জল - Superfood ?
পর্যাপ্ত জল খাবার জন্য দরকার টয়লেট আর নেলপলিশ। জলকে একদম জলের মতো চিনে নিন এখানে!
হাতে খালি ওয়াটার বটল। অন্য হাতে মোবাইল, পিঠে ল্যাপটপ ব্যাগ, ইন্টারভিউয়ের জন্য আজ অনভ্যস্ত শার্ট আর ট্রাউজার।
ঝিলমিল: নাহ একটু জল না পেলে আর চলছে না। সেই সকাল ছটা ছেচল্লিশের লোকালে চেপেছি। ঠা ঠা গরম। এখনও ইন্টারভিউ হতে এক ঘণ্টা বাকি। করিডোরে সার সার প্রফেসরদের চেম্বার। জল চাইতে গেলে যদি, ইন্টারভিউইয়ে নট করে দেয়? ওই একজন আসছেন, ওনাকেই জিজ্ঞেস করি বরং।
–স্যার একটু জল চাইছিলাম।
স্যার: আপনি কে?
ইন্টারভিউ দিতে এসেছি। ফিজিওলজির পার্ট টাইম নেবে তাই।
--বেশ, তাহলে কে জল চাইছে?
–আমি। মগজের ঘিলু আর গলা দুইই শুকিয়ে আসছে, হাত পা ঝিমঝিম করছে।
–এই বিদ্যে নিয়ে তুমি ইন্টারভিউ ক্র্যাক করবে? সেকন্ড চান্স দিচ্ছি। কে কে জল চাইছে? আঙ্গুল তুলে বলেন, স্যার।
–ওহ স্যার বুঝেছি ( স্যারের গলায় ঝোলান আইডি কার্ডের দিকে চোখ বুলিয়ে- ক্ষিতীশ বটব্যাল, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, ডিপার্টমেন্ট অফ ফিজিওলজি )। মাসল চাইছে স্যার, ব্রেন চাইছে।
–পড়াশোনা কি কিছুই করেননি?
–ব্রেনের হাইপোথ্যালামাস।
–তোমার স্টুডেন্টরা বুঝবে হাইপোথ্যালামাস? আর চার নম্বরের প্রশ্ন, তোমাকে দিলাম ১, ডাহা ফেল।
--হাইপোথ্যালামাস একদম মাথার গর্ভগৃহ। আরও আছে, চোখের নার্ভ মাথার যেখান দিয়ে যায়, তার একটু সামনের প্রি-অপটিক এরিয়া বলে একটা জায়গা আর গলার ক্যারটিড আর্টেরি, আর কিছুমিছু চাইছে কিডনির অফিস।
--কি বিরক্তিকর ভাষা! ‘কিছুমিছু’ !! ওরা কি জানে, জল কী জিনিস?
--ওদের তো চোখ নেই, তাই রক্তের ঘনত্ব মেপেই জল মাপে ওরা। রক্ত গাঢ় হয়ে গেলেই জলতেষ্টা!
--এতক্ষণ লাগলো আসল কথাটা বলতে? বিরক্ত হয়ে বটব্যাল হাঁটা লাগান।
–ঘাট হয়েছে স্যার, জলটা কোথায় বলুন, আপনার সাথে কথা বলাই অন্যায় হয়েছে, বলে ঝিলমিল।
–যাহ্ চলে গেলেন? ওই একজন দাদু আসছেন, ওনাকেই জিজ্ঞেস করি।
–গুড আফটারনুন দাদু!
–কে তুমি! লিলি নাকি, তোমাকে MSc-তে পড়িয়েছিলাম না? বেহালায় বাড়ি তো তোমার? আমি তো এখন রিটায়ার করে গেছি।
–আমি ঝিলমিল স্যার! পার্ট টাইমের ইন্টারভিউ দিতে এসেছি। কৃষ্ণনগরে বাড়ি, জলের খোঁজ করছি।
--কৃষ্ণনগর ছেড়ে এসে এখানে জলের খোঁজ করছো? That’s funny! ওখানকার জল তো তোফা!
–কিন্তু আমি তো এখানেই জল চাইছি, এই দেখুন বটল খালি।
–এখানকার জল তো নোনতা, ভালো লাগবে না তোমার বাপু।
–তা হোক! একটু না হয় সোডিয়াম, জিংক আর ক্লোরাইড বেশী থাকলো, ড্রিঙ্কিং ওয়াটার তো, তাহলেই হবে। ঝকঝকে, ঠাণ্ডা, আর পরিস্রুত, তেষ্টা তো মিটবে!
