গাইনোকোলজির ন’টি ভুল
ওভারিয়ান সিস্টের সমস্যার জন্য এক মহিলা চার বছর ধরে পাঁচখানা অকারণ ওষুধ খেয়ে, খান তিনেক অসম্পূর্ণ সার্জারি করে, ট্রেন, ফ্লাইট, হোটেল খরচে লাখ লাখ টাকা খরচ করে আজ হুইলচেয়ারে গৃহবন্দি।
ওভারিয়ান সিস্টের সমস্যার জন্য এক মহিলা চার বছর ধরে পাঁচখানা অকারণ ওষুধ খেয়ে, খান তিনেক অসম্পূর্ণ সার্জারি করে, ট্রেন, ফ্লাইট, হোটেল খরচে লাখ লাখ টাকা খরচ করে লিভার আর কিডনি ড্যামেজ নিয়ে আজ হুইলচেয়ারে গৃহবন্দি।
ঠিক কাছাকাছি এক ধরনের সিস্টের সমস্যা নিয়ে আরেকজন পেশেন্ট পাঁচ মাসের মধ্যে ট্রিটমেন্ট কমপ্লিট করে, ট্রিটমেন্ট শেষ করার দু মাসের মধ্যে, আজ রাজস্থান বেড়াতে চলে গেলেন। তার স্কুলের বন্ধুদের সাথে।
স্রেফ সঠিক সিদ্ধান্ত, সঠিক সময়ে না হওয়ার কারণে, আজ প্রথমজন নিজের উপর হারিয়ে ফেলেছেন বিশ্বাস।
যদি মনে করে থাকেন ডাক্তার, হাসপাতাল, আর ভাল টেকনোলজি থাকলেই চিকিৎসা সম্পূর্ণ করা সম্ভব, তাহলে সেই ভাবনাটা সম্পূর্ণ ভুল। ভাল চিকিৎসা তখনই হবে যখন আপনি নিজের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
In the journey of your treatment, you cannot stay anymore as a passenger, you have to be a pilot.
তবেই আসবে চিকিৎসায় সাফল্য।
সেসব কথা বলার দিন আজ শেষ হয়ে গেছে। আমি তো ডাক্তারির ড-ও জানি না। আমি কী করে নিজের সিদ্ধান্ত নেব। নিতে হলে নিজেকে-ই স্বাস্থ্য নিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। কারণ ভাল থাকার মূলমন্ত্র শেখায়নি আপনার স্কুল বা কলেজ।
গাইনোকোলজিতে যে ভুলগুলো পেশেন্টরা আকছার করেন, সে নিয়ে বানিয়েছি গাইনোকোলজির ভুল সিদ্ধান্তের সিরিজ। আজকে এই সিরিজের প্রথম পার্টে ন’খানা, খুব সাধারণ ভুল থেকে এড়িয়ে, নিজের জন্য সঠিক চিকিৎসা নির্বাচন করার কয়েকটা রাস্তা।
ভুল নাম্বার ১: ডায়াগনোসিস না করে ট্রিটমেন্ট করিয়ে যাওয়া
ওভারিতে সিস্ট, বাল্কি ইউটেরাস, এন্ডোমেট্রিয়ামের থিকনেস বেশি, এ সবেতেই চাই অন্তত একটা প্রফেশনাল ডায়াগনোসিস। কারণ এগুলো নিজে কোনও অসুখ নয়। অন্য কোনও অসুখের বহিঃপ্রকাশ মাত্র।
সুতরাং ডায়াগনোসিস এবং সম্ভাব্য কারণ খুঁজে না পেয়ে অন্ধকারে ঢিল ছুড়ে নিজের চিকিৎসা করা, বা করানো এবং চিকিৎসার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া, আধুনিক যুগের নিরিখে বিজ্ঞানসম্মত নয়। বেশ বোকামির কাজ।
