কোয়ালিটি অফ লাইফ
ক্যান্সার হলেও শুধু বাঁচাটাই যথেষ্ট নয়। সাথে দরকার নিজস্ব কোয়ালিটি অফ লাইফ । চাই এনার্জি
এখানে রইলো এই টপিকের বাংলা ভার্সন
For the English Version of this topic click here
🫵🏽 অসম্ভব? না না! সম্ভব
ক্যান্সার পেশেন্টরা তাদের এনার্জি কিভাবে ফিরে পাবেন তার চারটে সহজ সমাধান,
ঘুম, খাওয়া, এক্সারসাইজ, আর শেখা
Our fatigue is often caused not by work, but by worry, frustration and resentment.
Dale Carnegie
যত দিন যাচ্ছে ক্যান্সারের ট্রিটমেন্ট আরও উন্নত হচ্ছে। শুধু বাঁচাটাই যথেষ্ট নয়। সাথে এটাও আরো গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যাতে ক্যান্সার পেশেন্ট আরও বেশি দিন তার নিজস্ব কোয়ালিটি অফ লাইফ নিয়ে ভালোভাবে জীবন যাপন করতে পারেন ।
অথচ ডাক্তার হিসেবে প্রায়শই দেখি ক্যান্সার পেশেন্ট এমন ভাবে দিন কাটাচ্ছেন যেন তাদের কোন এনার্জি নেই। মোটিভেশনের অভাব।এর থেকে একের পর এক শুরু হয় নানা রকম প্রবলেম।
এনার্জি লেভেল ভালো না থাকলে জীবনে যেন কিছুই করতে ভালো লাগেনা। কাজকর্মে আসে অনিহা। জীবনে বেঁচে থাকাটাই দায় হয়ে যায়। তাই আজকে বেশ কিছু সমাধান।সাধারণ বুদ্ধিতে মনে হয় ক্যান্সারের কারণেই মনে হয় ওনারা নিস্তেজ হয়ে গুটিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ক্যান্সারের কাছে আত্মসমর্পণ নয়, বিজ্ঞানের হাত ধরে ঘুরে দাঁড়াবার সময় এসেছে।
😴 ঘুম
খারাপ ঘুমের অভ্যাস আমাদের সারাদিন ক্লান্ত করে রাখে। হারিয়ে যায় উদ্দীপনা। কোন কাজেই আমরা মনোযোগ দিতে পারিনা। নেদারল্যান্ড থেকে ইংল্যান্ড অনেক দেশে হওয়া অত্যাধুনিক গবেষণায় জানা যাচ্ছে ঘুম কত উপকারী। কিভাবে ঘুমোব আর কতখানি ঘুমোব? আমরা রাতে যেইভাবে ঘুমিয়ে অভ্যস্ত, কিছু বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে জেনেছেন সেই ঘুমের অভ্যাস সম্পূর্ণ কৃত্রিম।
১৮০০ শতাব্দীর শিল্প বিপ্লবের সময় থেকে সারারাত একনাগাড়ে ঘুমের অভ্যাস আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই যখনই আমাদের কোন স্ট্রেস আসে তখনই আমাদের ঘুম হয়ে যায় ছেঁড়া ছেঁড়া, আমরা ফিরে যাই আদিম মানুষের ঘুমের প্যাটার্নে। তবে ভয় নয়।
👉🏾 অনেকেই আমাদের কাছে অনুযোগ করেন যে ওনাদের ঘুম আসেনা। ঘুম না আসার জন্য অনেক আংশেই দায়ী খারাপ ঘুমের অভ্যাস। এবং ঘুমের ব্যাপারে সচেতনতার অভাব।
👉🏾 ভালো স্বাস্থ্যের জন্য প্রথম ধাপ ভাল ঘুম। ঘুম ভালো না হলে শরীরে স্ট্রেস হরমোনের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই হরমোন বাড়ায় ব্লাড প্রেসার। আনে অ্যানজাইটি। অস্থিরতা। উল্টে এই সমস্যাগুলোর জন্য রাতে আমাদের অনেক সময় ঘুম আসতে দেরি হয়।