--ব্যাস তাতেই হবে কি? এই বুদ্ধি নিয়ে ইন্টারভিউ দিতে এসেছ? আবার MSc-তে ভর্তি করে দিই তোমায়!
–উফফ! WHO-এর ড্রিঙ্কিং ওয়াটারের ক্রাইটেরিয়া বলেছেন, যে জলে কোলন বা পটির জীবাণু থাকবে না, ক্রিমির গুটলে ডিম থাকবে না, আর্সেনিক থেকে সীসা, পারদ থেকে নিকেল থাকবে না, ক্ষেত থেকে নদীতে চুইয়ে আসা রাসায়নিক সার, কারখানার কেমিক্যাল থাকবে না!
--তাহলে আর, তোমার এ পৃথিবীতে তোমার জল খাওয়া হবেই না!
–বলতে চাইছি থাকলেও, একটা নির্দিষ্ট লেভেলের নীচে থাকবে। মরেচে আবার এই লেভেলগুলো জিজ্ঞেস করবেন না যেন। WHO থেকে থেকেই এই লেভেলগুলো প্রায়ই চেঞ্জ করে।
–উত্তরগুলো অমন তাচ্ছিল্য করে বলার কি দরকার! আমি অমন ভালোবাসিনা লিলি! আমি চললাম।
--লিলি নয়, স্যার ঝিলমিল, ঝিলমিল। কতবার বলছি, হে ভগবান!
করিডোরের প্রফেসরের এক ঘরের দরজা খুলে, হাসিমুখ এক বৃদ্ধর। হাতে ফল ভর্তি গিফট ব্যাগ। দরজা আগলে জিজ্ঞেস করেন!
--কি হে! এত তর্কাতর্কি কিসের! আজ রিটায়ার্ড প্রফেসররা একসাথে হয়েছি আর করিডোরে কাক বসার জো নেই!
–না স্যার তর্ক নয়! আমি জল চাইছিলাম, আর উনি সাত-পাঁচ গল্প করতে থাকলেন, আঙ্গুল তুলে দেখায় ঝিলমিল।
–ওহ সরকার দা? দূর দূর! তুমি যেমন জিজ্ঞেস করার লোক পাওনি! ও হতভাগা জানেই বা কি, আর বলবেই বা কি! ওর ভাইটা আলিপুরে চাকরি করে, সে তো আরেকটা গাধা! সে তো বলে শুধু তেষ্টা পেলে তবেই জল খেতে হয়!
–বলছিলাম, কি একটু জল হবে হাতের কাছে?
--হাতেই আছে ! এই নাও খাও, আপেল ৮৬% জল, ব্যাগ থেকে আপেল বার করে ঝিলমিলকে অফার করেন। নয়ত দাঁড়াও, আরও ভালো আছে! স্ট্রবেরী খাও, ব্যাগ হাতরে স্ট্রবেরি বার করে বৃদ্ধ বলেন, এটায় ৯১% জল , আর হ্যাঁ এই আমের মধ্যে ৮০% জল। যত জল বেশী থাকবে, তত পেট ভরবে। আর তত কম ক্যালোরি!
--আহা অমন নয়! খাবার জল।
–একদম, হাতের কাছেই ! ঘরেই কফি মেশিন আছে, চা-ও পাওয়া যাবে। আজকেই গিফট পেয়েছি রেড ওয়াইন- পিনও নোয়া। ৯০% জল। ওয়াইনটা অবিশ্যি তোমার ম্যাডামের সঙ্গে খাবো, তোমায় দিতে পারলাম না।
--দিলেও খেতাম না। একটু বাদেই ইন্টারভিউ। আর চা-কফি তো এখন খাবোই না। ওতে যত জল আছে, তার থেকে বেশী শরীর থেকে বেড়িয়ে যায় ক্যাফিন খেলে! শেষমেশ তেষ্টা আরও বেড়ে যায়! শুধু একটু সাদা জল চাইছিলাম।
--দিলাম তো তোমাকে, খাচ্ছই না। তোমার কাজ না থাকলেও, আমাদের কাজ থাকতে পারে তো? যাও, যাও, মেলা বকিও না।
‒একেবারে অপদার্থের একশেষ! কেবল এখানে দাঁড়িয়ে চিৎকার করো না! সশব্দে দরজা বন্ধ করে দেন বৃদ্ধ!
–নাহ আর এখানে জল চেয়ে কাজ নেই, দেখি ক্যান্টিন টাইপের কিছু আছে কিনা, স্বগতোক্তি করে ঝিলমিল!
