Antibiotic resistance
ইনফেকশন ধরার কালচারে দুষ্টু জীবাণু ধরা পড়লেই মনটা হুহু করে ওঠে। রিপোর্টের পরের পাতাটা কিছুতেই ওলটাতে ইচ্ছে করে না।
- তুই সবসময় আস্তিন গুটিয়ে থাকিস কেন রে ?
- আসলে হাসপাতাল থেকে এলাম …
-ডাক্তার মানুষ, কোথায় বেশ স্যুট টাই পরে ঘুরবি। বেশ লাগবে!
-কি ভয়ঙ্কর লড়াই চলছে পিসি তুমি জানো না। আস্তিন, টাই, হোয়াইট কোট তো প্রায় দুদশক নিষিদ্ধ!
-যেন তুই আস্তিন গুটিয়ে লড়াই করছিস! কিসের লড়াই ? কাতার বিশ্বকাপের থেকেও বেশি ? ব্যালকনি টবের তুলসী গাছে প্রদীপ দেখাতে দেখাতে বলে পিসি।
-যা বলেছ, একবার ও আগে, তো তারপর সে আগে, সেকেন্ড পজিশনের জন্য লড়াই । হাড্ডাহাড্ডি !
-কোথায় হচ্ছে রে লড়াই? খক খক করে কাশে পিসি, বুঝলি সকাল থেকে জ্বর জ্বর লাগছে!
-সবার ঘরে ঘরে।
-রক্ষ্যা করো বাবা, বিড়বিড় করে আনমনে পিসি বলে গাছে প্রণাম ঠুকে, গলায় শাড়ির আঁচল। সন্ধ্যার হাওয়ায় হিমেল পরশ। কোথায় বল্লি ? পিসির ধরা গলায় প্রশ্ন আবার!
-ঘরে ঘরে।
ঘরের চারদিকটা তাকিয়ে দেখে পিসি। সব শান্ত । লড়াইয়ের চিহ্নমাত্র নেই।
-ও বুড়ি, সদর দরজাটা আটকেছিস? চেঁচিয়ে বলে পিসি।
-হ্যাঁ বউদি, খিল দেওয়া আছে, বুড়িদি-র দৈববাণী হয় অন্তরাল থেকে।
আশ্বস্ত হয়ে পিসি আমার দিকে তাকিয়ে বলে
-কিচ্ছু নেই, তোর সব আজগুবে গপ্প ! চল চা খাই, গলা ব্যথা।
-না পিসি, মারীর কথা ফেলনা নয়।
-মারী বিস্কুট খাবি ? না মারী নেই।
-আহ তোমার সবেতেই কারি পাতা আর ঝোল !! ক্রিস্টফর মারী, বিখ্যাত গবেষক, বিস্কুট নয়।
-অ ! কি বলছে সে , পাত্তা না দিয়ে পিসি বলে। চায়ের কাপে চামচে দিয়ে নেড়ে আমাকে দেয়।
আবার হাঁকে পিসি। এই বুড়ি, দিপুর দোকান থেকে ৪-৫ ট্যাবলেট এন্টিবায়োটিক নিয়ে আয় না, ঝেঁপে জ্বর আসছে আমার। আলমারির মাথায় টাকা আছে।
-হঠাত এন্টিবায়োটিক কেন? শুধাই আমি।
-সর্দি লেগে গেছে , কালকে তোর পিসে আসছে সাউথ আফ্রিকা থেকে। তুই তো সেই লোভে আসছিস। আমি কি আর বুঝি না ! নাক মুছতে মুছতে অভিমানী পিসি বলে। লাল হয়ে যাওয়া নাক দিয়ে নায়েগ্রা ঝরছে । খক খক করে দুবার কেশে পিসি আবার হাঁক পাড়ে, বুড়ি ! গেলি ?
-একদম না, বুড়িদি যাবে না। তুমি আগে গল্পটা শুনেই নাও। নাছোড়বান্দা আমি! আর এই নাও, চটপট একটা প্যারাসিটামল খেয়ে ফ্যালো দেখি!
-সাতটা বেজে গেছে, এন্টিবায়োটিকের দোকান বন্ধ হয়ে যাবে, মিনমিন করে বলে পিসি!
-হয়ে যাক! এমন চললে, ২০৫০ সালে এমনিই সব এন্টিবায়োটিক কাজ করা বন্ধ করে দেবে।
-হ্যাহ, আবার তোর গাঁজাখুরি গপ্প!
