ছদ্মবেশী ওভারি
ঘটনা পরম্পরা যেমন খাঁটি তেমনি চাঞ্চল্যকর। ছদ্মবেশী ওভারি হাত থেকে জয়ী হওয়া তিনটি কাহিনি।
এখানে রইলো এই টপিকের বাংলা ভার্সন
For the English Version of this topic click here
সমস্যা টা ভেবে দেখার মতো। ওভারি গাইনকলজিকাল অর্গ্যান। একজন মহিলা তার ওভারির কোন প্রবলেম হলে নিশ্চয়ই আশা করবেন, তার কোন না কোনও, গাইনোকলজিক্যাল সিমটম হবে। কিন্তু গোল এখানেই। ওভারির সমস্যা অনেক সময়ই নন গাইনকলজিকাল সিম্পটম নিয়ে আমাদের সামনে আসে।
কীরকম?
👉🏾 অসুখ যখন নিষ্ঠাভরে, সাজিয়ে গুছিয়ে ধোঁকা দেয় ডাক্তারকেও তখন শুরু হয় চিকিৎসা বিভ্রাট। আজকের তিন কেস স্টাডি শোনা থাকলে একদিন পাল্টে দিতে পারেন কারও ভবিষ্যত। patient confidentiality এর স্বার্থে বাস্তব থেকে তুলে নিয়ে আসা কাহিনির কুশীলবদের আসল নাম পরিবর্তিত। কিন্তু ঘটনা পরম্পরা যেমন খাঁটি তেমনি চাঞ্চল্যকর। ছদ্মবেশী ওভারি হাত থেকে জয়ী হওয়া তিনটি কাহিনি।
👉🏾 সুইস আল্পসে স্কি করার থ্রিল টাই আলাদা। আগে উইন্টার অলিম্পিকে পাহাড়ে স্কিইং হতো না। এক ডাক্তারবাবু বহু চেষ্টা তদবির করে ১৯৩৬ থেকে উইন্টার অলিম্পিকে স্কিইং শুরু করেন। ওনার ব্যক্তিত্বটাই আলাদা।
👉🏾 ছিলেন গাইনোকলজিস্ট, শেষ জীবনে হলেন চোখের ডাক্তার। জন্মেছিলেন জার্মানিতে, রিটায়ার করার পর চলে গেলেন সুইজারল্যান্ডে। হয়ে গেলেন দক্ষ স্কিইং খেলোয়াড়। কিন্তু রিটায়ার করার আগে চিকিৎসা বিজ্ঞানকে এক অদ্ভুত আবিষ্কারে সমৃদ্ধ করে যান। নাম তার Friedrich Ernst Krukenberg
👉🏾 উনি আমাদের শিখিয়েছিলেন ওভারির টিউমারের উৎপত্তি শুধু ওভারি থেকে হয় না। গলা, ফুসফুস এমনকি ব্রেস্ট থেকেও উৎপত্তি হতে পারে ছদ্মবেশী তলপেটের ওভারির টিউমারের।
তলপেটের টিউমার ওভারির টিউমার ভেবে যখন পেশেন্টএদিক ওদিক ছুটছেন, তখন সবার অলক্ষ্যে দাবার গুটি সাজাচ্ছে সম্পূর্ণ অন্য একটা অর্গ্যান। এদের নাম আজও সেই ডাক্তারবাবুর নামে : ক্রুকেনবার্গ টিউমার।
👉🏾 মিসেস খানের কী সমস্যা হয়েছিল সেটা নিয়ে আজকের তৃতীয় কেস স্টাডি।
👉🏾 তার আগে বাকি দুটো। প্রথমে এমিলি আর তারপর শ্রীমতী গোস্বামীর কেস। শেষের গল্প মিসেস খানের ক্রুকেনবার্গ টিউমারে।👉🏾 শুধু অন্য অর্গানের সমস্যা যে ওভারির টিউমার হিসেবে আসতে পারে তাই নয়। ওভারির সমস্যা অনেকসময় অন্য সিস্টেমের উপসর্গ নিয়ে ছদ্মবেশে ধোঁকা দিতে থাকে পেশেন্ট আর ডাক্তার দুজনকেই। শ্বাসের সমস্যা, ব্লাড প্রেসার হলে কী কেউ ওভারির সমস্যা ভাববেন প্রথমেই? কিন্তু সময় এসেছে সচেতন হবার। এ ধরনের কাহিনির প্রচুর এক্সাম্পল আমাদের কাছে।
👉🏾 প্রথমে এমিলির ক্রিসমাস। ডিসেম্বর ২০২১- ক্রিসমাসের ঠিক এক সপ্তাহ আগে, কদিন বাদেই এমিলি পনেরো বছরে পা দেবে। এমিলির ইচ্ছে আটলান্টিক সিটিতে বার্থডে সেলিব্রেশন হবে। প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। এই বয়সে অন্য বাচ্চাদের মতোই এমিলিও শরীর চর্চার জন্য জিমে যায়।
