প্রোবায়োটিকস - মহাজীবনের খোঁজে
মেচনিকোভ আর গ্রীগরোভ দুজনেই ভুলে গেলেন তাদের বুলগেরিয়ান আবিষ্কারের কথা। এরপরেই যত দিন গেছে তত আমরা ব্যাকটেরিয়া-ভাইরাসকে নিজেদের শত্রু বলে ভাবতে শিখেছি।
এখানে রইলো এই টপিকের বাংলা ভার্সন
For the English Version of this topic click here ( link coming )
🪄 বেচেঁ থাকার জিয়নকাঠি
সুস্থ, দীর্ঘায়ু, নীরোগ, মহাজীবনের একটি অন্যতম চাবিকাঠি মানুষ খুঁজে পেয়েছিল হাজার হাজার বছর আগে। কিন্তু সে ছিল এতটাই ছোট, যে তাকে চেনার মত চোখ ছিল না আমাদের কারও। শুধু তাই নয়! আজ থেকে 130 বছর আগে আবারও মহাজীবনের এই চাবিকাঠির খোঁজ পেয়েও আশ্চর্যজনকভাবে তা আমাদের হাত ফসকে বেরিয়ে যায়।
মাত্র কয়েক বছর আগে পুরনো ইতিহাসের ধুলোবালি ঝেড়ে, পুরনো নথি থেকে খুঁজে বার করা হলো মহাজীবনের সেই চাবিকাঠি, যাকে চোখে দেখা যায় না।
🦠 জীবনের শুরুতে
💎 অমূল্য রতনের খোঁজ
এই গল্পের শিরোনাম বলতে গেলে একটা কথাই বারবার মনে আসছে তা হল:
''যেখানে দেখিবে ছাই উড়াইয়া দেখ তাই, পাইলেও পাইতে পারো অমূল্য রতন।
ছোট্ট ছোট্ট জীবাণু, যা খালি চোখে দেখা যায় না, তাদের অনেকগুলোই থাকে আমাদের শরীরে। কিন্তু নিজের এই কাছের বন্ধুকে চিনতে আমাদের সকলেরই একটু ভুল হয়ে গেছে। কিন্তু এবার ভুল না করে, পড়াশোনা করে জানলাম, কিভাবে আমরা এগুলোকে ব্যবহার করতে পারি। আমাদের সুস্থ, রোগমুক্ত জীবনের জন্য, এগুলো প্রায় বিনামূল্যে। কিন্তু তার আগে যে রোমহর্ষক গল্প না বললে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না, সেই অত্যাশ্চর্য গল্প ছোট্ট করে আপনাদের সাথে ভাগ করে নিই।
নোবেল পুরস্কার জয়ী রাশিয়ান বৈজ্ঞানিক ইলিয়া মেচনিকোভ এর জীবন দুঃখে ভর্তি। প্রাণাধিক প্রিয় প্রথম স্ত্রী লুডমিলা ফিওদোরোভিচ যক্ষ্মা (টিবি) তে ভুগে মারা গেলেন, সালটা ১৮৭৩ । চোখে অন্ধকার দেখলেন মেচনিকোভ, মনে হলো জীবনে বেঁচে থাকাই বৃথা। একগাদা ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন তিনি। কিন্তু চেষ্টাই সার। সেই দিন মেচনিকোভ মারা গেলে আমরা হয়তো এই আবিষ্কারের সুফল খুঁজেই পেতাম না।
আস্তে আস্তে নিজের জীবনে ফিরে এসে শেষ পর্যন্ত বিয়ে করলেন তার দ্বিতীয় বউকে তার নাম,ওলগা বেলকপিটভা। বিধি বাম এখানেও, কয়েক দিনের মধ্যেই ওলগা কঠিন টাইফয়েডে ভুগে প্রায় মৃত্যু মুখে, অবসাদে আবারো আত্মহত্যা করতে গেলেন মেচনিকোভ। কিন্তু বেঁচে গেলেন এবারেও। দু দুবার মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছে মেচনিকোভ এর জেদ চেপে গেল যে কিভাবে মানুষকে আরো সুস্থ জীবন দেওয়া যায়, সেই ব্যাপারে তিনি গবেষণা করবেন। যেমন ভাবা তেমনি কাজ, পৃথিবীর ৩৬ টা দেশে ইতিহাস খুঁজে, লোক লাগিয়ে, হাজার হাজার বইপত্র পড়ে, খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করলেন মহাজীবনের চাবিকাঠি কি? সেটা বুঝতে, শেষে গিয়ে উপস্থিত হলেন বুলগেরিয়াতে, খুঁজে দেখলেন সেখানে এক বিশেষ অঞ্চলের পাহাড়ি কৃষকেরা হেসে-খেলে বেঁচে থাকে একশ বছরের বেশি সময় প্রায়শই।
