ফাইব্রয়েড - অপারেশনের ট্রিটমেন্ট
ফাইব্রয়েড এর সার্জিকাল ট্রিটমেন্ট সাধারণত দুটো ভাগে ভাগ করা হয়। যখন সেই মহিলার ভবিষ্যৎ প্রেগনেন্সি নেওয়ার ইচ্ছা আছে। আর যে ক্ষেত্রে সেই ইচ্ছা নেই।
ফাইব্রয়েড এর সার্জিকাল ট্রিটমেন্ট
আশা করি ফাইব্রয়েডের মেডিক্যাল বা ওষুধের ট্রিটমেন্টগুলো আপনি পড়ে নিয়েছেন। যদি না পড়ে, থাকেন তাহলে এখানের লিংকে ক্লিক করে পড়ে, নিয়ে তারপর সার্জিক্যাল ট্রিটমেন্ট পড়তে পারেন।
যাইহোক, যদি মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট পড়ে থাকেন, তাহলে বুঝতেই পেরেছেন যে, এখনো পর্যন্ত বিজ্ঞান তেমন কিছু ভালো ওষুধ আবিষ্কার করতে পারেনি। যেটাতে ফাইব্রয়েড পুরো নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
যদিও ফাইব্রয়েড এর সিম্পটম গুলো কন্ট্রোলে রাখার জন্য কিছু ওষুধ রয়েছে।
আর হাতেগোনা কয়েকটা ওষুধ ফাইব্রয়েড এর সাইজ কমাতেও খানিকটা সাহায্য করে।
মোটের ওপর বলতে হলে ফাইব্রয়েড এর ট্রিটমেন্টে সার্জারি যতটা ভালো কাজ করে, মেডিসিন ততটা ভালো কাজ করে না।
যদিও কোন ধরনের সার্জারি করা হবে, তার গ্রহণযোগ্যতা, পেশেন্টের কোন ট্রিটমেন্ট পছন্দ হবে, আর ওনার কি ধরনের ট্রিটমেন্ট প্রয়োজন - সেটা পেশেন্টের সঙ্গে ডাক্তার বাবু সামনাসামনি কথা বললে, তবেই বুঝতে পারবেন।
ফাইব্রয়েড এর সার্জিকাল ট্রিটমেন্ট সাধারণত দুটো ভাগে ভাগ করা হয়।
1️⃣ যখন সেই মহিলার ভবিষ্যৎ প্রেগনেন্সি নেওয়ার ইচ্ছা আছে।
2️⃣ আর যে ক্ষেত্রে সেই ইচ্ছা নেই।
🎯 যে সমস্ত ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে প্রেগনেন্সির আর ইচ্ছে নেই সেটা আগে দেখে নেওয়া যাক।
এসব ক্ষেত্রে সমস্যাজনক ফাইব্রয়েডের ট্রিটমেন্টের রাস্তা ইউটেরাস বাদ দেওয়ার সার্জারি বা Hysterectomy। গবেষণায় প্রমাণ উপযুক্ত ক্ষেত্রে এই হিস্টেরেক্টমি পেশেন্টকে সবচেয়ে ভালো সিম্পটম কন্ট্রোল এবং সবচেয়ে ভালো মানসিক সন্তুষ্টি দেয়।
সারা পৃথিবীতে আর যে যে কারণে হিস্টেরেক্টমি করা হয় তার মধ্যে শীর্ষস্থান অধিকার করে ফাইব্রয়েড । যদিও এই হিস্টেরেক্টমি করা মানে ভবিষ্যতে আর ন্যাচারাল প্রেগনেন্সি হবে না।
হিস্টেরেক্টমির তিন রকম প্রভেদ রয়েছে।
তার মধ্যে প্রথম পছন্দ