👉🏾 কিন্তু সেদিন বল তুলতে গিয়ে বুকে আর হাতের দিকে প্রচন্ড ব্যথা। লাঞ্চ খেতে গিয়ে ব্যাথাটা একটু কমলো বটে কিন্তু তবু অস্বস্তিটা রয়েই গেছে। শেষমেষ বন্ধুদের জোরাজোরিতেই নার্সের কাছে যেতে বাধ্য হল এমিলি।
ব্লাড প্রেসার মাপতে গিয়ে নার্সের অবাক হওয়ার পালা। অসম্ভব বেশি ব্লাড প্রেসার, আর তার সাথে হার্ট যেন পুরো ছুটছে। আকাশ ছোঁয়া পালস রেট।
👉🏾 তাকে নিয়ে যাওয়া হলো রিভার ভিউ মেডিক্যাল সেন্টারে, কিন্তু সেখানে প্রাথমিক ভাবে হাই ব্লাড প্রেসার এবং পালস রেটের তেমন কোন কারণ খুঁজে পাওয়া গেল না। রেফার করা হলো চিলড্রেন্স হাসপাতালে। চিলড্রেন্স হাসপাতালে বিভিন্ন স্পেশালিস্টরা এমিলির দেখভাল করতে শুরু করলেন। খোঁজ খোঁজ।
👉🏾 অল্প বয়সে এইরকম আকাশছোঁয়া ব্লাড প্রেসার এর কারণ অনেক সময় কিডনিতে লুকিয়ে থাকে। এদিকে কিডনির স্ক্যান করতে গিয়েই ডাক্তারদের নজরে পড়ে যায় পেটের মধ্যে লুকিয়ে থাকা এক বড়সড় টিউমার। এমিলিকে রেডি করে গাইনোকলজিস্ট অপারেশন করলেন। এমিলির অপারেশনের আগে ওষুধ পত্র দিয়ে ব্লাড প্রেসার কমিয়ে তারপরই অপারেশন করা হয় যাতে এমিলির স্ট্রোক বা এই ধরনের কোন কমপ্লিকেশন না হয়।
👉🏾 তাড়াতাড়ি ব্লাড প্রেসার কমানোরও নানা ঝুঁকি। শেষে প্রায় প্রাণ হাতে করে, ৪ কিলো ওজনের এই বড়সড় ওভারিয়ান টিউমার বাদ দেওয়া হল। পেছনে লুকিয়ে ছিল আরও একটা ছোট ফুটবলের সাইজের টিউমার।
টিউমারের চাপে কিডনির ব্লাড সাপ্লাই বন্ধ হবার উপক্রম। এর ফলেই ব্লাড প্রেসার বেড়ে গিয়েছিল। বুঝুন কাণ্ড।👉🏾 অপারেশনের পরে অবশ্য এমিলি সুস্থ হয়ে বাড়ি চলে গেছে। সবাই প্রথমে ভেবেছিল যে টিউমারটা হয়তো ক্যান্সার। কিন্তু ফাইনাল বায়োপসি রিপোর্ট আসার পরে দেখা যায় যে সেটা ক্যান্সার ছিল না।এমিলির ওভারিতে লুকিয়ে ছিল এই ধরনের টিউমার। সে জানতেই পারেনি। মানুষের পেট একটা বিশাল জায়গা। বিশেষত মহিলাদের ক্ষেত্রে পেটের মধ্যে ওভারির এত রকমের ছদ্মবেশী বহিঃপ্রকাশ হতে পারে, তা সাধারণ মানুষের কাছে এক বিশাল সারপ্রাইজ।
👉🏾 সমস্যা টা ভেবে দেখার মতো। ওভারি গাইনকলজিকাল অর্গ্যান। একজন মহিলা তার ওভারির কোন প্রবলেম হলে নিশ্চয়ই আশা করবেন, তার কোন না কোনও, গাইনোকলজিক্যাল সিমটম হবে। কিন্তু গোল এখানেই। ওভারির সমস্যা অনেক সময়ই নন গাইনকলজিকাল সিম্পটম নিয়ে আমাদের সামনে আসে।
👉🏾 তাই অস্বাভাবিক সমস্যা হলে অন্তত করিয়ে নিন পেটের আল্ট্রাসাউন্ড।
👉🏾 আমেরিকার এমিলির কাহিনি প্রকাশিত হয়েছিল সারা পৃথিবীর সংবাদ মাধ্যমে। কিন্তু আসানসোলের আরতি গোস্বামীর কেস আসেনি কোনো হেডলাইনে।
