অ্যাডিনোমায়োসিস
অ্যাডিনোমায়োসিস কী, কাদের বেশি হয়, এর সিম্পটম, ডায়াগনোসিস, ট্রিটমেন্ট অপশনস, কখন ওষুধ আর কখন সার্জারি- এসব নিয়ে রইল কিছু কাজে লাগার মতো তথ্য।
এখানে রইলো এই টপিকের বাংলা ভার্সন
For the English Version of this topic click here ( coming )
USG বা MRI স্ক্যানে অ্যাডিনোমায়োসিস ডায়াগনোসিস হয়ে থাকলে এই আর্টিকেল আপনার কাজে লাগবে।
অ্যাডিনোমায়োসিস কী, কাদের বেশি হয়, এর সিম্পটম, ডায়াগনোসিস, ট্রিটমেন্ট অপশনস, কখন ওষুধ আর কখন সার্জারি- এসব নিয়ে রইল কিছু কাজে লাগার মতো তথ্য।
অ্যাডিনোমায়োসিসের ছদ্মবেশে কি অন্য কোন অসুখ হানা দিতে পারে? আর অ্যাডিনোমায়োসিস হলেই বা কী কী সতর্কতা নেওয়া দরকার? আর শেষে রইল আধুনিক মেডিকেল রিসার্চ অ্যাডিনোমায়োসিস নিয়ে কি ভাবছে।
🤔 অ্যাডিনোমায়োসিস কী
ইউটেরাসের ভেতরের পাতলা লাইনিং মাসেল লেয়ারে ঢুকে যাওয়াকে বলে অ্যাডিনোমায়োসিস। সিম্পটম থাকুক বা না থাকুক, প্রতি পাঁচ জন মহিলার মধ্যে একজনের অ্যাডিনোমায়োসিস থাকে। অথচ এ নিয়ে জনসচেতনতা খুব বেশি নেই। অ্যাডিনোমায়োসিস সাধারণত মধ্যবয়সী মহিলাদেরই বেশি দেখা যায়। কিছু কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, USG করলে সত্তর শতাংশ পর্যন্ত মহিলার অ্যাডিনোমায়োসিস পাওয়া যেতে পারে। সহজেই বোঝা যায় যে প্রচুর মহিলা এ সমস্যা নিয়ে ভোগেন।
🤔 অ্যাডিনোমায়োসিস কাদের বেশি হয় ?
অ্যাডিনোমায়োসিস যে কারও হতে পারে। তবে, যাদের সিজারিয়ান সেকশন হয়েছে অথবা শরীরে ইস্ট্রোজেনের পরিমাণ বেশি, তাদের ক্ষেত্রেই অ্যাডিনোমায়োসিসের সমস্যা বেশি দেখা যায়। মনে রাখা দরকার, মেনোপজ হওয়ার পরে নতুন করে অ্যাডিনোমায়োসিস ইউটেরাসে তৈরি হয়েছে এমন সন্দেহ দেখা দিলে যথেষ্ট সতর্কতা প্রয়োজন। সেটা আসলে অ্যাডিনোমায়োসিস নাও হতে পারে। সেগুলো নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকলো সতর্কতা চ্যাপটারে।
🤔 কী সিম্পটম হলে বুঝবেন অ্যাডিনোমায়োসিস হয়েছে?
কারও ক্ষেত্রে অ্যাডিনোমায়োসিস সম্পূর্ণ নীরব থাকে। আবার কারও কারও অ্যাডিনোমায়োসিস এন্ডোমেট্রিওসিস নামে এক ধরনের কন্ডিশনের সাথে হাত ধরে আসে। এন্ডোমেট্রিওসিস কী, কেন হয়, তার চিকিৎসা নিয়ে আমাদের মাস্টার ক্লাস আর্টিকেল রয়েছে। লিংক নিচে ।
মোটের ওপর বেশিরভাগ সময় অ্যাডিনোমায়োসিস পিরিয়ডের সময় তলপেটে ব্যথা নিয়ে আসে।
এছাড়াও কখনো কখনো হেভি পিরিয়ডের সমস্যা, সেক্সের সময় ব্যথা। কারও কারও ক্ষেত্রে সারা মাসই তলপেটে ব্যথা থাকে। তাদের এক্সামিনেশন করলে দেখা যায় ইউটেরাস বেশ মোটাসোটা বা বাল্কি হয়ে গেছে।
🤔 কিভাবে ডায়াগনোসিস হয় অ্যাডিনোমায়োসিস?
