কসমেটিক্স এবং ক্যান্সার
দশটা পাঁচটার অফিসে যদি হালকা মেকআপ বা পারফিউম মেখে যান তাহলে বছরের টানা 117 দিন আপনার স্কিনে লেগে থাকছে মেকআপের কেমিক্যাল। আতঙ্ক, ভয় নয়। শুধু জেনে নিন। বিজ্ঞানসম্মত ভাবে কোনটা এড়িয়ে যাবেন।
এখানে রইলো এই টপিকের বাংলা ভার্সন
For the English Version of this topic click here
আপনি যদি বাড়ি থেকে যাতায়াত করে দশটা পাঁচটার অফিস করেন আর হালকা মেকআপ বা পারফিউম মেখে যান তাহলে বছরের টানা 117 দিন আপনার স্কিনে লেগে থাকছে মেকআপের কেমিক্যাল। দিন রাত নেই। টানা 117 দিন।
💅🏽 নাহ! মেকআপ, পারফিউম বন্ধ করতে হবে না।
আতঙ্ক, ভয় নয়। শুধু জেনে নিন। বিজ্ঞানসম্মত ভাবে কোনটা এড়িয়ে যাবেন।
আপনি বিউটি পার্লারে কাজ করলে সারাদিন আপনি এসব কেমিক্যালের সংস্পর্শে থাকছেন। নিজেকে এবং নিজের কর্মচারীকে বাঁচাতে নিচের ডেসক্রিপশনে লেখা লিংকে পড়ে নিন আমেরিকা সরকারের নির্দেশিকা A Guide for Nail Salon Workers- যা দেখছি সাজতে বা সাজাতে গেলেও পড়াশোনা চালাতে হয়।
🧐 2021 এ প্রকাশিত ফার্লি সাহেবের রিসার্চে আবারো জানতে পারছি লাফিয়ে বাড়ছে ক্যান্সারের সংখ্যা। অথচ WHO পরিসংখ্যান বলছে ৩০ শতাংশ ক্যান্সারই নাকি প্রতিরোধ যোগ্য।
👉🏾 আপনার, আমারই মত পুরো মেডিকেল সাইন্স এর রাতের ঘুম উড়ে যাওয়ার যোগার।তন্ন-তন্ন করে খোঁজ চলছে কেন এতো বাড়ছে ক্যান্সার। দৈনন্দিন ব্যবহার করা ও পরিবেশে পাওয়া কি কি ধরনের কেমিক্যালে বাড়তে পারে ক্যান্সার ? পরিবেশের অজস্র কেমিকাল রয়েছে যার সংস্পর্শে এলে বা তা শরীরে প্রবেশ করলে বেড়ে যাচ্ছে ক্যান্সারের রিস্ক।
👉🏾 এরই মধ্যে বিজ্ঞানীদের চুলচেরা নজরে পড়ছে কসমেটিক্স এবং মেকআপের মধ্যে মিশে থাকা কিছু বিতর্কিত কেমিক্যাল।
কিন্তু কেন? কসমেটিক্স ব্যবহার করে দুপুরে মেখে রাতে ধুয়ে ফেললেই তো তা উঠে যায়। তাহলে কি কসমেটিক্সসের কিছু কেমিক্যালের জন্য ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা ভিত্তিহীন ? 👉🏾 একদমই না। হার্ট, ব্রেন, বা লিভার নয়, শরীরের বৃহত্তম অঙ্গের নাম ত্বক বা স্কিন। প্রায় 22 square feet, যা প্রায় 352 টা A4 শীটের সমান।
👉🏾 - Gallo সাহেবের মতে আরও বেশি, কারণ স্কিন কুঁচকে থাকে- উনি বলেন স্কিনের ক্ষেত্রফল 269 Sqaure feet। একটা ছোট ফ্ল্যাট ঢুকে যায়।
👉🏾 ত্বকের একদম নিচেই থাকে প্রচুর রক্তবাহ। হাত পা কেটে-ছড়ে গেলে যতখানি রক্তপাত হয় তাতে এই তথ্যটি বুঝতে আপনার সন্দেহ থাকার কথা নয়।
👉🏾 সুতরাং ওষুধপত্র শুধু মুখে খেয়ে বা ইনজেকশন দিয়ে দেওয়া যায় না। এই ত্বকের এই বিশাল মাপকে কাজে লাগিয়ে নানা রকম ওষুধ সরাসরি ত্বকের রক্তবাহের মধ্যে দিয়ে সারা শরীরে পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে।