–আচ্ছা ম্যাডাম, ইন্টারভিউটা কোথায় হচ্ছে জানেন কি? পেছন থেকে আওয়াজ আসে সুবেশ যুবকের। গলায় স্টেথো
--আপনিও ইন্টারভিউ? এই মরেচে! মনে মনে বলে ঝিলমিল। গোলায় স্টেথো ঝুলিয়ে ডাক্তাররাও যদি পার্ট টাইম ফিজিওলজি জবের জন্য অ্যাপ্লাই করে, তাহলে তো কোনো সম্ভাবনাই নেই চাকরির।
--আমি ও এসেছি ইন্টারভিউ দিতে, এখানেই হবে কোথাও, এখনও খোঁজ করিনি, বাই দ্যা ওয়ে, খাবার জল কোথায় পাই বলতে পারবেন? বলে ঝিলমিল।
–কতখানি desperate আপনি জল খেতে! ব্লাড প্রেশার ফল করছে কি? রক্তে লবণের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে বুকে প্যাল্পিটেশন হচ্ছে? খুব ভয়ঙ্কর ব্যাপার? সিভিয়ার ডিহাইড্রেশন?
--না না! অমন অন্তিম পর্যায়ের ডিহাইড্রেশনের মত অত ভয়ঙ্কর নয়।
--তাহলে তার আগের পর্যায়? মিডিয়াম ডি-হাইড্রেশন? জলের অভাবে কিডনি ইউরিন তৈরি করা বন্ধ করে দিয়েছে? হাগুর জলও শরীর টেনে নিয়েছে? প্রচণ্ড কন্সটিপেশন? শরীর শুকিয়ে লবণের তারতম্য হওয়ায় প্রলাপ বকছেন? মাঝারি সমস্যা?
-উফফ না! ততটাও নয়।
--তাহলে তারও আগের পর্যায়ের ডিহাইড্রেশন? মাইল্ড ডিহাইড্রেশন? মাথা ব্যাথা ? dehydration headache? যেটাকে বাঙালি ‘গ্যাস’ বলে? মেজাজ খিটখিটে ? ব্রেন সেল shrink করে যাচ্ছে? আর ব্রেনের ইলেকট্রিক অ্যাক্টিভিটি এদিক ওদিক fire হয়ে যাচ্ছে?
--হ্যাঁ ঠিক।
--তাহলে আপনার জল খাওয়া দরকার।
--আরে বাবা সেটাই তো বলছি এতক্ষণ, জলই তো খুঁজছি!
--দেখুন সমস্যা ডায়াগনোসিস হয়ে গেছে, যে জলের অভাবটা আপনার একদম প্রাথমিক পর্যায়। মিলে গেল তো!
--ডায়াগনোসিসের বদলে জল মিললেই খুশি হতাম। ঠিক আছে আপনি এখন আপনার গন্তব্যে এগোন। আর আমি দেখি এই করিডোর পেরোবার আগে যেন, আমার হার্টে চাপ না পরে।
আতঙ্কে দৌড় লাগায় ঝিলমিল। ওই তো একটা জলের মেশিন।
–-যাহ্ সেও তো বিকল!
করিডোরের ওপারে ফ্যাকাল্টি রুমের হাফ-সুইং ডোর ঠেলে খুলে হাফাতে হাফাতে বলে ঝিলমিল। সামনে এক ম্যাডাম,
--ম্যাডাম, জল আছে?
২-৩ জনের ক্লাস নিচ্ছিলেন ম্যাডাম। স্মিত হেসে বলেন,
-কে তুমি, নন্দিনী?
–ঝিলমিল নাম আমার!
–এতও লেটে এলে, আমার লিস্টে তো তোমার নাম নেই। তাহলেও, একটু বোসই না হয়।
-না না ম্যাডাম, আমি বসব কিন্তু একটু জল দিন আগে।
-সুরঞ্জন, ঝিলমিলকে এক গ্লাস জল দাও তো প্লিজ।-ততক্ষণ বলতো ঝিলমিল, তাপমাত্রা ঝপ করে কমিয়ে দিলে, গরম জল তাড়াতাড়ি বরফ হয় নাকি, ঘরের জল তাড়াতাড়ি বরফ হয়, ট্রিক কোশ্চেন কিন্তু!
-ততক্ষণ বলতো ঝিলমিল, তাপমাত্রা ঝপ করে কমিয়ে দিলে গরম জল তাড়াতাড়ি বরফ হয় নাক , ঘরের জল তাড়াতাড়ি বরফ হয় - ট্রিক কোশ্চেন কিন্তু!