যাদের সিম্পটম থাকে তাদের ক্ষেত্রে টেস্ট করতে গিয়ে ধরা পড়ে অ্যাডিনোমায়োসিস। আর কারো কারো ক্ষেত্রে সিম্পটম ছাড়াই USG তে ধরা পড়ে অ্যাডিনোমায়োসিস।
যাদের সিম্পটম এসেছে তারা যদি অ্যাডিনোমায়োসিস সঠিকভাবে ডায়াগনোসিস করতে চান, তাহলে সবথেকে নির্ভরযোগ্য টেস্টের নাম ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং বা MRI স্ক্যান।
তবে MRI তে খরচ বেশি এবং সময় অনেকক্ষণ লাগে বলে সাধারণত পেশেন্ট এবং ডাক্তারদের প্রাথমিক পছন্দ চট করে করে নেওয়া আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান বা USG।
USG দুভাবে হয়: পেটের ওপরে দিয়ে বা ভ্যাজাইনার মধ্যে দিয়ে।
যদি সম্ভব হয়, তাহলে ট্রান্স-ভ্যাজাইনাল আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান বেশি ভালো। এতে আরও স্পষ্ট ডায়াগনোসিস হয়।
আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যানে কি দেখা যায়? ইউটেরাসের দেওয়ালগুলো মোটা হয়ে গেছে, এবং ইউটেরাসের আকৃতি সাধারণ সাইজ থেকে বড় হয়ে গেছে।
ইউটেরাসের সাইজ সবার আলাদা। তবে সাধারণত ইউটেরাস আট সেন্টিমিটার লম্বা, চওড়ায় পাঁচ সেন্টিমিটার, আর এর থিকনেস চার সেন্টিমিটার। একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম মাপ হতে পারে।
মাপ আলাদা হলে এমন নয় যে তার ভয়ঙ্কর কোন অসুখ হয়ে গেছে। সুতরাং মাপ যেমন জানছেন, তেমন জেনে নিন মাপের কারণে যেন আপনার ঘুম না উড়ে যায়।
শতকরা ৮৬% ক্ষেত্রে আল্ট্রাসাউন্ড নির্ভুলভাবে অ্যাডিনোমায়োসিস ডায়াগনোসিস করতে পারে। আজকাল 3-D USG, MUSA পদ্ধতিতে ডায়াগনোসিস আরও উন্নত। যদি আরও বিশদে ছবির দরকার হয়, তাহলে MRI করা ছাড়া উপায় নেই। মনে রাখা দরকার, সিটি স্ক্যানে অ্যাডিনোমায়োসিস ডায়াগনোসিস নির্ভরযোগ্য নয়।
তবে অ্যাডিনোমায়োসিসে একদম সরাসরি, নির্ভুলতমভাবে ডায়াগনোসিস করতে হলে সেই ইউটেরাসকে মাইক্রোস্কোপের নিচে রেখে তার কোষগুলোকে পুরোপুরি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এটাই অ্যাডিনোমায়োসিস ডায়াগনোসিসের গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড। সেটা তখনই সম্ভব যখন সার্জারি হয়েছে। সবার ক্ষেত্রে এরকম পুরো ইউটেরাস বাদ দিয়ে অ্যাডিনোমায়োসিস কনফার্ম করার প্রয়োজন হয় না।
🩺 অ্যাডিনোমায়োসিসের ট্রিটমেন্ট
শরীরের যা কিছু ক্যান্সার নয় বা সরাসরি প্রাণঘাতী নয়, তাহলে সাধারনত তার সিম্পটম ট্রিটমেন্ট করে প্রাথমিক চিকিৎসা চলে। অ্যাডিনোমায়োসিস-ও তার ব্যতিক্রম নয়।
