কেন কিছুতেই আমার ওজন কমে না ?
এর প্রতিকার খুঁজতে গিয়ে এ বিষয়ের নতুন রিসার্চ আর জার্নালের পাতায় চোখ রাখলে যা যা জানা যাচ্ছে তাতে তো চিকিৎসক হিসেবে চোখ ছানাবড়া। সেসব তথ্য আপনাদের সাথে শেয়ার না করে উপায় নেই !
এখানে রইলো এই টপিকের বাংলা ভার্সন
For the English Version of this topic click here
বহুদিন ধরেই একটা বিষয় বেশ ভাবাচ্ছে বুঝলেন ! বহুল প্রচলিত বই বা ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ওজন কমানোর অনেকগুলো কৌশলই ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষের উপর তেমন ভালো কাজ করছে না। একটু চোখ কান খুলে দেখলে বোঝা যায়, বেশিরভাগ পত্রপত্রিকা এবং ডাক্তারি বইতে আসলে পাশ্চাত্যে প্রচলিত রীতি মেনে ওজন কমানোর চর্চা চলে।
আপনি ভাবতেই পারেন প্রাচ্য আর পাশ্চাত্যে মানুষের শরীরের কলকব্জা কি আলাদা নাকি ? সবাই তো মনুষ্য প্রজাতির ই অন্তর্গত ! তাহলে?
ক্লিনিকে বসে পেশেন্ট দেখার সময় দেখি অনেকই বলেন আমি তো তেমন খাই না তাও ওজন বেড়েই যাচ্ছে। আবার একদল পেশেন্ট বলেন হাঁটাচলা সবকিছু করছি তবুও ওজন কমছে না।
আর মাঝে মাঝে যে কথাটা প্রায়শই শুনতে হয়, ডাক্তার বাবু আগে এরকম ছিল না জানেন, কিছু বছর আগে আমার চেহারা একদম ছিপছিপে ছিল আর এখন…বলতে বলতে কারোর হয় তো চোখ ছলছল করে ওঠে।
এর প্রতিকার খুঁজতে গিয়ে এ বিষয়ের নতুন রিসার্চ আর জার্নালের পাতায় চোখ রাখলে যা যা জানা যাচ্ছে তাতে তো চিকিৎসক হিসেবে চোখ ছানাবড়া। সেসব তথ্য আপনাদের সাথে শেয়ার না করে উপায় নেই !
আসলে স্থূলতা বা ওবিসিটি আজ বিশ্বব্যাপী মহামারী। তার সাথে হাত ধরাধরি করে আসে হার্টের প্রবলেম, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার।
শহুরে ভারতবাসীর জীবনযাত্রায় দৈনন্দিন স্ট্রেস এবং আধুনিক ফাস্ট ফুড জাতীয় খাবারদাবারের হাত ধরে ওবিসিটি আক্রান্ত মানুষজনের সংখ্যা বেড়েই চলেছে । তবে এর নেপথ্যে বাড়তি কারণ হিসেবে যা পাচ্ছি তা simply very disturbing.
প্রথমেই -
1, দুর্ভিক্ষ-
ভাবছেন তো দুর্ভিক্ষের সাথে স্থুলতার সম্পর্ক কি ? অবিশ্বাস্য রিসার্চ। আজকের খাবারের প্রাচুর্যের যুগে দুর্ভিক্ষ কিভাবে আমাদের পূর্বপুরুষ এবং তাদের হাত ধরে আমাদের জেনেটিক স্বাস্থ্য চেঞ্জ করে দিয়েছে সেটা জানলে আঁতকে উঠবো আমরা অনেকেই। তাই প্রথমেই ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখা।
2022 সালে প্রকাশিত Endocrinology, Diabetes and Metabolism জার্নালে ডক্টর সৈয়দ, ডিক আর আজিম শেখের এই গবেষণা নড়িয়ে দিয়েছে ইংল্যান্ডের সংবাদ মাধ্যমকেও। রেফারেন্স রইল নিচে - উৎসাহীরা পড়ে নিতে পারেন।
200 বছরের ইংরেজ শাসনের সময় ভারতবর্ষে হয়েছে 25 টি দুর্ভিক্ষ, যাতে মারা গেছেন 6 কোটি ভারতীয়। পরিসংখ্যাটা আর একবার ভেবে দেখুন।
1800 সালে ভারতবর্ষের জনসংখ্যা ছিল 17 কোটির কিছু কম। এই 17 কোটি মানুষের মধ্যে যদি 6 কোটি মানুষ মারা গিয়ে থাকে, তার অর্থ, গড়ে প্রতি তিনজন মানুষের মধ্যে একজন প্রাণ হারিয়েছেন দুর্ভিক্ষে।
