ফাইব্রয়েড -এক ঝলকে
ফাইব্রয়েডের নাম আকছার শোনা যায়। দেখা গেছে দশ জনের মধ্যে চারজন মহিলার শরীরে জীবনের কোনো না কোনো সময়ে ফাইব্রয়েড হতে পারে। তাই জেনে রাখা জরুরি
এক কথায় ফাইব্রয়েড হলো, ইউটেরাস বা জরায়ুর মাংসপেশির থেকে তৈরি হওয়া এক ধরনের টিউমার। টিউমার হলেও এগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্যান্সার নয়।
ফাইব্রয়েডের নাম আকছার শোনা যায়। দেখা গেছে দশ জনের মধ্যে চারজন মহিলার শরীরে জীবনের কোনো না কোনো সময়ে ফাইব্রয়েড হতে পারে।
অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় ফাইব্রয়েড মহিলাদের ক্ষেত্রে কোনো উপসর্গই তৈরি করে না। উপসর্গহীন ফাইব্রয়েড খুব বড়োসড়ো না হলে বেশিরভাগ সময়ই তার কোন চিকিৎসার দরকার পড়ে না।
আর কিছু ক্ষেত্রে ফাইব্রয়েড খুব সামান্যই উপসর্গ দেয়। আর বাকি ক্ষেত্রে ফাইব্রয়েড সৃষ্টি করতে পারে অনিয়মিত বা ভারী ঋতুচক্র, পেটে ব্যথা বা আনুষাঙ্গিক আরো নানা রকম উপসর্গ। কিছু ক্ষেত্রে ফাইব্রয়েড এর জন্য ইউরিন বা পটির প্রবলেমও হতে পারে।
ঠিক কি কারণে এত সংখ্যায় ফাইব্রয়েড তৈরি হয় তা বিজ্ঞানের কাছে এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তবুও অনুমান করা হয় যে এক ধরণের মহিলা হরমোন বা ইস্ট্রোজেনের প্রভাবে ফাইব্রয়েডের বাড়বাড়ন্ত হয়। মহিলাদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের সবচেয়ে বড় কারখানা হলো তার ডিম্বাশয় বা ওভারি ।সংখ্যাগরিষ্ঠ ফাইব্রয়েড ধরা পড়ে ষোলো থেকে পঞ্চাশ বছর বয়সের মধ্যেই। যখন এই ইস্ট্রোজেন এর প্রভাব মহিলাদের শরীরে সব থেকে বেশি থাকে।
মেনোপজের পরে যখন ওভারি থেকে ইস্ট্রোজেন তৈরি হওয়া বন্ধ হয়ে যায় তখন বেশিরভাগ ফাইব্রয়েড-ই আকারে ছোট হয়ে আসে। স্থূল বা ভারী ওজনের মহিলাদের ক্ষেত্রে ফাইব্রয়েডের সমস্যা অপেক্ষাকৃত বেশি দেখা যায়।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ফাইব্রয়েডের জন্য খুব সামান্যই সিম্পটম দেখা যায় কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে সিম্পটম এর মাত্রা এতটাই বেশি হয় যে মহিলাদের জীবনযাত্রার মান এবং তাঁর স্বাস্থ্যের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে।
ফাইব্রয়েড কিছু ক্ষেত্রে উপসর্গহীন থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা পিরিয়ডের ব্যথা বা ভারী রক্তপাতের সমস্যা নিয়ে প্রকাশ পায়। কখনো সখনো মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রকাশের সিম্পটম হয় রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া। ফাইব্রয়েড বড়োসড়ো হলে তা থেকে পেট ফুলে যেতে পারে বা সেক্সের সময় ব্যথা হতে পারে।
আরো কিছু ক্ষেত্রে তলপেট বা কোমরে ব্যথা হতে পারে, বারবার ইউরিন বা পটির সমস্যা হতে পারে। অপেক্ষাকৃত অল্প বয়সের মহিলাদের ক্ষেত্রে ফাইব্রয়েডের কারণে অনেক সময় প্রেগন্যান্সি আসতে দেরি হয় বা প্রেগন্যান্সি এলেও মিসক্যারেজ হয়ে যেতে পারে। তবে আবার অনেকক্ষেত্রেই ফাইব্রয়েড নিয়ে মহিলারা মাতৃত্বলাভ করেন একদম নির্বিঘ্নে ।
ফাইব্রয়েড এর আকারে নানারকম প্রকারভেদ হতে পারে। ছোট মটর দানা থেকে শুরু করে ফাইব্রয়েড একটা বড়সড় তরমুজ সাইজের আকারও নিতে পারে। আগেই বলেছি যে জরায়ুর মাংসপেশির থেকে এই ফাইব্রয়েডের উৎপত্তি।
এই মাংসপেশির স্তরের ভেতরের দিকে, মানে জরায়ুর ভেতরের দিকে যে স্তর থাকে তার নাম এন্ডোমেট্রিয়াম। আর মাংসপেশির পোশাকি নাম মায়োমেট্রিয়াম।