👉🏾 মেডিক্যাল সাইন্সের এক বিভাগ Pharmacology তে এই নিয়ে একটা আস্ত চ্যাপ্টার রয়েছে। তার নাম, ট্রান্সডারমাল ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম-TDDS
👉🏾 ব্লাড প্রেসারের ওষুধ থেকে ব্যথার ওষুধ। এমন কী হরমোন ওষুধ সহ কয়েক ডজন নানা রকম ওষুধ TDDS দিয়ে সারা শরীরে পৌঁছে দেওয়া যায়। যদি তা ত্বকের ওপর প্যাচ বা মলম হিসেবে লাগিয়ে দেওয়া যায়। ট্যাবলেট, ইনজেকশন ছাড়াই। ঠিক যেমন আপনি কসমেটিক্স লাগান।
👉🏾 এবার ভাবুন, যে পথে মানুষের ভালো করার ওষুধ পৌঁছাচ্ছে ঠিক একই পথে শরীরের রক্ত প্রবাহে ঢুকে যেতে পারে, নানারকম বিষাক্ত কেমিক্যাল।
👉🏾 কসমেটিক্স স্কিনের উপরে থেকে যায় অনেক ঘন্টা ধরে। সুতরাং কসমেটিক্সে মিশে থাকা কিছু বিপদজনক কেমিক্যাল বা ভেজাল অল্প পরিমাণে থাকলেও, সেসব রক্তে মিশে যাওয়ার সময় পায় বহু ঘন্টা ধরে।
সুতরাং সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বইকি।
👉🏾 International Agency for Research on Cancer (IARC) নানা কেমিক্যাল কে ৫ ভাগে ভাগ করেন। এর মধ্যে গ্রুপ 1 এ আছে 113 টি কেমিক্যাল যা মানুষের ক্যান্সার তৈরির জন্য দায়ী। এর মধ্যে 11 টি-ই, কসমেটিক্সের মাধ্যমে মিশতে পারে আমাদের শরীরে।
এবার ১০ টা বিপদ আর সাথে এড়িয়ে থাকার উপায়।
😶🌫️ ট্যালকম পাউডার
👉🏾 2019 সালে FDA বিজ্ঞপ্তি জারি করে জনসাধারণকে বলে যতটা সম্ভব ট্যালকম পাউডার এড়িয়ে থাকতে। কেন? যদিও ট্যালকম পাউডারের ট্যাল্ক খারাপ কিছু নয়, কিন্তু এই ট্যালকম পাউডারের মধ্যে অনেক সময় মিশে থাকে asbestos এর কনা। ভেজাল হিসেবে।
👉🏾 কোম্পানি ইচ্ছে করে মেশায় না। আসলে ট্যাল্ক থেকে এসবেস্টস আলাদা করা খুব কঠিন। আইশ্যাডো, ব্লাশ, থেকে শুরু করে সাধারণ গায়ে মাখা পাউডারেও মিশে থাকতে পারে এই ধরনের ক্ষতিকর কেমিক্যাল।
👉🏾 এতে হতে পারে ওভারিয়ান ক্যান্সার, লাং ক্যান্সার, থেকে শুরু করে Mesothelioma বলে এক ধরনের বিরল কিন্তু অত্যন্ত দুরারোগ্য ক্যান্সার।🧪 এক্রাইলেট
💅🏽 আর্টিফিশিয়াল নখে লুকিয়ে থাকতে পারে এই কেমিক্যাল। ethyl acrylate and methyl methacrylate এর সাথে যোগ রয়েছে ক্যান্সারের।
👉🏾 1974 সালে নিষিদ্ধ ঘোষণা হয়েছে যাতে কেউ 100% খাঁটি এই কেমিক্যাল ব্যবহার না করেন। । তা সত্ত্বেও আইনের ফাঁক গলে 99% পর্যন্ত এই কেমিক্যাল ব্যবহার করা যায়।
👉🏾 নখে এক্রাইলেট থাকলে তা ব্যবহার করবেন না। শুধু আঙুল দিয়ে নয়, খাবার সময় মুখেও যেতে পারে।
👉🏾 আপনি বিউটি পার্লারে কাজ করলে নাক দিয়ে ঢুকবে এসব কেমিক্যাল - NIOSH এপ্রুভড ফিল্টারিং ফেস পিস রেসপিরেটর ব্যবহার করুন, সাথে নাইট্রেইল গ্লাভস।
🧪 ট্রাইক্লোসান