আমরা যারা এখন বেঁচে রয়েছি, তারা সবাই দুর্ভিক্ষ পীড়িত ভারতবর্ষে বেঁচে থাকা মানুষদের বংশধর।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত ধরেই ইংরেজরা কি করেনি ভারতবর্ষে সে সময়। ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারের মূল্যে ভারতীয় সম্পত্তি সাইফুন করে দেওয়া হয়েছে ব্রিটেনে। আকাশ ছোঁয়া জমির ট্যাক্স, নিত্য প্রয়োজনীয় লবণের উপরে চড়া মাত্রায় কর আদায়। লিস্টের শেষ নেই।
তবে দুর্ভিক্ষ কি শুধু ইংরেজ শাসনেই হয়েছিল ? না তেমনটা নয়। ইতিহাস ছেঁচে যেটুকু তথ্য পাওয়া যায়, তাতে মালুম পড়ে ইংরেজরা আসার আগে 2000 বছরে 17 বার দুর্ভিক্ষ হয়েছে ভারতবর্ষে। আর ইংরেজরা আসার পরে সেই সংখ্যাটা লাফিয়ে বেড়ে যায় 200 বছরে 25 বার।
1876 থেকে 1878 সালে এক কোটিরও বেশি মানুষ মারা গেছেন দুর্ভিক্ষে। 1943 এর মন্বন্তরে এই বাংলার গলিতে, রাজপথে খিদেয় মৃত্যু হয়েছে 30 লক্ষের বেশি মানুষের।
তাহলে আজকে ওজন বাড়ার সঙ্গে সেদিনের দুর্ভিক্ষের কারণ কী? আসলে সেদিন যারা দুর্ভিক্ষে বেঁচে ছিলেন আমাদের সেই সব পূর্বপুরুষদের লিভারে আশীর্বাদসম বিশেষ ক্ষমতা ছিল।
আমাদের এইসব পূর্বপুরুষদের লিভার অল্প খাবার খেয়েও বেশ কিছুদিন চালিয়ে দিতে পারতো এবং এই গুনেই তারা বেঁচে ছিলেন সেই দুর্ভিক্ষ পেরিয়েই। আমরা সবাই এদের বংশধর।
যাদের লিভারে এই গুণটি ছিল না আমাদের সেইসব পূর্বপুরুষ সবাই মারা গেছেন দুর্ভিক্ষ সইতে না পেরে। আমরা কেউ তাদের বংশধর নই। স্বভাবতই আমাদের লিভার মাংসপেশী এবং শরীরের মেটাবলিজমে এখনো মিশে রয়েছে সেই আশীর্বাদ। লিভারের সেই গুণ, এখন প্রায় অভিশাপের-ই মত আমাদের অনেকেরই শরীরে নিয়ে আসছে স্থূলতা।
এখন খাবারের প্রাচুর্যে, শহুরে জীবনযাত্রায়, হাই ক্যালরির খাবার জুটছে সহজেই। মন্বন্তরে পাল্টে যাওয়া আমাদের শরীরের জেনেটিক প্রোফাইল এই ক্যালোরির প্রাচুর্য সহ্য করতে পারছে না, ফলে বাড়তি ক্যালোরি থিতিয়ে পড়ছে ফ্যাট হিসেবে।
ব্যায়াম-পরিশ্রম করেও যা শরীর থেকে বের করতে আমাদের ছুটে যাচ্ছে কাল ঘাম। কঠিন রুক্ষ বন্ধুর অতীত যেভাবে আমাদের শরীরের জেনেটিক প্রোফাইল পাল্টে দেয় তার নাম epigenetics- আর পুরো বিজ্ঞানের নাম evolutionary biology
ঠিক এই কারণেই দুর্ভিক্ষের ফলশ্রুতি হিসেবে আমরা আজকে বহন করে চলেছি স্থূলতা এবং ডায়াবেটিসের বাড়বাড়ন্ত। ভারতীয়দের শরীর খুব এনার্জি efficient. কম জ্বালানিতেই ভালো চলে। তাই চেষ্টা করুন কম খেতে।
2, খাবারের প্লেটের রং আর portion সাইজ,
একবারে আমরা কতখানি খাবার খাই সেটাকে বলা হয় এক portion আবারও যদি চোখ রাখি ইতিহাসের পাতায় তাহলে দেখতে পাবো 1500 খ্রিস্টাব্দে পৃথিবীর মানুষ প্রতিদিন খেয়ে ফেলত 13 ট্রিলিয়ন ক্যালোরি খাবার।
আর আজকে পৃথিবীতে যত মানুষ রয়েছি আমরা, তারা প্রতিদিন সাবাড় করে দিচ্ছি 1500 ট্রিলিয়ন ক্যালোরি।