🫂 বন্ধু ব্যাক্টেরিয়ার আবিষ্কার
এখান থেকে তিনি আবিষ্কার করলেন এক অত্যাশ্চর্য তথ্য, যেটা তিনি পরবর্তীকালে তার বই “The prolongation of life” এ লিখে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি দেখলেন বুলগেরিয়ান পাহাড়ি কৃষকেরা বহুদূরে গরু চরাতে যায়, আর রাতে বাড়ি ফেরে সেই গরুর দুধ নিয়ে। তখনকার দিনে তো প্লাস্টিকের মগ বালতি এসব কিছু ছিল না। তারা দুধ বয়ে নিয়ে আসতো বড় বড় চামড়ার ব্যাগে । আমাদের দেশের ভিস্তিওয়ালারা যে সমস্ত ব্যাগ এ আগে রাস্তায় জল দিতেন সেই রকমই আর কি।অনেকটা দূরের পথ হেঁটে হেঁটে পেরোতে গিয়ে রাত্রে যখন তারা বাড়ি পৌঁছতেন, তখন সেই চামড়ার ব্যাগের মধ্যে দুধ যেত নষ্ট হয়ে, টোকে। রাতে বাড়ির সবাই মিলে সেই টকে যাওয়া দুধ-ই তারা খেয়ে নিতেন, আর রাতের বেলা সেই চামড়ার ব্যাগ কোনমতে পরিষ্কার করে পরের দিন আবার সেই ব্যাগেই দুধ নিয়ে আসতেন। যে দুধ আবারো যেত নষ্ট হয়ে। মেচনিকোভ সেদিন সন্দেহ করেছিলেন এই চামড়ার ব্যাগে নষ্ট হওয়া, টক দুধের মধ্যে থাকতে পারে মহাজীবনের চাবিকাঠি।
শেষে 1905 খ্রিস্টাব্দে স্টেমেন গ্রীগরোভ বলে এক রাশিয়ান বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার করলেন সেই নষ্ট হওয়া, টক দুধের মধ্যে লুকিয়ে আছে মানুষের এক বন্ধু ব্যাকটেরিয়া।
তার নাম ল্যাকটোব্যাসিলাস বুলগারিকাস।
🤷🏻♂️ ব্যাকটেরিয়া বন্ধু না শত্রু
কথিত আছে যখন মেচনিকোভ এবং গ্রীগরোভ তাদের এই বন্ধু ব্যাকটেরিয়ার কথা লন্ডনের রয়াল সোসাইটিতে গিয়ে বলতে যাবেন ঠিক সেই ১৯০৫ সালে নোবেল পুরস্কার পেলেন রবার্ট কখ। রবার্ট কখ এর নোবেল পুরস্কার যে সে নোবেল পুরস্কার নয়। তিনি আবিষ্কার করেছিলেন টিবি রোগের জীবাণুর কথা। তখন টিবি রোগ এক বিশাল বড় সমস্যা, প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ লোক মারা যাচ্ছে এই টিবি রোগে ভুগে। টিবি রোগের কারণ যে জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়া তাকে রবার্ট কখ আবিষ্কার করে ফেলেছিলেন 1882 তেই।
একটা সন্দেহ ছিলই যে এই ছোট ছোট জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়া গুলো মানুষকে মেরে ফেলতে পারে।কিন্তু 1905 এ রবার্ট কখ এর নোবেল প্রাইজে সে সন্দেহ পর্যবসিত হল প্রমাণে। সারা পৃথিবীতে তোলপাড়। মানুষ মারা যাওয়ার একটা বড়সড়ো কারণ টিবি রোগের জীবাণুকে এবার হাতেনাতে পাকড়াও করা গেল। মানুষ ঘৃণা করতে শুরু করল ব্যাকটেরিয়া গুলোকে।