👉🏾 ঘুমের সময় শরীর পুনরুদ্ধার করেন নিজের স্বাস্থ্য। লড়াই করে ইনফেকশনের বিরুদ্ধে। শরীরের কোষ গুলো নিজেদের রিপেয়ার করতে থাকে। ঘুমের সময় মস্তিষ্কের মধ্যে নার্ভে নার্ভে কানেকশন আরো মজবুত হয়। এসবের ফলে সকাল বেলায় উঠে আমাদের ফ্রেশ লাগে। ভালো ঘুম হলে আমাদের মনে ফিরে আসে আত্মবিশ্বাস।বাড়ে এনার্জি। এবং আমরা দিনের বেলা নিতে পারি নানা ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত।
প্রতিরাতে কমপক্ষে ঘণ্টা সাতেক ঘুম দরকার রাতের অন্ধকারে। ক’ঘন্টা ঘুমাতে পারছেন তার সাথে আর যেটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা হল ঘুম কেমন হচ্ছে। সূর্য উঠে যাওয়ার পরে সকালবেলার ঘুম শরীরের জন্য উপকারী নয়। ঘুম হওয়া দরকার রাতের অন্ধকারে।
অনেকের ভুল ধারণা রয়েছে যে অ্যালকোহল বোধ হয় রাতে ঘুমোতে সাহায্য করে। অ্যালকোহল মাথার মধ্যে নার্ভ গুলোকে বিভ্রান্ত করে দেয় এবং আমাদের দীর্ঘ মেয়াদী স্বাস্থ্যের অপূরণীয় ক্ষতি করে। বেশিরভাগ ঘুমের ট্যাবলেট কয়েক সপ্তাহ পরে কাজ করা বন্ধ করে দেয়। আর আমরা হয়ে পড়ি এর প্রতি আসক্ত। তাই নিয়মিত ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়া শুরু করা থেকে থাকুন দূরে।
ভালো ঘুমোতে হলে বিছানায় নিয়ে যাবেন না মোবাইল। এর স্ক্রিন থেকে যে আলো আসে তাতে অসুবিধে হয় আমাদের ব্রেনের ঘড়ি মানে Suprachiasmatic nucleus এর।
ঘুমোনোর আগে কফি, চা, অ্যালকোহল, এড়িয়ে যান। আর হ্যাঁ ঘুমের আগে দরকার কিছু প্রয়োজনীয় হ্যাবিট, বা অভ্যাস। প্রথমে লাইট ডিম করে দিন। তার সাথে চলুক হরিপ্রসাদ চৌরাশিয়ার বাঁশি। অত্যন্ত মৃদু ভলিউমে।
কেউ কেউ ঘুমোতে যাওয়ার আগে ল্যাভেন্ডার সোপ দিয়ে স্নান করে নিলে তাদের ভালো ঘুম হয়। এক একজনের ক্ষেত্রে এক এক রকম, এইগুলোকে বলা হয় ঘুমের ট্রিগার। সময় থাকতে এই ধরনের কিছু ট্রিগার অভ্যাস রপ্ত করে নিন। তাহলে যেদিন আপনি একটু বিরক্ত বা স্ট্রেসে থাকবেন সেদিন এই ট্রিগার গুলো শুরু করলে, বিনা ওষুধেই চলে আসবে আপনার ঘুম।
🥗 খাবার
ভালো এনার্জি পেতে গেলে চাই ভালো খাবার। আমরা মুখে কি খাচ্ছি তার ওপরে আপনার সারাদিনের এনার্জি সরাসরি নির্ভর করে। আপনি কি খাবেন আর কি খাবেন না, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সে ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। অথচ আমরা যে কালচারে থাকি সেখানে মিষ্টি আর বিরিয়ানিকে সুস্থতার খাবার বলে মনে করা হয়। এসব এড়িয়ে, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া খুবই মুশকিল।
👉🏾 চিনি আমাদের দীর্ঘ মেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। চিনি খেলে হঠাৎ আমাদের শরীরে এনার্জি বেড়ে যায় ঠিকই কিন্তু তারপরেই আমাদের এনার্জি তলিয়ে যায় অতল জলের তলায়। আমরা হয়ে পড়ি নিস্তেজ। আসবে ডিপ্রেশন। ফল শাকসবজি খান দিনে ৫ পোর্শন। নরমাল আকৃতির ফল এক পোর্শন মানে একটা। ছোট ফলের এক পোর্শন এক মুঠো ফল। আর তরিতরকারির এক পোর্শন মানে রান্না হওয়ার পর এক মুঠো তরকারি।