পরিসংখ্যাটা আরেকবার ভেবে দেখুন। 1500 খ্রিস্টাব্দ থেকে মানুষের সংখ্যা বেড়েছে চোদ্দগুণ আর ক্যালরির খোরাকি বেড়েছে 115 গুন সুতরাং এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই আমরা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি খাই।
সবুজ বিপ্লবের হাত ধরে নতুন যুগের যে শস্য, ডেয়ারী শিল্পে, পোল্ট্রির মাংসে পুষ্টি বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। আমরা চেয়েছি আর যেন দুর্ভিক্ষ না আসে।
আজকের পৃথিবীতে অনাহারে যত মানুষ মারা যায় তার থেকে বেশি মানুষ মারা যায় অতি-আহারে। স্থূলতার সঙ্গে জড়িত যে অসুখগুলো- সেই অসুখের প্রকোপে।
2003 সালে প্রকাশিত Journal of the American Dietetic Association এর জার্নাল এ রিসার্চে দেখতে পাই গড়পড়তা আমেরিকান রেস্টুরেন্টে portion এর সাইজ আগের থেকে বেড়ে থেকে পাঁচগুণ পর্যন্ত হয়েছে।
একে বলে Portion Distortion- খদ্দের ধরতে এই Portion Distortion রেস্টুরেন্টগুলোর common practice।
আমেরিকান রেস্টুরেন্ট গুলোর বদ অভ্যাস আজ পৌঁছে গেছে আমাদের দেশেও. রেস্টুরেন্টগুলো ভালই জানে যে আমরা এতটাই pocket conscious যে, সেসব রেস্টুরেন্টে portion সাইজ বেশি আমরা সেই রেস্টুরেন্টে যাই বারবার। এর আড়ালে বেড়ে যাচ্ছে অল্প বয়সীদের ওজন।
সামনে থাকা, খাবারের প্লেটকে আমরা যুদ্ধের লক্ষ্য বলে মনে করি। যতক্ষণ না সেই প্লেটের খাবার শেষ হবে ততক্ষণ খেয়েই যাব, পেট ভরে গেলেও। বাড়ছে স্থুলতা।
2012 সালে জার্নাল অফ নিউট্রিশন এডুকেশন এন্ড বিহেভিয়ার এর এক রিসার্চ পেপারে ডাক্তার ভন ক্লীভ প্রমাণ করলেন আমাদের খাবারের প্লেট যত বড় হবে তত বেশি খাবে মানুষ।
রিসার্চ এ প্রমাণিত - অন্ধকার ঘরে সাদা পরিস্কার বড় প্লেটে আমরা খাই অনেক বেশি। তাই সুস্থ থাকতে হলে খেতে হবে যে ঘরে আলো যথেষ্ট আছে, কালো বা খয়েরি রং এর একটু ছোট আকারের প্লেট থেকে। তাহলে, মন আর পেট ভরে যাবে অল্প খাবারেই। বাড়তি ক্যালরির ফাঁদ থেকে বাঁচতে পারব আমরা।
3 লেপটিন রহস্য
আমাদের খিদের যতটা অংশ হয় পেটে তার থেকে বেশি খিদে হয় চোখে আর মনে। আমরা কতখানি খাব আর খাব না সেটা নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব আমাদের পেটের নয়। আমাদের মাথা বা মস্তিষ্কের দুটো কেন্দ্র আছে। একটি কেন্দ্রের নাম খাই-খাই সেন্টার (hunger centre)। আর আরেকজনের নাম পরিতৃপ্তি সেন্টার (satiety centre)।
কিন্তু সে যাই হোক খাবার তো ঢুকছে পেটে। তাহলে মাথার হেড অফিসে কি করে খবর পৌঁছয়, যে আমাদের খাওয়া হয়ে গেছে?
এই ডেলিভারি বয়ের নাম লেপ্টিন। মাত্র কয়েক বছর আগেই এই লেপ্টিনকে বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন। এটা স্রেফ এক ধরনের কেমিক্যাল যার কাজ হচ্ছে পেট থেকে মাথায় এই খবর পৌঁছে দেওয়া যে পেট ভর্তি। এই সিগন্যাল আমাদের মস্তিষ্কে পৌঁছলে পরিতৃপ্তি সেন্টার জেগে উঠে খাই-খাই সেন্টারকে বকে-ঝকে থামিয়ে দেয়। অনেক হয়েছে খাওয়া। থামতো বাপু!
