ঐতিহাসিক ভুল | তন মন
রেনে ডেকার্টের সর্দি থেকে Whitehall II রিসার্চের আধুনিকতম হাল হকিকৎ নিয়ে প্রচণ্ড অবাক করা মেডিক্যাল সায়েন্সের এই অন্দরমহলের গল্প।
350 বছর আগের এক রাজকন্যার অঙ্ক টিচারের ঐতিহাসিক ভুলের মাশুলে আজও মেডিক্যাল সাইন্স ক্ষতবিক্ষত। তার পেনাল্টি আজও দিয়ে যাচ্ছি আপনি আমি, সবাই। প্রতিদিন।
👉🏽 সেই রেনে ডেকার্টের সর্দি থেকে Whitehall II রিসার্চের আধুনিকতম হাল হকিকৎ নিয়ে প্রচণ্ড অবাক করা মেডিক্যাল সায়েন্সের এই অন্দরমহলের গল্প। আমার প্রায় পঁচিশ বছরের ডাক্তারি জীবনের অভিজ্ঞতায় বার বারই মনে হয়েছে এই খবর জানলে, আপনার ডাক্তারের কাছে যাবার অকারণ প্রয়োজনই কমে যাবে। আজ সুস্বাস্থ্যের এই অ আ ক খ।
👉🏽 প্রচুর শারীরিক অসুস্থতার জন্ম হয় মন ভালো না থাকার জন্য। আর শরীরের রক্ষণাবেক্ষণ যথেষ্ট না হলে মন হয়ে যায় পঙ্গু।অর্থাৎ উল্টো দিক থেকে দেখতে গেলে মনের চিকিৎসা তখনই সম্ভব যখন শরীর ভালোভাবে মনকে সাপোর্ট করতে পারছে। আর শারীরিক চিকিৎসা তখনই সফল হবে যখন মানুষের মনটা ভালো থাকছে। তাই মন খারাপ হলে শরীরটাকে ভালো করে সচল করতে হবে আগে- তবেই ভালো হবে মন খারাপ। আর শরীর ভালো রাখতে গেলে মনের দিকেও দেখভাল দরকার।
⚫ শরীর - মন সম্পর্ক
মন-শরীরের সম্পর্কে অবনতি হলে যে ধরনের অসুখ দেখা যায় তাকে বলা হয় Phychosomatic অসুখ। Phycho মানে মন। somatic মানে শরীর।
👉🏽 যদি মন যদি ভালো না থাকে, তাহলে ছোটখাটো শারীরিক অসুস্থতা, সর্দি লাগা থেকে ব্লাড প্রেসারের সমস্যা, এমনকি ক্যান্সারও হতে পারে। আর উল্টোদিকে শারীরিক সক্ষমতা ঠিক না থাকলে মন খারাপ হয়ে যায়, পরীক্ষার পড়া মনে থাকে না। মনসংযোগ করা, এমনকি জীবনের সঠিক ব্যাপার গুলোতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াও কঠিন হয়ে যায়।
👉🏽 তাই কোনো অসুখের চিকিৎসা সঠিকভাবে করতে গেলে আপনাকে জানতে হবে মন কিভাবে শরীরকে প্রভাবিত করে। তবে তার আগে খানিকটা ইতিহাস না জানলে জানা যাবে না কেন এত বড় মন-শরীরের সম্পর্ক, এতদিন মানুষ হেলায় অবজ্ঞা করে এসেছে।
⚫ রেনে ডেকার্ট
তাই প্রথমে খানিকটা ইতিহাস। রেনে ডেকার্ট ( 1596-1650 ) সপ্তদশ শতাব্দীর বিখ্যাত ফরাসি দার্শনিক, বৈজ্ঞানিক এবং অংক বিশারদ। আজ থেকে কয়েকশ বছর আগে যখন বেশ কিছু দার্শনিক এবং বিজ্ঞানী ভগবানের উপরে মানুষের ভালো-মন্দ সবকিছু চাপিয়ে দিচ্ছিলেন, সেই সময় ডেকার্ট প্রমাণ করে দেখিয়েছিলেন যে বিজ্ঞানের সবকিছুই চলতে থাকে যুক্তির উপরে, অকাট্য প্রমাণের উপরে। যাকে বলে লজিক। ডেকার্ট কে বলা হয় Father of Modern Philosophy
উনি প্রথম বলেছিলেন আই থিঙ্ক, দেয়ার ফর আই অ্যাম অর্থাৎ আমি চিন্তা করি বলেই আমার অস্তিত্ব আছে। Cogito, Ergo Sum. এটা ঠিক… এই ধারণা মানুষকে পৃথিবীর অন্য প্রাণীদের থেকে আলাদা করেছে এবং বিখ্যাত হয়ে উঠতে ডেকার্টের বেশি সময় লাগেনি। একের পর এক বিশ্ববিখ্যাত বই তাঁকে খ্যাতি দিয়েছে আরও।
👉🏽 রুলস ফর দি ডাইরেকশন অফ দি মাইন্ড বই লিখে ডেকার্ট যখন খ্যাতির শীর্ষে, স্টকহোমের রাজা তাঁকে আমন্ত্রণ করে নিয়ে গেলেন তার মেয়ে কুইন ক্রিস্টিনাকে প্রাইভেটে টিউশনি দেওয়ার জন্য।