👉🏾৬৫ এর আরতি গোস্বামীর বাড়ি আসানসোলে। আমি ইংল্যান্ড থেকে ফিরে আসার পরপরই ওনাকে দেখেছিলাম আমার ক্লিনিকে। নাতনি জোর করে ওনাকে ধরে নিয়ে আসে। শুনলাম বছর দেড়েক আগে থেকেই ওনার ট্রিটমেন্ট চলছে হাঁপানির সমস্যার জন্য। Asthma প্রবলেমের জন্য এ দোকান সে দোকান থেকে ওষুধপত্র-ইনহেলার এনে, চলছিল, বছরের ওপর।
👉🏾 সে বছর, মহালয়ার কিছুদিন আগে পুজোর জন্য নাতি নাতনিরা সবাই এসেছে। নাতনি ভূগোলে এমএসসি করে দিল্লির ইউনিভার্সিটিতে। স্বাস্থ্য নিয়ে জটিল লেখাপত্র পড়ার ঝোঁক রয়েছে। এই নাতনির কাছে ঠাকুরমার শরীরটা ঠিক ভালো ঠেকছে না।
নাতনির মনের খটকা লাগলো, এটা আর যাই হোক Asthma হতে পারে না, একটু ধৈর্য ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেই দেখা গেল বুকে জল জমেছে। আর তার সাথে পেটেও জল। 👉🏾 শুধু তাই নয় পেটের মধ্যে আস্ত বড় একটা ফুটবলের সাইজের থেকেও বড় ওভারির টিউমার লুকিয়ে রয়েছে। পুজোর ঠিক দুদিন আগে নাতনি আর ছেলে আরতি দেবীকে নিয়ে এলেন আমাদের ক্লিনিকে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা গেল সেটা এক ধরনের ওভারির ক্যান্সার, সেই মুহূর্তে ওনার শারীরিক অবস্থা এমনই যে অপারেশন করানো সম্ভব ছিল না।
👉🏾 ওষুধ পত্র দিয়ে অসুখটা একটু কন্ট্রোল করে সার্জারি হলো মাস আড়াই বাদে। সার্জারির দিন চারেক বাদেই, ঠাকুমা আমাদের সাথেই ক্রিসমাসের কেক কাটলেন। তখন তিনি হাসপাতালে। তারপরে ফিরে গেলেন আসানসোলে, ৬ বছর হয়ে গেল এখন উনি ভালোই আছেন।
কিন্তু ওভারির টিউমারের জন্য Asthma, বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা হতে পারে এরকমটা প্রথমে মনেই আসবে না। কিন্তু ওই যে বললাম ওভারি ছদ্মবেশী। তার ছলের অভাব নেই।
👉🏾 দু-টো গল্প শুনলেন, যেখানে ওভারির সমস্যা গাইনকলজিকাল সমস্যা ছাড়াও অন্য অঙ্গের সমস্যা নিয়ে আমাদের সামনে আসে, যেমন গ্যাসের সমস্যা, পটি হচ্ছে না, পেট সারাক্ষণ ফুলে থাকছে। খাওয়া-দাওয়াই কিছু করা হচ্ছে না। একটু তলিয়ে দেখলে দেখা যাচ্ছে কিছু ক্ষেত্রে সেটা ওভারির সমস্যা।
👉🏾 একটা বড়সড়ো সংখ্যার মহিলাদের অনেকদিন থেকে গ্যাসের সমস্যার ট্রিটমেন্ট চলতে থাকার পরে আবিষ্কার হয় - সেটা মোটেই গ্যাস নয়। আদতে যেগুলো ছিল ওভারির সমস্যার বহিঃপ্রকাশ। এবার তৃতীয় ঘটনা। যেখানে অন্য অর্গানের সমস্যা ওভারির সমস্যার রূপ ধরে আমাদের সামনে আসে।
👉🏾 অর্থাৎ, শরীরের অন্য অঙ্গের টিউমারের বহিঃপ্রকাশ হয় ওভারির বড় টিউমারে। ডাক্তারি ভাষায় একে বলে ক্রুকেনবার্গ টিউমার । বেশ কিছু সংখ্যক মহিলাদের আমরা আমাদের প্র্যাকটিসে দেখতে পাই যাদের চোখের আর মনের সব আকর্ষণ নিয়ে নিয়েছে ওভারিতে সদ্য পাওয়া এক বড়সড়ো টিউমার।
👉🏾 বাড়ির লোক ওভারির টিউমারের চিকিৎসা খুঁজছেন। কিন্তু একটু মনোযোগ দিয়ে দেখলে বোঝা যাবে যে বিশালাকৃতির ওভারির সিস্ট বা টিউমারের আসল উৎপত্তি অন্য কোথাও। নজরের বাইরে থেকে গিয়েছে আসল origin।