-গপ্প নয় পিসি! এন্টিবায়োটিক রেজিস্টান্স এখন হেলথ সেক্টর এ মহামারির মত। ইন্ডিয়া আর আফ্রিকা তে সবচেয়ে খতরনাক অবস্থা। এইতো সবে তাগড়াই এক রিসার্চের রেজাল্ট বেরিয়েছে ল্যান্সেট জার্নালে।
-ধুস আমি তো মোটে ৩/৪ টে ট্যাবলেট খাবো।
-সেতো আরও খারাপ পিসি, প্রথমত তোমার সর্দি ভাইরাল, এন্টিবায়োটিক কাজ করবে না। আর দ্বিতীয়ত ডোজ কমপ্লিট না করলে আরও ঝামেলা।
-তা হোক ! ইনফেকশন তোহ ! এন্টিবায়োটিক কাজ করবেই।
-ইনফেকশন তিন রকমের, ভাইরাল, ফাঙ্গাল আর ব্যাক্টেরিয়াল । ভাইরাল ইনফেকশন নিজে থেকেই ঠিক হয় । তিনদিন বা সাতদিনের, সাধারণত। এন্টিবায়োটিক খেলে ৭ দিন, না খেলে এক হপ্তা। কাজ-ই করে না এন্টিবায়োটিক। শেষে ঠিক না হলে, ল্যাজে গোবরে অবস্থা আমাদের।
-ফাঙ্গাল মানে কি ছত্রাক ঘটিত?
-হ্যাঁ, ফাঙ্গাল ইনফেকশনে লাগে এন্টি-ফাঙ্গাল। অ জায়গায় কু জায়গায় চুলকুনি হয় তবে শরীরের ইমিউনিটি কমে না গেলে বড়সড় ফাঙ্গাল ইনফেকশন হয় না। এছাড়াও আছে পারাসাইটিক ইনফেকশন - সেটাও এন্টিবায়োটিক এর কাজ নয়।
-তাহলে এন্টিবায়োটিকের কি কাজ ?
-ব্যাকটেরিয়া ইনফেকশনে এন্টিবায়োটিক কাজ করে! টাইফয়েড, টিবি, কলেরা, ইউরিন ইনফেকশন এসব। তবে জীবনে কিছুই স্বতঃসিদ্ধ নয়। তাই ' এন্টিবায়োটিক' কাজ করবেই বলে ওভার কনফিডেন্ট হইয়ো না। এন্টিবায়োটিকে না মরা সুপার-বাগ এ ভরে যাচ্ছে হাসপাতাল গুলো।
-শোন এসব সুপার বাগ সব ওয়েস্টার্ন ওয়ার্ল্ড এ হয়। আর বললেই তুই রাগ করবি, এসব সুপারবাগ হাসপাতালেই পাওয়া যায়।
-উঁহু ! মারীর গবেষণায় প্রমাণ ওয়েস্টার্ন ওয়ার্ল্ড এ ইনফেকশন কন্ট্রোল অনেক বেশি। আর হ্যাঁ! জীবনের শেষ দিন গুলোয় বাড়ি থেকে মানুষ হাসপাতালেই চলে যায়। আর যুদ্ধ যেখানে চলবে সেখানেই ধরা পড়বে এসব। হাসপাতালে তো আর জোমাটো সুইগি জীবাণু আনে না। জীবাণু ঢোকে মানুষের পেটে করেই। মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট (MDR) ই-কোলাই , ক্লেবসিয়েলা, সিউডোমনাস এ এন্টিবায়োটিক কাজই করছে না।
-পেটে? আমি প্রতিদিন সাবান দিয়ে স্নান করি। একদম ফ্রেশ।
-মানুষের শরীরে বত্রিশ লক্ষ কোটি কোষ আছে। আর আমাদের শরীরে বিরাশি লক্ষ কোটি জীবাণু। ভাড়াটেই বেশি। আর বেশিরভাগ ভাড়াটে থাকে পেটের ভেতরে পটির রাস্তা, কোলনে। রেজিস্টান্ট জীবাণু থাকলে তাই তার বেশিরভাগটা মানুষের কোলনে আর চামড়ায় থাকে।
-চামড়া! কি বিচ্ছিরি শুনতে, আমি কি জন্তু? শরীর খুব খারাপ লাগছে রে!
-সরি সরি পিসি, ‘ত্বক’, খুশি তো ? তোমাকে একটু গরম গরম কুমড়োর সুপ রান্না করে দি?
