ভদ্রেশ্বরের ফলো-আপ
আমাদের জীবনগুলো বোধহয় এরকমই, আজকের এই ঘন্টার সবথেকে বেশি যে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সেই সংবাদে ভর করে আমরা চলে যাই জীবনের পরবর্তী ঘন্টায়। ভুলে যাই গতকালের অসম্পূর্ণ কাজ।
হাওড়া স্টেশন আর ডাক্তারের চেম্বারের মধ্যে খানিকটা তো পার্থক্য থাকেই।
প্রমাণ মাপের দুটো বড় বড় সুটকেস, খান তিনেক ডাফেল ব্যাগ, একটা প্লাস্টিক ব্যাগ, আর তিনখানা নেক পিলো নিয়ে আমার চেম্বারে ঢুকে পড়েছেন এক দম্পতি। আর সাথে তাদের বছর ১৬-১৭ এর এক মেয়ে।
পেছন পেছন হসপিটাল এর সিকিউরিটি,
-স্যার ওনাদের অনেক বারণ করেছি, এত মালপত্র নিয়ে না ঢুকতে। ভদ্রমহিলা প্রায় ঝাঁঝিয়ে উঠে সিকিউরিটি কে বললেন
-থামুন তো, এরমধ্যে অনেক জিনিস। আমরা তো ট্রেনে উঠে পড়ছিলাম !
চেম্বারে বসে খাবি খাই আরকি!
হাতের ইশারায় সিকিউরিটি কে নিরস্ত্র করে ওনাদের বসতে বলি। ভদ্রলোকের পাট ভাঙ্গা ইস্তিরি করা সাদা জামাতে বৃষ্টির ফোঁটা তখন শুকোয়নি। কপালের জলগুলো অবশ্য বিন্দু বিন্দু ঘাম। রুমাল দিয়ে ঘন ঘন মুছছেন। আমি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে, ভদ্রমহিলাকে কি হয়েছে বলতেই, ভদ্রলোক ওনার বাঁ হাতটাকে পুরো প্রসারিত করে, বাঁ হাতের দশটা আঙুল মিসেস ব্যানার্জির মুখের সামনে রেখে, থামিয়ে দিয়ে বললেন,
-তুমি থামো, আমি বলছি।
নামটা দেখে নিয়েছি এতক্ষণ।
মিস্টার ব্যানার্জি এবার আমার দিকে।
-স্যার এটা ওটি কেস। আজকেই ভর্তি করে ওটি করে দিন।
আমরা সাউথ এ যাচ্ছিলাম কিন্তু করমন্ডলে অ্যাক্সিডেন্ট হওয়ার জন্য সব ট্রেন ক্যান্সেল। মাসির কাছে আপনার খবর শুনে এলাম। ডাইরেক্ট হাওড়া থেকে আসছি। অনেক লাগেজ। কিছু মনে করবেন না।
ঘড়িতে আড় চোখে দেখলাম বিকেল সাড়ে পাঁচটা!
ভদ্রমহিলাকে দেখে যে এক্ষুনি এমার্জেন্সি অপারেশন করতে হবে সেরকম বলেও মনে হচ্ছে না।
তবুও জিজ্ঞাসা করলাম
-একটু বিশদে বলা যায়?
এবার পকেট থেকে রুমাল বার করে কপালের ঘাম গুলোকে শুকিয়ে নিয়ে, মেয়েকে উদ্দেশ্য করে বললেন মামনি দে তো ফাইলগুলো।
-গত দেড় মাসে, সাতজন ডাক্তারকে দেখিয়ে ফেলেছি, কিচ্ছু কাজ হচ্ছে না।
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কিছুই কাজ হলো না?
এবার স্বামী স্ত্রী আর মামনি তিনজনই একযোগে বলে উঠলেন, নাহ, কিচ্ছু হলো না।
রহস্যের গন্ধ পেয়ে আমি একটু চেয়ারে নড়েচড়ে বসি। মেয়ে আকুল হয়ে আমাকে বলে, ডক্টর আংকেল আমার জন্মদিনের প্রোগ্রামটাও ক্যানসেল হয়ে গেল। সেদিন বাড়িতে রান্না হয়েছিল শুধু আলু সেদ্ধ আর ভাত।
মামণির মা এবার কাঁদো কাঁদো। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বললেন,
-জীবনের থেকে সব আনন্দ চলে গেছে ডাক্তারবাবু। আর বাঁচতে ইচ্ছা করে না, সাতটা ডাক্তার দেখিয়েও কিছু হলো না।
আমি এবার বলি, -একটু খুলে বলবেন ব্যাপারটা কি হলো?