👉🏽 ফ্রান্সে বিলাসবহুল প্রাসাদে থাকা যার অভ্যাস, স্টকহোমের রয়েল প্যালেসে ঠান্ডা মেঝে কি আর সহ্য হয় ? ডেকার্টের লেগে গেল সর্দি এবং সেখানেই তিনি 1650 সালে মাত্র 53 বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
👉🏽 কিন্তু মৃত্যুর আগে তিনি এক বড়সড়ো ভুল পৃথিবীকে উপহার দিয়ে যান তার মাশুল গুনতে হচ্ছে আজও আমাদের। কারণ উনি বলেছিলেন আমাদের শরীর আর মন, এই দুই আলাদা অস্তিত্ব। শরীরকে ধরা যায়, ছোঁয়া যায়, কাটা যায়। মনকে ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না, কাটাও যায় না। তাই উনি এই সিদ্ধান্তে এসেছিলেন যে শরীর ও মন দুটো সম্পূর্ণ আলাদা। দার্শনিকদের কতটা এর সাইড এফেক্ট ভুগতে হয়েছে আমি জানি না, তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের তো হয়েইছে।
⚫ আধুনিক গবেষণা
👉🏽 বহুদিন ধরেই ডাক্তাররা মানুষকে ভুল চিকিৎসা করে এসেছেন এই ভেবে যে শরীর আর মন আলাদা। শেষে হোঁচট খেতে খেতে আরো কয়েকশো বছর পরে পর্তুগিজ নিউরোলজিস্ট পৃথিবী বিখ্যাত অ্যান্টোনিও দামাসিও বহু বাধা বিঘ্ন পেরিয়ে প্রমাণ করলেন মন আর শরীর দুটো অবিচ্ছেদ্য, দুটোকে আলাদা করা সম্ভব নয়।
👉🏽 কিন্তু সপ্তদশ শতাব্দীতে ডেকার্ট এত বেশি বিখ্যাত, যে তার কথার বিরুদ্ধে কথা বলতে কেউ সাহস করেনি।আর করলেও তা মানুষের কানে পৌঁছায়নি, কারণ সে সময় পৃথিবী ডেকার্ট-নেশায় মাতোয়ারা। আস্তে আস্তে আত্মপ্রকাশ করতে শুরু করল নতুন যুগের রিসার্চ, যেখানে যুগান্তকারী সব আবিষ্কার আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল শরীর ভালো রাখতে গেলে মনের দিকেও নজর দেওয়া দরকার।
👉🏽 এবং উল্টোটাও সত্যি। ডাঃ Chandola এর রিসার্চ ( ‣ ) প্রমাণ করল যাদের অফিসে এবং কর্মজগতে বেশি স্ট্রেস, কাজের চাপ বেশি, তাদের দ্বিগুণ সম্ভাবনা মেটাবলিক সিনড্রোম হওয়ার। এই মেটাবলিক সিনড্রোম থেকেই জন্ম নেয় হার্টের অসুখ এবং ডায়াবেটিস।
ইংল্যান্ডের দশ হাজারেরও বেশি মানুষের উপর হওয়া এই গবেষণায় দেখা গেল ক্রনিক স্ট্রেস কমিয়ে দিচ্ছে মানুষের আয়ু। এই রিসার্চ Whitehall II study নামে পরিচিত।
👉🏽 নড়েচড়ে বসলেন বিজ্ঞানীরা । সেই 2006 সালে University College London এর Lena Brydon গবেষণায় বললেন মেন্টাল স্ট্রেস এর কারণে নিম্নবিত্ত মানুষেরও বেড়ে যাচ্ছে হার্ট অ্যাটাক। এমনটা নয় যে ওনারা প্রচুর বিরিয়ানি পিজ্জা খাচ্ছে। স্রেফ রোজগারের চিন্তায় আর দিনের পর দিন চলতে থাকা স্ট্রেসে তাদের রক্তে বেড়ে যাচ্ছে platelet-leukocyte aggregate, যেটা একদিন হার্টের মধ্যেকার থাকা রক্তবাহ গুলোকে ব্লক করে তৈরি করে হার্ট অ্যাটাক।
👉🏽 এই 2006 সালেই যুগান্তকারী এক আবিষ্কার প্রকাশিত হলো American Psychosomatic Society এর মার্চ মাসের মিটিং এ।
👉🏽 University of Utah -র ডক্টর স্মিথ অংক কষে দেখিয়ে দিলেন যে, যে সমস্ত স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা হয়না, সারাদিন মনোমালিন্য চলতে থাকে, তাদের শরীরের শিরা উপশিরায় অসুখের ছাপ আরো বেশি করে হয়। ( ‣ )
