মেনোপজে HRT
আজকাল গড় আয়ু বাড়ছে। আধুনিকা মহিলাদের কর্মব্যস্ত জীবনের বেশ কয়েক দশকই কাটে মেনোপজের পরে।
আজকাল গড় আয়ু বাড়ছে। আধুনিকা মহিলাদের কর্মব্যস্ত জীবনের বেশ কয়েক দশকই কাটে মেনোপজের পরে।
হয়তো বলা ভুল হবেনা, মেনোপজের পরেই মহিলারা তাদের পারিবারিক, সামাজিক বা কর্মক্ষেত্রে সর্বাধিক দায়িত্ব, ক্ষমতা এবং ব্যস্ততার শীর্ষে থাকেন। সেই সময় মেনোপজের সিম্পটমগুলো গড়পড়তা যে কোনো মহিলার কাছেই প্রচন্ড বিরক্তিকর। অনেকেই সেটাকে কর্মনাশা বলে মনে করেন।
প্রতিকার খুঁজতে, স্বভাবতই তারা হাত বাড়িয়ে দেন কিছু ওষুধ, কেমিক্যাল বা আকর্ষণীয় সাপ্লিমেন্ট পাউডারের দিকে। যুক্তিটা সহজ। যদি ইস্ট্রোজেনের অভাবে মেনোপজ হয়ে থাকে, তাহলে শরীরকে ঢেলে ইস্ট্রোজেন দাও। নিশ্চয়ই সে মেনোপজের সিম্পটমগুলো চলে যাবে। হ্যাঁ! বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই সেই সিম্পটমগুলো সাময়িক ভাবে চলে যায়।
কিন্তু এই ইস্ট্রোজেন থেরাপিও কিন্তু, রিস্ক ছাড়া নয়। সুতরাং, যদি আপনি ইস্টোজেন থেরাপি ব্যবহার করেন, তাহলে তা যেন অতি অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ এবং প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী হয়।
শুধু তাই নয়, ডাক্তারবাবুর কাছে আপনি তার ভালো দিক এবং খারাপ দিক দু’টোই ভালোভাবে পর্যালোচনা করে, তবেই এই ধরনের ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করুন।
মনে রাখুন, যে জিনিসের রিস্ক নেই সেই জিনিসের বেনিফিটও নেই। যে জিনিসের সাইড এফেক্ট নেই, সেই জিনিসের সম্ভবত কোনো এফেক্টও নেই। আপাতভাবে ভাবতে কষ্ট হলেও, ব্যাপারটা চরম সত্যি।
কোনো ওষুধ ল্যাবরেটরি বা কারখানা থেকে তৈরি হয়ে এসেছে মানে, সেই ওষুধের সাইড এফেক্ট বেশী আর কোন ওষুধ গাছ-গাছড়া থেকে পাওয়া যাচ্ছে বলে, তার সাইড এফেক্ট নেই, এমন ভাবনা পাল্টানোর সময় এসেছে।
অনেক এলোপ্যাথি ওষুধই ভেষজের থেকে তৈরি হয়। ভেষজ কেমিক্যাল কিন্তু অত্যন্ত তীব্র হতে পারে সুতরাং সতর্কতা প্রয়োজন।
প্রথমে কথা বলে নেই HRT নিয়ে।
অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছিল HRT এক সময়ে।
HRT কী?
ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন এই দুই, মহিলা হরমোনের নানা রকম অনুপাতে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি বা HRT দেওয়া হয়। আর কার জন্য কী ধরনের ওষুধ দেওয়া যাবে, সেটা আপনি আপনার ডাক্তার বাবুর সঙ্গে আলোচনা করে নিতে পারেন।
তবে মোটের ওপরে যদি আপনার ইউটেরাস বাদ দেওয়ার অপারেশন না হয়ে থাকে, তাহলে প্রোজেস্টেরন বাদ দিয়ে শুধু ইস্ট্রোজেনের HRT দিলে ভবিষ্যতের জরায়ুর ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ইউটেরাসের প্রটেকশনের জন্য প্রজেস্টেরন প্রয়োজন।
এবার আমরা HRT সুফল আর সাইড এফেক্ট দু’টো নিয়েই আলোচনা করব।