👉🏾 অনেক কসমেটিক্স কোম্পানির কসমেটিক্স, টুথপেস্ট, এবং বডি ওয়াশে, মেশানো হয় ট্রাইক্লোসান।
উদ্দেশ্য একটাই যাতে প্যাকেটের ভেতরে কসমেটিক্স পচে না যায়।
এক ব্যাচ তৈরি করলে অনেকদিন দোকানে রাখা যায়।
🦷 টুথপেস্টে মেশানোর কারণ, যাতে মুখে গন্ধ না হয়।
2017 সালে FDA জারি করা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রেসক্রিপশন ছাড়া ট্রাইক্লোসান বিক্রি বন্ধ করে দেন।
👉🏾 শঙ্কা যে অনেকদিন ধরে ট্রাইক্লোসান ব্যবহারের ফলে থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা এমনকি স্কিন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।
বাড়ে এন্টিবায়োটিক রেসিস্টেন্স।
🧪 সীসা বা লেড
👉🏾 সীসা নিষিদ্ধ।
👉🏾 তবুও চোখের কাজল বা সুরমার সাথে মিশে থাকতে পারে।
👉🏾 সীসা, সাধারণত কেউ ইচ্ছে করে মেশায় না। তবে অনেক সময় এই ধরনের কসমেটিক্স গুলো যেভাবে তৈরি হয় তার মধ্যে মিশে যেতে পারে সীসা।
👉🏾 আমেরিকাতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এই ধরনের কসমেটিক্স। যাতে নজর লাগা এড়াতে গিয়ে প্রাণ সংশয় না হয়।
🧪 মার্কারি আর থাইমেরোসাল
👉🏾 ফর্সা হওয়ার ওষুধে মিশে থাকতে পারে এই ধরনের কেমিক্যাল।
ক্ষতি হয় নার্ভাস সিস্টেমের, নষ্ট হতে পারে কিডনি, ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে গর্ভস্থ শিশু। 👉🏾 কোনোটাই কসমেটিক্স নয়।
👉🏾 প্যাকেটজাত কসমেটিক্স যাতে অনেক দিন ধরে তাজা থাকে তার জন্য মেশানো হয় এই ধরনের প্রিজারভেটিভ।
👉🏾 দীর্ঘদিন ব্যবহারে হতে পারে স্বাস্থ্যের সমস্যা।
🧪 থ্যালেট
থ্যালেট নিয়ে আমরা আগেও বহুবার বহু ভিডিওতে আলোচনা করেছি।
প্রচুর কসমেটিক্সে মিশে থাকতে পারে থ্যালেট।
এর মধ্যে রয়েছে হেয়ার স্প্রে, নেলপলিশ, পারফিউম এবং ক্লিনজিং এজেন্ট।👉🏾 থ্যালেট জাতীয় কেমিক্যালের ক্যান্সার তৈরি করার ক্ষমতাটা অদ্ভুত। সরাসরি ক্যান্সার করে না।
👉🏾 এ প্রথম শরীরের নানা রকম হরমোনের ব্যালেন্স নষ্ট করে দেয়।
পরিবেশের যেসব কেমিক্যাল শরীরের হরমোন অর্থাৎ এন্ডোক্রিন সিস্টেমের ভারসাম্য নষ্ট করে তাদের একসাথে নাম EDC বা এন্ডোক্রিন ডিস্টার্বিং কেমিক্যাল।
👉🏾 মাত্রাতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন হরমোনে বাড়ে ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা, ইউটেরাস এবং ওভারির ক্যান্সার।
ছেলেদের প্রস্টেট ফুলে যায়। হতে পারে টেস্টিস ক্যান্সার।
তাই অতি অবশ্যই থ্যালেট ফ্রি প্রোডাক্ট কিনুন।🧪 প্যারাবেন
👉🏾 প্রচুর ধরনের কসমেটিক্সে প্যারাবেন ব্যবহার করা হয়।
যার মধ্যে রয়েছে নানা ধরনের মেকআপ, শেভিং ক্রিম, চুলের ক্রিম, এবং ময়েশ্চারাইজার।
👉🏾 যাতে অনেকদিন ধরে প্যাকেটের কসমেটিক্স ফ্রেশ এবং কার্যকারী থাকে।