😮 -ট্রিটমেন্ট না করা
পেশেন্টের যদি ডায়াগনোসিস হয় অ্যাডিনোমায়োসিস, অথচ তার কোন সিম্পটম না থাকে, এবং অন্য কোন অসুখের ভেতরে লুকিয়ে থাকার সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে আদৌ তার ট্রিটমেন্ট করানো দরকার নাও হতে পারে।
💊 -ব্যথার ওষুধ
ব্যথাই এর মূল সমস্যা। প্রথমে ওষুধপত্র দিয়ে দেখা যায় যে অ্যাডিনোমায়োসিসের ব্যথা কিভাবে কমানো যায়। ব্যথার ওষুধ সিলেকশনে মাথায় রাখতে হবে যে, লং টার্ম ব্যথার ওষুধ খাওয়া মোটেই উপকারী নয়। তবে কখনো-সখনো ব্যথার ওষুধ খেয়ে অবস্থা সামাল দেওয়া যেতেই পারে।
NSAID ধরনের ওষুধগুলো অ্যাডিনোমায়োসিসের ব্যথা কমানোর কাজে বেশি উপকারী। এর মধ্যে সবথেকে বেশি সেফ আর কার্যকারী প্যারাসিটামল। অনেকেরই অবশ্য শুধু প্যারাসিটামলে ব্যথা কমতে চায় না।
🧬 -হরমোন থেরাপি
যাই হোক, প্রাথমিক ব্যথার ওষুধ দিয়ে সিম্পটম কন্ট্রোল করা সম্ভব না হলে পরবর্তী পছন্দ হরমোন। অ্যাডিনোমায়োসিসের নেপথ্যে থাকতে পারে শরীরের অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেনের উপস্থিতি। অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন নিয়ন্ত্রণ করতে ওষুধ যেমন ভূমিকা রাখে, তেমনই ভূমিকা রাখে নিয়মিত ব্যায়াম ও খাবারদাবারের নিয়ন্ত্রণ।
কোন হরমোন ব্যবহার করা যায়? অ্যাডিনোমায়োসিসের ব্যথা কখনও কখনও কম্বাইন্ড ওরাল কন্ট্রাসেপটিভ পিল দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়। কখনও কখনও GNRH ইনজেকশন বা নাকের স্প্রে দিয়ে এই সমস্যা অন্তত সাময়িকভাবে সমাধান করা যায়।
বেশ কিছুদিন GNRH ব্যবহার করলে তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেড়ে যেতে শুরু করে। তখন রোগী এবং ডাক্তাররা GNRH ব্যবহার করতে চান না।
আরেক মহিলা হরমোন প্রোজেস্টেরন প্রাকৃতিকভাবে অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেনের সঙ্গে লড়াই করতে সক্ষম। মুখে প্রোজেস্টেরনের অনেক সাইড এফেক্ট। এর বদলে সরাসরি ইউটেরাসে প্রোজেস্টেরন দেওয়া যেতে পারে, যার নাম Levonorgestrel-Releasing Intrauterine System (LNG-IUS)। চলতি ভাষায় একে মিরেনা বলা হয়।
এসব চিকিৎসার লক্ষ্য একটাই। তা হল ব্লিডিং এর পরিমাণ কমিয়ে এবং হরমোনের তারতম্য নিয়ন্ত্রণে রেখে অ্যাডিনোমায়োসিসের চিকিৎসা করা।
তবে কার ক্ষেত্রে কোন চিকিৎসা কার্যকর হবে তা বোঝার মত বিজ্ঞান এখনও উন্নত হয়নি। তাই আপনার ডাক্তারবাবুর সাথে পরামর্শ করে জেনে নিন কোন চিকিৎসা আপনার জন্য উপযুক্ত।
✂️ -সার্জারি
