মেনোপজের সিম্পটম
অসুখ না হলেও মেনোপজের কিছু কিছু সিম্পটম বা উপসর্গ রয়েছে- কিছু স্বল্পস্থায়ী আর কিছু লং টার্ম সমস্যা- ওষুধ ইনজেকশন ছাড়াও এ ধরনের সমস্যা থেকে দূরে থাকতে পারেন আপনি।
মেনোপজের সিম্পটম কী?
অসুখ না হলেও, মেনোপজের কিছু কিছু সিম্পটম বা উপসর্গ রয়েছে। ঠিক সময়ে সতর্ক হলে এই অসুবিধাগুলো থেকে মুক্তি পাওয়া বা অন্তত খুব ভালোভাবে কন্ট্রোল করে রাখা সম্ভব।
প্রথমত, মেনোপজের যে সমস্যাগুলো স্বল্পস্থায়ী
স্বল্পস্থায়ী হলেও, অনেক মহিলাই এতে বেশ কষ্ট পান। মেনোপজের আশেপাশের সময় অনেক সময় মহিলাদের রাতে হঠাৎ হঠাৎ করে, ঘাম দিয়ে জামাকাপড় ভিজে যায়। তাকে বলে নাইট সোয়েট।
আবার কখনও কখনও আর এক ধরনের সমস্যা হয়, তাকে বলে হট ফ্লাশ। হঠাৎ মহিলাদের, গরম লাগতে শুরু করে। কিন্তু, সেইসময় হয়তো পাশের মানুষটির ঠান্ডা লাগছে।
কিন্তু শীতের মধ্যেও, মহিলাটির হঠাৎ করে গরম লাগতে শুরু করছে। ঠান্ডার মধ্যে হয়তো উনি, জানালা দরজা খুলে দিয়ে বললেন, ‘আমার বেশ গরম লাগছে, একটু ঠান্ডা চাই’।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের সিম্পটমগুলো নিজে থেকেই মিলিয়ে যায়। কারও মাত্র কয়েক মাস এধরনের সমস্যা হয়। গড়পড়তা তিন থেকে পাঁচ বছর এই ধরনের সিম্পটমগুলো স্থায়ী হতে পারে। সিম্পটমগুলো খুব অসুবিধেজনক হয়ে গেলে, তার কিছু ওষুধপত্র রয়েছে। কিছু ওষুধ হরমোনের আর কিছু নন হরমোনাল। কিন্তু, সাধারণত চেষ্টা করা হয় যাতে, লাইফ স্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে সমস্যা থেকে আপনি মুক্তি পেতে পারেন।
মেনোপজের আশেপাশের সময়ে, মহিলারা কিছু ধরনের সেক্সুয়াল সমস্যা অনুভব করতে পারেন। তাদের সেক্স বা ইন্টিমেট হতে গিয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে। ভ্যাজাইনার লুব্রিকেশন আগে থেকে হালকা হয়ে যেতে পারে। অনেক মহিলাই আগের মত ততটা, সেক্সুয়াল অ্যাকটিভিটির জন্য ইচ্ছে অনুভব করেন না। তবে সব মহিলার যে এমন হবে তার কোনো কথা নেই। কিন্তু কারও কারও ক্ষেত্রে এমনটা হয়। সেক্স তলপেটে হচ্ছে বলে মনে হলেও, আসল সেক্সুয়াল সিগন্যাল রিয়াকশন হয় অনেক দূরে। ব্রেনের নার্ভ সেন্টারে। এ কথা মনে রাখলে, অনেক সমস্যাই আর সমস্যা বলে মনে হবে না।
কিছু কাল আগে পর্যন্ত, এই ধরনের সমস্যাগুলোর কারণ শুধুমাত্র মেনোপজের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, মেনোপজের বছরগুলো এমনই যে, মহিলাদের জীবনে নানারকম সমস্যা, এই সময় ভিড় করে আসে।