👉🏾 প্যারাবেন আসলে প্রিসারভেটিভ।
👉🏾 সন্দেহ হয় বহুদিন প্যারাবেনের প্রভাবে হরমোনের ব্যালেন্স নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে ব্রেস্ট ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা বাড়ে।
👉🏾 নরমাল ব্রেস্টের টিস্যুতে এবং ব্রেস্টের ক্যান্সার টিস্যুর মধ্যে বায়োপসিতে প্রচুর প্যারাবেন পাওয়া যায়, এতে এই সন্দেহ তীব্রতর হয়েছে যদিও আরো গবেষণা বাকি।
এর থেকে মুক্তির উপায় আছে ভিডিওর শেষে।
🧪 Formaldehyde বা ফরমালিন,
👉🏾 এসব থাকতে পারে শ্যাম্পু , শাওয়ার জেল, নেলপলিশ এবং হেয়ার স্ট্রেটনিং স্প্রে বা লোশনে। শুধু নেলপলিশের মধ্যে নয়।
👉🏾 মাছ তাজা রাখতেও অনেকে ফরমালিন ব্যবহার করেন। 👉🏾 ফরমালিনের প্রভাবে প্রাণীদের ক্যান্সার হয়েছে বলে হাতে গরম প্রমাণ পাওয়া গেছে ল্যাবরেটরীতে।
👉🏾 কিছু কিছু কেমিক্যাল সরাসরি ফরমালিন না হলেও ব্যবহার করার পরে তা থেকে ফরমালিন গ্যাস আকারে বেরোয়।
👉🏾 এই ধরনের কেমিক্যাল চুল সোজা করার কেরাটিন দেওয়া লোশনে মিশে থাকার সম্ভাবনা প্রবল।
👩🏽🦰 হেয়ার ডাই
👉🏾 চুল রং করার হেয়ার ডাই এর সাথে ব্রেস্ট ক্যান্সার, ব্লাডার ক্যান্সার, লিউকোমিয়া, আর লিম্ফমা বলে ক্যান্সারের যোগসূত্রের সন্দেহ তীব্র। গবেষণা চলেছে।
সাধারণত তিন ধরনের হেয়ার ডাই পাওয়া যায়।
একটি টেম্পোরারি যা একবার বা দুবার ধুলেই চলে যায়।
আর দ্বিতীয় সেমি পার্মানেন্ট যেটা পাঁচ থেকে দশবার চুল ধোয়া পর্যন্ত থাকে।
আর আরেকটি হচ্ছে পার্মানেন্ট।
👉🏾 এতে অক্সিডেটিভ রিয়াকশন হয় এবং তাতে অনেকদিন ধরে চুলের রং স্থায়ী হয়।
এই তৃতীয় ধরনের হেয়ার ডাই এর রিস্ক সবথেকে বেশি বলে অনুমান করা হচ্ছে।
যেহেতু হেয়ার ডাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দিলে তা সৌন্দর্য সচেতন মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।👉🏾 তাই এখনো ব্যাপারটা Caution এবং Warning এর স্তরেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
👉🏾 একান্তই হেয়ার ডাই ব্যবহার করতে হলে ব্যবহার করুন কম স্থায়ী হেয়ার ডাই এবং শুধু চুলে। তা যেন স্কালপে বা মাথার ত্বকে বেশিক্ষণ লেগে না থাকে।
🌳 ন্যাচারাল প্রোডাক্ট- এর দাবি কতটা নির্ভরযোগ্য।
👉🏾 ন্যাচারাল প্রোডাক্ট ব্যবহার করবেন? সে গুড়েও বালি।
👉🏾 পৃথিবীর কোনো দেশই ন্যাচারাল কসমেটিক্স কী সে ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি।
2022 এ প্রকাশিত অনিতা স্লোমস্কির গবেষণা পত্রে দেখা যাচ্ছে ন্যাচারাল বলে দাবি করা কসমেটিক্সে কোন না কোন সমস্যা রয়েই গেছে।
👉🏾 সুতরাং চোখ বন্ধ করে ভরসার কোনও জায়গাই নেই।
🤔 তাহলে উপায়? দেশ বা সরকার কিছু কি করতে পারে?