-তুই বোস, বুড়ি করে দেবে।
-আহ তুমি দাঁড়াও তো! গল্প করতে করতে রান্না হয়ে যাবে। ICMR এর গবেষণা বলছে ধুন্ধুমার অত্যাধুনিক এন্টিবায়োটিক কারবাপেনেম কাজ করা বন্ধ করে দিচ্ছে। রোগীর অন্য অসুখ ঠিক হয়ে গেলেও স্রেফ এন্টিবায়োটিক কাজ না করার জন্য বাঁচতে পারলেন না।
-আরও কত এন্টিবায়োটিক আছে ! শুধু তো কারবাপেনেম নয় !
-তা আছে তবে কারবাপেনেম একটা মাপকাঠি, যেটায় এটা কাজ করবে না সেটায় সিংহভাগ এন্টিবায়োটিকও কাজ করবে না। বুড়িদি আমাকে একটু ফ্রেশ কুমড়ো দাও না ! এটায় ছাতা পড়ে গেছে। পিসি জানো তো, অনেকটা এধরনের ই এক ছত্রাক থেকে পেনিসিলিন ওষুধের আবিষ্কার করলেন ফ্লেমিং
- অ্যালেক্সান্ডার ফ্লেমিং তো নোবেল প্রাইজও পেয়েছিল নাকি রে!
-হ্যাঁ, তবে সেটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার আগে নয় । আবিষ্কারের পরেও তেমন সাড়া পড়েনি। যুদ্ধের জখম সেপ্টিক সেনানীদের যখন পেনিসিলিন বাঁচিয়ে তুলল তখন wonder drug পেনিসিলিনের জয়জয়কার। তারপর ডজন খানিকেরও বেশি মৌলিক এন্টিবায়োটিক বেরিয়েছে । জীবাণু একটায় না মরলে আরেকটায় ঘায়েল।
-সত্যিই! এই ধর আগে টাইফয়েড হলেই অঙ্গহানি, কারো চোখ কারোও কান- আর এখন তো সহজেই চিকিৎসা হয়ে যায়।
-কিন্তু 1990 এর পর থেকে আর নতুন গ্রুপের এন্টিবায়োটিক বেরোচ্ছে না. আল্লাহ মেঘ দে পানি দে করে বিজ্ঞানীরা প্রার্থনারত।
-স্টক শেষ ?
-ক্ষুরধার রিসার্চ করেও তেমন যুগান্তকারী এন্টিবায়োটিক বেরোচ্ছে না । আর পুরনো এন্টিবায়োটিক এর ধার কমে আসছে। জীবাণু রেজিস্টান্ট হতে শুরু করেছে।
-বলিস কি !
-বলছি কি আর সাধে ? পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি প্রাণ নেয় হার্টের সমস্যা। তারপরেই কাবু না করতে পারা ইনফেকশন। ইনফেকশন ধরার কালচারে ক্লেবসিএলা, সিউডমনাস, স্টাফাইলোকক্কাস, স্ট্রেপ্টকক্কাস নিউমনি, দুষ্টু ই-কোলাই এর রিপোর্ট পেলেই মনটা হুহু করে ওঠে। রিপোর্টের পরের পাতাটা কিছুতেই ওলটাতে ইচ্ছে করে না।
-কেন ? পরের পাতায় কি ?
-সেন্সিটিভিটি রিপোর্ট। মানে সেই জীবাণু কোন এন্টিবায়োটিক এ মারা যাবে তার ফর্দ ।
-বুঝেছি, বুঝেছি সেই ফর্দ দেখে যে এন্টিবায়োটিক এ জীবাণু সেনসিটিভ সেটা চয়েস করে দিলেই ই-কোলাই ঘায়েল, দুহাতে তালি বাজিয়ে পিসি বলে। তোদের জীবন কত সহজ করে দিয়েছে কালচার রিপোর্ট সেটা বল।
-কিন্তু পিসি, সেই ফর্দে সব এন্টিবায়োটিকের পাশে লেখা R মানে Resistant. আঁতিপাঁতি করে ডাক্তারের চোখ খোঁজে কার পাশে লেখা S, মানে সেনসিটিভ। ডাক্তার বোধয় নিজের গার্ল ফ্রেন্ডকেও এত উতলা হয়ে খোঁজে নি।
-হ্যা রে তোর কটা গার্ল ফ্রেন্ড ছিল রে ? মেডিক্যাল কলেজে ?
