মেনোপজ ও সমাজ
কিন্তু এখন অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। মহিলারা মেনোপজ এর পরেও চূড়ান্তভাবে সফল হতে পারেন তাদের পারিবারিক এবং চাকরি জীবনে। রাজা রামমোহন এসে সতীদাহ প্রথা বন্ধ করতে চাইলে, অনেকেই তাকে হাততালি দেয় নি।
মহিলারা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। সূর্য পূর্ব দিকে ওঠার মতোই এ এক অমোঘ তথ্য।
পুরুষদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তাঁরা একাডেমিক বা সামাজিক ক্ষেত্রে তাঁদের নিজস্ব কীর্তি রেখে যাচ্ছেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী।
যদিও মহিলাদের তাদের প্রাপ্য সম্মান, সমাজ বা পৃথিবী কতখানি দিতে পেরেছে, সে নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থেকেই যায়। এই কিছু বছর আগে পর্যন্ত, আমাদের মাতৃসমা ভারত ভূমিতে মহিলাদের পুড়িয়ে মারা হতো, মৃত স্বামীর চিতায়। নাম ছিল তার সতীদাহ প্রথা।
রাজা রামমোহন এসে যেদিন সতীদাহ প্রথা বন্ধ করতে চাইলেন, সেদিন অনেকেই তাকে হাততালি দেয়নি।
মানুষের কয়েক লক্ষ বছরের ইতিহাসে, ইংল্যান্ডের মতো দেশে মহিলাদের ভোটাধিকার মিলেছে মাত্র ১০০ বছর আগে।
অনেক মহিলারাই আমাদের কাছে এসে বলেন, কোনো কারণে মাথা গরম হলে তাঁদের বাড়িতে বা কর্মক্ষেত্রে শুনতে হয়, তার পেছনে নাকি রয়েছে তার শরীরের হরমোন। মিথ্যে শুনতে শুনতে একদিন তা যেন সত্যি হয়ে যায়। মহিলারাও একে সত্যি বলে, নিজের ভবিতব্য বলে ধরে নেন।
মেনোপজের পরে যা কিছু সমস্যাই হোক না কেন, অনেক সমস্যাই মহিলারা ধরে নেন, সেটা বোধহয় তাদের মেনোপজের জন্যই হয়েছে।
আপাত সামান্য সিম্পটমের আড়ালে ছদ্মবেশে থাকতে পারে নানা জটিলতা। যেমন- শারীরিক, মানসিক এমনকি পারিবারিক সমস্যার অঙ্কুর। সুতরাং, সেই সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করতে শিখুন। সময় ইনভেস্ট করে স্পনসরহীন সূত্র থেকে তথ্য জানুন। যে তথ্য নিরপেক্ষ। যে তথ্যের শেষে, কোনো ওষুধ বিক্রি, কোন হাসপাতালের যাবার হাতছানি নেই। দরকার হলে ডাক্তারবাবুর কাছে গিয়ে পরামর্শ করে নিন, যে সেই সমস্যাটি শুধুমাত্র মেনোপজের জন্যই, নাকি এর উৎস অন্য কোথাও।
অনেক সময় মেনোপজের সিম্পটমের আড়ালে লুকিয়ে থাকে গুরুতর মানসিক অবসাদ, যার সঙ্গে মেনোপজের সম্পর্ক নেই। অনেক সময় থাইরয়েডের অসুখগুলো মেনোপজের সিম্পটমের আড়ালে ঢাকা পড়ে থাকে বছরের পর বছর। মেনোপজের পরে ক্রমাগত এনার্জির অভাব হতে থাকলে, পরীক্ষা করিয়ে আসুন, শরীরের অন্য কোনো লুকিয়ে থাকা সমস্যা রয়েছে কিনা।
এই সময় অনেকের ক্ষেত্রে, পারিবারিক নানা রকমের স্ট্রেস তৈরি হয়। যেমন, ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যৎ, হাজবেন্ডের চাকরিস্থলে ওঠানামা, হয় সাথের সাথী। নিজেদের আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং মুদ্রাস্মৃতির সঙ্গে লড়াই শুরু হয় এই বয়সেই। অল্প বয়সে অনেকেই এক্সারসাইজের মধ্যে থাকলেও, এবার আস্তে আস্তে মনে হয় যে, অনেক তো হলো এবার একটু আয়েশ করি, আর এত ব্যায়াম করে কী হবে?
আর ঠিক এই সময়ই গুটি গুটি পায়ে আসে, অসুখের হাতছানি। রিটায়ারমেন্ট যেন শুধু আপিস থেকেই হয়। স্বাস্থ্য থেকে নয়।
মানুষের যখন গড় আয়ু কম ছিল, তখন আমাদের খুব বেশী বছর সূর্যের আলো দেখতে হতো না।
কিন্তু এখন অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। মহিলারা মেনোপজের পরেও চূড়ান্তভাবে সফল হতে পারেন তাদের পারিবারিক এবং চাকরি জীবনে। আমাদের পেশেন্টের মধ্যেও ভুরি ভুরি প্রমাণ রয়েছে। যারা মেনোপজের পরে তাদের প্রফেশন স্টার্ট করেছেন এবং অতি উজ্জ্বল সাফল্যের অধিকারিণী হয়েছেন।
অর্থহীন কার্যকারণ খোঁজা বন্ধ করুন।
আশে পাশের মানুষদের বোঝানোর চেষ্টা করুন যে, মেনোপজের পরে সব সমস্যার কারণ মেনোপজ নয়। বিবাহিত হওয়ার পরে যেমন জীবনের সমস্যাগুলো শুধুমাত্র বিয়ের জন্য নয়।
বা ধরুন, একদিন সবার দশম জন্মদিন আসে। আমি যদি মনে করি, তার পরবর্তী সত্তর বছরের সমস্যা আমার দশম জন্মদিনের জন্য, তাহলে আর যাইহোক ব্যাপারটা চূড়ান্ত বোকা বোকা এবং খানিকটা হাস্যকরও বটে।
মেনোপজের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একই রকম ভাবে সত্য। আশেপাশের মানুষকে শিক্ষিত করুন। তাদের দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান যে, মেনোপজ মহিলাদের জীবনে অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
লীলা মজুমদার থেকে শুরু করে অপরা উইনফ্রী, মাদার টেরিজা থেকে শুরু করে ফ্লোরেন্স নাইটেঙ্গেল সবারই মেনোপজ হয়েছিল। তারপরেও তারা পৃথিবীকে অবিস্মরণীয়ভাবে প্রভাবিত করে গেছেন। করে যাচ্ছেন।
আশেপাশের মানুষজনকে প্রাণপণ বোঝাবার পরেও, তারা যদি মনে করতে থাকে আপনার সব রকম শারীরিক এবং মানসিক সমস্যার জন্য দায়ী মেনোপজ, তাহলে বোধহয় তাদের থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। আপনার নিজের জীবনে নিজেকে সম্মান আর শান্তি দেবার দ্বায়িত্ব আপনার নিজেরই।
সারা জীবন অনেকটা সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে পেরিয়ে এসে যাতে আপনি মেনোপজের পরের দশকগুলো আরও ভালোভাবে অতিবাহিত করতে পারেন, তার জন্য বিনিয়োগ করুন সময়।
করুন নিয়মিত এক্সারসাইজ, আপন করে নিন ঠিকঠাক খাদ্যাভ্যাস এবং নিজের মনে নিজেকে বলুন, life begins at 50।
This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice.
Search tool: Post Menopausal Bleeding Menopause Society Post Menopausal Stress