প্রচুর ধরনের ওভারির সিস্ট হয়, প্রচুর কারণে ইউটেরাসের ভেতরের লাইনিং বা এন্ডোমেট্রিয়ামের থিকনেস বাড়তে পারে।
তাই শুধু স্ক্যানে দেখা সমস্যাকে ছোট করার প্ল্যান নিয়ে ট্রিটমেন্ট করাতে থাকলে জীবন আটকে যাবে সেন্টিমিটার, মিলিমিটারের মাপে।
এটা ঠিকই সমস্যাগুলোকে একদম মাইক্রোস্কোপের নিচে না রাখলে অনেক সময়ই পূর্ণাঙ্গ ডায়াগনোসিস সম্ভব নয়।
কিন্তু তবুও অন্তত কাজ চালানোর মতো ওয়ার্কিং প্রফেশনাল ডায়াগনোসিস অত্যন্ত জরুরি, না জানলে বারবার জিজ্ঞাসা করুন। বারবার পড়াশোনা করুন।
আর হ্যাঁ, ওভারিয়ান সিস্টের কথা এলে আমাকে যেটা বলতেই হবে। কোনও সিস্ট দেখা গেলেই, আগে জানুন তা সিম্পল না কমপ্লেক্স। কারণ দুটোর ট্রিটমেন্ট সম্পূর্ণ আলাদা।
ভুল ২: বয়সের সীমারেখা না জানা
আধুনিক মেডিকেল সাইন্সের অনেক আন্তর্জাতিক গাইডলাইন এবং প্রটোকল আছে যা পেশেন্টের বয়সের উপর ভিত্তি করে কী ট্রিটমেন্ট করা উচিত, তার ব্যাপারে সুস্পষ্ট ধারণা দেয়।
যেমন ৫০ বছরের আগের ওভারিয়ান সিস্ট আর ৫০ বছরের পর, অর্থাৎ মেনোপজ হয়ে যাওয়ার পরে ওভারিয়ান সিস্টের ট্রিটমেন্ট সম্পূর্ণ আলাদা।
মেনোপজের আগের ফাইব্রয়েড আর মেনোপজের পরে তৈরি হওয়া ফাইব্রয়েড জাতীয় সমস্যার চিকিৎসায় আকাশ পাতাল তফাত।
৪০ বছর বয়সের আগে অ্যাবনরমাল ব্লিডিংয়ের ট্রিটমেন্ট ওষুধ দিয়ে সিম্পটম কন্ট্রোল করলেই চলে। কিন্তু ৪০ পেরোলে, দাবার চালটা যায় উল্টে। তখন ব্লিডিং কমানোর থেকেও সব থেকে বেশি দরকার ব্লিডিং কেন হচ্ছে, সেটা কারণটা খুঁজে বার করা।
গাইনোকোলজিক্যাল প্রচুর সমস্যার জন্য এই ধরনের বয়স ভিত্তিক আন্তর্জাতিক গাইডলাইন রয়েছে।
এটা ঠিকই, আপনার পক্ষে সবকটা গাইডলাইন জানা সম্ভব নয়। তবে খানিকটা ধারণা থাকলে ডাক্তারকে সেটা অন্তত জিজ্ঞাসা করতে ভুলে যাবেন না।
ভুল ৩: কারণ না জেনে অ্যাবনরমাল ব্লিডিং এর ট্রিটমেন্ট
অনেকেই মনে করেন ব্লিডিংয়ের ট্রিটমেন্টের উদ্দেশ্য বোধহয় ব্লিডিংকে কমানো বা ব্লিডিং-কে রেগুলারাইজ করা।
এরকম প্ল্যান রীতিমত বিপদজনক। কারণ ব্লিডিং এর কারণ খুঁজে না বার করতে পারলে শুধুমাত্র ওষুধ দিয়ে ব্লিডিং বন্ধ করে চটজলদি সমাধান হয় ঠিকই, কিন্তু ভবিষ্যতে বড়সড়ো ফাঁদে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কীরকম?
