কোনটা নর্মাল, আর কোনটা অ্যাবনর্মাল?
প্রতিটি মহিলাদের জন্য, মাসের ওই চার পাঁচ দিন খুবই অসুবিধাজনক বিরক্তিকর সময়। এখন পর্যন্ত, আমি এই অনুভূতির ব্যতিক্রম কাউকে দেখতে পাইনি! কিন্তু সমস্যায় কখন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে পরিষ্কার নয় অনেকেরই
পিরিয়ড নিয়ে সমাজে এখনও অনেক বাধানিষেধ রয়েছে। ট্যাবুর কারণে, এক মহিলা, অন্য মহিলার সাথে সহজে কথা বলেন না। তাই অনেকেই জানেন না, কোনটা নর্মাল, আর কোনটা অ্যাবনর্মাল?
যদিও, আধুনিক সভ্যতায় পিরিয়ড নিয়ে পিছিয়ে থাকা আর বুদ্ধিমানের কাজ নয় । পিরিয়ড সম্পর্কে যখনই কিছু সাহায্যের প্রয়োজন হবে, তখনই সন্দেহ দূর করতে এই লেখার ছোট্ট অংশ আপনাদের কাজে আসতে পারে। প্রতিটি মহিলাদের জন্য, মাসের ওই চার পাঁচ দিন খুবই অসুবিধাজনক, বিরক্তিকর সময়। বলা বাহুল্য, এখনও পর্যন্ত, এই অনুভূতির ব্যতিক্রম কাউকে দেখতে পাইনি!
প্রাকৃতিক নিয়মে বয়সন্ধির সময় কিশোরী মেয়েদের প্রতি মাসে মাসে সাধারণত ২৮ দিনের ব্যবধানে ব্লিডিং শুরু হয় যা চলতে থাকে মেনোপজ পর্যন্ত। ভারতীয় মহিলাদের মেনোপজের গড় বয়স পঞ্চাশ বছর। এভাবেই গড়ে ওঠে মহিলাদের এক সম্পূর্ণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। (যদি কৌতূহল হয়, শরীরে কোনও দেওয়াল ঘড়ি না থাকলেও, কীভাবে এই দিন-মাসের হিসেব হয়? মাথার গর্ভগৃহে থাকে সুপ্রা-কায়াজমাটিক নিউক্লিয়াস। সেখানেই থাকে এই ঘড়ি। আরও জানতে পড়ুন- পুজোয় গাইনোকোলজি)
এই প্রক্রিয়া বোঝায় যে, মহিলাদের হরমোনগুলো মাসিক চক্রের কীভাবে একবার উপরে আবার নীচে যায়। অনেকটা সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো। প্রতি মাসে, ইউটেরাস প্রেগনেন্সি প্রত্যাশা করে। যখন প্রেগনেন্সি আসে না, তখন ইউটেরাসের ভিতরের আস্তরণ (এন্ডোমেট্রিয়াম), তা ভেঙ্গে যায় এবং রক্তের সাথে মিশে জন্মের পথ দিয়ে বেরিয়ে আসে।
একেই আমরা পিরিয়ড বলি।
অনিয়মিত পিরিয়ড এমন এক সমস্যা, যার থেকে সব মহিলারাই সজাগ থাকতে চান। এবার আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, তাহলে অস্বাভাবিক পিরিয়ড কী?