বলাই বাহুল্য, এই HRT নিয়ে গবেষণা হয়েই চলেছে প্রতিদিন। আজকে যেটা এই HRT সুফল বলে মনে হচ্ছে, তা হয়তো আগামীকালের গবেষণায় দেখা যাচ্ছে সেটা এই HR র সাইড এফেক্ট। সুতরাং, রিসার্চ চলছে। আপনিও পড়াশোনা চালু রাখুন। মোটের ওপরে HRT সুফলগুলো যদি সংক্ষেপে বলতে হয়, তাহলে বলতে হয় এই HRT দিয়ে গরম লাগা বা হট ফ্লাশ, নাইট সোয়েটের মত সমস্যাগুলো, HRT দিয়ে সহজেই ট্রিটমেন্ট করা যায়।
ইউরিনের সমস্যা, ভালভা-ভ্যাজাইনার জ্বালা-যন্ত্রণা এবং সেক্সুয়াল যে প্রবলেমগুলো মেনোপজে হয়, সেখানেও HRT ভালো রেজাল্ট দিতে পারে। হাড় হাল্কা হয়ে যাওয়া বা অস্টিওপোরোসিসের ট্রিটমেন্টও HRT দক্ষতার সঙ্গে করতে পারে।
তাছাড়াও HRT-তে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারেরও ঝুঁকি কমে। তবে হ্যাঁ! তাই বলে কোলোনের ক্যান্সার প্রতিরোধ করার জন্যই কারোর শুধু HRT নেওয়া উচিত নয়।
কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করার আরও অনেক নন-কেমিক্যাল সমাধান রয়েছে সেটা না হয় পরে একদিন আলোচনা করব।
HRT-এর আবার অন্য একটা দিক রয়েছে।
HRT কিছু কিছু অসুখের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
যেমন, কিছু ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি এবং ইউটেরাস বা ওভারিয়ান ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে HRT ব্যবহার করলে। যদিও যেটুকু রিস্ক বা ঝুঁকি বাড়ে সেটুকু খুব যে মারাত্মক, সেটা বলা যায় না। তবে খানিকটা হলেও বাড়ে। শরীরের নানা অংশে থ্রম্বসিস বা ব্লাড ক্লটের প্রবণতা বাড়াতে পারে HRT।
এছাড়াও, গলব্লাডারের প্রবলেমও কিছুটা সময় HRT বাড়িয়ে দিতে পারে।
এবার চলে আসি ধূসর ক্ষেত্রগুলোতে, যেখানে বিজ্ঞান এখনও জানেনা যে HRT ভালো, না খারাপ। গবেষণা চলছে। অনেকে ভাবেন HRT খেলে হার্ট ভালো থাকবে। তবে, প্রমাণ নেই এমন দাবির।
হার্টের ওপর কোন ভালো এফেক্ট আছে কিনা বা ওভারিয়ান ক্যান্সারের প্রতিরোধে HRT কোনো ভূমিকা নেয় কিনা, এরকম কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনও বিজ্ঞান সহমত নয়।
অনেকে ভাবেন, HRT নিলে বোধ হয় ব্রেন ভালো থাকবে।
তবে, HRT নিলে স্মৃতিশক্তি বাড়ে কিনা এমন কোনো প্রমাণ বিজ্ঞানের কাছে এখনও নেই।
মহিলারা সাধারণত HRT নেন তাদের কোয়ালিটি অফ লাইফ বাড়ানোর জন্য। তবে সত্যি সত্যি মহিলাদের কোয়ালিটি অফ লাইফ HRT-তে বাড়ে কিনা, এই ব্যাপারেও বিজ্ঞান এখনও অন্তিম কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি।
কিন্তু হ্যাঁ! মেনোপজের ট্রিটমেন্ট শুধু হরমোন ওষুধ দিয়ে হয় না়।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে নন-হরমোনাল ওষুধপত্র মহিলাদের মেনোপজের সমস্যার জন্য খুব কম সাইড এফেক্টে সাফল্যের সাথে ব্যবহার করা হতে পারে। হাড় বা বোনের হেলথ ঠিকঠাক রাখার জন্য আজকাল একের পর এক নিত্য নতুন খুব পারদর্শী কিছু ওষুধ পত্র আবিষ্কার হয়েছে, যেগুলোতে হরমোনের সাইড এফেক্ট নেই। হট ফ্লাশ বা নাইট সোয়েটের ট্রিটমেন্ট হরমোন ছাড়া অন্যান্য ওষুধ দিয়েও করা সম্ভব।
তবে হ্যাঁ কারোর কাছে শুনেছিলাম যে, টাকা দিয়ে যা কিছু কিনতে পাওয়া যায় সেটা সস্তা।
বাস্তবই কী মেনোপজের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা তাই?