দুটো স্পেশাল ক্ষেত্রের কথা দেখুন।
— ৪০ এর পর অনিয়মিত ব্লিডিং
৪০ বছরের পর ব্লিডিং এর কারণ না খুঁজে, এলোপাথারি সিম্পটম কন্ট্রোলের জন্য ওষুধ খেয়ে যাওয়ার অর্থ ইউটেরাসের ভেতরের কোনও চিকিৎসাযোগ্য অসুখ কে আরও ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ দেওয়া।
চল্লিশের আগে ব্লিডিংয়ের সমস্যায় ইউটেরাসে গুরুতর সমস্যা পাওয়ার সম্ভাবনা, স্ট্যাটিস্টিক্যালি কম। তাই তখন ওষুধ খেয়ে ট্রিটমেন্ট এবং সিম্পটম কন্ট্রোলের চেষ্টা চলতে পারে কয়েক মাস। কন্ট্রোল না হলে, তখন প্রশ্ন আসে কারণ খোঁজার।
এদিকে, চল্লিশের পর মহিলাদের পলিপ, ক্যান্সার এবং প্রিক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা সংখ্যাতত্ত্বের হিসেবে বাড়ে। আপনার দুশ্চিন্তা যাতে না হয় সেজন্য ডক্টররা অনেক সময়েই এ ধরনের তথ্য সরাসরি না দিয়ে আপনাকে সঠিক ট্রিটমেন্ট করার পরামর্শ দেবেন।
কিন্তু আপনার যদি পড়াশোনা না করা থাকে, তাহলে আপনার কাছে সে ডাক্তারের সে সিদ্ধান্ত মনে হতে পারে বাড়াবাড়ি। তাই, ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনে লেখা থাকলেও নিজে সচেতন না হলে, আপনার ট্রিটমেন্ট হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
এই ক্ষেত্রে মেনোপজের পরের ব্লিডিংয়ের এর কথা না বলে থাকা যাচ্ছে না,
— পোস্টমেনোপজাল ব্লিডিং
মেনোপজের পর যে ব্লিডিং হয় তার নাম “পোস্ট মেনোপজাল ব্লিডিং”। নাম মেনো-পজ হলেও, পিরিয়ড কখনও ফিরে আসে না। আসতে পারে না।
মেনোপজের পরের ব্লিডিংগুলো যেহেতু প্রথমে অল্পবিস্তর হয়ে নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায়, পেশেন্ট মনে করেন আর বোধহয় আমার ট্রিটমেন্টের দরকার নেই। তাই ডাক্তারের কাছে যান না। আর এখানেই শুরু আরেক ভুল।
ডক্টরের কাছে না গেলে, বিলিতি ডিগ্রী থাকা ডাক্তার, ঝাঁ চকচকে হাসপাতাল, আর বিশ্ববিখ্যাত নানা টেকনোলজি আপনার দেশে থাকলেও, শুধুমাত্র সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভুলে ছড়িয়ে যাবে সমস্যা।
ভুল নম্বর ৪: লিভার ড্যামেজ
গাইনোকোলজিক্যাল অর্গানগুলো হরমোনের কথায় ওঠে-বসে। তাই অনেক সময় ব্লিডিংয়ের ট্রিটমেন্টে হরমোনের ওষুধ খেতে হয়। নজর না রাখলে, কিছু হরমোন লিভার ড্যামেজ শুরু করতে পারে।
এ সময় তাই কড়া নজর রাখা প্রয়োজন। ওষুধ খেয়ে সিম্পটম কন্ট্রোল হয়ে গেলে, আপনি যখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন, তখন সেসব দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ লিভার ড্যামেজ করে দিচ্ছে কিনা।
এর জন্য খুব সাধারন দুটো উপায় আছে। এক নম্বর নিজে পড়াশোনা করা, জানা। দুই, ডাক্তারের কাছে জিজ্ঞাসা করতে ভুলে না যাওয়া।
কারণ সন্দেহ হলেই সামান্য LFT ব্লাড টেস্ট করিয়েই লিভারের অবস্থা জানতে পারবেন।