👉🏽 200 AD থেকে Galen আর মধ্যযুগীয় ডাক্তার Moses Maimonides (1138–1204) বহু বছর ধরে আমাদের বলে আসছিলেন যে মন থেকে শরীর খারাপ হতে পারে। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান তাদের কথা ফুতকারে উড়িয়ে দিয়েছে। তার একটা বড়সড় দায়িত্ব বর্তায় ডেকার্টের ভুল সিদ্ধান্তের উপর।
⚫ কিভাবে মন শরীরকে নিয়ন্ত্রন করে
👉🏽 স্ট্রেস থেকে শুধু ডায়াবেটিস, হরমোনের সমস্যা, ক্যানসারই হয় না, একবার কোনো অসুখ হয়ে গেলে সেই অসুখ ছড়িয়ে পড়ে আরো বেশি।
👉🏽 এ নিয়ে আমাদের স্ট্রেস ক্যান্সার লিংক আর্টিকল রয়েছে, যেখানে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি কিভাবে টেনশন শরীরের ক্ষতি করে। লিংক রইলো নিচে।
👉🏽 আমরা যখন কোন খারাপ জিনিস দেখি, ভাবি বা খারাপ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ি, তখন মাথার মধ্যে বিভিন্ন হরমোনের খেলা চলতে থাকে। চারটে হরমোন Endorphins ,Serotonin, Dopamine আর Oxytocin মানুষের হ্যাপিনেসের সঙ্গে একসাথে জড়িত।
👉🏽 মাথার মধ্যে এই ধরনের হরমোনগুলো ওঠানামা করতে থাকলে তার প্রভাব পড়ে পিটুইটারি এবং হাইপোথ্যালামাস বলে মস্তিষ্কের দুটো অঞ্চলে এবং এখান থেকে হরমোনের বার্তা চলে যায় সরাসরি কিডনি, হার্ট, রক্তবাহ এবং শরীরের প্রায় সমস্ত অর্গানে। যেখানে এমার্জেন্সি হরমোন অ্যাড্রিনালিন এবং এপিনেফ্রিন বা স্ট্রেস হরমোনগুলো ব্যতিব্যস্ত করে চলে আমাদের মেটাবলিজম। ওজন বাড়তে থাকে, কোলেস্টেরলের ভারসাম্য হয়ে যায় বিঘ্নিত, বাড়ে ব্লাড প্রেসার, ডায়াবেটিস, হার্টের অসুখ, ক্যান্সারও। এইতো গেল কিভাবে আমাদের মন শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করে।
⚫ আর উল্টোটা? কিভাবে আমাদের শরীর দ্বারা মন নিয়ন্ত্রিত হয়?
👉🏽 আমাদের অনেকেরই কিছু কিছু জিনিস মনে থাকে না, পরীক্ষার আগে পড়া ভুলে যাই, কারণে অকারণে মন খারাপ লাগে আর বয়স হলে মাথার স্মৃতিশক্তি আরো কমে যায়, যাকে বলা হয় ডেমেনশিয়া।
এদিকে যাদের কোলেস্টেরলের প্রবলেম তাদের হয়ে যায় হার্টের সমস্যা। আবার যাদের স্মৃতিভ্রম বা ডেমেনশিয়া হয় তাদেরও অনেকের হার্টের সমস্যা।
👉🏽 এইসব তথ্য থেকে খুঁজতে খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা যা আবিষ্কার করলেন তাতে আমাদের চোখ কপালে উঠে যাওয়ার জোগাড়।
👉🏽 দেখা গেল আমরা যদি নিয়মিত শরীরচর্চা করি তাহলে আমাদের মস্তিষ্ক পায় আরো ভালো থাকার রসদ। মস্তিষ্কের দুটো বিশেষ পার্ট- প্রি ফ্রন্টাল কটেক্স এবং হিপো ক্যাম্পাস। এই পার্টগুলো বয়স বাড়লে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এদিকে নিয়মিত এক্সারসাইজ করলে নার্ভের এই অঞ্চলগুলোতে বাড়তে থাকে নার্ভ সেলের সংখ্যা। ভালো হয়ে যায় মুড, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা যায় বেড়ে, স্মৃতিশক্তি হয়ে উঠতে থাকে আরও প্রখর।
⚫ আশা হারায় না আশিতেও
👉🏽 আমি বিভিন্ন সমীক্ষাতে এ কথা বারবার বলেছি। এমনকি ৮০ বছর বয়সী ৮০ জন মহিলার উপরে গবেষণা করে কিভাবে তাদের স্মৃতিশক্তি এবং জীবনীশক্তি বেড়ে গেছে তার প্রমাণ এই কিছু বছর আগেই আমরা পেয়েছি হাতে গরম ( ‣ )।
