সরস্বতী পুজোর আগেই কুল?
সাস্থ্যের সাথে দুঃখের তফাৎ গড়ে দেবে আমাদের ‘অভ্যাস ‘। এটা চরম বাস্তব!!
সরস্বতী পুজোর আগে কেন কুল খেতে নেই, তার উত্তর আমার কাছে নেই।
কুলে ইন্ডিয়ান ওশনের মত ভিটামিন সি। খেলে তো ভালোই। অন্তত ডাক্তারি মতে তো তাই! ভুরিভুরি ছেলে - মেয়ে পুজোর আগে কুল খেয়েও ফেল করেনি। যারা খায়নি তারা যে নোবেল প্রাইজ পেয়েছে তেমনও নয়। তবু এর পেছনে আছে বিস্ময়কর বিজ্ঞান - বিশ্বাস হতেই চাইবে না!!!
-ঠিক জানেন, এত্ত কাছে থেকে, ধরুন এইখানে বসে খাবে, উফফ…উঠে দাঁড়িয়ে, দুমদাম করে হেঁটে, চার ফুট দূরের একটা চেয়ার দেখিয়ে বলে!
-আর কিভাবে খাবে জানেন? ঠিক আমার দিকে মুখ করে, আওয়াজ করে। মা কে আবার বলবে একটু বিটনুন দিতে। এরম অত্যাচার সহ্য হয় বলুন স্যার ?
-বোস বোস তুই আগে, শান্ত হ - কে, কী খায়, ভালো করে বল দেখি! কিচ্ছুটি বুঝতে না পেরে নড়ে চড়ে চেয়ারের সামনের ধারের দিকে এগিয়ে বসে বলি।
কিন্তু শান্ত হতে বললেই হচ্ছে কে ! ফের প্রশ্ন!
-কে খাবে আবার ! বিল্টু, আমার মামাতো ভাই । আপনি কুল খান স্যার? সরস্বতী পুজোর আগে?
হাস্যকর প্রশ্ন, তবু সত্যি কথাটাই বলে ফেলি।
-নাহ , আমিও খাই না রে!
-এ-এ কি! আপনি কেন খান না? আপনার তো পড়াশোনা শেষ! আর আপনি বিজ্ঞান-চর্চা করা মানুষ!
-ছোটবেলার অভ্যাস ! তবে পড়া শেষ কি কোনদিন হয় ? তুই কেন খাস না ?
-কক্ষনো না! চোখ বড়বড় করে বলে। এটুকু মনে জোর রাখতে পারবো না?
-আলবাত পারবি।
সরস্বতী পুজোর আগে কেন কুল খেতে নেই, তার উত্তর আমার কাছে নেই। কুলে ইন্ডিয়ান ওশনের মত ভিটামিন সি। খেলে তো ভালোই। অন্তত ডাক্তারি মতে তো তাই! ভুরিভুরি ছেলে - মেয়ে কুল খেয়েও ফেল করেনি। যারা খায়নি তারা যে নোবেল প্রাইজ পেয়েছে তেমনও নয়। তবু এর পেছনে আছে বিস্ময়কর বিজ্ঞান - বিশ্বাস হতেই চাইবে না!!!
পৃথিবীর অনেক অভ্যাসের ব্যাখ্যা চট করে খুঁজে পাবেন না।
➤ অনেকেই সকালে লেবু জল খান ওজন কমাবার জন্য। লেবু আর জল দুটোই ভালো কিন্তু, শুধু লেবু কি করে চর্বি গলাবে তার ব্যাখ্যা নেই।
➤ অনেকেই শুধু সত্যি কথা বলেন। একটু মিথ্যে কথা বললেই বা ক্ষতি কি? কারও তো প্রাণ যাচ্ছে না তাতে।
সুপারভাইজারকে মিথ্যে বলে যে অনাবিল আনন্দ পাওয়া যায়, সে তো মোদী-জী ও স্বীকার করেছেন।
আপনি উলটে বলতেই পারেন, কিন্তু সারাক্ষণ কেনই বা সত্যি বলবো ! ব্যাখ্যা আছে কি তার ?
➤ পৃথিবীর সব সাকসেসফুল লোক বলেন ছটার আগে ঘুম থেকে উঠতে। সাড়ে সাতটায় উঠলে কি মহাভারত অশুদ্ধ হয় ? ব্যাখ্যা নেই তারও!
➤ প্রতিদিন ১০ টায় ঢুকতেই হবে। দশটা পনেরোতে ঢুকলে কার কি হয় ! কাজ কি করে দিই না? তবুও দশটা দশটাই, এখন আবার আঙ্গুলের ছাপ! ব্যাখ্যা নেই।
➤ পকেটে টাকা, মনে ইচ্ছে, পাশে উপযুক্ত সঙ্গী আর চোখের সামনে দোকান থাকলে প্রতিদিন কেন পাপড়ি চাট খাবো না? আচ্ছা, আচ্ছা ! থাক ! প্রতিদিন নয়, হপ্তায় দু-দিন? আর দুদিন ফুচকা । প্লিইজ !