LFT তে ALT, ALP, বা Alk phos বলে যে টার্মিনোলজিগুলো থাকে সেগুলো বাড়ার অর্থ আপনার লিভারের কোষ নরমালের থেকেও একটু বেশি ভাঙছে। ডায়াগনোসিস সিম্পল। মনে আসাটাই দামি। একটু সতর্ক থাকলেই তার সঠিক চিকিৎসা আপনার হাতের মুঠোয়।
নয়তো, ভবিষ্যতে গাইনোকোলজিক্যাল সমস্যা থেকে লিভারের প্রবলেমই আপনার জীবনের বড় হেডলাইন হয়ে দেখা দেবে।
ভুল ৫: অ্যানিমিয়াতে সেরাম আয়রন পরীক্ষা না করা
“আমার ২০০৭ সালে একবার অ্যানিমিয়া হয়েছিল”। আর, “গত দুবছরে তিনবার অ্যানিমিয়া হয়েছে”, এই দুটোর মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ।
অনেকেই আমরা মনে করি অ্যানিমিয়া ট্রিটমেন্ট বোধহয় শুধু কমে যাওয়া হিমোগ্লোবিনকে বাড়িয়ে দেওয়া। ভুল। নেপথ্যের কারণ খুঁজে না পেলে সঠিক সময়ে সঠিক ট্রিটমেন্টের শুধু সুযোগই যে আমরা হারাব তা নয়, হতে পারে জীবন সংশয়।
মেয়েদের যেহেতু প্রতিমাসেই পিরিয়ড হয় তাই হিমোগ্লোবিন কমে গেলে অনেকে ধরেই নেন যে বোধহয় পিরিয়ডের কারণেই হয়েছে। কিন্তু এছাড়াও যে আরও কয়েকশ কারণ থাকতে পারে সে ব্যাপারটার দিকে মনোযোগ রাখা, অত্যন্ত দরকার।
অবশ্যই সে কারণ আপনি খুঁজবেন না। তবে, অ্যানিমিয়া ফিরে ফিরে এলে, ডাক্তারের কাছে গিয়ে বারংবার প্রশ্ন করা প্রয়োজন যে, কেন এমন হচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে বলি, শুধু হিমোগ্লোবিন চেক করা যথেষ্ট নয়। দেখা দরকার আপনার রক্তের সেরাম আয়রন কেমন আছে। এতে শরীরের রক্ত তৈরীর অন্দরমহলের গল্পটা আপনার সামনে উঠে আসবে।
সেরাম আয়রন করতে যেহেতু খরচ খানেকটা বেশি, তাই অনেকেই এ টেস্ট এড়িয়ে যান। তার বদলে করান প্রায় অর্থহীন এক ধরনের টেস্ট, যার নাম ফেরিটিন।
ফেরিটিন এক ধরনের একইউট ফেইজ প্রোটিন, শরীরে কোনও ইনফেকশন ইনফ্লামেশন হলে ফেরিটিনের মাত্রা বাড়ে কমে। তাই ফেরিটিন-ট্রান্সফেরিটিন টাইপের টেস্ট করে সময় আর টাকা নষ্ট করবেন না।
করুন সেরাম আয়রন। তা না করা থাকলে আপনার হিমোগ্লোবিন ১০/১১তে পৌঁছে গেলেও অনেক সময়ই দেখা যায় আপনার শরীরে আয়রনের পরিমাণ প্রায় শূন্য।
তাই অ্যানিমিয়ার সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে ভাবুন। তার কারণ খুঁজুন। কারণ খুঁজতে অনেক সময় লাগবে। কিন্তু তবুও ট্রিটমেন্টের কন্ট্রোল ছেড়ে দেবেন না।
ভুল ৬: জল কম খাওয়া
গাইনোকোলজিক্যাল যেকোনও সমস্যাতেই তলপেটের না না সমস্যা। ব্যথা, আড়ষ্ট হয়ে থাকা, এরকম আরও অনেক কিছু। এই সময়ে যদি সাথে কন্সটিপেশন থাকে তাহলে কোনও মতেই আপনার গাইনোকোলজিক্যাল সিম্পটম যেতে চাইবে না।
কন্সটিপেশনের দুটো কারণ আমাদের চোখ এড়িয়ে যায় খুব সহজেই। সময় থাকতে যথেষ্ট জল না খাওয়া, আর ভালো করে হাঁটাচলা-এক্সারসাইজ না করা।