কিন্তু সমস্যা হল কার পেট থেকে কতক্ষণ পরে লেপ্টিন গিয়ে মাথায় ঢুকে পরিতৃপ্তি সেন্টারের দরজায় তার সিগন্যাল পৌঁছে দিতে পারবে সেটা এক এক মানুষের ক্ষেত্রে এক এক রকম। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। অপেক্ষাকৃত কম খেয়ে যাদের পেট ভরে যায়, যারা অতটা গোলগাল নন, একটু রুগ্ন চেহারার মানুষ, তাদের ক্ষেত্রে লেপটিন খুব সক্রিয়। চট করে পেট থেকে ব্রেনে পৌঁছে যায়।
আর যারা একটু মোটাসোটা তাদের ক্ষেত্রে লেপ্টিন কাজ করে অনেক গড়িমসি করে।
গড়িমসি করে লেপ্টিন যদি কাজ করে, তাহলে পেট ভর্তি হয়ে গেলেও সেখান থেকে মাথায় খবর পৌঁছতে সময় লাগে অনেকক্ষণ।
ধরে নেওয়া যাক এই সময়ের অন্তর মিনিট পনেরো। মানে, পেট ভর্তি হবার মিনিট পনেরো বাদে লেপ্টিন মাথায় পৌঁছচ্ছে। সেই ততক্ষণ আমাদের ক্ষিদে থেকেই যায়। আমরা খেয়েই যাই, খেয়েই যাই।
সুতরাং খাওয়া-দাওয়া যথেষ্ট হয়ে যাওয়ার পরেও শেষের এই পনেরো মিনিট সময় আমরা অতিরিক্ত খেয়েই চলেছি। যেটা পুরোটাই আমাদের শরীরের বাড়তি ক্যালরি।
তাই একটু থেমে থেমে খেলে বা যথেষ্ট জল খেয়ে নিলে লেপটিন বিভ্রাটের হাত থেকে খানিকটা হলেও রক্ষা পাব। তাই ফুটবল ক্রিকেটের মতো খাবারেও আনুন হাফ টাইম- খানিকটা খেয়ে, জমিয়ে আড্ডা দিন- তারপর আবার খাবার। দেখবেন বাড়তি খাবারটুকু খেতে মন চাইবে না আর।
4, অসময়ে ঘুম
রাতে যথেষ্ট সময় ধরে ভালো ঘুম দরকার। ঘুম কিন্তু শুধুমাত্র ক ঘন্টা ঘুমোচ্ছি তার ওপরে ডিপেন্ড করে না। ঘুমের কোয়ালিটি আর কোন সময় ঘুমোচ্ছি সেগুলোও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ !
মস্তিষ্কের গর্ভগৃহে মাত্র কুড়ি হাজার নার্ভ কোষের একটা ছোট্ট কণা রয়েছে যার পোশাকি নাম Suprachiasmatic Nucleus বা SCN- আমাদের শরীরের ঘড়ি থাকে এখানেই।
আমাদের শরীরের 37 লক্ষ কোটি কোষকে অঙ্গুলি হেলনে সে ওঠায় বসায়। এই ছোট্ট মস্তিষ্ক কেন্দ্রই আমাদের শরীরের ঘড়ি। মানুষের ইতিহাসে 60 লক্ষ বছর ধরে সূর্য ডোবার খানিক বাদেই সে মানুষকে ঘুম পাড়িয়েছে আর আলো ফোটার পরে পরেই মানুষকে জাগিয়ে দিয়েছে।
এই ঘড়ি নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের হরমোনের ওঠা নামা। আমাদের শরীর কখন কতখানি ক্যালরি খরচ করবে বা কতখানি ক্যালরি শরীরে সঞ্চিত করে রেখে দেবে এই সবকিছুই।
আমরা কতখানি নিঃশ্বাস নেব, হার্ট কতখানি জোরে চলবে, শরীরের মেটাবলিজমে আমরা পাতলা হবো, না মোটা হবো সবকিছুই বেপথু হয়ে যেতে পারে এই ঘড়ি যদি বিগড়ে যায়।
এই ঘড়ি ঠিক রাখার এক আবশ্যকীয় শর্ত হলো রাতের অন্ধকারে পর্যাপ্ত ঘুম - প্রায় ঘন্টা সাতেক ।
প্রায়ই পড়াশোনা চাপে কাজের প্রয়োজনে বা নেটফ্লিক্স এর দাপটে অনেক রাত করে ঘুমোতে যাওয়া আর সূর্যোদয়ের পরেও বিছানায় পড়ে থাকার পরিনাম একটাই। মস্তিষ্কের এই Suprachiasmatic Nucleus কে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত করে দেওয়া।
যার ফলশ্রুতি- স্থূলতা থেকে শুরু করে ডিপ্রেশন, ডায়াবেটিস থেকে শুরু করে ক্যান্সার। লন্ডনের পাতাল রেলে রাতের অন্ধকারে কাজ করা কর্মীদের ওপর চালিয়ে এ ধরনের রিসার্চের তথ্য চমকে দেওয়ার মতো।