আমার টাকা, আমার পেট, মেরি মর্জি।
তবুও হবে না? কেন ? ব্যাখ্যা নেই।
এক সময় হুলিয়া ছিল সন্ধ্যা ছটার মধ্যে বাড়ি ফিরতে হবে। প্রিয় বন্ধুর সাথে আরসালানে খেয়ে রাত দশটায় বাড়ি ফিরলে কেন বাবা-মায়ের বদলে জলজ্যান্ত হিটলার ইউরোপ থেকে কলকাতার বাড়িতে চলে আসেন? উত্তর খুঁজেও পাইনি।
যারা হাসপাতালের স্টাফ তাদের চুল খুলে elle18 এর রোজি ব্লাশ এ দৈনিক হাসপাতালের কাজে যাওয়া যাবে না, সেই মেরেকেটে বেকড পীচ। কেন ? গ্রহণযোগ্য কোনও ব্যাখ্যা নেই বললেই চলে।
যারা এলকোহল খান জলের মত, তাঁদের রাতে পার্টিতে বন্ধুদের সাথে এলকোহল খেতে বারণ নেই। কিন্তু সকালে বা একা-একা রঙ্গিন জলে ঢোঁকের অভ্যাস থাকলেই সেটা আপত্তিজনক। তক্ষুনি ডাক্তার দেখাতে হবে।
কিন্তু কেন ?
এই যে এঁটো আর সকড়ির গোলক ধাঁধায় আমাদের আগের প্রজন্ম সারাজীবন ধরে ব্যস্ত রইলেন, ব্যাখ্যা আছে তার কোন ? যত্তসব মান্ধাতা আমলের পচা নিয়ম !
কি বললেন ? নিয়ম ?
না 'নিয়ম' না, ওটার মধ্যে কেমন যেন পুলিশি গন্ধ, গারদের এপার-ওপার আর বিচারকের রক্তচক্ষু।
এগুলো স্রেফ 'অভ্যাস'!
মানলে মন খারাপ আর ভাঙলেই ফুরফুরে ফাগুন হাওয়ায় মন ভালো হয়ে যায়, তবে শুধু আজকের জন্যই…
আবার কালকে থেকে আফসোস হবে, কেন ভাঙলাম অভ্যাসটা!
আসলে বিচারক তো অ্যাবসেন্ট, দরবারটা নিজের কাছে নিজে ! কেউ না নজর রাখলেও যেটা হয়ে যেতে থাকে, সেটা অভ্যাস!
বলে নাকি দিনের ৫০% আচরণই অভ্যাস।
একজন ইয়া বড়ো পণ্ডিত এসেছেন, নির আয়াল।
তার টিকি নেই, টাক নেই, টাই ও পড়ে না, মায় আপনাদের চুপিচুপি বলি, হিটলারি গোঁফটাও নেই। হাঁক নেই । ডাক নেই । একে কেউ মানে?
নিরুপায় হয়ে মানছে। বাধ্য হয়ে ওঁর বই পড়ছে।
যাঁদের আমরা বিখ্যাত লোক বলে টিভিতে দেখি আর মানি, তাঁরাও আরকি..
ওঁর বই পড়ানোও হচ্ছে।
নির বলছেন, সামনের ১০০ বছর টাকা, সোনা, গাড়ি, বাড়ি নয়।
মানুষের সাথে মেধাবী মানুষের তফাৎ গড়ে দেবে তার 'অভ্যাস'।
আপনার আজকের বাস্তবের সাথে ভবিষ্যতের তফাৎ গড়ে দেবে আপনারই 'অভ্যাস'।
স্বাস্থ্যের সাথে দুঃখের তফাৎ গড়ে দেবে ‘অভ্যাস ‘।
কার পকেটে টাকা থাকবে আর কার শুধু স্বপ্নেই, তা নির্ণয় করবে তার 'অভ্যাস'।
ইচ্ছে আর মরীচিকার ব্রিজ হবে অভ্যাস।
পৃথিবীর সেরা মেধা হবে 'অভ্যাস'।
ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং, ল', কোডিং এসব কিছুই নয়, কোম্পানি গুলো খুঁজবে শুধু ‘ভালো অভ্যাস'! যার দিকে নজর না থাকলেও, সে পারফর্ম করে যাবে ভালো অভ্যাসবশত। তার সেরাটা দিয়ে।
ছাড়ুন তো ! আবেগে যেন গদগদ !
আদার ব্যাপারীর জাহাজের খবর রেখে কি হবে? আমি, আপনি তো আর 'অভ্যাস' বেচে চাকরি খুঁজব না! সেসব না হয় খুঁজবে আমাদের নাতি-পুতিরা।
তাহলে?