যদি মেডিসিন কাজ না করে বা ডায়াগনোসিস নিয়ে সন্দেহ থাকে, তখন সার্জারির কথা ভাবা হয়।
অ্যাডিনোমায়োসিসে কিছু কিছু রোগী এতদিন ধরে এবং এত ভয়ঙ্করভাবে ভুগতে থাকেন যে, তাদের কাছে সার্জারি আশীর্বাদ-সম মনে হয়। কোনো কোনো রোগী ক্রনিক তলপেটের ব্যথায় ভোগেন, যার কারণ অ্যাডিনোমায়োসিস। এক্ষেত্রে Hysterectomy ছাড়া উপায় থাকে না।
আনকমপ্লিকেটেড অ্যাডিনোমায়োসিস থাকলে বেশিরভাগ সময় ল্যাপারোস্কপি পদ্ধতিতেই Hysterectomy করা সম্ভব। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইউটেরাসের সাইজ বড় হওয়ার কারণে বা অনেক সময়ই অ্যাডিনোমায়োসিসের সাথে এন্ডোমেট্রিওসিস থাকে। সেখানেও আমাদের প্রথম পছন্দ ল্যাপারোস্কপি।
তবে যদি আল্ট্রা কমপ্লেক্স এন্ডোমেট্রিওসিস সার্জারি করার প্রয়োজন হয়, তখন ওপেন সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।
কেন? ল্যাপারোস্কপি বা রোবটিক সার্জারিতে পেটের মধ্যে শুধুই ইনস্ট্রুমেন্ট ঢোকে। হাত বা সার্জেনের অন্যান্য ইন্দ্রিয় কাজ করে না, তাই টিসুগুলো সরাসরি হাতে ধরে অপারেশন করার প্রয়োজন হলে সেই জটিল ক্ষেত্রে ওপেন সার্জারি করানো ছাড়া উপায় থাকে না।
কখনো কখনো অ্যাডিনোমায়োসিসের জন্য Hysterectomy ভ্যাজাইনাল পদ্ধতিতেও হয়।
সার্জারির কথা বলতে গেলে বিশেষ একধরনের সার্জারি উল্লেখ না করলেই নয়। এই ধরনের সার্জারি তাদেরই করা হয়, যাদের ইনফার্টিলিটির সমস্যা রয়েছে এবং ইউটেরাস রাখা প্রয়োজন। এদের অ্যাডিনোমায়োমেকটমি বলে এক ধরনের অপারেশন করা হয়, যাতে ইউটেরাস রেখে শুধুমাত্র অ্যাডিনোমায়োসিস-মণ্ডকে ইউটেরাসের গা থেকে বার করা হয়। যদিও এ ধরনের সার্জারির ভূমিকা সম্বন্ধে বিজ্ঞান এখনও পুরোপুরি সহমত নয়। অনেক ক্ষেত্রে ফাইব্রয়েড মনে করে অপারেশন করা হলে শেষে দেখা যায় সেটা অ্যাডিনোমায়োসিস।
এবার নতুন কিছু সার্জারি। কখনো কখনো ইউটেরাস রেখে অপারেশন করতে হলে ইউটেরাসের ভেতরের লাইনিং বা এন্ডোমেট্রিয়ামকে মাইক্রোওয়েভ বা হালকা তাপ দিয়ে নষ্ট করে অ্যাডিনোমায়োসিস ও এন্ডোমেট্রিওসিসের চিকিৎসা করার চেষ্টা করা হয়। এতে অবশ্য আর প্রেগন্যান্সি সম্ভব নয়। এই পদ্ধতিগুলো খানিকটা ব্লিডিংয়ের সম্ভাবনা কমালেও অ্যাডিনোমায়োসিস কিন্তু তেমনি থেকে যায়। কারণ অ্যাডিনোমায়োসিস থাকে ইউটেরাসের মাসেলের লেয়ারের মধ্যে, যেখানে এই ধরনের টেকনোলজিগুলো ট্রিটমেন্ট পৌঁছে দিতে সক্ষম নয়।
এই ব্যাপারে আরও ভালোভাবে বুঝতে গেলে জানতে হবে অ্যাডিনোমায়োসিস আসলে কী, আর ব্যথাই বা অত কেন হয় ?