যথেষ্ট জল আর নিয়মিত এক্সারসাইজ যে শুধু কন্সটিপেশন থেকে রক্ষা করে তাই না। ডিপ্রেশন থেকে দুর্বলতা, ক্যান্সার প্রতিরোধ থেকে ডায়াবিটিস সবেরই ওষুধ এ দুটোই।
জল না খেলে বারবার ইউরিন ইনফেকশনও হবে। তখন তলপেটের বিভিন্ন সমস্যায় নাজেহাল হবেন আপনি এবং আপনার ডাক্তার। চিকিৎসায় বিশ্বাস হারিয়ে যাবে।
ভুল ৭: স্ক্যান হলে রিজিয়নের খোঁজ না রাখা
স্ক্যান করলে খেয়াল রাখুন শরীরের কোন পার্টের অর্থাৎ রিজিয়নের স্ক্যান হচ্ছে। অনেক সময় পেশেন্টরা উপর পেটের স্ক্যান করে অর্থাৎ আপার অ্যাবডোমেনের স্ক্যান করে ভেবে নেন তাদের বোধহয় কোনও গাইনোকোলজিক্যাল প্রবলেম নেই।
বা, উলটোটা। তলপেটের স্ক্যান করলে ভেবে নেন তাদের আপার অ্যাবডোমেনের গলব্লাডার একদম ঠিক আছে।
স্ক্যান আপনার মোবাইল ফোনে তোলা একটা ছবির মত, আপনি যদি আমার দিকে তাকিয়ে ছবি তোলেন তাহলে সেই ছবিতে দিল্লির তাজমহলের ছবি উঠবে না। তেমনি দিল্লির তাজমহলের ছবি তুললে সেখানে হয়তো আমি থাকবো না।
তাই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। জানুন কোন রিজিয়নটুকুর স্ক্যান হচ্ছে। ভেবে দেখলেই বুঝবেন কেন ব্যাপারটা রীতিমত গণ্ডগোলের।
তলপেটে ব্যথার জন্য অনেক সময় আমরা তলপেটের আল্ট্রাসাইন্ড করি। ভেবে নিই যে বোধহয় সমস্ত ইনভেস্টিগেশন হয়ে গেল।
কিন্তু তলপেটে অনেক ব্যথার কারণ গাইনোকোলজিক্যাল নয়। তখন প্রয়োজন তলপেটের পেছনে পিঠের তলার দিককার মেরুদণ্ড বা স্পাইন এর ছবি তোলা। স্পাইনে আলাদা করে MRI না করলে, সেই ছবি তলপেটের স্ক্যানে ওঠে না। এমন কি তলপেটের বা Pelvic MRI করা হলেও তাতে তলপেটের পেছনের স্পাইনের যথেষ্ট ভাল ছবি আসবে না।
সুতরাং স্ক্যান MRI, CT স্ক্যান করার সময় দুবার ভাবুন, যে শরীরের ঠিক কোন রিজিয়নের স্ক্যান হচ্ছে। আর বাকি যে জায়গাটার স্ক্যান হচ্ছে না, সেখানে কোনও সমস্যা লুকিয়ে বসে নেই তো। তার মানে নিশ্চয়ই এমন নয় যে তলপেটের সমস্যা হওয়ার জন্য আপনি হাতের বুড়ো আঙ্গুলের MRI করিয়ে দিলেন। তবে প্রাথমিক চিকিৎসায় সাড়া না পেলে, দরকার আপনার কমনসেন্স।
ভুল ৮: ব্লাড টেস্ট করে মেনোপজ দেখা
মেনোপজ হয়েছে কিনা তা কনফার্ম করার একটিমাত্র উপায় গত 12 মাস ধরে আপনার ব্লিডিং সম্পূর্ণ বন্ধ আছে কিনা।
ধৈর্য হারিয়ে অনেকে শর্ট-কাট ব্লাড টেস্ট করে দেখতে চান। । অনেকই FSH বা AMH টেস্ট করান। আসলে, মেনোপজ দেখতে এধরনের ব্লাড টেস্টের কোনো ভূমিকা নেই।
সামান্য একটা টেস্টের অত নিয়ম কেন? কিছু ক্ষেত্রে, ডাক্তারদের পেশেন্টের মেনোপজ হয়েছে কিনা ভেবে, তারপর ওনার ট্রিটমেন্ট করতে হয়। মেডিকেল কলেজে এভাবেই ওনাদের পড়ানো হয়েছে। সারা পৃথিবীতেই তাই। এসময় মেনোপজের আসল সংজ্ঞার ওপর ভিত্তি না করে, ব্লাড টেস্ট করে সিদ্ধান্ত নিলে চিকিৎসা বিভ্রাট হওয়া অসম্ভব নয়।