গলার থাইরয়েডে , ব্রেস্টে , লাংস, গল ব্লাডার বা কোলনে লুকিয়ে রয়েছে নাটের গুরু।
👉🏾 তাই ওভারির টিউমার ধরা পড়লে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী যে সমস্ত ব্লাড টেস্ট এবং স্ক্যান করা হয় তার নেপথ্যে যে কারণ কাজ করে সেটা হল শরীরের অন্যান্য অঙ্গের আর কিছু সমস্যা আছে কিনা সেটা খোঁজা।
👉🏾 যখন আমরা নতুন নতুন এম বি বি এস পাশ করেছি এমনকি গাইনকলজি নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেছি তখনও ছোট ডাক্তার অবস্থায় আমাদের একটা ভ্রান্ত ধারণা ছিল- ওভারির টিউমারের স্ক্যান বুঝি ওভারিটা দেখার জন্য করা হয়।
👉🏾 কিন্তু আজকে এতগুলো দশক কাটিয়ে আসার পরে জেনেছি ওভারি দেখার সাথে সাথে ওভারির বাইরের অর্গান গুলো দেখা, আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দেখতে চাইবো বললেই কি দেখা যায়? অনেক সময় ওভারির সমস্যা স্ক্যানকেও বোকা বানিয়ে দেয়।
👉🏾 আরও একটা ইন্টারেস্টিং গল্প না বললে আজকের এই ভিডিও রিসার্চ শেষ হবেনা, সদ্য রিটায়ার্ড, ডাকসাইটে মিসেস খান কলকাতার নামি স্কুলের ছাত্রী, প্রফেশনাল জগতেও প্রচন্ড সফল। তার ছেলে, মেয়ে, বৌমা, সবাই নম্রভাষী এবং প্রত্যেকেরই অপরিসীম ধৈর্য। মাঝে মাঝে মনে হয় ডাক্তার হিসেবে আমি ওনাদের কাছে ছাত্র হয়ে শিখি কিভাবে মানুষের সাথে মানুষের মতো ব্যবহার করতে হয়। জিজ্ঞেসা করতে ইচ্ছে হয়, এত বিনম্র স্বভাব ওনারাই বা পেয়েছেন কোথা থেকে !
👉🏾 আমার এখনো মনে আছে সে বছর নববর্ষের কটা দিন বাদেই ওনার ওভারিয়ান টিউমারের এমার্জেন্সি অপারেশন করার দরকার হয়ে পড়েছিল। ব্যথা আর বড় হতে থাকা ওভারিয়ান টিউমারের প্রেসার এতটাই বেশি ছিল যে আমরা আরও কিছু টেস্ট করে তারপর অপারেশন করব তেমন সুযোগই ছিল না।
👉🏾 আমরা এমআরআই, সিটি আর পেট সিটি স্ক্যান এবং সমস্ত ব্লাড টেস্ট করে অপারেশনের নামলাম। পেটের টিউমার অপারেশন করে বাদ দেওয়ার পরেও, আমাদের সন্দেহ ছিল যুদ্ধ এখনো শেষ হয়ে যায়নি। আর কিছু লুকিয়ে নেই তো? তন্ন তন্ন করে পেটের মধ্যে চলল খোঁজা খুঁজি।
👉🏾 পেটের ভেতর গুটিয়ে থাকা মিটার কে মিটার পটির রাস্তা ইঞ্চি ইঞ্চি করে পরীক্ষা করতে শুরু করলাম। কেন? তার কারণ একটাই, যে সেখানেও থাকতে পারে এই ওভারিয়ান টিউমারের লুকিয়ে থাকা আসল হেড কোয়ার্টার। সারা পেটে কোথাও কিছু নেই, শেষে কোলনে এক্সামিনেশন করতে দেখা গেল এক ইঞ্চি মত জায়গা একটু শক্ত হয়ে আছে সন্দেহ তীব্র হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে কোলনেও অপারেশন করা হলো এবং জানা গেল ওভারির সাথে সাথে ওনার কোলনের সমস্যারও ট্রিটমেন্ট দরকার।