😥 কেন অত ব্যথা হয়
১৯২৫ সালে Frankl অ্যাডিনোমায়োসিস কথাটির প্রথম সূচনা করেন। ইউটেরাসের ভেতরে দুটো লাইনিং থাকে। একটি ভেতরের লাইনিং বা এন্ডোমেট্রিয়াম। অপরটি মাংসপেশি বা মাসেলের পুরু দেওয়াল, যাকে বলা হয় মায়োমেট্রিয়াম।
ইউটেরাসের ভেতরের লাইনিং এন্ডোমেট্রিয়াম প্রতিমাসে বড় হয়, তারপর পিরিয়ডের সময় ভেঙে বেরিয়ে যায়। এই লাইনিংকেই আমরা পিরিয়ডের ব্লাড বলে মনে করি।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই ইউটেরাসের ভেতরের লাইনিং তার নিজের জায়গা থেকে সরে এসে শরীরের অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইউটেরাস পেরিয়ে এটি পেটে, ওভারিতে বা কখনও ফুসফুসে চলে যায়। এই কন্ডিশনের নাম এন্ডোমেট্রিওসিস।
আর ইউটেরাসের ভেতরে যখন এন্ডোমেট্রিয়াম বা ভেতরের লাইনিং, পাশের মাসেল লেয়ারের ভেতরে ঢুকে যায়, সেই কন্ডিশনের নাম অ্যাডিনোমায়োসিস।
সুতরাং দেখতে গেলে অ্যাডিনোমায়োসিস এন্ডোমেট্রিওসিসের একটি ভ্যারাইটি। অ্যাডিনো মানে গ্ল্যান্ড বা ভেতরের লাইনিং-এর গ্ল্যান্ড আর মায়োস মানে মাসেল লেয়ার। তাই, মাসেল লেয়ারের মধ্যে গ্ল্যান্ড ঢোকার নাম অ্যাডিনোমায়োসিস।
মাসেল লেয়ারের মধ্যে কতদূর পর্যন্ত অ্যাডিনোমায়োসিস ঢুকলে কতখানি সিম্পটম হয়, সে নিয়ে প্রচুর গবেষণা হয়েছে।
সে সমস্ত বৈজ্ঞানিক জটিলতায় না গিয়ে সহজ ভাষায় বলা যায়: যখন পিরিয়ড হয় তখন মাসেল লেয়ারের মধ্যেই অ্যাডিনোমায়োসিসের ব্লিডিং হয়। এ ব্লিডিং বন্দি অবস্থায় থাকে, শরীর থেকে বেরোতে পারে না। এর কারণেই অ্যাডিনোমায়োসিস এত যন্ত্রণাদায়ক।
🫣 অ্যাডিনোমায়োসিস? না ছদ্মবেশে অন্য কিছু?
অ্যাডিনোমায়োসিস ডায়াগনোসিস হলে সবসময় খেয়াল রাখতে হয় যে ইউটেরাসের বেশ কিছু সমস্যা অ্যাডিনোমায়োসিসের ছদ্মবেশে আসতে পারে।
যেমন, ইউটেরাসের ফাইব্রয়েড, এন্ডোমেট্রিওসিস, ইউটেরাসের ভেতরের লাইনিং-এর পলিপ বা কখনও কখনও ইউটেরাসের ক্যান্সারও অ্যাডিনোমায়োসিসের ছদ্মবেশে USG-তে ধরা পড়তে পারে।
তবে আতঙ্কের কিছু নেই। অ্যাডিনোমায়োসিসে ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতা কম। কিন্তু সন্দেহ হলে অবশ্যই ডাক্তারবাবুর সাথে পরামর্শ করা উচিত।
🗣️ কিছু সতর্কতা
অ্যাডিনোমায়োসিসে কিছু সতর্কতা প্রয়োজন। মেনোপজের পরে অ্যাডিনোমায়োসিসের সম্ভাবনা থাকে না বললেই চলে, তাই মেনোপজে অ্যাডিনোমায়োসিস ডায়াগনোসিস হলে ওর ভেতরে অন্য কিছু লুকিয়ে আছে কিনা সে ব্যাপারে চেক করা প্রয়োজন।
🔬 রিসার্চ
অ্যাডিনোমায়োসিস নিয়ে পেশেন্টরা প্রচুর ভোগেন, তাই এ নিয়ে মেডিকেল রিসার্চ এর ও অন্ত নেই। Selective Progesterone Receptor Modulators (SPRMs) অ্যাডিনোমায়োসিসের সিম্পটম নিয়ন্ত্রণ করতে পারি কিনা সেই নিয়ে চলছে গবেষণা। কিছু স্টেমসেল, জেনেটিক এবং মলিকুলার স্টাডি চলছে অ্যাডিনোমায়োসিসের আরো ভালো চিকিৎসা খুঁজে পাওয়ার আশায়।
Links of resources that I have mentioned here ( click on the topics )👇🏾
This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice.