--জানি না ম্যাডাম, আপনি বলবেন ? আমি শুনি।
--গরম জল! অবাক করে উত্তর বলেন ম্যাডাম।
জল এনে সুরঞ্জন দেয় ঝিলমিলকে।
--থ্যাংক ইউ সুরঞ্জন, কিন্তু ম্যাডাম, কেন? হাতে জল নিয়ে বলে ঝিলমিল বলে।
--কেউ জানে না! ইনফ্যাক্ট জলের অনেক কিছুই ধোঁয়াশা! পৃথিবীর যত জল সব মহাজাগতিয় গ্রহাণু থেকে আসা। সে অর্থে সব জল বিদেশি ! জলের capillary টান এতোই বেশী যে, সেটা মাধ্যাকর্ষণকে হারিয়ে জলকে ঊর্ধ্বগামী করে। তাল গাছের মাথায় পৌঁছে যায় জল, তিলে তিলে। রহস্যজনক আর রহস্যময়। বাই দ্যা ওয়ে, ঝিলমিল তুমি যেখানে বসে আছ সেটা ডিপার্টমেন্ট অফ ফিজিক্স, আর তোমার ইন্টারভিউ করিডোরের ওই পাশে।ঢকঢক করে জল খেয়ে ঝিলমিলের চোখ বড়বড়।
--আপনি যে আমাকে নন্দি..…?
--যাও যাও সবাই বসে আছে, হেসে বলেন ম্যাডাম।
এক দৌড়ে আবার ফিজিওলজি ডিপার্টমেন্টে ঝিলমিল।
--এসো ঝিলমিল।
ইন্টারভিউয়ের ঘরে অবাক হবার পালা ঝিলমিলের।
ক্ষিতীশ বটব্যাল, সরকার, ফল ভর্তি ব্যাগের বৃদ্ধ, মায় স্টেথো গলায় ডাক্তার বসে আছেন সারি সারি। সাথে ফিজিওলজির হেড বীণা মার্জিত।
সামনের কাঁচের গ্লাসে জল ঢালতে ঢালতে বলেন আবার ডাঃ মার্জিত।
--এসো, বসো।
-মানে-হ ?
-মানেটা জলের মত পরিষ্কার। ইন্টারভিউ তো তোমার হয়েই গেছে। আর তুমিই সিলেক্টেড। বসো এবার গল্প করি। আর এই নাও জল।
স্বাদহীন , গন্ধহীন, বর্ণহীন এবং চরিত্রহীন তো বটেই। যেখানেই রাখবেন তারই চরিত্র বা আকার ধারণ করবেন আমাদের হিরো জল।
পৃথিবীর সত্তর শতাংশই জল। মানুষের শরীরেরও তাই। বয়স হলে আনুপাতিক হারে জলের পরিমাণ শরীরে কমে যায় ঠিকই, কিন্তু তাহলেও শরীরের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই জল।
ঘাম, ইউরিন, পিত্ত (bile) এসব দিয়ে শরীরের বর্জ্য পদার্থকে বাইরে ফেলে দেওয়া জলেরই প্রধান কাজ। শরীরের তাপমাত্রা আর লবণের ভারসাম্য রক্ষা করে জল। হাড়ের জয়েন্ট, মাসেলের কাজ, হার্টের পাম্প আর মস্তিষ্কের কর্ম ক্ষমতা নিয়ন্ত্রিত হয় জলের হাতেই।
জল যথেষ্ট না খেলে যেটা বাড়বে, সেটা হল হাসপাতালের বিল। হয়তো আজকে নয়, বছর দশেক বাদে।
জল কতখানি খেতে হবে এই ব্যাপারে কথা বলতে গেলেই, নানা রকম বিতর্ক এত ওঠে যে ধুলোয় ঢাকা পড়ে যায় আসল বার্তা যে, যথেষ্ট জল খাওয়া উচিত।
আমেরিকার ন্যাশনাল অ্যাকাডেমিক অফ সায়েন্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড মেডিসিন একজন পুরুষের শরীরে দৈনিক জলের রিকোয়ারমেন্ট ধার্য করেছেন ৩.৭ লিটার আর মহিলাদের ক্ষেত্রে ২.৭ লিটার। এখানেই তর্ক শুরু হবে। আমেরিকানরা আমাদের থেকে অনেক বেশী লম্বা-চওড়া। তাই আমাদেরও কি অতখানি জল খাওয়া দরকার।