👉🏽 তাই নতুন যুগের সুস্বাস্থের এই ভাবনা, আধুনিক এই রিসার্চগুলো থেকেই শিখতে হবে আমাদের। ভবিষ্যৎকে ভালো রাখার কৌশল শেখার এই টেকনিক আমাদের স্কুল কলেজ তো বটেই, এমনকি মেডিকেল কলেজগুলোতেও ডাক্তারদের পড়ানো হয়নি। তাই সময় এসেছে নিজেকে আধুনিক করে তোলার। কেউ শেখাবে না। আপনাকেই শিখতে হবে।
👉🏽 শরীরচর্চা, হাঁটা এসমস্ত থেকে কিভাবে শরীর ভালো হয় আর সপ্তাহে কতক্ষণই বা ব্যায়াম করা দরকার , এ সমস্ত নিয়েই আমাদের সমীক্ষার লিংক নিচে রইলো সেখানে পাবেন কিছু মুক্তির উপায়।
👉🏽 আর নিজের মনকে কিভাবে ভালো রাখতে হয় সে ব্যাপারে বিশদে আমরা কথা বলেছি ‘একা’ থাকা নিয়ে ভিডিওতে। সাথে রয়েছে বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনী সুফুর হ্যাপিনেস আর মেডিটেশন নিয়ে আমাদের সঙ্গে এক লম্বা সাক্ষাৎকার।
👉🏽 আর হ্যাঁ, প্রতি রাতে ছোট্ট ডায়েরিতে লেখা মাত্র তিনটি শব্দ কিভাবে আমাদের মনকে উজ্জীবিত করে তোলে, এইসবের লিংক-ও রইলো নিচে। এক এক করে চাইলে দেখে নিতে পারেন।
Links of resources that I have mentioned here ( click on the topics )👇🏾
This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice.
এখানে রইলো এই টপিকের বাংলা ভার্সন
For the English Version of this topic click here
References:
[1] L. Brydon, K. Magid, and A. Steptoe, “Platelets, coronary heart disease, and stress,” Brain Behav Immun, vol. 20, no. 2, pp. 113–119, Mar. 2006, doi: 10.1016/j.bbi.2005.08.002.
[2] T. Chandola, E. Brunner, and M. Marmot, “Chronic stress at work and the metabolic syndrome: prospective study,” BMJ, vol. 332, no. 7540, pp. 521–525, Mar. 2006, doi: 10.1136/bmj.38693.435301.80.
[3] V. Brower, “Mind–body research moves towards the mainstream,” EMBO Rep, vol. 7, no. 4, pp. 358–361, Apr. 2006, doi: 10.1038/sj.embor.7400671.
[4] E. H. Ackerknecht, “The history of psychosomatic medicine,” Psychological Medicine, vol. 12, no. 1, pp. 17–24, Feb. 1982, doi: 10.1017/S0033291700043245.
[5] N. Saif et al., “Sex-Driven Differences in the Effectiveness of Individualized Clinical Management of Alzheimer’s Disease Risk,” J Prev Alzheimers Dis, vol. 9, no. 4, pp. 731–742, Oct. 2022, doi: 10.14283/jpad.2022.44.
[6] R. S. Isaacson et al., “Individualized clinical management of patients at risk for Alzheimer’s dementia,” Alzheimers Dement, vol. 15, no. 12, pp. 1588–1602, Dec. 2019, doi: 10.1016/j.jalz.2019.08.198.
[7] C. T. Smith, Y. Sierra, S. H. Oppler, and C. A. Boettiger, “Ovarian Cycle Effects on Immediate Reward Selection Bias in Humans: A Role for Estradiol,” J. Neurosci., vol. 34, no. 16, pp. 5468–5476, Apr. 2014, doi: 10.1523/JNEUROSCI.0014-14.2014.
[8] L. F. ten Brinke et al., “Aerobic exercise increases hippocampal volume in older women with probable mild cognitive impairment: a 6-month randomised controlled trial,” Br J Sports Med, vol. 49, no. 4, pp. 248–254, Feb. 2015, doi: 10.1136/bjsports-2013-093184.