তাই যে চাকরি বা পড়াশুনাতে জেগে থাকতে হয় রাতের পর রাত, সে চাকরিতে আপনার রোজগার যত বেশিই হোক না কেন, একদিন না একদিন সব বেরিয়ে যাবে হাসপাতালের বিলে।
তাই একান্তই রাতে কাজ করতে হলে করতে হবে সিফট এ। যাতে সপ্তাহের বেশিরভাগ দিনে আপনি রাতের অন্ধকারে ঘুমোতে পারেন।
আর যারা সঠিক সময়ে ঘুমোতে যেতে পারেন না তারা বেশিরভাগ সময়েই ক্লান্ত এবং অবসন্ন থাকেন, শরীরের কলকব্জা তাদের আকৃষ্ট করে আরো লোভনীয় কিন্তু অস্বাস্থ্যকর খাবার গুলোর দিকে।
প্রয়োজনীয় পরিমাণে জল খাওয়াও কিন্তু আমাদের জীবনযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। পর্যাপ্ত পরিমাণে জল না খেলে আমাদের পেট ভরতে চাইবে না, অনেকসময় এ থেকে সিগারেট অ্যালকোহলের দিকে ঝোঁক হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়।
শরীর জল-বঞ্চিত থাকলে পটি থেকে শুরু করে হরমোনের কাজ, রক্তের প্রবাহ আর মেটাবলিজম সবই যাবে বিগড়ে। আর আসবে অবাঞ্ছিত স্থূলতা আর ক্লান্তি ভাব।
তাই ওজন না কমলে হাল ছেড়ে দেবেন না । মনে রাখবেন আপনার আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে নিজেকে সুস্থ আর ফিট রাখা । চেষ্টা করুন কম ক্যালরি খাবার খেতে। পুষ্টির দিকে যাতে ঘাটতি না হয় সে খেয়ালও কিন্তু রাখবেন। আর নিয়মিত শরীরচর্চা করুন, তাতে ওজন খুব শিগগিরই না কমলেও শরীর আর মন দুইই ভালো থাকবে।
References:
📒 Syed, Mubin & Deek, Feras & Shaikh, Azim. (2022). The Susceptibility of South Asians to Cardiometabolic Disease as a Result of Starvation Adaptation Exacerbated During the Colonial Famines: 10.31038/EDMJ.2022621
📰 যত বড় প্লেট ততবেশি খাব আমরা- van Kleef E, Shimizu M, Wansink B. Serving bowl selection biases the amount of food served. J Nutr Educ Behav. 2012 Jan-Feb;44(1):66-70. doi: 10.1016/j.jneb.2011.03.001. Epub 2011 Oct 6. PMID: 21982579.
📰 অন্ধকার ঘরে আমরা বেশি খাই
Scheibehenne B, Todd PM, Wansink B. Dining in the dark. The importance of visual cues for food consumption and satiety. Appetite. 2010 Dec;55(3):710-3. doi: 10.1016/j.appet.2010.08.002. Epub 2010 Aug 13. PMID: 20709127.
📰 বেড়ে চলছে পোরশন সাইজ Young LR, Nestle M. Expanding portion sizes in the US marketplace: implications for nutrition counseling. J Am Diet Assoc. 2003 Feb;103(2):231-4. doi: 10.1053/jada.2003.50027. PMID: 12589331.
📒 Schwartz J, Byrd-Bredbenner C. Portion distortion: typical portion sizes selected by young adults. J Am Diet Assoc. 2006 Sep;106(9):1412-8. doi: 10.1016/j.jada.2006.06.006. PMID: 16963346.
This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice
Search tool: famine british rule leptin portion size plate obesity losing weight weight loss portion distortion suprachiasmatic nucleas sleep