অবশ্যই জলের পরিমাপ, মানুষের শরীরের ওজন, তার পরিবেশের তাপমাত্রা কতখানি ঘাম হচ্ছে, এসিতে বসে আছেন কিনা, এসব নানা কন্ডিশনের ওপর নির্ভর করে। একদম বাচ্চা আর একদম বৃদ্ধদের জলের রিকোয়ারমেন্ট অপেক্ষাকৃত কম হয়। তবে মিলিলিটার হিসেব করে বলা সম্ভব নয় যে, কতখানি জল আমাদের সত্যি সত্যি দৈনিক দরকার।
দৈনিক জলের চাহিদা দৈনিক তো বটেই, এমনকি ঘন্টায় ঘন্টায় পাল্টাতে থাকে। কখন বুঝবেন আপনার শরীরের জলের প্রয়োজন যথেষ্ট? যখন আপনি মনে করবেন যে, আপনি আর তৃষ্ণার্ত বোধ করছেন না বা সপ্তাহে একবার দু’বারের বেশী আপনি তৃষ্ণার্তবোধ করছেন না, তার মানে আপনার শরীরে যথেষ্ট জল যাচ্ছে। যদি ইউরিনের কালার একদম বর্ণহীন হয় বা একদম হালকা হলুদ, তাহলেও আপনার জলের প্রয়োজন আপনি ঠিক সময় মিটিয়ে দিচ্ছেন।
যা বলেছি বিতর্কে শেষ নেই! হালকা হলুদ হলে কত হালকা হলুদ? ক্রায়োলা লেমন ইয়েলো নাকি, সাইবার ইয়েলো? টয়লেটে তো আর আপনি এশিয়ান পেইন্টসের শেডের কার্ড নিয়ে যাবেন না।
হালকা হলুদ হল সেই হলুদ, যেটা আপনার সাদা প্যানে ইউরিন করার পরে মনোযোগ দিয়ে বুঝতে হয় এটা কি সত্যিই হলুদ নাকি, একদম সাদা। যদি এক নজরেই হলুদ লাগে, তবে সেটা বোধ হয় আর হালকা নয়, পুরো হলুদ।
তবে জল খাওয়ার জন্য যেটা সবচেয়ে বেশী দরকার সেটা হল, ভালো টয়লেট আর নেলপালিশ।
আশেপাশে ভালো টয়লেট থাকলে যে জল খেতে আর মনে বাধা আসবে না। সে ব্যাপারটা সবাই জানেন, কিন্তু নেলপলিশ?
দিনের শেষে আপনি কতখানি জল খেতে পেরেছেন, সেই ব্যাপারে হয়তো আপনি সহজেই বিভ্রান্ত হয়ে যাবেন। কিন্তু, তিনটি আলাদা জলের বোতলে যদি নেলপালিশ দিয়ে নামের আদ্যাক্ষর লিখে রাখেন, তাহলে দিনের শেষে আর বুঝতে অসুবিধা হবে না কোনো বোতল থেকে আপনি কতখানি জল খেয়েছেন, শরীরের দিকে কতখানি দায়িত্বশীল ভাবে যত্ন নিতে পেরেছেন।
অবাক জলপান বলে কিছু থাকতে পরে। কিন্তু, অতিরিক্ত জলপান কী কিছু আছে? জল খেয়ে নিজেকে মেরে ফেলা যায় না। যদি না কেউ Psychogenic polydipsia বলে একধরনের মানসিক রোগী না হন, বা রিক্রিয়েশনাল ড্রাগ কেউ ব্যবহার না করেন। সুতরাং, গড়পড়তা মানুষের এমন বিপদের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
অবশ্য হার্ট বা কিডনির সমস্যা থাকলে, চিকিৎসক অনেক সময় জলের দৈনিক বরাদ্দ নির্ধারণ করে দিয়ে থাকেন। ডাক্তার যদি আপনার জল না মেপে দিয়ে থাকেন, তাহলে অতি অবশ্যই জল পান করুন মন ভরে। এর থেকে স্বাস্থ্যকর পানীয় আর নেই সারা পৃথিবীতে।
কৃতজ্ঞতা স্বীকার: সুধীজন নিজ গুণে নিশ্চয়ই বুঝে ফেলেছেন এই লেখার ভূমিকা আসলে সুকুমার রায়ের ‘ অবাক জলপান ‘ এর আদলে লেখা। জলকে এমন জলের মতো বোঝাতে বোধকরি আর কেউ পারেননি।
পু: ঝিলমিল আর গলায় স্টেথো কিছুদিন বাদে কফি খেতে গিয়েছিল। কেন? তা আমি জানি না!
This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice.
Search tool: Water WHO Palpitation Dehydration Dehydration Headache Urine Color Dieting