👉🏾 এই কেমিক্যাল গুলো যেহেতু বেশিরভাগ প্রিসারভেটিভ এবং সরাসরি কসমেটিক্স মেটেরিয়াল নয় তাই এর নাম সবসময় প্যাকেটে লেখা বাধ্যতামূলক নয়।
👉🏾 তাই প্যাকেট দেখলেও পুরো কাজ হবে না।
👉🏾 এছাড়াও বেশীভাগ কেমিক্যালই কসমেটিক্সে অল্প পরিমাণ থাকে। তাই আইন এড়ানো সহজ।
👉🏾 আপনি হয়তো বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে ব্যবহার করছেন কিন্তু নির্মাতারা বলতেই পারে একটা বটল থেকে ক্ষতি হবে না। তাই আইন এড়ানো সহজ। বিপদ সত্ত্বেও।
👉🏾 সম্ভবত এই কারণেই সরকার কিছুই করে উঠতে পারছে না।
👉🏾 আপনার সচেতনতা না থাকলে সরকার কিছুই করতে পারে না। আপনি আমেরিকাতে থাকলে সেখানে ফুড এন্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন বা এফডিএ নানা রকম নজরদারি চালায় কসমেটিক্সের ওপরে, যত দিন যাচ্ছে নজরদারির পরিমাণ বাড়ছে।
👉🏾 আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি এই নিয়ে নানা রকম গবেষণা করছেন। এছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার বা IARC যা নাকি WHO এর একটি অংশ, তারাও প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন ।
👉🏾 এছাড়াও আমেরিকার ন্যাশনাল টক্সিকোলজি প্রোগ্রাম বা NTP প্রায়শই নানা রকম বিধি-নিষেধের কথা বলেন। তবুও আমেরিকাতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা যায় সেরকম কোনও আইনি বিধিনিষেধ নেই, যাতে বাধ্য করা যায় যে প্রতিটি কোম্পানি তাদের কসমেটিক্সের FDA এপ্রুভাল নেবেন।
👉🏾 আপনি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলোতে থাকলে সেখানে আইন আরও একটু বেশি কড়া। আমাদের দেশ ভারতবর্ষেও এই নিয়ে নানারকম আইন রয়েছে। কিন্তু কোনটাই খুব কার্যকরি নয়। বিশেষত গ্রাহক হিসেবে আপনি আপনার আজকে কেনা কোন কসমেটিক্সসের মধ্যে ক্ষতিকারক প্রভাব আছে কিনা তা সরাসরি জানার নির্ভরযোগ্য কোনো উপায় নেই।
👉🏾 তার কারণ পৃথিবীর অন্যান্য অনেক দেশের মতোই ভারতবর্ষ এখনো কসমেটিক্সের ওপর বিধিনিষেধ সম্পূর্ণ ভাবে লাগু করতে পারে নি।
👉🏾 এছাড়াও, বিধি নিষেধ যতটুকু বা আছে তা বড় বড় কোম্পানি গুলোর উপরে নজরদারি করে। কিন্তু বহু ধরনের কসমেটিক্স ঘরোয়া বা ক্ষুদ্র শিল্প আর অসংগঠিত ক্ষেত্র থেকে আসে।
👉🏾 ঘরোয়া, ক্ষুদ্র এবং মাঝারি, আন্তর্জাতিক কোম্পানি কেউই প্যাকেটের ওপর লিখতে বাধ্য নয় যে তাদের কসমেটিক্সে কার্সিনজেন কেমিক্যাল নেই।
২০১৬ সালে প্রকাশিত রাজ এবং চন্দ্রুলের রিসার্চ পেপার থেকে জানতে পারি ‘Presently, the cosmetic regulations in India are unstructured, multipart, divided in unpopular authorities and not only time-consuming but also not well defined on websites for producers &consumers hence cosmetic rules and regulations need to be harmonized for quality, safety and efficacy requirements’
👉🏾 এছাড়াও লেবেলে যা লেখা সবই বিশ্বাসযোগ্য কিনা সে ব্যাপারেও গাইডলাইন এখনও তৈরি হওয়া বাকি। ওনারা বলছেন দরকার সর্বজনগ্রাহ্য guidelines regarding the product development, stability, labeling and safety and efficacy issue as per claim.