👉🏾 ভিটামিন এবং নানা ধরনের পুষ্টি ছাড়াও এই ধরনের খাবারে থাকে ফাইবার। মানুষ এই ফাইবার হজম করতে পারে না। কিন্তু এই ফাইবার আমাদের কোলনে বন্ধু ব্যাকটেরিয়া প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার খাবার। পেটের ব্যাকটেরিয়া এবং ইস্ট আমাদের শরীরের নানা রকম অসুখ এবং ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে। চলে যায় কন্সটিপেশন। আপনি ফিরে পান আরও এনার্জি।
👉🏾 প্রোটিন আমাদের শরীরের ইট, কাঠ, পাথর। চেষ্টা করুন বেশিরভাগ প্রোটিন সকাল বেলার দিকেই খেয়ে নিতে। যাতে আপনি রাত্রে যখন ঘুমোতে যাচ্ছেন তখন পেট থাকে হালকা। ডিমের সাদা, মাছ, চিকেন,এইগুলোতে প্রচুর প্রোটিন থাকে, ছানা, দই, ছাতু, ডাল, Quinoa নিরামিষাসিদের প্রোটিন।
👉🏾 ব্রেস্ট এবং কিছু গাইনোকলজিক্যাল ক্যান্সারে সয়াবিন, ফ্লাক্সিড এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। তার কারণ এর মধ্যে ফিমেল হরমোন থাকে প্রচুর। অতিরিক্ত ফিমেল হরমোনে বাড়তে পারে ক্যান্সারের রিস্ক।
👉🏾 দোকান থেকে কেনা খাবার এবং ফাস্টফুডে থাকে কার্বোহাইড্রেট আর স্যাচুরেটেড ফ্যাট। কিছুর মধ্যে থাকে প্রচুর লবণ। এইসব তৈরি করতে পারে ব্রেন ফগ। আমাদের মস্তিষ্ক হয়ে যায় বিভ্রান্ত, আপনি পড়েন ঝিমিয়ে। এই ভাবকে অনেকে কখনো কখনো কেউ কেউ পেট ভর্তি হয়ে গেছে বলে ভুল ভাবে মনে করেন। আসলে এটা Brain Fog!
👉🏾 খাবারদাবারে যথেষ্ট যাতে পুষ্টি আসে সেই ব্যাপারটার দিকেও নজর রাখা দরকার। তাই খাবার খেতে হবে অল্প পোর্শনে। কিন্তু নিয়মিত।
👉🏾 ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ আর ডিনারের সাথে চাই, তিনটে স্নাক্স খুব বেশি খিদেতে আমরা খেয়ে নিই দরকারের থেকে অনেক বেশি। আর ঠিক তারপরেই শরীর পরে ঝিমিয়ে। জীবনের যে কোন জিনিসের মত কখন কি খাবেন সেই ব্যাপারেও দরকার প্ল্যান। ব্রেকফাস্ট সবথেকে ভারী। ডিনার সব থেকে হালকা। বলতেই বলে রাজার মতো ব্রেকফাস্ট, মধ্যবিত্তের মতো লাঞ্চ আর ফকিরের মত ডিনার। খান যথেষ্ট জল।
👉🏾 ভারতের মতো উষ্ণ, আর্দ্র, দেশে অনেকেরই ৩ লিটার জল খাবার দরকার হয় প্রতিদিন। শরীরে জলের অভাব হলে আমরা হয়ে যাই টায়ার্ড, স্ট্রেস লেভেল যায় বেড়ে, শরীরের ঝিমুনি আসে, কোন কাজে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। শরীরের জলের অভাবের সঙ্গে তৃষ্ণাকে গুলিয়ে ফেলবেন না। শরীরে জলের অভাবের অনেকক্ষণ বাদে তৃষ্ণা পায়। তাই তৃষ্ণার জন্য অপেক্ষা না করে প্রতি ঘন্টায় চেষ্টা করুন অল্প অল্প করে জল খেয়ে শরীরকে তাজা রাখতে।
👉🏾 অনেকে আবার চিনির বদলে আর্টিফিশিয়াল সুইটনার ব্যবহার করেন। 2022 সালে কিছু রিসার্চে জানা যাচ্ছে এ আমাদের শরীরের এবং কোলনের বন্ধু ব্যাকটেরিয়ার ক্ষতি করে। এ নিয়ে আরো অনেক রিসার্চ আসা বাকি। তবে আমি আর আমার পরিবার আর্টিফিশিয়াল সুইটনার খাই না, কিছুদিন পর থেকে আপনিও আর চিনির অভাব অনুভব করবেন না।🏋🏽♀️ এক্সারসাইজ