এই আর্টিকেল পড়লেই আপনি স্পষ্ট বুঝতে পারবেন যে কোন ধরনের পিরিয়ডের সমস্যা শুধু একটু নজর রাখলেই হবে, আর কোন ধরনের সমস্যাতে আপনি ডাক্তারের কাছে যাবেন।
অ্যাবনরমাল পিরিয়ডের অনেক ধরনের রকমভেদ। ঠিক এক কথায় কোনটা নরমাল আর কোনটা অ্যাবনরমাল তা বলে বোঝান সম্ভব নয়। তাই ভাগে ভাগে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছি।
বিজ্ঞান আমাদের কিছু বিস্তারিত সংজ্ঞা দিয়েছে যে, অস্বাভাবিক ব্লিডিং কী এবং কোনটাই বা স্বাভাবিক! প্রতিটি মহিলার ক্ষেত্রে ব্লিডিংয়ের প্যাটার্ন আলাদা হতে থাকে। এছাড়াও, বৈজ্ঞানিকভাবে এই ডাক্তারি সংজ্ঞার ভাগগুলো বোঝানো বেশ কষ্টকর। একজন সাধারণ ব্যক্তির পক্ষে এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা বোঝা, মোটেও সহজ নয়।
এখানে, ডাক্তারি কচকচি ছেড়ে চটজলদি আলোচনা করে নেব, অস্বাভাবিক পিরিয়ডের ধরন ধারণ। যেভাবে বলেছি তা নিখুঁত বৈজ্ঞানিক নয়, তবে একজন সাধারণ মানুষ হিসাবে বোঝা সহজ হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
মোটের ওপর তিনটির কোনো একটি সংকেত দেখা দিলে, অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
🟪 প্রথম গ্রুপ - ছন্দহীন ব্লিডিং: যার মধ্যে কিছু হল
➤ দুটো পিরিয়ডের মধ্যে ব্লিডিং কে বলে ইন্টার মেনস্ট্রুয়াল ব্লিডিং (দু’টো পিরিয়ডের মাঝে হঠাৎ ছিঁটে ফোঁটা ব্লিডিং দেখা)।
➤ সেক্সের পরে ব্লিডিং যাকে পোস্ট-কয়টাল ব্লিডিং (জীবনে প্রথম সেক্সের পর অল্প ব্লিডিং হয়তো অস্বাভাবিক নয়) ।
➤ মেনোপজের পরে যে কোনও ব্লিডিং এবং যাকে চিকিৎসকদের ভাষায়, পোস্ট-মেনোপজাল ব্লিডিং বলা হয়ে থাকে।
🟪 দ্বিতীয় গ্রুপ - ব্লিডিং যখন বেশির দিকে
অস্বাভাবিক ব্লিডিংয়ের দ্বিতীয় গ্রুপের সংজ্ঞা আপনার কাছে, অস্পষ্ট মনে হতে পারে। তবু বোঝানোর চেষ্টা করছি। প্রতিটি মহিলার পিরিয়ডের নিজস্ব প্যাটার্ন রয়েছে। খেয়াল করে দেখবেন, যেকোনো দু’জন মহিলার ব্লিডিংয়ের ধরণ কখনও ঠিক একই রকম হয় না।মৌসুমীর পিরিয়ডের নিজস্ব ছন্দ, তার নিজের। মৌসুমীর সাথে অনিতার প্যাটার্ন মিলবে না। সবাই, নিজে নিজে জানবেন, তাঁর ব্লিডিংয়ের ছন্দ কেমন। সেই প্যাটার্ন তার নিজের জন্য নর্মাল। নিজের প্যাটার্নের বাইরে ব্লিডিং হলে, ডাক্তারের পরামর্শ নিন। পিরিয়ডের প্যাটার্নের বিচ্যুতি একজন পেশেন্ট আর ডাক্তার, একসাথে আলোচনা করে সঠিকভাবে পর্যালোচনা করতে পারবেন। এরই মধ্যে কিছু প্যাটার্ন বেশ অ্যাবনরমাল। যেমন,
➤ কারও পিরিয়ডের ব্লিডিং প্রতি মাসে মাসে হলেও, ব্লিডিংয়ের স্বাভাবিক যা প্যাটার্ন থাকে তার থেকে বেশী পরিমাণে হবে বা ঘন ঘন হবে (more heavy or more frequent)।
➤ কারও কারও ব্লিডিং চলতে থাকবে এবং থামতেই চাইবে না।
➤ কারও বা, ব্লিডিং অল্প হবে, কিংবা ফোঁটা ফোঁটা করে এক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকবে।
এই তিন ধরনের ব্লিডিং অবশেষে মহিলাদের শরীরের আয়রন শেষ করে দেয় এবং হিমোগ্লোবিনও কমে। হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়াও এক শক্তিশালী ইঙ্গিত যে, মহিলার তখন ডাক্তারি সাহায্যের প্রয়োজন।
➤ আরেকদল মহিলা আছেন যাঁদের, ব্লিডিং অনেক সময় গুরুতর ব্যথার সাথে আসে। যা সহ্য করা খুব বেশি কষ্টকর। পিরিয়ডে ব্যথা কম বেশি সবারই হয়। নিজের নিজের ব্যথার প্যাটার্নও নিজস্ব। তবু এই ব্যথা যদি তাদের পিরিয়ড প্যাটার্নের বাইরে, অচেনা ধরনের ব্যথা হয় তাহলেও ডাক্তারি পরামর্শ দরকার।