👉🏾 অবশ্য এটা অনস্বীকার্য অনেক কোম্পানিগুলো আজকাল স্বতপ্রবৃত্ত হয়ে কসমেটিক্সের প্রতিযোগিতার বাজারে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখার জন্য থ্যালেট, প্যারাবেন, এই জাতীয় পদার্থ গুলো বাদ দিচ্ছেন।
👉🏾 এবং কসমেটিক্সের প্রোডাক্টের ওপরে বুক ফুলিয়ে লিখছেন থ্যালেট-ফ্রি, প্যারাবেন-ফ্রি, মিনারেল অয়েল ফ্রি । তাই কেনার সময় ভালো করে প্যাকেট বা ওয়েবসাইটের ইনফরমেশন পড়ে নিন।
👉🏾 লিপ প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে স্পুন ফর্ক দিয়ে সরাসরি মুখে খাবার পুরুন। আঙুলে নেলপলিশ পড়লে স্পুন ফর্ক দিয়েই খান।
👉🏾 আপনি যদি আরও জানতে উৎসুক হন তাহলে আমেরিকার একটি ওয়েবসাইট EWG.ORG বলে একটি নন প্রফিট কর্পোরেশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে খোঁজ নিতে পারেন। এছাড়াও আছে safecosmetics.org/
👉🏾 আসলে কসমেটিক্সেসের মার্কেট এতটাই দামি যে সেখানে নিরপেক্ষ-বিজ্ঞান আর মুনাফার মধ্যে একটা ঠান্ডা লড়াই থেকেই যায়। সাজতে গেলেও পড়াশোনা চালাতে হয়। তাই গ্রাহক এবং কসমেটিক্স ব্যবহারকারী হিসেবে আপনার নিজেরই চোখ কান খুলে রাখতে হবে ।
This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice.
Reference:
[1]
R. Balwierz et al., “Potential Carcinogens in Makeup Cosmetics,” Int J Environ Res Public Health, vol. 20, no. 6, p. 4780, Mar. 2023, doi: 10.3390/ijerph20064780.
[2]
S. M. Dickerson and A. C. Gore, “Estrogenic environmental endocrine-disrupting chemical effects on reproductive neuroendocrine function and dysfunction across the life cycle,” Rev Endocr Metab Disord, vol. 8, no. 2, pp. 143–159, Jun. 2007, doi: 10.1007/s11154-007-9048-y.
[3]
M. R. Kim et al., “The association between phthalate exposure and pubertal development,” Eur J Pediatr, Jan. 2024, doi: 10.1007/s00431-023-05416-z.
[4]
H. MALEKINEJAD and A. REZABAKHSH, “Hormones in Dairy Foods and Their Impact on Public Health - A Narrative Review Article,” Iran J Public Health, vol. 44, no. 6, pp. 742–758, Jun. 2015.
[5]
MEDICALNEWSTODAY, “Toxic makeup: What to avoid, risks, and alternatives.” Accessed: Mar. 29, 2024. [Online]. Available: https://www.medicalnewstoday.com/articles/327318
[6]
R. K. Raj and K. K. Chandrul, “Regulatory Requirements for Cosmetics in Relation with Regulatory Authorities in India against US, Europe, Australia and Asean Countries,” Int J Pharma Res Health Sci, vol. 4, no. 5, pp. 1332–41, 2016, doi: 10.21276/ijprhs.2016.05.01.
[7]
M. R. Servos et al., “Distribution of estrogens, 17beta-estradiol and estrone, in Canadian municipal wastewater treatment plants,” Sci Total Environ, vol. 336, no. 1–3, pp. 155–170, Jan. 2005, doi: 10.1016/j.scitotenv.2004.05.025.
[8]
A. Slomski, “Almost All ‘Natural’ Skin Care Products Contain Contact Allergens,” JAMA, vol. 328, no. 17, p. 1677, Nov. 2022, doi: 10.1001/jama.2022.18440.
[9]
“Hormone-disrupting chemicals ‘cost billions,’” BBC News, Mar. 06, 2015. Accessed: Feb. 04, 2024. [Online]. Available: https://www.bbc.com/news/health-31754366
Search tool: Talcum powder Acrylate Triclosan Lead Mercury and Thimerosal Phthalates Phthalate Paraben Formaldehyde or formalin Hair dye colour color Natural products Cosmetics Cosmetic Cancer



