-শূন্যের কাছাকাছি । আমার মত বেরসিক লোকের আর কি হবে! উফ, বাজে বকো না পিসি! যত দিন যাচ্ছে তত কালচার রিপোর্টে S এর সংখ্যা কমে আসছে । শূন্যের কাছাকাছি। বা শুধু এমন দুজনের পাশে S বসছে যে এন্টিবায়োটিক দিলেই কিডনির দফা রফা।
-খুব দুঃখ ছিল তো তাহলে তোর কলেজে।
-তার থেকে বড় দুঃখ হয় যখন পেশেন্ট ভাবেন কোট টাই পরা ডাক্তার, আর ঝাঁ চকচকে হাসপাতাল, মোটা ইনসিওরেন্স আর তার লম্বা সামাজিক স্ট্যাটাস তাঁকে ইনফেকশন থেকে অমর করে দেবে!
-শিয়রে সমন! চাই তো এন্টিবায়োটিক।
-ঠিক , কিন্তু বাড়ি, অফিস, বাজার, খাবারের জীবাণু শিয়রে সমনের দিন আসার বহু বছর আগেই তার কোমর ভেঙ্গে দিয়ে গেছে। নিঃশব্দে।
-বাড়ি, বাজার অফিসের জীবাণুর ব্যাপারটা কি ? তাহলে কি হবে?
- বলছি পরে - সেটা জটিল। আগে শোন তারপর কি হয় - খুব সহজ! ডাক্তার চেঞ্জ হবে, হাসপাতালে বিশ্বাস চলে যাবে, প্রভাবশালী লোক সুতো টানবে, প্রশ্ন করবে, অ্যাই, কি করলে?
- পেশেন্টের কি হবে?
- তাকে দেখতে দলে দলে লোক আসবে। অটো, বাস বা কোটি টাকার মার্সিডিজ গাড়ির হাতল স্পর্শ করে। পেশেন্টের বেড এর রেলিং ধরে সমবেদনার সাথে আসবে আরও জীবাণুর পঙ্গপাল। সাথে বাড়ি নিয়ে যাবেন রেজিস্টান্ট জীবাণু। বেড ঘেঁষে দাঁড়ানো ব্লেজার, চাদর দিয়ে ছড়িয়ে পড়বে শহরে।
- দলে দলে লোক হাসপাতালে ঢুকতেই পারবে না ? ভিসিটর তো একজন?
- ভিসিটর কার্ড একটা, বাকিটা ইতিহাস
- মানে ?
- রবিবার হাসপাতালের সিকিউরিটি গার্ড আর রিসেপশনিস্ট দের অবস্থা শোচনীয়। ‘কেন ঢুকতে পারবো না?' , সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে নাজেহাল তারা। ওইদিন পেশেন্টরা সবচেয়ে বেশি ভালবাসা পান। একটা কার্ড নিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে একাধিক মানুষ চলে যান বেডের পাশে। জীবাণুদের হ্যান্ডশেক চলে সামাজিকতার আড়ালে।
- শেষে পেশেন্টের কি হয়?
- একাধিক এন্টিবায়োটিকের যুদ্ধ চলে, কপাল ভালো হলে মানুষ জেতে, নইলে জীবাণু।
- আর বলিস না, চোখ ছলছলে পিসির, জ্বরে নাকি দুঃখে কে জানে, বাড়ি আর বাজারের জীবাণুর কথাটা বল্লি না তো ? শুধোয় পিসি।
- হুম ! ও বুড়ি দি ! আমাকে এক্টুস ঘি আর দুকোয়া রসুন দাও তো , জপ্পেস হয়েছে সুপটা। তবে পিসি, বাড়িতে কারণে অকারণে এন্টিবায়োটিক খেলে বেশিরভাগ জীবাণু মরে ঠিকই কিন্তু কিছু থাকে বেঁচে। আর এই রেজিস্ট্যান্ট জীবাণু গুলো বংশ বিস্তার করতে থাকে আমাদের দেহে, তারপর পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে, জলে মাটিতে, হাঁচি কাশি, ফোমাইটে, আর অন্য মানুষের শরীরের কোলোনে। তারপর শরীরের দুর্বল মুহূর্তে কাবু করে আমাদের।
- ফোমাইট কি রে?