আসলে ব্লাড টেস্ট করে যদি কেউ ভাবেন পেশেন্টের মেনোপজ হয়ে গেছে, তখন পেশেন্টকে পোস্ট-মেনোপজাল ভেবে হয়তো কিছু ট্রিটমেন্ট করা হবে না। বা এমন ট্রিটমেন্ট করা হবে যে, চিকিৎসা হাঁটবে ভুল রাস্তায়।
আবার উল্টোটা ভাবুন। ব্লাড টেস্ট করে হয়তো ভাবলেন মেনোপজ হয়নি। এদিকে মেনোপজ হয়ে গেছে। আবারও আপনি আর ডাক্তার হাঁটবেন ভুল রাস্তায়।
ব্যাপারটা যথেষ্ট গুরুতর। ব্লাড টেস্ট করে মেনোপজ দেখে এতখানি চিকিৎসা বিভ্রাট হওয়ার সম্ভাবনা যে, ইংল্যান্ডের রয়েল কলেজে MRCOG পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় কোনও গাইনোকোলজিস্ট যদি FSH টেস্ট করে মেনোপজ হয়েছে কিনা দেখতে চান, তাহলে তাকে তৎক্ষণাৎ ফেল করিয়ে দেওয়া হয়।
প্রাকৃতিক মেনোপজ বিশেষত যে মেনোপজ ৪৫ এর পরে হয় সেখানে FSH টেস্ট করার কোনও বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা নেই। এ নিয়ে আমি প্রচুর আর্টিকেল লিখেছি। লিংক রইল নিচে। উৎসাহীরা পড়ে নিতে পারেন।
ভুল ৯: নিজের জন্য সময় না দেওয়া
যে কোনও গাইনোকলজিক্যাল সমস্যা তো বটেই, শরীরের অন্য প্রায় সব সমস্যাতেই দরকার নিজের দিকে যথেষ্ট নজর দেওয়া। ওষুধ, ইনজেকশন অনেক পরের কথা। চাই Me time! দরকার ঠিকঠাক সময় জল খাওয়া, রাত না করে ঘুমোনো, সকাল সকাল উঠে পড়া, ঠিক সময় খাওয়া। খাবারে কোয়ালিটি প্রোটিন রাখা। আর এক্সারসাইজ এবং হাঁটাচলা করা। মনে প্রশ্ন এলে তার উত্তর যেন এমন না হয় যে, ‘আমার সময় নেই’
নিজের জন্য যদি সময় থাকতে, সময় না দিতে পারেন, তাহলে ভাল ডাক্তার আর হাসপাতালে সঠিক ট্রিটমেন্ট হলেও, সে চিকিৎসা ব্যর্থ হতে বাধ্য।
পরিশেষে
আজ টেকনোলজি আর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যুগে নিজের সমস্যা সম্বন্ধে সমস্তটুকু জেনে ডাক্তারের সাথে সঠিকভাবে কথাবার্তা বলে, নিজের চিকিৎসাকে ঠিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া মোটেই অসম্ভব নয়। তবে তার জন্য চাই স্বাস্থ্য নিয়ে নিরপেক্ষ সোর্স থেকে পড়াশোনা করার খানিকটা অভ্যেস।
All discussed resources are linked here
⚡️⚡️Ovarian Cysts | 3 Mistakes to Avoid
⚡️⚡️Ovarian Cysts | Can It be Cancerous? (Signs and Symptoms কি নির্ভরযোগ্য?)
⚡️⚡️মেনোপজের পর ব্লিডিং: কী করতে হবে 🩸Post-Menopausal Bleeding: Key Health Facts
⚡️⚡️Women's health - যে লক্ষণ এড়িয়ে যাবার নয় ✅
⚡️⚡️Constipation - কিছু ওষুধ ডোজে, আর কিছু ওষুধ বুঝে খেতে হয়
⚡️⚡️৪ টি স্ক্যান । USG, CT, MRI, PET/CT | সহজপাঠ
⚡️⚡️ইউ এস জি রিপোর্ট | Read Gynaecological USG Scan Reports: Tips ✅
⚡️⚡️Masterclass: মেনোপজ
⚡️⚡️Dangerously Wrong Concepts of Menopause | আমার ডায়েরি
⚡️⚡️হেঁটে স্মৃতিশক্তি-আত্মবিশ্বাস-ক্যান্সার প্রতিরোধ| হাঁটা বন্ধের ৪ ফাঁদ
This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice.