💉 টিবির ওষুধ
স্টেমেন গ্রীগরোভ,মেচনিকোভ বুলগেরিয়ার বন্ধু ব্যাকটেরিয়া ছেড়ে মেতে উঠলেন কিভাবে যক্ষ্মা (টিবি) রোগের ওষুধ বার করা যায় সেই নিয়ে। মানুষের চোখে ব্যাকটেরিয়া হয়ে গেল ভিলেন। মেচনিকোভ এর প্রথম স্ত্রী ও মারা গিয়েছিলেন এই টিবিতে, আর দ্বিতীয় স্ত্রী প্রায় মৃত্যুমুখে চলে যেতে বসেছিলেন টাইফয়েডে। সেটাও এই ব্যাকটেরিয়া জাতীয় জীবাণুরই সৃষ্ট এক ধরনের মারন অসুখ। মেচনিকোভ আর গ্রীগরোভ দুজনেই ভুলে গেলেন তাদের বুলগেরিয়ান আবিষ্কারের কথা। এরপরেই যত দিন গেছে তত আমরা ব্যাকটেরিয়া-ভাইরাসকে নিজেদের শত্রু বলে ভাবতে শিখেছি।
🔬 অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন আবিষ্কার
এরপরে ১৯১৯ সালে হলো ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারী। আর তার পরে বিশ্বযুদ্ধের পর পর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের কান্ডারী অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন আবিষ্কার হলো। বাচ্চাদের স্কুল থেকে বড়দের অফিস, কারখানা, সব জায়গায় শেখানো হলো ব্যাকটেরিয়া শত্রু। আমাদের তারা মেরে ফেলছে।রাস্তায় থুতু ফেলা যাবে না, হাত না ধুয়ে কিছুতে হাত দেওয়া যাবে না, ইত্যাদি আরো কত কিছু। আমরা সবাই ভুলে গেলাম মেচনিকোভ এর বুলগেরিয়ান আবিষ্কারের কথা, বুলগেরিয়ান পাহাড়ে কৃষকদের চামড়ার থলিতে ভেসে থাকা Lactobacillus Helveticas spp. bulgaricus মানুষের বন্ধু এই জীবাণুর কথা।
🗣️ জীবাণুর ডাকনাম
আমরা ভারতীয়রা ভুলে গেলাম বৈদিক যুগ থেকে আমাদের পূর্বপুরুষরা আমাদের এই জীবাণুযুক্ত পানীয় খাইয়ে আসছে শতাব্দীর পর শতাব্দী। যার নাম লস্যি। আফ্রিকাতে এই জীবাণু খাবারের নাম ফুফু, কোরিয়াতে কিমচি, তুরস্কে যার নাম আইরান, জাপানিরা এই জীবাণু খায় সয়া সস, কম্বুচা ড্রিংক এবং মিসো সুপের সাথে। জার্মানিতে যা পাওয়া যায় সাওয়ারক্রাট নামে। সুইজারল্যান্ড এর লোকেরা এই ব্যাকটেরিয়ার উপাসনা করে নষ্ট হওয়া, টক দুধ বহু মূল্য চিজে। ইতালিতে এই জীবকে খুঁজে পেতে হয় সালামি আর আচার করে রাখা অলিভে।
লস্যি বা ধোসা ইডলি- যাই আমরা খাই না কেন আসলে আমাদের পূর্বপুরুষের হাত ধরে, আমরা না জেনেই করছি এই মহাজীবনের চাবিকাঠি ছোট্ট ছোট্ট বন্ধু জীবাণুর উপাসনা। এরা বসতি করে আমাদের পেটে গিয়েই, ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া সাথে এরা ধুন্ধুমার লড়াই করে। শরীরে কাজ করে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে।