যেগুলো পরোক্ষভাবে হলেও, এইসব শারীরিক সমস্যার জন্য দায়ী। যেমন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে এইসময় মহিলাদের ছেলেমেয়েরা বাইরে চলে যায়। যারফলে জীবনের, শূন্যস্থান পূরণ করা সমস্যা হয়। তাদের স্বামী বা পার্টনারের সঙ্গে সম্পর্ক অনেকটা নিস্তরঙ্গ হয়ে যায়। এইসময় ঘরে নানা ছোট খাটো অশান্তি, লেগে থাকে। মহিলারা নিজেদের কর্মজগতের কাজ ও পলিটিক্সে শশব্যস্ত হয়ে পড়েন।সুতরাং, এই ধরনের সেক্সুয়াল সমস্যা যে শুধুমাত্র মেনোপজের জন্য ঠিক, সেরকম নাও হতে পারে। সঠিক কারণ খোঁজা দরকার।
সুতরাং, এই ধরনের সেক্সুয়াল সমস্যা যে শুধুমাত্র মেনোপজের জন্য ঠিক, সেরকম নাও হতে পারে। সঠিক কারণ খোঁজা দরকার।
মেনোপজের পরের বছর গুলোতে, অনেক সময় মহিলারা সাইকোলজিক্যাল সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। কখনো তারা একটু লেথার্জিক বোধ করেন। কিছু সময় মুডের পরিবর্তন হয়। কখনও কখনও অ্যাংজাইটির পরিমাণ খানিকটা হলেও, বেড়ে যায়।
দৈনন্দিন এবং সামাজিক সমস্যার সঙ্গে আগে হয়তো, উনি আয়াসেই মোকাবিলা করতেন। কিন্তু এই সময় তার মোকাবিলাটা অনেক সময় হয়ে উঠতে পারে, আরও বেশী চ্যালেঞ্জিং। এইটা কতখানি মেনোপজের জন্যই শুধু বা কতখানি অন্যান্য সামাজিক সমস্যার জন্য, এগুলো আমরা পরের অনুচ্ছেদে আলোচনা করব।
দ্বিতীয়ত, মেনোপোজের কিছু দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা থাকতে পারে যাকে বলা হয়, লং টার্ম প্রবলেম।
মহিলাদের শরীর যে রকম ভাবে তৈরি, তাতে মহিলাদের হাড় বা বোনের স্বাস্থ্যের জন্য ইস্ট্রোজেন বা মহিলা হরমোন জরুরী। শরীরে ইস্ট্রোজেন কম হয়ে গেলে, কিছু হাড়ের সমস্যা হতে পারে। হাড় হালকা হয়ে যেতে পারে। যাকে বলে, অস্টিওপোরোসিস।
(ঠিক এখুনি আপনি হয়তো ভাববেন, অনেক অনেক ইস্ট্রোজেন থাকলে না জানি কত ভালো হতো! জেনে রাখা প্রয়োজন, শরীরে বাড়তি ইস্ট্রোজেন থাকলে, সেই ইস্ট্রোজেন আবার ক্যান্সার তৈরি করতে পারে। এ এক অদ্ভুত সূক্ষ্ম পরিমাপের খেলা। তাই প্রচুর ইস্ট্রোজেনের ট্যাবলেট খাবারও সাইড এফেক্ট আছে)
তবে হ্যাঁ! মেনোপজ প্রতিটি মহিলার জীবনে অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু, তারপরে কি শরীর স্বাস্থ্য সব মেনোপজে ভেঙে যায়? না! তা নয়।
এই হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য কৃত্রিম হরমোনের থেকেও, যেটা সবচেয়ে বেশী দরকার সেটা হল নিয়মিত এক্সারসাইজ। মানে সপ্তাহে তিন থেকে চার ঘণ্টা মাঝারি থেকে ভারী এক্সারসাইজ। সমাজের সব বয়সী মহিলাদের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, জুন মাসের ঠাঠা দুপুরে গ্যাসের পাশে রান্না করে, গলদ গর্ম হয়ে ঘেমে নেয়ে ক্লান্ত হয়ে পরিবারের সুখ দুঃখের হিসেব রাখাটাকে এক্সারসাইজ বলা হয় না।
সকালে বা দুপুরে বিছানায় বসে, কিছু সময় প্রাণায়াম করাটাকেও পুরোপুরি এক্সারসাইজ বলে ভাবলে, ভুল হবে।