ভদ্রমহিলা বলতে শুরু করলেন,
-তলপেটে ব্যথা নিয়ে ডাক্তার বাবুর কাছে গিয়েছিলাম।
হাজব্যান্ড আবার বাম হাত-কে সম্প্রসারিত করে সটান বউকে থামিয়ে দিয়ে বললেন,
-তুমি থামো আমি বলছি।
শুরু করলেন হাজব্যান্ড, আমিও উৎকর্ণ।
-আমাদের ডক্টর অশোক বসাকের মেয়ে আমার মেয়ের সাথেই পড়ে। যেমন চেহারা দেখতেও তেমন ভালো, বাড়ি থেকে মিনিট পনেরো।
-না না ১৫ মিনিটে হয় নাকি? মিনিমাম আধ ঘন্টা। তোমার মত ওরকম স্পিডে বাইক চালালে তুমি কলকাতা থেকে দিল্লিও পৌঁছে যাবে মিনিট 15 তে।
ভদ্রলোক একটু লজ্জা লজ্জা করে বললেন, না না, তাড়ায় থাকি তো, আমি কিন্তু হেলমেট পড়েই গাড়ি চালাই।
ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটছে আমার এবার।
মামনি-ও তার চেয়ার থেকে উঠে পড়েছে,
-উফ বাবা, আসল কথাটা বলো না!
আমিও মেয়ের সাথে গলা মেলাই
-হ্যাঁ, তলপেটে ব্যথার কি হলো?
বসাক বাবু পুরো দেখলেন তারপরে ইউরিন রুটিন এবং কালচার এক্সাম করতে দিলেন।
আমি বলি, বেশ তারপর? রিপোর্ট কি এলো?
ভদ্রমহিলা বললেন,
-রিপোর্ট তো করতে দিলাম কিন্তু রিপোর্ট আসবে তিন দিন বাদে, কিন্তু তার মধ্যে কি ভয়ংকর ব্যাপার।
এবার আমার চোখ গোল গোল হয়ে গেল। টেবিলের কাচের ওপর কনুই রেখে আমি ঝুঁকে বললাম, কি হলো?
আবার ভদ্রলোক মিসেস কে থামিয়ে দিয়ে বললেন,
-তুমি থামো, আমি বলছি। পিরিয়ড শুরু হয়ে গেল।
ফিসফিস করে বললেন মিস্টার ব্যানার্জি। যেন গর্হিত কোনো অপরাধ হয়েছে মিসেসের পিরিয়ড হওয়াতে।
আমি আবার ভদ্রমহিলার বয়স চেক করি কম্পিউটারে। এই বয়সে তো পিরিয়ড হওয়ারই কথা। ইনফ্যাক্ট কিছু কিছু ক্ষেত্রে মহিলারা আসেন পিরিয়ড হচ্ছে না কেন, সেই জন্য। ওনার তো মেনোপজ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না।
আমার চিন্তাধারায় এক বালতি জল ফেলে ভদ্রমহিলা বললেন আমার গত মাসের পিরিয়ড টা আটকে ছিল দিন দশেক, এবার হয়ে গেল।
আবারো বলে চলেন, এই যবে থেকে বিয়ে হয়েছে আজ পর্যন্ত কোনদিন ইরেগুলার পিরিয়ড হয়নি। সব সময় তারিখ ধরে হতো। মাথা খারাপ হবে না বলুন? দশ-দশটা দিন পিরিয়ড পিছিয়ে গেল।
চেয়ারে পিছিয়ে বসে বললাম, তারপর? -পর দিনই, আমি মিসেস কে গাইনোকলজিস্ট এর কাছে নিয়ে গেলাম। ডক্টর চন্দন দাস।
উনি বৈদ্যবাটিতে। ৫০০ টাকা ভিজিট, কিন্তু মিসেস-এর ব্যাপারে আমি কোন কার্পণ্য করি না। একদম শ্রেষ্ঠ ডাক্তার। স্টেশনের কাছেই চেম্বার - যাতায়াতে অসুবিধে নেই। তাতে যদি একটু ফি টা বেশি হয় অসুবিধের কিছু নেই চেম্বারটাও এসি, ভালো লাগে বেশ বসে।
আমি বললাম, গাইনোকলজিস্ট কি বললেন?