💼 ব্যাকটেরিয়ার অন্য কাজ
কিছু বন্ধু ব্যাকটেরিয়া আবার কাজ করে গুপ্তচর হিসেবে। আমাদের শরীরে শত্রু ব্যাকটেরিয়া ঢুকে আমাদের ক্ষতি করতে চাইলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আগেভাগে খবর দিয়ে সতর্ক করে রাখে, এই বন্ধু ব্যাকটেরিয়া। যাদের শরীরে এই বন্ধু ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি কম থাকে তারা সারা জীবন নানা রকম এলার্জিতে ভোগে, তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যায় কমে, মাঝে মাঝে এই ভুগতে হয় ডায়রিয়া বা সর্দির ধাতে।
এই বন্ধু ব্যাকটেরিয়া গুলোর উপরে রিসার্চ করে জানা যাচ্ছে, এরা আমাদের শরীরে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের প্রভাব কমাচ্ছে শত্রু ব্যাকটেরিয়ার বাড়বাড়ন্ত হওয়ায় বাধা দিচ্ছে, ক্যালসিয়ামের লেভেল বাড়িয়ে আমাদের শরীরের হাড়কে রক্ষা করছে এমনকি ডায়াবেটিস এবং ক্যান্সার প্রতিরোধেও এদের জুড়ি নেই। এই বন্ধু ব্যাকটেরিয়া গুলোকে একসাথে বলা হয় পেটের মাইক্রোবায়োটা।
✊🏻 ব্যাকটেরিয়ার প্রভাব
শুধুমাত্র শারীরিক অসুস্থতায় নয় পেটের মাইক্রোবায়োটা মানুষের , ব্যবহার ইন্টালিজেন্স, মুড, অটিজম, সাইকোলজি সবকিছুর উপরেই প্রভাব ফেলে। তার কারণ পেটের এই অজস্র বন্ধু ব্যাকটেরিয়া নানা কেমিক্যাল নিঃসরণ করে নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের চিন্তাধারা এমনকি মস্তিষ্কের কার্যকলাপ ও। এতে আপনার অবাক লাগলে আশ্চর্য হব না। তার কারণ মানুষের শরীরের সিংহভাগই এখনো অজানা এবং নতুন নতুন ধ্যান ধারণা মানুষের কাছে প্রথমত অবাক লাগে। প্রথম প্রথম খানিকটা আপত্তিজনক বলে মনে হয়।
🔭 আগামী দিনের লক্ষ্য
পৃথিবীর এই নতুন বন্ধু ব্যাকটেরিয়ার আবিষ্কার যে আমাদের সুস্থ নিরোগ জীবনের চাবিকাঠি এই নবীন বৈজ্ঞানিক ধারণাও প্রতিষ্ঠা পেতে সময় লাগবে বেশ কয়েক দশক। হয়তো বা কয়েক শতকও। কিন্তু ততদিনে চলুন আমরা অন্তত জেনে নিই, যে কিভাবে আপনি এবং আপনার পরবর্তী প্রজন্মকে আপনি শিখিয়ে দিয়ে যাবেন এই নতুন আবিষ্কারের তথ্য এবং ভালো থাকার চাবিকাঠি।
আশা করছি আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই পত্র পত্রিকায় আপনার চোখে আসবে এই ধরনের পরিভাষাগুলো।
🧪 বায়োটিকস
পেটের এই বন্ধু ব্যাকটেরিয়া, তাদের খাদ্যাভ্যাস, তাদের ভালো থাকা খারাপ থাকা, বা তাদের শরীরে কি ধরনের মেটাবলিজম চলছে এই পুরো বিজ্ঞানের নাম বায়োটিকস।
এরমধ্যে খান পাঁচেক পরিভাষা এখানে আলোচনা করব।
Probiotics(প্রোবায়োটিকস)