এই আজকেই, সাস্থ্যের সাথে দুঃখের তফাৎ গড়ে দেবে আমাদের ‘অভ্যাস ‘।
এটা চরম বাস্তব!!
মনোযোগ দিয়ে পড়তে পারছেন না ? কালকে যে বইটা পড়বেন তাতে পেজ মার্ক দিয়ে রাখুন আজকে। তবেই পড়তে পারবেন।
কিছুতেই মর্নিং ওয়াক হচ্ছে না ? কালকে সকালে হাঁটার জুতোটা বের করে রাখুন আজকেই। তবেই ঘুম থেকে উঠতে ইচ্ছে করবে।
এক্সারসাইজ রেগুলার হচ্ছে না ? কালকের এক্সারসাইজের জন্য টপ, ট্র্যাক প্যান্ট, ইনার গুছিয়ে রাখুন আজ রাতে। তবেই আলসি লাগবে না।
কাজ থেকে ফিরে ক্লান্ত ? কালকে আপিস থেকে এসে কি খাবেন, সেটা ভেবে রাখুন আজকে রাতে বাড়ি ঢোকার আগে। তবেই জোমাটোর বদলে টাকা থাকবে আপনার পকেটে। আর স্বাস্থ্য থাকবে বিলবোর্ডের বদলে আপনারই শরীরে।
অ্যালার্ম বাজলেই উঠে পড়তে হবে, সে শপথ নিন আজকেই।
বাড়িতে চিনি ঢুকবে না সেটাও একটা অভ্যাস।
জন্মদিন ছাড়া কেক খাবো না,
রাস্তায় থুতু ফেলব না।
আশেপাশের ভালো ওয়াশরুমের লিস্ট বানিয়ে যথেষ্ট জল খাবো আর টয়লেট যাব।
আর ছেলে হলে, নির্জন পূর্ণিমার রাতে সামনে দেওয়াল দেখলেই প্যান্টের চেন খুলে হালকা হবো না।
এই সব আর কি !
ভালো রীতির জন্য প্রথমে করবেন রুটিন, তবে অত সস্তায় হবে না । শরীর-মন বিদ্রোহ করবে, কিছুতেই মানতে চাইবে না।
৩-৪ মাস রুটিন চালালে সেটা দাঁড়াবে অভ্যাসে। তারপর গড়গড় করে চলবে ড্রাইভার ছাড়া। না ভেবেই কাজ হয়ে যাবে। যে অভ্যাস আপনি গড়েছেন, সে অভ্যাস এবার আপনাকে দেখবে।
সারাজীবন!
আপনার কেল্লা ফতে!
অভ্যাস বাড়ায় আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতা। না, প্রতিবেশীর চোখে নয়। নিজের কাছে নিজের।
লেবুতে ফ্যাট গলে না, কিন্তু সকালে লেবু-জল খাওয়া একটা দৈনিক অঙ্গীকার যে, সারাদিন নজর রেখে খাবো আর একটু হাঁটব ।
এক চামচ মিথ্যে কথা বলেও নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করবো না।
ছটার আগে ওঠা মানেই দিনের সেরা সময়টুকু উদযাপন করার ঐকান্তিক অভ্যাস রপ্ত করে ফেলেছেন আপনি।
প্রতিদিন, দিনের পর দিন, বর্ষায়, ধর্মঘটে, কর্মস্থলে মিনিট সেকেন্ড ধরে পৌঁছনো মানে শুধুই সময়ানুবর্তিতা নয়, ঠারে ঠোরে বলা যে আপনার থেকে বেশি ভরসার আর কেউ নেই।
কন্ট্রোলে রেখে পাপড়ি চাট কমাবে হাসপাতালের বিল। কমাবে জীবনযাত্রা-জনিত সমস্যাও । উপকার বুঝতে সময় লাগবে কয়েক দশক, কিন্তু রপ্ত হয়ে গেলে ভালো অভ্যাসে আপনার জীবন তখন গড়গড়িয়ে চলছে।
কুল যখন খাবেন না বলেই মনস্থ করেছেন সরস্বতী পুজোর আগে,
তখন সে কুল শুধু কুল নয়, বিলকুল আত্মবিশ্বাস।
নির আয়ালের কথায়, যাকে বলে commitment device.
'অভ্যাস' যেভাবে স্বাস্থ্যকর জীবন আর অসুস্থতার মাঝে পার্থক্য গড়ে দেয়, সেটাই আমাদের শেখার।
দেরিতে হলেও আমি শিখছি। আপনি?
Nir Eyal is an Israeli born American author who has redefined our understanding of human behaviour. After studying in Stanford, his research now tells us the modern concept of how habits shape our ‘destiny’. How habits make us happy. And, why do we resist good habits!
Create a difference in the world
- Share knowledge for others:
This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice.
Search tool: Vitamin C Exercise Commitment Device Kul Habit Inspiration Diary






Lovely topic