➡️১) ভ্যাজাইনাল হিস্টেরেক্টমি। যেখানে নীচ দিয়েই সার্জারি আর তার পর ইউটেরাস ভ্যাজাইনা দিয়ে বের করা হয়। যদিও ফাইব্রয়েড এর সাইজ খুব বড় হলে বা মহিলাদের ভ্যাজাইনার পরিসর যথেষ্ট না হলে সেই ধরনের হিস্টেরেক্টমি মহিলাদের জন্য নিরাপদ নাও হতে পারে।
এরপরে ➡️২) ল্যাপরোস্কপিক (কী-হোল সার্জারি) হিস্টেরেক্টমি যেখানে পেট না কেটে ইউটেরাস এবং তার সাথে ফাইব্রয়েড বাদ দেয়া হয়। এতে পেটে সরু সরু ফুটো দিয়ে যন্ত্র ঢুকিয়ে সার্জারি হয়।
এক্ষেত্রেও যেহেতু পেট কাটা হচ্ছে না সেহেতু ফাইব্রয়েড এবং ইউটেরাস বের করার দুটো পদ্ধতি রয়েছে
➜ ক) যেখানে পেটের ওপর দিয়ে ল্যাপারস্কপি সার্জারির পরে ইউটেরাস, নিচের ভ্যাজাইনা দিয়ে বার করা হয়।
➜ খ) যেখানে ফাইব্রয়েড সহ ইউটেরাসকে পেটের মধ্যেই ছোট ছোট করে কেটে টুকরো করে ফেলা হয়। তারপর ল্যাপারোস্কপির জন্য তৈরি করা পেটের সরু ফুটোর একটি দিয়ে ইউটেরাসের টুকরোগুলো বের করে নেয়া হয়।
এই ধরনের পদ্ধতিকে বলা হয় মর্সেলেশন। এতে অনেক বড় বড় ফাইব্রয়েডও পেট না কেটে বার করা সম্ভব। যদিও আধুনিক গবেষণায় এই ধরনের পদ্ধতির নানান ঝুঁকি সামনে এসেছে।
আমরা ফাইব্রয়েডের সতর্কতা বিভাগে এই নিয়ে আলোচনা করেছি।
আর তৃতীয় ধরনের হিস্টেরেক্টমির প্রভেদ হলো ➡️ ৩) এবডোমিনাল হিস্টেরেক্টমি যেখানে পেটে ওপেন সার্জিকাল কাট দিয়ে ইউটেরাস এবং তার সংলগ্ন ফাইব্রয়েড টিউমার বাদ দেওয়া হয়।
এইতো গেল নানা ধরনের হিস্টেরেক্টমির প্রভেদ। এছাড়াও রোবট এসিস্টেড ল্যাপারস্কোপি হিস্টেরেক্টমি বলে এক ধরনের হিস্টেরেক্টমির নাম আপনারা শুনতে পাবেন।
পথের পাশের হোর্ডিং-এ বিজ্ঞাপন দেখতে পাবেন। যদিও এটা আলাদা কোন অপারেশন নয়। যদিও খরচ বেশি।
ল্যাপারোস্কোপি হিস্টেরেক্টমিরই একটি প্রকারভেদ যেখানে অপারেশনের কিছু কিছু যন্ত্র অ্যাসিস্ট্যান্ট ধরে থাকার বদলে যন্ত্রের সাহায্যে সেই ধরনের ইন্সট্রুমেন্ট ধরে রেখে অপারেশন করা হয়।
🎯 এরপর জেনে নিন নতুন ধরনের এক ধরনের অপারেশন। যার নাম মায়োমেকটমী (Myomectomy) । Myoma কথাটির অর্থ ফাইব্রয়েড। ectomy কথাটির অর্থ বাদ দেওয়া। এক্ষেত্রে ইউটেরাস পেটের ভেতরে রেখেই শুধুমাত্র ফাইব্রয়েড টুকুই বাদ দেয়া হয়। বুঝতেই পারছেন এ ধরনের অপারেশন যাদের ভবিষ্যৎ প্রেগনেন্সির প্ল্যান রয়েছে, সে ধরনের পেশেন্ট এর ক্ষেত্রেই সাধারণত করা হয়। Myomectomy অপারেশন করার সাধারণত তিন ধরনের পদ্ধতি রয়েছে।