ওষুধপত্রে মুক্তি বলে মনে হলেও, জীবনযাত্রা এবং খাদ্যশৈলীতে যতক্ষণ না পজিটিভ পরিবর্তন আনা হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত ওষুধপত্রেরও সুফল ক্ষণস্থায়ী।
HRT থেকেও বোধহয় আরও ভালো কাজ করে নিয়মিত ব্যায়াম। সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ ঘন্টা মাঝারি থেকে ভারী এক্সারসাইজ করা আবশ্যক। এতে শুধু মেনোপজের সমস্যা সমাধান নয়, হার্ট, lungs এবং ক্যান্সার প্রতিরোধেও আপনি অনেকটা এগিয়ে যাবেন।
খাবারে রাখুন যথেষ্ট পরিমাণে শাক-সবজি, অলিভ অয়েল, মেডিটারেনিয়ান ডায়েট। বাদ দিন চিনি, গুড়, বাতাসা ইত্যাদি সিম্পল কার্বোহাইড্রেট। বন্ধু করে নিন, কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট আর ফাইবার জাতীয় খাবার।
মেনোপজের পরে ইস্ট্রোজেনের অভাবে ভ্যাজাইনার বন্ধু ব্যাকটেরিয়া ল্যাকটোব্যাসিলাস অনেকাংশই বিদায় নেয়। ফলে ভাজাইনার নানা রকম ইনফেকশনে কাহিল হয়ে পড়তে পারেন মহিলারা।
দু’দিন ওষুধ কাজ করলেও তারপরদিন অবস্থা, যে কে সেই। তার জন্য নিয়মিত প্রবায়োটিক বা নিদেন পক্ষে অল্প পরিমাণে প্রতিদিন দই খেলেও সুফল পেতে পারেন।
মেডিটেশন বা মাইন্ডফুলনেসের ট্রেনিং মেনপজের ক্ষেত্রে সিম্পটম কন্ট্রোলে যথেষ্ট উপকারী। মেডিটেশন কিন্তু শুধুমাত্র অন্ধকার ঘরে বসে, নির্জনে হয় না। মেডিটেশনের নানা রকম প্রকারভেদ আছে। কোনো এক্সপার্টের কাছে জিজ্ঞাসা করে জেনে নিন, যে কীভাবে দৈনন্দিন জীবনে আপনার স্ট্রেস কমাতে পারে মেডিটেশনের মধ্যে দিয়ে।
এই বয়সে ছেলে মেয়ে বা প্রিয়জন যদি দূরে সরে যায় বা কর্মক্ষেত্রে চলে যেতে হয় তাদের, তাহলে আফসোস করবেন না। নিজের জীবনের শূন্যতা পরিপূর্ণ করার জন্য ব্যবহার করুন, কিছু নতুন স্কিল শেখা, কিছু নতুন রান্না বা নতুন ভাষা বা কম্পিউটারে কিছু নতুন প্রোগ্রাম শেখা। বাগান করুন বা দৈনিক খবরের কাগজের সাথে আসা অবহেলায় পড়ে থাকা শব্দ-জব্দ সলভ করুন। তৈরি করুন, কিছু অবাক করা নতুন অভ্যাস।
শরীর আর মনকে যতটা আপনি খাটাবেন ততটা তার থেকে ডিভিডেন্ট পাবেন আপনি।
শেষ করার আগে বলা যায় যে, ওষুধ বা কেমিক্যাল HRT যদি ব্যবহার করতেই হয়, তাহলে ব্যবহার করুন সবচেয়ে কম সময়ের জন্য। ব্যবহার করুন সবচেয়ে কম ডোজে। তা যেন অতি অবশ্যই কোনো ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্যই হয়।
বাজার চলতি সাপ্লিমেন্ট পাউডার গুলোর দিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখুন। এই ধরনের পাউডারে অনেক সময় গোপনে মিশিয়ে দেওয়া থাকে, ভেষজ ফিমেল হরমোন। তাতে আপনার ত্বকের জেল্লা বাড়লেও আখেরে মুশকিলে পড়তে পারেন। এই ধরনের সাপ্লিমেন্টগুলো যেহেতু ড্রাগ নয়, তাই গভর্মেন্টের ড্রাগ রেগুলেশন দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয় না। ওষুধ যদি খেতেই হয়, তাহলে বাছাই করে নিন নন-হরমোনাল ওষুধ।
পৃথিবীর মাত্র ৩-৪% মহিলাকে মেনোপজের জন্য HRT ওষুধ খেতে হয়।
তবে দরকার নিজের স্বাস্থ্যের দিকে দৈনিক নজর। সে চায় আপনি তার দিকে সম্মান নিয়ে দেখুন। ওষুধ ছাড়াই আপনি ভালো থাকবেন। কিন্তু, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা দরকার। সঙ্গে দরকার ধৈর্য।
সর্বোপরি মেনোপজ কে কোন অসুখ না ভেবে ভাবুন এটা জীবনের একটা নরমাল পরিবর্তন। খুব সহজেই জীবনযাত্রা পরিবর্তনের মাধ্যমে আপনি এর মোকাবিলা করতে পারবেন অত্যন্ত সফল ভাবে।This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice.
If you want to know more:
MHT is currently prescribed to only about 3% to 4% of perimenopausal and postmenopausal people.
Ref (https://www.cancer.net/blog/2021-08/can-cancer-symptoms-be-mistaken-menopause, accessed 10/04/2023)
Search tool: Menopause Estrogen Therapy Lactobacillus Vaginal Dryness Hormone Empty Nest Syndrome Intercourse Exercise Urinary Passage HRT