এক জরায়ুতে একটি-দুটি থেকে শুরু করে অসংখ্য ফাইব্রয়েড থাকতে পারে।জরায়ুর স্থানবিশেষে ফাইব্রয়েডের আবার নানা রকম ধরনের নামকরণ করা হয়। ফাইব্রয়েড জরায়ুর ভিতরের দিকে বা এন্ডোমেট্রিয়ামের দিকে থাকলে তাকে বলা হয় সাব মিউকোসাল ফাইব্রয়েড। ফাইব্রয়েড যদি জরায়ুর মাংসপেশির মধ্যে থাকে তাহলে তাকে বলা হয় ইন্ট্রামুরাল ফাইব্রয়েড। আর তা যদি জরায়ুর বাইরে দিকে থাকে তাহলে তার নামকরণ করা হয় সাব-সেরোসাল ফাইব্রয়েড।
যদি আপনার মনে হয় যে আপনার ফাইব্রয়েড আছে তাহলে আপনি ডাক্তারের কাছে সাহায্য নিতে পারেন। আপনার গাইনোকোলজিস্ট আপনার সাথে কথাবার্তা বলে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দেবেন।
এই সময় আপনার একটি ক্লিনিক্যাল এক্সামিনেশন এর প্রয়োজন হতে পারে। ভয় নেই, এই এক্সামিনেশন কোন কাটাছেঁড়া নয় এবং তা যন্ত্রণাহীন।
ব্লাড টেস্ট ছাড়া আপনার এক ধরনের আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। এটিও যন্ত্রণাহীন। এতে নিঃশব্দ শব্দতরঙ্গের সাহায্যে পেটের ছবি তোলা হয়। এই পরীক্ষায় জানা যায় যে ফাইব্রয়েডের অবস্থিতি কোথায় এবং তা কত বড়।সমস্যা যদি খুব গভীর না হয় তাহলে সাধারণত মুখের ট্যাবলেট দিয়ে এই ফাইব্রয়েডের উপসর্গের চিকিৎসা করা যেতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য দরকার হয় অপারেশনের।
আজকাল অপারেশনের আমূল আধুনিকীকরণ হয়েছে। এনেস্থেসিয়া হয়েছে অনেক নিরাপদ। হাসপাতালের ঘরোয়া বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে অতিরিক্ত যন্ত্রনা ছাড়াই মহিলারা সন্তুষ্ট হয়ে ঘরে ফিরতে পারছেন এখন এই কলকাতাতেই। ইংল্যান্ডের রয়েল কলেজের এনহ্যান্সড রিকভারি পাথওয়ে র মতো অত্যাধুনিক মানের আন্তর্জাতিক চিকিৎসা এখন ঘরের কাছেই।যেকোনো চিকিৎসা শুরু করার আগে আপনি আপনার ডাক্তারবাবুর সঙ্গে সেই চিকিৎসা গুলোর উপকারী দিক এবং সাইডএফেক্ট গুলো সম্বন্ধে খোলাখুলি আলোচনা করে নিন।
আমরা বিশ্বাস করি এই খোলাখুলি আলোচনা সঠিক চিকিৎসার প্রথম ধাপ। কখনো কখনো ফাইব্রয়েডের ট্রিটমেন্ট করা হয় ধাপে ধাপে।যেমন প্রাথমিকভাবে কোন ট্রিটমেন্ট যদি কাজ না করে তাহলে তার পরবর্তী বৃহত্তর ট্রিটমেন্ট এর প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে। এতে মহিলারা তাদের পছন্দের চিকিৎসার সুযোগ নিতে পারেন।
আজকাল ফাইব্রয়েডের ট্রিটমেন্ট যথেষ্ট নিরাপদ।সন্তান ইচ্ছুক মহিলারা অনেক সময় মায়োমেকটমি নামক এক অপারেশনের মাধ্যমে ফাইব্রয়েড বাদ দিয়ে জরায়ু-টুকু রেখে দিতে পারেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে ফাইব্রয়েডের মাত্রাতিরিক্ত সমস্যার কারণে জরায়ু পুরোপুরি বাদ দেওয়া ছাড়া কোনো উপায়ান্তর থাকেনা।
অত্যাধুনিক কিছু চিকিৎসাও আজকাল ফাইব্রয়েডের জন্য এখন সামনে এসেছে। এমন একটি ট্রিটমেন্ট এর নাম হলো ফাইব্রয়েড এম্বলিজেশন। এই চিকিৎসায় পায়ের রক্তবাহের মধ্যে দিয়ে একটি সরু ক্যাথিটার প্রবেশ করিয়ে জরায়ুর ফাইব্রয়েড রক্তসরবরাহ কে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এর পরে সেই ক্যাথিটার সরিয়ে নেওয়া হয়। এই ধরনের চিকিৎসায় অপারেশনের দরকার পড়েনা কিন্তু পৃথিবীর যেকোন চিকিৎসার মতোই সব ধরনের ভালো চিকিৎসারই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। তাই খোলাখুলি আলোচনা বাঞ্ছনীয়।
আশাকরি ফাইব্রয়েড নিয়ে আপনার প্রশ্নের উত্তর আপনি পেয়ে গেছেন। ফাইব্রয়েড সম্বন্ধে আরও কিছু জানতে হলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন নির্দ্বিধায়।
This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice.
Search tool: Fibroid Fibroids Uterus Tumor Irregular Menstrual Cycles Female Hormones Menopause Heavy Weight