➜ ক) যে ধরনের ফাইব্রয়েড ইউটেরাস এর দেওয়ালের বাইরের দিকে থাকে অর্থাৎ পেটের গহ্বরের দিকে মুখ করে থাকে সেই ধরনের ফাইব্রয়েডগুলো পেটের ভেতরে ক্যামেরা ঢুকিয়ে সামনে দেখা যায়। তাই ল্যাপরোস্কপি পদ্ধতিতে বার করে দেওয়া যায়।
➜ খ) ল্যাপরোস্কপি পদ্ধতিতে ফাইব্রয়েড টুকরো টুকরো করে বার করার পদ্ধতি (মর্সেলেশন) যদি সেই মহিলার জন্য অনুপযুক্ত হয় সেই ক্ষেত্রে ওপেন সার্জারি করে এই ফাইড্রয়েড বার করা হয়। তার নাম open Myomectomy।
➜ গ) আর কিছু ধরনের ফাইব্রয়েড থাকে ইউটেরাসের ভেতরের গহ্বরের দিকে মুখ করে থাকে। এই ধরনের ফাইব্রয়েড গুলো পেটের দিক থেকে ক্যামেরা ঢুকিয়ে বা ওপেন সার্জারি করে হাতে পাওয়া যায় না। এই ধরনের ফাইব্রয়েড গুলো বাদ দিতে হলে নিচের দিকে, ভ্যাজাইনা দিয়ে ইউটেরাসের মধ্যে ক্যামেরা ঢুকিয়ে ফাইব্রয়েড গুলো স্লাইস করে কেটে বাদ দেওয়া হয়।
এই ধরনের অপারেশনের নাম হিস্টেরোস্কোপিক মায়োমেকটমী (hysteroscopic myomectomy)।
মায়োমেকটমী অপারেশনে ইউটেরাস বাঁচিয়ে ফাইব্রয়েড বাদ দিয়ে দেওয়া সম্ভব। যদিও ভবিষ্যতে ফাইব্রয়েড ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকে।
কিছু ক্ষেত্রে, ইউটেরাসের দেওয়ালের মাংসপেশী আবার নতুন ফাইব্রয়েড তৈরি করে ফেলে। মায়োমেকটমী অপারেশনের পরেও এক তৃতীয়াংশ মহিলার নতুন করে ফাইব্রয়েড তৈরি হতে পারে ইউটেরাসের মধ্যে।
এছাড়াও মায়োমেকটমী অপারেশনের সময় প্রতি 200 জন মহিলার ক্ষেত্রে একজন মহিলার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণের জন্য এমার্জেন্সি হিস্টেরেক্টমি প্রয়োজন হতে পারে।
যদিও আজকাল অনেক ধরনের অ্যাডভান্স সার্জিক্যাল টেকনিক এবং কিছু ওষুধ, ইনজেকশন এর জন্য এই ধরনের সমস্যা অনেকটাই কমিয়ে নিয়ে আসা সম্ভব হয়।
জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপের মতো এই ধরনের সার্জারিরও নানা ধরনের ভালো দিক এবং সাইডএফেক্ট রয়েছে।
সুতরাং ডাক্তার বাবুর সঙ্গে আলোচনা করে নিজে সিদ্ধান্ত নিন- যে, কোন ধরনের ট্রিটমেন্ট আপনার জন্য সবথেকে ভালো হবে।
This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice.
Search tool: Fibroids Fibroid Surgical Treatment Hysterectomy Laparoscopy Surgery Morcellation Myomectomy Open Myomectomy Hysteroscopic Myomectomy Advanced Surgical