References:
[1]
M. A. Ameer, S. E. Fagan, J. N. Sosa-Stanley, and D. C. Peterson, “Anatomy, Abdomen and Pelvis: Uterus,” in StatPearls, Treasure Island (FL): StatPearls Publishing, 2025. Accessed: Mar. 11, 2025. [Online]. Available: http://www.ncbi.nlm.nih.gov/books/NBK470297/
[2]
O. Frankl, “Adenomyosis uteri,” American Journal of Obstetrics & Gynecology, vol. 10, no. 5, pp. 680–684, Nov. 1925, doi: 10.1016/S0002-9378(25)90632-1.
[3]
M. Habiba and G. Benagiano, Eds., Uterine Adenomyosis. Cham: Springer International Publishing, 2016. doi: 10.1007/978-3-319-13012-5.
[4]
M. Habiba and G. Benagiano, “Classifying Adenomyosis: Progress and Challenges,” Int J Environ Res Public Health, vol. 18, no. 23, p. 12386, Nov. 2021, doi: 10.3390/ijerph182312386.
[5]
C. O. Rees et al., “The ADENO study: ADenomyosis and its Effect on Neonatal and Obstetric outcomes: a retrospective population-based study,” American Journal of Obstetrics and Gynecology, vol. 229, no. 1, p. 49.e1-49.e12, July 2023, doi: 10.1016/j.ajog.2022.12.013.
[6]
E. S. Dason et al., “Guideline No. 437: Diagnosis and Management of Adenomyosis,” Journal of Obstetrics and Gynaecology Canada, vol. 45, no. 6, pp. 417-429.e1, June 2023, doi: 10.1016/j.jogc.2023.04.008.
[7]
M. Loring, T. Y. Chen, and K. B. Isaacson, “A Systematic Review of Adenomyosis: It Is Time to Reassess What We Thought We Knew about the Disease,” Journal of Minimally Invasive Gynecology, vol. 28, no. 3, pp. 644–655, Mar. 2021, doi: 10.1016/j.jmig.2020.10.012.
[8]
L. Moraru et al., “Adenomyosis and Its Possible Malignancy: A Review of the Literature,” Diagnostics, vol. 13, no. 11, Art. no. 11, Jan. 2023, doi: 10.3390/diagnostics13111883.
[9]
A. Maheshwari, S. Gurunath, F. Fatima, and S. Bhattacharya, “Adenomyosis and subfertility: a systematic review of prevalence, diagnosis, treatment and fertility outcomes,” Human Reproduction Update, vol. 18, no. 4, pp. 374–392, July 2012, doi: 10.1093/humupd/dms006.
[10]
M. Habiba, N. Pluchino, P. Petignat, P. Bianchi, I. A. Brosens, and G. Benagiano, “Adenomyosis and Endometrial Cancer: Literature Review,” Gynecologic and Obstetric Investigation, vol. 83, no. 4, pp. 313–328, June 2018, doi: 10.1159/000487320.
[11]
M. P. Andres, G. M. Borrelli, J. Ribeiro, E. C. Baracat, M. S. Abrão, and R. M. Kho, “Transvaginal Ultrasound for the Diagnosis of Adenomyosis: Systematic Review and Meta-Analysis,” Journal of Minimally Invasive Gynecology, vol. 25, no. 2, pp. 257–264, Feb. 2018, doi: 10.1016/j.jmig.2017.08.653.
[12]
J. Struble, S. Reid, and M. A. Bedaiwy, “Adenomyosis: A Clinical Review of a Challenging Gynecologic Condition,” Journal of Minimally Invasive Gynecology, vol. 23, no. 2, pp. 164–185, Feb. 2016, doi: 10.1016/j.jmig.2015.09.018.
[13]
A. Pontis, M. N. D’Alterio, S. Pirarba, C. de Angelis, R. Tinelli, and S. Angioni, “Adenomyosis: a systematic review of medical treatment,” Gynecological Endocrinology, vol. 32, no. 9, pp. 696–700, Sept. 2016, doi: 10.1080/09513590.2016.1197200.