🟪 তৃতীয় গ্রুপ - ব্লিডিং যখন কমের দিকে :
এই গ্রুপে দু’ধরনের মহিলারা রয়েছেন
➤ যাদের পিরিয়ডের সময় ব্লিডিংয়ের পরিমাণ খুব কম হয়ে গেছে। কম পরিমাণ ব্লিডিং আবার দুই ধরনের হতে পারে। ১) ব্লিডিংয়ের ফ্লো কম, তবে দিনের সংখ্যা এক আছে ২) পিরিয়ডের দিন, সংখ্যায় কমে গেছে বা বন্ধই হয়ে গেছে।
➤ আর যাদের পিরিয়ড হবার কথা, কিন্তু হচ্ছেই না। পিরিয়ড বন্ধ।
মেনোপজের বয়সে মহিলাদের পিরিয়ড বন্ধ হওয়া খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু অন্য সময়ে নয়। অপ্রত্যাশিত ভাবে পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার জন্য, মহিলাকে প্রথমেই প্রেগনেন্সি টেস্ট করতে হতে পারে। শুনতে অবাক লাগলেও, সারা পৃথিবীতে এই নিয়মের কোনো ব্যতিক্রম নেই। কারণ, যদি প্রেগনেন্সি না থাকে, তাহলে আরও জটিল পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।
এই ধরনের অসময়ে পিরিয়ড বন্ধ হওয়া বা অল্প সময়ের জন্য পিরিয়ড হলে, আপনার রক্তে হরমোনের মাত্রা পরীক্ষা করতে হতে পারে। হিমোগ্লোবিন কম হলেও ব্লিডিং কমে আসতে পারে।
পিরিয়ডের মামুলি সমস্যায় সাধারণত কী কী টেস্ট করতে হয়?
পরীক্ষার শুরুতে আপনার ওভারি এবং ইউটেরাসের স্টেটাস পরীক্ষা করার জন্য, 🔔আল্ট্রাসাউন্ড করতে হবে। মোটামুটিভাবে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে, আমরা মহিলাদের স্ক্যান করার পর কোনও, অস্বাভাবিক কারণ খুঁজে পাই না। অবশ্যই সেটা ভালো। তাই না? তবুও চিকিৎসা প্রয়োজন।
স্বল্প কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যা ধরা পড়ে। যার চিকিৎসা করলেই সমস্যার সমাধান। 🔔 কখনও করতে হয়, স্বল্প কিছু ব্লাড টেস্ট।
মনে রাখুন, পিরিয়ডের জটিল সমস্যায়, আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান বা ব্লাড টেস্ট মোটেই যথেষ্ট নয়। তখন চাই MRI Scan, Hysteroscopy র মতো আরও টেস্ট। তবে সবার তা প্রয়োজন হয় না।
যাইহোক, আমাদের এটাই কাম্য একজন মহিলা যেন তার অস্বাভাবিক ব্লিডিং নিয়ে অবহেলা করে ঘরে বসে না থাকেন। সময় মত চেকআপ ভবিষ্যতের গুরুতর সমস্যাকে দূরে রাখতে পারেন। তাই উপেক্ষা করা উচিত নয়।
আপনার ব্লিডিংর প্যাটার্নের উপর নজর রাখার জন্য, অমূল্য কিন্তু বিনে পয়সার উপায়গুলোর মধ্যে একটা
🔔 ‘পিরিয়ড ডায়েরি’ লেখা।
যদি এমনও মনে করেন যে, আপনার পিরিয়ড খুব বেশী অস্বাভাবিক নয় এবং অবিলম্বে মনোযোগের প্রয়োজন নেই, তাহলেও আপনি এই ডায়েরিতে আপনার পিরিয়ডের প্যাটার্ন লিখে রাখতে শুরু করুন।
বিশ্বাস করতে মন চাইবে না। প্রথমে আপনার এগুলোকে সাধারণ কাগজের টুকরো বলে মনে হলেও, পরবর্তীকালে ডায়েরির সামান্য কাগজের টুকরোগুলো আপনার জন্য মুশকিল আসান হয়ে উঠতে পারে।
এই ধরনের বিশেষ ডায়েরি ইংল্যান্ডের মহিলারাও, ব্যবহার করেন। আর এগুলো মেইনটেইন করাও বেশ সহজ।
একটা ছোট কাগজের কী মূল্য ভাবার বাইরে। এর ফ্রি কপি পেতে চাইলে আপনার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর বা ইমেল অ্যাড্রেস শেয়ার করুন, নীচের গুগুল ফর্মে।
🔗মেনস্ট্রুয়াল ডায়েরি পাবার ফর্ম লিঙ্ক
আপনি সিম্পল এই ডায়েরি রাখতে শুরু করলে, আমাদের পরিশ্রম সার্থক বলে মনে করবো।
This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice.
Search tool: Period Menstrual Bleeding Intermenstrual Bleeding Abnormal bleeding Hemoglobin Menstrual Diary