- Fomite একটা গ্রুপের জিনিসপত্র। আসবাব থেকে গামছা । এর মধ্যে দরজার হাতল থেকে শুরু করে , ডেলিপ্যাসেঞ্জারের ব্যাগ। পরা জামাকাপড় থেকে বুড়ি দি যে ৫০০ টাকা নিয়ে দোকানে যাচ্ছিল সেটাও। -কোলোনের জীবাণু থেকে ইনফেকশন হবে কি করে ? সেতো পটি দিয়ে টাটা বাই-বাই।
- তা হলেই হয়েছে , জল বা টিস্যু পেপার কোনটাতেই সব জীবাণু মরে না । স্মৃতিটুকু থাক এর মত থেকেই যায় কিছু । দুপায়ের মাঝে গিজগিজ করছে জীবাণু । স্নানের সময় কিছু যায়, আবার দিনের শেষেই ঝেঁপে আসে।
- বলিস কি । চোখ বড়বড় করে বলে পিসি।
- পটির ওখানকার জীবাণুর সবচেয়ে বড় ভিকটিম বোধয় হিসুর রাস্তার ইনফেকশন। ইউরিন ইনফেকশন । দু ইঞ্চি গড়িয়ে গড়িয়ে জীবাণু হিসুর রাস্তায় গেলেই ইনফেকশন । কপাল খারাপ থাকলে রেজিস্ট্যানট ইনফেকশন । ছেলেদের হিশুর রাস্তা লম্বা থাকে তাই ছেলেদের ইউরিন ইনফেকশন চট করে হয় না । এদিকে ইউরিন ইনফেকশন হয়নি এমন মহিলা পাওয়া বিরল । অবশ্যই মেয়েদের পটি আর হীসুর মাঝে আছে ল্যাক্টব্যাসিলাসের এর দেওয়াল। ঠিক ভাজাইনার কাছে । ল্যাক্টব্যাসিলাসের এসিড পটি জীবাণুকে রক্ত চক্ষু দেখিয়ে ঠেকিয়ে রাখে কিন্তু অনেক সময়েই তা ফেল করে যায়।
- একটু বেশি বয়সের ইউরিন ইনফেকশন তাই একটু সমস্যা জনক হতে পারে। মেনোপজের পর ল্যাক্টব্যাসিলাসের ডিফেন্সে ফাটল ধরে। ছেলেদের একটু বয়েসে প্রস্টেটের কারণে, ইউরিন করার পরেও জমে থাকে এক্টুস ইউরিন।
- বলবি তো এবার যে, জমা জলে কচুরিপানা হয়?
- হম, মানে ইউরিনে জীবাণু - ইনফেকশন। একটা বয়েসে ইনফেকশনের জন্য তৈরি থাকতে হবে সবাই কে ! ও বুড়িদি মাখন টা দাও।
- এই বেশি দিস না কিন্তু , কি গন্ধ বের করেছিস? মনটা চনমন করছে।
- দিচ্ছি রোসো একটু, বুড়িদি গোলমরিচ গ্রাইন্ডারটা দেবে? টাটকা ভাঙ্গা গোলমরিচের গন্ধই আলাদা । আর যাঁদের ডায়াবিটিস, একটু আধটু ক্যান্সার বা যাঁরা সিগারেট, স্টেরয়েড নেন তাঁদের একটু বেশি ইনফেকশন প্রবণতা থাকে।
- ব্যাস এবার তুই ভাঙ্গা রেকর্ড বাজাবি তো ? নিয়মিত ব্যায়াম, ভেজিটেবেল খাওয়া, উনুনে না দেওয়া টক ফল খেতে হবে। জীবনের সব আনন্দ ছেড়ে দিতে হবে। রামকৃষ্ণের অত ভালো রাবড়ি, আরসালানের বিরিয়ানি, ক্রিসমাস কেক সব বন্ধ।
- সে ভাঙ্গা রেকর্ড বলো বা কলার টিউন বা সকালের কাক ডাকা। বলবো তো বটেই। রেকর্ড তো এমনি ভাঙেনি, বাজাতে বাজাতেই ভেঙ্গেছে। সেলিব্রেশনের খাওয়া প্রতি হপ্তায় খাবে ? ক্রিসমাসের কেক প্রতি মাসে খেলে স্যান্টাও ক্ষেপে যাবে।
আর হ্যাঁ ঘন ঘন এন্টিবায়োটিক খাওয়া বন্ধ করতে হবে। দরকার হলে রক্ত পরীক্ষা করে দেখে নিতে হবে অসুখটা ভাইরাল না ব্যাকটেরিয়া থেকে !