এগুলি হল উপকারী বা বেনেফিশিয়াল মাইক্রোঅর্গানিজম। যেমন আমাদের সবার চেনা দইয়ে থাকা ল্যাক্টিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়া। এই জাতীয় জীবাণু যা পেটের স্বাস্থ্যের জন্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
WHO সংজ্ঞা অনুসারে probiotics মানে হল জীবিত জীবাণুগুলো যেগুলো মানুষের ওপরে হেলথ বেনিফিট অনেক বেশি। চেষ্টা করুন আপনার খাবার-দাবারে যেন এই ধরনের প্রোবায়োটিক কিছু থাকে। প্রতিটি সংস্কৃতিতেই এই ধরনের প্রোবায়োটিকস খাওয়ার চল রয়েছে। এর নাম গুলো আগে বলেছি। আমাদের এখানে যে প্রোবায়োটিক খুব ভালোভাবে পাওয়া যায় তার নাম টক দই।
এছাড়াও আজকাল সুপার মার্কেটে প্রোবায়োটিক দই বলে এক ধরনের দই পাওয়া যায়। কিছু সময় ক্যাপসুলেও এ ধরনের প্রোবায়োটিক মেলে। শরীরের অনেক সমস্যা নিরাময়ে এরা খুব ভালো কাজ দেয়।
পোস্ট বায়োটিক
প্রোবায়োটিকের বিপাক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শরীরের যে বন্ধু কেমিক্যাল গুলো তৈরি হয় তার নাম পোস্ট বায়োটিক। প্রোবায়োটিক মানে যেমন জীবিত ব্যাকটেরিয়া, আর পোস্ট বায়োটিক মানে বিশেষত কোষের ধ্বংসাবশেষ বা সেই বন্ধু ব্যাকটেরিয়া থেকে পাওয়া কিছু বন্ধু কেমিক্যাল। এরাই আসলে শরীরে ভালো কাজগুলো করে।
এগুলো আলাদা করে খাওয়া যায় না। প্রোবায়োটিক জীবানু খাওয়ার মাধ্যমে এসব আমাদের শরীরে আসে।
প্যারাপ্রোবায়োটিক
বন্ধু জীবাণু মরে যাওয়ার পরে তার যে মৃত কোষ গুলো পড়ে থাকে তার ই নাম প্যারাপ্রোবায়োটিক।মরে গেলেও মানুষকে দেয় অমৃত।
বিভিন্নভাবে এরা মানুষের শরীরে কাজ করে যেমন মানুষের শরীরে অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি, ইমিউনোমডুলেটরি, বা antiproliferative, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি ক্যান্সার কেমিকাল তৈরি করে এগুলো মানুষকে আরো ভালোভাবে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে।
প্রিবায়োটিক
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রিবায়োটিক আসলে প্রোবায়োটিক জীবাণুর খাবার। এই প্রিবায়োটিক গুলো বেশ কিছু খাবারের মধ্যে থাকে এবং এরা পেটে বন্ধু জীবাণুর সংখ্যা বাড়ায়। দোকানে পাওয়া প্রিবায়োটিক সাপ্লিমেন্ট গুলোর মধ্যে প্রোবায়োটিক থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে।
মানে যে খাবারগুলো অনেক সময় দোকানে বিক্রি হয় প্রিবায়োটিক হিসেবে তার মধ্যে বন্ধু জীবাণু থাকতেও পারে বা নাও থাকতে পারে। কিছু বিশেষ ধরনের ফাইবারে মধ্যে এই ধরনের প্রিবায়োটিক থাকে। বিশেষত বৃদ্ধ এবং অসুস্থ মানুষের জন্য এ অত্যন্ত দরকারি। এদের খাবারদাবারের গুণগত মান সুস্থ সবল মানুষের থেকে আলাদা।