ক্যান্সার পেশেন্ট যদি নিয়মিত এক্সারসাইজ না করেন তাহলে আসু দরকার আপনার অভ্যাসের পরিবর্তন। এক্সারসাইজ আপনার শরীরের এনার্জি বাড়ায়। জীবনে ভালোভাবে অনেকদিন সুখী হয়ে বাঁচতে গেলে নিয়মিত এক্সারসাইজ মৌলিক প্রয়োজন। এটা ছাড়া কোনমতেই আমরা সুস্থ ভাবে বাঁচতে পারব না। এক্সারসাইজ করলে মাসেলে জমে থাকা এনার্জি বা ATP খরচ হয়। আর শরীর লিভার আর পেট খাবার হজমে আরও বেশি উৎসাহিত হয়।
শরীর পায় নতুন প্রাণ। বাড়ে মেটাবলিজম। সেরোটোনিন এবং ডোপামিন বলে শরীরের দুটো হ্যাপি হরমোন এক্সারসাইজের সাথে চুঁইয়ে বেরোতে থাকে ব্রেন থেকে।
নিয়মিত এক্সারসাইজ আপনার মুড ভালো করে জীবনে নিয়ে আসে আনন্দ। মনে হয় বয়স অনেকটাই কমে গেছে। জীবনকে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখতে এক্সারসাইজের জুড়ি নেই। ভালো এক্সারসাইজ মানেই ভালো ঘুম আর ভালো পটি।
প্রত্যেকটি জীবিত মানুষের সপ্তাহে তিন থেকে চার ঘণ্টা মাঝারি থেকে ভারী এক্সারসাইজ করা দরকার। ঘর গৃহস্থলীর কাজ, রান্নায় এক্সারসাইজ হয় না। এক্সারসাইজ শুধু ওজন কমানোর জন্য নয়। এতে ভাল হয় আপনার ব্রেনের কার্যক্ষমতা। ভালো থাকে মেজাজ, হার্ট, লিভার, হজমক্ষমতা। সবেতেই আসে নতুন জীবনের জোয়ার। এ যেন বাই ওয়ান গেট ফাইভ ফ্রি। অথচ দৈনিক এক্সারসাইজ করতে গেলে মোটিভেশন দরকার। একটু ভালো লাগলে তারপর এক্সারসাইজ শুরু করব এরকম ফাঁদ থেকে এড়িয়ে যান।
🧮 অংকের আসল ফর্মুলাটা: এক্সারসাইজ করলে তবেই ভালো থাকবেন। উল্টোটা নয়। ছোট করে শুরু করুন। প্রথম প্রথম দৈনিক 10 মিনিট। অ্যারোবিক এক্সারসাইজ সবচেয়ে ভালো, না করতে পারলে সাঁতার, নাচ, সাইকেলে চড়া, হাইকিং বা উঁচু জায়গা থেকে একটু ঘুরে আসা। এগুলোও চলতে পারে।👉🏾 এক্সারসাইজ শুরু করার আগে জামা, ইনার, জুতো পাল্টে নিন। কানে বাজুক একটা মিউজিক। যাতে আছে ছন্দ। ভালো এক্সারসাইজের প্রথম কথা একজন গুরু। সে অনলাইনেই হোক বা অফলাইন। গুরু আর আপনার ক্লাসের অন্য সদস্যদের দেখে আপনার এক্সারসাইজের সাফল্য বাড়বে।
👉🏾 যদি আর্থারাইটিস বা হার্টের কোন সমস্যায় আপনি এক্সারসাইজ না করতে পারেন তাহলে মনোযোগ দিয়ে এমার্জেন্সি বেসিসে ওই সমস্যাগুলোর চিকিৎসা করিয়ে নিন। কারণ এক্সারসাইজ ছাড়া যে লাইফ আপনি পাবেন সেটা আপনার ভালো লাগবে না। আপনার যদি পা না থাকে, বা প্যারালাইজড হয়ে গিয়ে থাকেন। তাহলেও ফিটনেস এক্সপার্ট এর সাথে পরামর্শ করে শরীরের উপরের ভাগের এক্সারসাইজ করতে ভুলবেন না। শরীর মনের শেষ বিন্দু দিয়ে শুরু করুন এক্সারসাইজ। আজ থেকে।
🧶 শেখা
ক্যান্সার পেশেন্টদের কিছু নতুন কালচার শিখতে হবে এনার্জি পাওয়ার জন্য।
🎼 প্রথমে মিউজিক