উনি বললেন
-ব্লিডিংটা একটু কমলে, একটা আল্ট্রাসাউন্ড করিয়ে নিন।
-তা বেশ, বলি আমি। তা আল্ট্রাসাউন্ড রিপোর্ট টা কোথায়?
ভদ্রমহিলা এবার বলেন,
-হ্যাঁ এই করতেই যাচ্ছিলাম, কিন্তু এর মধ্যেই শরীরটা খুব উইক হয়ে গেল।
মে মাসের দু তারিখ। মামনির জন্য টিফিন, কর্তার জন্য লাঞ্চ- সব করলাম। মেজপিসি আর পিসেমশাই এসেছিলেন। তাদের জন্য একটু কচি পাঠার ঝোল, সাদা ভাত, পাপড়, আমের চাটনি আর গোনাগুনতি কটা লোটে মাছের চপ। এসব করে যেন মনে হলো চোখে অন্ধকার দেখছি। ফ্যানটা চালিয়ে বসে পড়েছিলাম।
মনে হল পা দুটো যেন একটু টলে গেল।
ঢোঁক গিলে জিজ্ঞেস করি
-এই সবই আপনি নিজের হাতে করলেন? আমার তো শুনেই মাথা ঝিমঝিম করছে।
ভদ্রমহিলার চোখ জ্বলে ওঠে অদ্ভুত দ্যুতি ,
-হ্যাঁ, একদম টপ-টু-বটম নিজের হাতে। আমার বাড়িতে টয়লেট পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে আলমারি গোছানো, জামা কাপড় কাচা, শুকোতে দেওয়া, বাসন মাজা, সব আমি নিজের হাতেই করি।
প্রশংসা করে বলি এত দারুন ব্যাপার।
-কিন্তু এখন আর পারি না জানেন তো ডাক্তার বাবু বয়স হচ্ছে, গত বছর থেকে দেখলাম ১২ কিলো ওজন বেড়ে গেছে।দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, মিসেস ব্যানার্জি
আমি বললাম
-বটে, কিন্তু আপনার উইকনেস এর কি হলো ?
হাজবেন্ড তড়িঘড়ি বললেন,
-সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে গেলাম ডাক্তারের কাছে।
-এবার কার কাছে ? বসাকের কাছে ? না ডক্টর দাসের কাছে ? আমি জিজ্ঞাসা করলাম
হাসব্যান্ড শশব্যস্ত হয়ে উঠে বসে বললেন,
-না না ওনাদের কেউই না। আর ওরকম উইক লাগছে, সময় নষ্ট করা কি উচিত।
-তা তো বটেই ।
-তাহলেই ভাবুন, সঙ্গে সঙ্গে টোটো ডেকে নিয়ে ছুটলাম মেয়ে আর আমি। মিসেস কে নিয়ে । ডা আদিত্য মুখার্জি আমাদের ওখানকার MD - বড় ভালো ডাক্তার, একদম টাকার খাই নেই। ২০০ টাকা ভিজিট মাত্র।
-বেশ, তারপর কি হলো?
-জনা সাতেকের পেছনে লাইন, খুব বেশিক্ষণ লাগল না। তবে ওনার চেম্বারে প্রথমেই ব্লাড প্রেশার দেখে, নার্সের চোখ কপালে। আমি ত ভেবেছিলাম প্রেসারটা কমে যাবার জন্যই উইক লাগছে, উনি বললেন প্রেসার নাকি আকাশ ছোঁয়া। সেখানে সিস্টার আঙ্গুল ফুটিয়ে সুগারও দেখলেন 224।
-আচ্ছা! তারপর?
ভদ্রমহিলা বললেন,
-আর বলবেন না ডাক্তারবাবু, প্রেসার আর সুগারের এরকম বাড়-বাড়ন্ত দেখেই আমার মাথা খারাপ হয়ে গেল, আমি তো চোখে প্রায় আবার অন্ধকার দেখি। ডাক্তারবাবু প্রেসার আর সুগারের ওষুধপত্র দিলেন, আমরা চলে এলাম। আমার তখন আর কথা বলার মত অবস্থা ছিল না।
আমি বললাম,
-ডাক্তার বাবু কে বলেছিলেন যে আপনার তলপেটে ব্যথা আর পিরিয়ডের সমস্যা হচ্ছে? রিপোর্ট গুলো দেখিয়েছিলেন?