এই ফাইবারগুলো যেহেতু মানুষ হজম করতে পারে না।বরং ফাইবারে মহাউৎসব চলে আমাদের পেটের বন্ধু ব্যাকটেরিয়াগুলোর। এর একটা বড়সড়ো ভূমিকা রয়েছে। প্রিবায়োটিক মানুষের কনস্টিপেশন ট্রিটমেন্ট করতে পারে খুব ভালোভাবে।
Symbiotic (সিম্ববায়োটিক)
পঞ্চম এবং শেষ পরিভাষা যেটা আপনাদের শিখিয়ে দেবো সেটা হলো Symbiotic। 1995 সালে গিপসন এবং রবার ফ্রড প্রথমে Symbiotic কনসেপ্টের বিষয় বলেন এটা আসলে প্রিবায়োটিক এবং প্রোবায়োটিক সংমিশ্রণ।
বিজ্ঞানের কচকচিতে না গিয়ে এক্ষেত্রে বলতে পারি যে Symbiotic শুধুমাত্র পেটের স্বাস্থ্যই নয়, এমনকি পেটের বাইরে অনেক অঙ্গ এমনকি, মন-মস্তিষ্ককে ভালো রাখতে এ সাহায্য করে।
👎🏻 ভ্রান্ত ধারণা
প্রো আর প্রি বায়োটিক মানেই যে বিচ্ছিরি খেতে হবে এমন কিন্তু কোন কথাই নেই। বেশ কিছু সুস্বাদু রেসিপিও পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে বাঙালির প্রিয় দই। Sourdough, বাড়িতে তৈরি পাউরুটি। মহামূল্যবান চিজ এবং আরো অনেক কিছু। খাদ্য রসিকের বিচারে এইসব অনেক খাবারই কিন্তু উপাদেয় এবং জনপ্রিয় মেনুর মধ্যে পড়ে।
References:
◉ 📒 Bested AC, Logan AC, Selhub EM. Intestinal microbiota, probiotics and mental health: from Metchnikoff to modern advances: Part I - autointoxication revisited. Gut Pathog. 2013 Mar 18;5(1):5. doi: 10.1186/1757-4749-5-5. PMID: 23506618; PMCID: PMC3607857.
◉ 🖇️https://bacillusbulgaricus.com/yogurt-history/
◉ 📒 Cuevas-González, P.F.; Liceaga, A.M.; Aguilar-Toalá, J.E. Postbiotics and Paraprobiotics: From Concepts to Applications. Food Res. Int. 2020, 136, 109502.
◉ 📒 Million, M.; Diallo, A.; Raoult, D. Gut microbiota and malnutrition. Microb. Pathog. 2017, 106, 127–138.
◉ 📒 Boulangé, C.; Neves, A.; Chilloux, J.; Nicholson, J.; Dumas, M. Impact of the gut microbiota on inflammation, obesity, and metabolic disease. Genome Med. 2016, 8, 42.
◉ 📒 Blandino, G.; Inturri, R.; Lazzara, F.; Di Rosa, M.; Malaguarnera, L. Impact of gut microbiota on diabetes mellitus. Diabetes Metab. 2016, 42, 303–315.
◉ 📒 Schneiderhan, J.; Master-Hunter, T.; Locke, A. Targeting gut flora to treat and prevent disease. J. Fam. Pract. 2016, 65, 34–38.
This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice.
Search Keywords: Probiotics, Bacillus Bulgaricus, Prebiotics, Prebiotic, Probiotic, Lactobacillus, Russian, Potty, Bacteria