জার্মান ইউনিভার্সিটি অফ জিসেনে (University of Giessen of Germany) প্রকাশিত গবেষণায় প্রমাণ, ভালো মিউজিক আমাদের ব্যক্তিত্ব এবং এনার্জিকে প্রভাবিত করে। শান্ত করে আমাদের অ্যানজাইটি। মিউজিকের সুর, ছন্দ আমাদের ব্রেনে আলফা ইলেকট্রিক অ্যাক্টিভিটি তৈরি করতে সাহায্য করে।
Binaural beats আমাদের রিলাক্স হতে সাহায্য করে। ঘুমের কোয়ালিটি বাড়ায়। ব্রেন আর শরীরের মধ্যে নিয়ে আসে আরও এনার্জি। এই ধরনের গান আপনি পেতে পারেন brain.fm সাইটে। এর সাবস্ক্রিপশন যদিও বেশ দামি। Binaural beats পাবেন ইউটিউবেও।👉🏾 দুটো প্লে-লিস্ট করে রাখুন একটা একটু শান্ত লয়ের গান বা মিউজিক। যেটা আপনাকে কাজের সময় একাগ্রতা আনতে বা ঘুমোতে সাহায্য করবে। আর কিছু প্লেলিস্ট তৈরি করুন দ্রুত লয়ের। যেটা আপনাকে রান্না বা ব্যায়ামের সময় দেবে এনার্জি।
👉🏾 একটা ব্লুটুথ স্পিকার নিয়ে রাখুন টয়লেটে। পটি-স্নানের করার সময় ক্যান্সার পেশেন্টদের মনটা থাকে ফাঁকা। আর এই সময় ভিড় করে আসে নানা ধরনের উল্টোপাল্টা চিন্তা। গান চালিয়ে স্নান করতে যান। যাতে প্রতিদিন স্নান সেরে যখন আপনি বেরিয়ে আসবেন তখন কানে বাজে মূর্ছনা।
👩🏽🎨 শিখুন নতুন হবি বা স্কিল,
এতে বাড়বে আপনার আত্মবিশ্বাস। মেজাজ আর মন দুটোই থাকবে ভালো। স্ট্রেস যাবে কমে। জয়েন করতে পারেন নাচ বা গানের ক্লাসে, শিখতে পারেন কোন মিউজিকাল ইন্সট্রুমেন্ট বা গার্ডেনিং। ক্লাস টা ইম্পর্টান্ট। ইউটিউবে @AmlaanBaag চ্যানেলে দেখুন কি সুন্দর ভদ্রমহিলা দিনের পর দিন বাগান করে যান। @NilkantaHalder কাছের এই দুর্গাপুরের। সত্যি শেখার মত। আপনি যদি লিখতে ভালোবাসেন তাহলে চলতে পারে সেটাও। লিখুন যা ইচ্ছে। দরকার হলে ক্রিয়েটিভ রাইটিংয়ের ক্লাস করে আসুন। যে কোন হ্যাবিটই যেন নিয়মিত হয়। তাহলেই একমাত্র পাবেন তার থেকে ভালো ফলাফল।
হঠাৎ হঠাৎ করে করলে ভালো ফলের আশা করবেন না। এইসব শেখার সময় হয়তো অনেক অচেনা মানুষ বন্ধু হবে। সেটাই বা কম কি।😄 হাসতে শিখুন,
১৬ ধরনের হাসি হাসে মানুষ। হাসলে ব্রেন থেকে বের হয় endorphins বলে হ্যাপি হরমোন। হার্টের রক্ত সরবরাহ বাড়ে। শরীরে কমে প্রদাহ। হাসলে মুখের যে ক্যারিকেচারগুলো হয় গবেষণায় প্রমাণ এতেও বাড়ে আমাদের এনার্জি। সাধারণ জীবনের বিভিন্ন ঘটনায় আমরা যেমন হাসি সেটাই সবথেকে ভালো। কিন্তু অতটা হাস্যকর জীবন আপনার যদি না থাকে তাহলেও পরোয়া নেই। আজকালকার দিনে স্ট্যান্ড আপ কমেডি বা হাসির কোন বই পড়ে হাসাটাও, বাড়াতে সাহায্য করবে এনার্জি।
🌳 শিখুন কিভাবে নিজের চারপাশের পরিবেশ রক্ষা করতে হয়,আপনি কাদের সাথে ওঠাবসা করছেন, কাদের সাথে ঘোরাফেরা করছেন তারাও আপনার জীবনকে প্রভাবিত করে। আপনার চারপাশে যদি এমন মানুষ সারাক্ষণ ঘুরে বেড়ায় যারা সব সময় নেগেটিভ কথাবার্তা বলে, তাহলে একদিন আপনার নিজেরই এনার্জি কমে যাবে। তাই চেষ্টা করুন জোর করে হলেও কিছু পজিটিভ মনের মানুষের সাথে মিশতে। সাইকিয়াট্রিতে এই এফেক্টের নাম সোশ্যাল মাল্টিপ্লায়ার এফেক্ট।