ভদ্রমহিলা এবার ক্লান্ত স্বরে হাজবেন্ডের দিকে তাকিয়ে বললেন,
-কিগো, দেখিয়েছিলে?
হাজবেন্ড মামনির দিকে তাকিয়ে বললেন,
-কিরে দেখিয়েছিলাম?
মামনি জোরে মাথা নেড়ে বলল,
-না না কি করে দেখাবো? মা তো তখন ঘামছে, বাড়িতে নিয়ে এসে শরবত টরবত খাইয়ে, এসি চালিয়ে, তারপর শান্তি।মে মাসের যা গরম।
মহিলা এবার কাঁদো কাঁদো স্বরে বললেন,
-কোথায় শান্তি? সকালবেলা হাঁটছি দেড় ঘন্টা ধরে, ব্রেকফাস্ট এর শুকনো মুড়ি, দুপুরবেলা একটা মাছ দিয়ে তেল-লবণ ছাড়া ঝোল। সামনের টেবিলের উপরে গোল পেপার ওয়েটটা তুলে বললেন, আর ঠিক এইটুকু একটা বাটি ভাত। জীবন থেকে খাবার দাবার চলে গেলে আর কি কিছু থাকে? বলুন ডাক্তার বাবু। একদিন যাচ্ছি ইসিজি করতে , একদিন ইকো। যাচ্ছেতাই জীবন !
হাজব্যান্ড পাশ থেকে বললেন,
-এত বড় শরীর 88 kg ওজন, সেখানে এইটুকু খাবার খেলে হয়।
ভদ্রমহিলা এই প্রথম স্বামীকে থামিয়ে দিয়ে বললেন,
-থামো তুমি, ডাক্তার বলেছে ওজন না কমালে কিছু হবে না।
কাঁদো কাঁদো স্বরে বললেন, তবে বড্ড কষ্ট ডাক্তারবাবু। মামনি টার জন্মদিন ছিল কিছু রান্না করতে পারলাম না। মেয়েটারও তো একটু খেতে ইচ্ছে হয়। এর মধ্যেই হোমিওপ্যাথি দেখিয়েছি, আমাদের ওখানে ভড়-ডাক্তার আছেন খুব ভালো।
এত ভালো কথা বলেন আর এত অমায়িক।
আমি বললাম ভড় ডাক্তার কে গিয়ে দেখালেন, আপনার ইউরিন এর কালচার রিপোর্ট আর পেটের আল্ট্রাসাউন্ড?
না না ওনাকে কেন দেখাবো? ওনার কাছে তো গিয়েছিলাম যাতে মিসেস একটু ভালোভাবে খাওয়া দাওয়া করতে পারে সেরকম একটা ওষুধ নিতে। না খেয়ে আর সকালবেলা মর্নিং ওয়াক করে ওজন কমেই যাচ্ছে। আর তলপেটে ব্যথা সে তো এখনো চলছে। এসব নিয়ে কি হাঁটা যায়?
এবার আমি আকুল হয়ে বলি, রিপোর্টগুলো কাকে দেখালেন শেষ পর্যন্ত,
হাজব্যান্ড এবার বলেন, বিশ্বাস করুন ডাক্তারবাবু, ডাক্তারদের উপর থেকে বিশ্বাস উঠে গেছে, আর কাউকে রিপোর্ট দেখাতে ইচ্ছেই হয় না। এতগুলো ডাক্তার দেখালাম। এখনো তলপেটে ব্যথা। আর এই দেখুন ইউটেরাস এর মধ্যে এখন টিউমার হয়ে গেছে। একটা ডাক্তারের ক্ষমতাও হলো না ব্যাপারগুলোকে ডায়াগনোসিস করার।
গত সপ্তাহে মামনি আল্ট্রাসাউন্ড এর রিপোর্ট আনতে গিয়েছিল। সেখানে রিসেপশন থেকে বলেছে ইউটেরাসে টিউমার আছে, ডাক্তার দেখিয়ে নিতে। তারপরেই তো টিকিট কেটে চলে যাচ্ছিলাম চেন্নাই।
এতগুলো ডাক্তার, এত ঘন্টা সময়, এতগুলো ভিজিট, এ সমস্ত দিয়েও কোন ট্রিটমেন্ট হলো না। আপনি এবার অপারেশনটা আজকে রাতেই করে দিন, টিউমারও চলে যাবে। তলপেটের ব্যথাও চলে যাবে।
আমি আবার বলি, তাই বুঝি?
