিষ্ট দেশে থাকেন না। যেকোনো ট্রিটমেন্টের আগে সময় থাকলে, সেকেন্ড ওপিনিয়ন নিন।
উনি ক্লিনিকে গেলে সে সময় ওনার জব কভার করুন। ফিরে এলে অনেক হেল্প করে দিয়েছি, এমন ভাব দেখাবেন না।
ওনার মেজাজের উত্থান-পতন হতে পারে। ক্যান্সার আর তার ট্রিটমেন্ট যাই হোক না কেন - it is an emotional journey
ওনার মেজাজের উত্থান পতন হতে পারে। ক্যান্সার আর তার ট্রিটমেন্ট যাই হোক না কেন, it is an emotional journey।
ওনার খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই জোর করে খাবার দেবেন না। কিছু ওষুধের সাথে অ্যালকোহল রিঅ্যাক্ট করে, তাই সেক্ষেত্রেও জোর করবেন না।
পারলে ওনাকে মানসিক ভাবে সাহায্য করুন। পাশে দাঁড়ান। সিনেমা দেখতে যান বা কফি শপে। টাকার চেয়ে এসব অনেক বেশি প্রয়োজন।
ওনার চুল পড়ে যাওয়া মানে এই নয় যে ওনার কোনো দিন চুল আসবে না।
চুল পড়ে যাওয়া মানে এমনও নয় যে, ওনার অন্তিম সময় আসন্ন।
কারও কারও টিউমার রিমুভ করার পর, পেটে পটির ব্যাগ বা ইউরিন ব্যাগ দেওয়ার দরকার হতে পারে। একে বলে স্টোমা। এর থেকে গন্ধ আসে না। ইনফেকশন ছড়ায় না। উনি সেসব নিয়ে নিউইয়র্কও ঘুরে আসতে পারেন, অফিস তো দূরের কথা।
যা করবেন না
প্রতিবার ওনার ডাক্তার কী বললেন, তা খুঁটিয়ে জানতে চাইবেন না।
উনি কতদিন বাঁচবেন সেসব জানতে চাইবেন না। কারোরই আয়ুর ভবিষ্যৎ বাণী করা সম্ভব নয়।
কারোরই আয়ুর ভবিষ্যৎ বাণী করা সম্ভব না।
ওনার ব্যাপারে অন্য কলিগদের সাথে ফিসফাস করবেন না।
হেলথ ইনফরমেশন বারোয়ারি তথ্য নয়।
ওনার প্রাইভেসিকে সম্মান করুন।
পাশে থাকুন, সাথে থাকুন..
This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice.
Search tool: Colleague Etiquette Office Financial Contribution Cancer Treatment Stoma Health Information