শেষ করার আগে দুটো কথা বলি।
যদি আপনি নিজেই পেশেন্ট হয়ে আমাদের এই কথা শুনছেন
তাহলে মনে রাখুন আপনার পরিবারের সদস্যদেরও চেষ্টা করুন আপনাদের সাথে এই নতুন হ্যাবিট গুলো স্টার্ট করতে। এগুলো ওনাদের জন্যও খুব ভালো। আপনার সাফল্যের জন্য রইল আগাম শুভেচ্ছা,
আর আপনি যিনি দেখছেন তিনি যদি পেশেন্টের ফ্যামিলি মেম্বার হন
যার ইচ্ছে আপনার পেশেন্ট এই ধরনের ভালো হ্যাবিট থেকে এনার্জি পাক তাহলে আমাদের টপিকগুলো ছোট কাগজে একের পর এক লিখে রাখুন।
হাতে লেখা এই লিস্টটা নিয়ে রাখুন পেশেন্টের টয়লেটের ভিতরে দরজায়। ফ্রিজের গায়ে বেড সাইডের টেবিলে। আর টিভির রিমোটে।আস্তে আস্তে দেখবেন উনি কেমন এই সমস্ত অভ্যাস শুরু করেছেন। এই সমস্ত হ্যাবিটগুলো করতে গেলে ওনার ওপর মানসিক কোনো জোর প্রয়োগ করবেন না। ওনার সাথে লড়াই করারও চেষ্টা করবেন না। একদিন দুদিন বললে উনি যদি না শোনেন তাহলেও হাল ছেড়ে দেবেন না। প্রতিদিন একবার করে অন্তত বলুন, এই জিনিসগুলো করলে হতো না? আর আপনি যদি পেশেন্টের কাছে না থাকেন তাহলে দূর থেকে দিনের মধ্যে একটা অন্তত ভয়েস মেসেজ রেকর্ড করে হোয়াটসঅ্যাপে পেশেন্ট কে পাঠিয়ে দিন। এই অভ্যাস গুলোর আকুতির সাথে থাকুক মন ভালো করার আপনার নিজস্ব কিছু কথা। কিন্তু হ্যাঁ সেটা দৈনিক করতে হবে। তাহলে একদিন না একদিন পেশেন্ট শুনবেনই।
This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice.
References
Sleep and major health issues
Medic G, Wille M, Hemels ME. Short- and long-term health consequences of sleep disruption. Nat Sci Sleep. 2017 May 19;9:151-161. doi: 10.2147/NSS.S134864. PMID: 28579842; PMCID: PMC5449130.
Music and everyday life
von Georgi, Richard, et al. "Personality, emotion and the use of music in everyday life: Measurement, theory and neurophysiological aspects of a missing link." Tönning, Lübeck, Marburg: Der Andere Verlag (2006).
Laughter and facial expression
Iwase M, Ouchi Y, Okada H, Yokoyama C, Nobezawa S, Yoshikawa E, et al. Neural substrates of human facial expression of pleasant emotion induced by comic films: a PET study. Neuroimage 2002; 17: 758–68.
16 Types of laughter
Ekman P. What we have learned by measuring facial behavior. In: Ekman P, Rosenberg EL, editors. What the face reveals. New York: Oxford University Press; 1997. p. 469–85.
Search tool: energy fatigue sleep food exercise metabolism cancer patient learn music Binaural beats hobby learn skill environment habit

