👉🏾 দুটো সার্জারি নিয়ম মেনে সেদিনই শেষ করা হলো। তারপর কিছুদিন ওষুধপত্র চালিয়ে এখন উনি ভালো আছেন। এই ধরনের টিউমার গুলোকে বলা হয় Krukenberg টিউমার স্কিইং এ পারদর্শী প্রফেসর Friedrich Ernst Krukenberg জার্মানের ইউনিভার্সিটি অফ বর্নের প্রফেসর ছিলেন।
তিনি সর্বপ্রথম পৃথিবীর কাছে এই গবেষণা নিয়ে আসেন যে সব ওভারির টিউমারই ওভারির টিউমার নয়, এটা ছদ্মবেশী অন্য কোন অঙ্গের সমস্যার বহিঃপ্রকাশ কিনা সেদিকেও নজর রাখা দরকার। 👉🏾 শুনতে গল্প গাছা বলে মনে হলেও যে সমস্ত পেশেন্টদের Krukenberg টিউমার হয় তাদের ক্ষেত্রে ট্রিটমেন্ট বেশ চ্যালেঞ্জিং এবং প্রচুর ধরনের এক্সট্রা টেস্ট এবং ট্রিটমেন্ট এর মধ্যে দিয়ে যেতে হয় তাদের। দুর্ভাগ্যবশত অনেক পেশেন্ট অর্ধেক টেস্ট করিয়েই ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলেন। তাঁকে আবার বুঝিয়ে সুঝিয়ে রাজি করানো হয়।
👉🏾 যেদিন krukenberg টিউমার ধরা হয়ে গেল সেদিন শার্লক হোমসের কাজ শেষ। আর সেদিন ওনার ভবিষ্যতের সব ট্রিটমেন্ট আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী সাজিয়ে ফেলা যায়। কিন্তু তার আগে পর্যন্ত অনেক সময় অভিজ্ঞ ডাক্তার এবং পেশেন্টদেরও ধোঁকা খেতে হয় এই ছদ্দবেশী ওভারিয়ান টিউমারের হাতে।
👉🏾 তাই মহিলাদের পেটের বা বুকের কোন সমস্যা ঘুরে ফিরে আসতে থাকলে অন্তত পেটের একটা আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান করাতে ভুলবেন না। সব ক্ষেত্রে হয়তো ওভারির সমস্যা পাওয়া যাবে না, কিন্তু সতর্ক থাকতে ক্ষতি কী!
👉🏾 এই কিছুদিন আগে এক ডাক্তারবাবুর মিসেসেরই আমরা অপারেশন করছিলাম। পেশেন্ট নিজেও Anthropology র প্রফেসর। বাড়ি গৌহাটিতে। পেট ভর্তি এত বড় টিউমার নিয়ে আমাদের সামনে যখন তিনি এলেন তখন চেয়ারে পর্যন্ত স্থির হয়ে বসতে পারছেন না। এতটাই তার অস্বস্তি। প্রয়োজনীয় ব্লাড টেস্ট সিটি স্ক্যান ইত্যাদি এ সমস্ত করে অপারেশন করা হলো।
👉🏾 শেষে ওনার স্টমাক বা পাকস্থলীতে পাওয়া গেল ওভারির টিউমারের আসল অরিজিন, এত বিশাল বড় ওভারিয়ান টিউমারের কারণে
স্টমাকের নাটের গুরু টিউমার আকারে ছোট হওয়ার কারণে এবং বড় টিউমারের প্রেসারে স্ক্যান এ ধরাই পড়েনি। 👉🏾 সেই একই ওভারিয়ান টিউমারের সময়ে আমাদের অপারেশন করতে হলো স্টমাকের সমস্যারও।
This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice.
Search Key word: Ovarian tumor, Gynecological problems, Non-gynecological symptoms, Krukenberg tumor, Friedrich Ernst Krukenberg, Abdominal ultrasound, Breathing issues and ovary, High blood pressure ovary link, Ovarian cancer, Emily case study, Arati Goswami case, Mrs. Khan case study, Abdominal tumor diagnosis, Disguised ovarian tumor, Women’s health awareness