মামনির দিকে তাকিয়ে বলি রিপোর্ট দুটো দেখাও দেখি।
সযত্নে আগলে রাখা ইউরিনের কালচার রিপোর্ট মামনি দেখাতে আমার চক্ষু চরক গাছ,
প্রায় পাঁচ সপ্তাহ আগে করা ইউরিন কালচার রিপোর্টে ধরা পড়েছে ইউরিন ইনফেকশন। খামটা যেভাবে সেলোটেপ দিয়ে বন্ধ করা তাতে পরিষ্কার বোঝাই যাচ্ছে এ রিপোর্ট আমার হাতে ছাড়া অন্য কারো হাতে আগে পড়েনি।
আল্ট্রাসাউন্ড এর রিপোর্ট ইউটেরাসে সামান্য একটা ছোট ফাইব্রয়েড, যার জন্য আজকে রাত্রে বেলায় অপারেশন করার দরকার তো দুরস্ত, তলপেটে ব্যথা হওয়াটাও বোধহয় অস্বাভাবিক।
এই ধরনের ফাইব্রয়েডে সাধারণত কোন সমস্যাই হয় না।
ঘন্টাখানেক কনসাল্টেশন সেরে প্রেসক্রিপশনে একটা এন্টিবায়োটিক লিখলাম। যে অ্যান্টিবায়োটিকের নাম কালচার রিপোর্টেই লিখে দিয়েছে।
ট্রাপিজের খেলার মত এক ডাক্তার থেকে আর এক ডাক্তার বদল হয়ে যায় পেশেন্ট, নতুন ডায়াবেটিসের ডায়াগনোসিস এর আড়ালে ঢাকা পড়ে যায়, ব্লাড প্রেসার, তার তলায় ঢাকা পড়ে যায় ইউটেরাস এর ফাইব্রয়েড, তার তলায় ঢাকা পড়ে গেছে ইউরিনের ইনফেকশন।
আর চোখের সামনে খবরের কাগজের হেডলাইন উঠে এসেছে - ‘সাত জন ডাক্তারবাবুকে দেখিয়েও কোন কাজ হলো না’।
আমাদের জীবনগুলো বোধহয় এরকমই, আজকের এই ঘন্টার সবথেকে বেশি যে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সেই সংবাদে ভর করে আমরা চলে যাই জীবনের পরবর্তী ঘন্টায়।
ট্রাপিজের খেলার মত আমরা চলে যাই এক সমস্যা থেকে আরেক সমস্যায়। ঝাঁপ দিয়ে যেতে যেতে ঢাকা পড়ে থাকে পুরনো অমীমাংসিত সমস্যা, যার দিকে নজর দেওয়া উচিত ছিল বহুদিন আগেই।
সপ্তাহ দুয়েক বাদেই পেশেন্ট এসে আমাকে জানিয়ে গেল, ডাক্তারবাবু এখন অনেক ভালো আছি, আর কোন অসুবিধা নেই, ওজনও কমছে, দিব্যি ফুরফুরে লাগছে।
বলেই উঠলাম আগের সাতজন ডাক্তারবাবু না দেখলে, আমার দেখাতেও কোন কাজ হতো না।
হাজব্যান্ড জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকালেন,
-মানে?
-মানে আর কিছুই না, ডাক্তার বদল হলেও মনে করে পুরনো ডাক্তারকে ওনার দেওয়া ইনভেস্টিগেশন এবং পেশেন্ট দুটোই একবার দেখিয়ে আসা দরকার ।
বৃত্তটা যদি সম্পূর্ণ না হয়, তাহলে অনেক রহস্যই থেকে যাবে অধরা, সারা জীবনের মতো।
This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice.
Search tool: Gynecologist Gynecologists Urine Culture Urine Infection Antibiotics Fibroids Diary Inspiration Awareness Circle Follow up








This is doctor shopping. Eager to change doctor , get best treatments but unaware of our own shortcomings.