আলপটকা এন্টিবায়োটিক খেয়ে, এখনকার মত শরীর ভালো হলেও একদিন মার্ক শিট নিয়ে বসবে জীবন । শুধু তুমি করলেই হবে না, আশেপাশের মানুষদের না শোনালে একার চেষ্টায় অফিস বাড়ির জীবাণু পরিবর্তন হবে না।
আর হ্যাঁ হাত ধোয়ার যে অভ্যাসটা মাথায় বন্দুক ধরে পৃথিবী শিখিয়ে দিয়ে গেছে। সেটা ভুললে চলবে না। যাকে বলে আংটি খুলে হাত ধোয়া। গোমেদের আংটির ফাঁকে থাকে পুরনো খাবার - জীবাণুদের চিকেন টিক্কা ! ডাক্তার নার্সদের ফুলস্লিভ হাতা থেকে ছড়ায় ইনফেকশন, ডাক্তারদের স্ট্যাটাস সিম্বল হোয়াইট কোট, ঝুলন্ত টাই -ও , সব মার্কামারা ফোমাইট ভিলেন।
- এই নাও পিসি তোমার সুপ, আগে বড় গ্লাসের জলটা খেয়ে নাও তো ?
- কি সুন্দর গন্ধ বের হয়েছে রে, কত কিছু দিয়েছিস !
- দেখো তোমার ভালো লাগে কিনা ।
- আহ এবার শরীর টা একটু ভালো লাগছে রে, এন্টিবায়োটিক ছাড়াই , আমাকে বল না রেসিপি টা, ওপরে কি এটা সানফ্লাওয়ার সিডের গুঁড়ো ? অমৃতের মত লাগছে রে ।
- কালকে আরও একটু ভালো লাগবে পিসি! সবাই সতর্ক থাকলে তবেই কিছু আলো মিলবে সুড়ঙ্গের শেষে।
সুপের রেসিপি পিসি কে বলবো পরে, তবে HIV, HPV জাতীয় জটিল কিছু ভাইরাস ছাড়া বেশিরভাগ ভাইরাল ইনফেকশন সারানোর রেসিপি, একটু ভালবাসা, homely comfort, tender loving care, অনেকটা জল , ভালো ডায়েট আর কটা প্যারাসিটামলে । হাতে গোনা অল্প ক্ষেত্রে শরীর ভাইরাল ইনফেকশন সম্পূর্ণ কাবু করতে না পারলে, ভাইরাস সেরে যাবার পরেও কিছুসময় এন্টিবায়োটিক দরকার হয় (secondary bacterial infection) । বাকিদের নয়।
Over prescription and over-the-counter sale of antibiotics is a major threat to human life. Over last 30 years no novel antibiotics could be discovered. It is estimated that unless we rise collectively against antibiotic resistance by 2050 an estimated 10 million deaths will occur every year. This will cause 6,650 Trillion Rupee loss in global economy. This is feared to be a dark age in medical human civilisation with NO solution at hand. Unless we unite today. Use antibiotics only in desperate need.
নতুন এন্টিবায়টিকের ভবিষ্যৎ কি তাহলে অন্ধকার? মেডিক্যাল সায়েন্স আজ কতটা অসহায়! আইনের বেড়াজাল, অর্থনীতি আর আন্তর্জাতিক রাজনীতি কিভাবে থামিয়ে দিয়েছে এন্টিবায়োটিক রিসার্চ ? আরও জানতে ক্লিক করুন এই লেখকের আরেক রোমহর্ষক ব্লগপোস্টে।
This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice.
References:
https://www.thelancet.com/ journals/lancet/article/PIIS0140-6736(22)02185-7/fulltext
https://www.thelancet.com/journals/lancet/article/PIIS0140-6736(21)02724-0/fulltext
https://www.thelancet.com/journals/lancet/article/PIIS0140-6736(22)00087-3/fulltext
https://ethealthworld.com/s/83v13ta
https://www.gov.uk /government/publications/health-matters-preventing-infections-and-reducing-amr/health-matters-preventing-infections-and-reducing-antimicrobial-resistance
https://biologydictionary.net/ how-many-cells-are-in-the-human-body/
Commissioned by the UK Government and the Wellcome Trust., “AMR review, 2016. https:// amr-review. org/sites/default/files/160518_Final
https://www.voanews. com/a/ bacterial-infections-second-leading-cause-of-death-worldwide-/ 6844791.html
Economic Times 22/11/22 , Bacterial infection behind many deaths in 2019
Search tool: Infection Antibiotics Antibiotic resistance MDR Colon Bacteria Lactobacillus Acid HIV HPV