দরকার বাড়ির বাইরে বেরিয়ে নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, গুরুর তত্বাবধানে অ্যারোবিক এক্সারসাইজ বা সাঁতার কেটে এক্সারসাইজ।
তবে গড়পড়তা মহিলাদের জন্য এই ধরনের এক্সারসাইজের জন্য সময় বার করাটাই মুশকিল। কিন্তু জীবনের অমৃতস্বাদ পেতে হলে, আপনাকে নিয়মিত শরীরচর্চা করতেই হবে। আরও মনে রাখা প্রয়োজন, যে যেদিন মেনোপজ হল, সেদিন যদি আপনি এক্সারসাইজ শুরু করেন, তখন কিন্তু তার পুরোপুরি সুফল আপনি পাবেন না। এই এক্সারসাইজের পুরোপুরি ফল পেতে হলে, এক্সারসাইজ শুরু করতে হবে ২৫-৩০ বছর বয়স থেকে। যদি তা না করে থাকেন, তাহলে দেরি হলেও শুরু করুন। ব্যায়ামের কোনো শর্টকাট নেই।
শুধু হাড় নয়, মহিলাদের হার্টেরও দেখভাল করে মহিলা হরমোন ইস্ট্রোজেন।
সংখ্যাতত্ত্বের দিকে দেখতে গেলে, মেনোপজের আগে মহিলাদের হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা একই বয়েসি পুরুষদের থেকে অনেক অংশে কম। কিন্তু মেনোপজের পর, সেই প্রবণতা যায় উল্টে। হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা সম বয়েসি পুরুষদের থেকেও, মহিলাদের বেশী হয়ে যায়। যদিও মহিলারা ইচ্ছে করলেই, তা প্রতিহত করতে পারেন।
মেনোপজের পরে ইউরিনের সমস্যা হতে পারে। অনেক সময় ইউরিনের রাস্তার আশেপাশের জায়গাগুলোর স্কিন এবং মাংসপেশি পাতলা হয়ে যায়। তার জন্য ঘন ঘন ইউরিনারি ট্র্যাক ইনফেকশন বা জ্বালা ভাব আসে। প্রল্যাপ্সের সমস্যা হতে পারে। অনেক সময় দু-পায়ের মাঝখানে ভালভা বলে যে জায়গাটা আছে, তার স্কিন এত পাতলা হয়ে যায় যে, বসে থেকে কোন লং ডিসটেন্স প্লেন বা ট্রেন জার্নিও মহিলাদের কাছে কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে।
আসলে মহিলাদের শরীরের ভালভা এবং ইউরিন প্যাসেজেরও বেশ খানিকটা অংশ, ত্বক বা এপিথেলিয়াম দিয়ে আবৃত থাকে, তার দেখভাল করে ইস্ট্রোজেন। ইস্ট্রোজেন শরীরের না থাকলে এই পর্দা গুলো আস্তে আস্তে পাতলা হয়ে যেতে শুরু করে।
তবে মন খারাপ করবেন না। নির্দিষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করলে এবং চিকিৎসা করালে, এই ধরনের সমস্যাগুলো থেকে সাফল্যের সাথে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সবসময় যে ওষুধ খেতে হবে তা নয়। ওষুধ ইনজেকশন ছাড়াও, এ ধরনের সমস্যা থেকে দূরে থাকতে পারেন আপনিও। সেটা জানাই সায়েন্সের ‘আর্ট’।
This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice.
Search tool: Menopause Period Estrogen Urinary Tract Infection Vulva Urinary Passage Vaginal Dryness Intercourse Exercise Empty Nest Syndrome HRT





