হ য ব র ল
লাইটস , সাউন্ড, একশন : এক ইডেন গার্ডেন্স ভর্তি প্রাণবন্ত কর্মঠ মহিলা টুপ্ টাপ করে গায়েব হয়ে যাচ্ছেন । তার রেট টাও জানা আছে, ঘন্টায় ৮ জন।
১৯৯৯ এর ইডেন গার্ডেন্সের সেই ব্যাপারটা কি মনে আছে? আচ্ছা, মনে না হয় নাই থাকলো। যদি অন্য কোনোদিন ওখানে গিয়ে থাকেন বা বোকাবাক্সে কোনো খেলা দেখে থাকেন, কত্ত লোক সেখানে ধরে বলুন তো? একদম মেলা তাই না?
আগে তো শুনেছি, একলাখ কুড়ি হাজার ধরতো। এখন নাকি নিরাপত্তার কারণে সাকুল্যে ৭০ হাজার। আচ্ছা তাই সই।
এবার ভাবুন পুরুষ, বাচ্চা সব বাদ। পুরো ইডেন গার্ডেন্স কানায় কানায় ভর্তি শুধু মহিলা দিয়ে। লাইটস , সাউন্ড, অ্যাকশন: এক গার্ডেন্স ভর্তি প্রাণবন্ত কর্মঠ মহিলা টুপ্ টাপ করে গায়েব হয়ে যাচ্ছেন। তার রেট টাও জানা আছে, ঘন্টায় ৮ জন।
রবিবার সকালে চা খেয়ে, খবরের কাগজ পরে, ‘কি গো বাজারের থলেটা দাও’ বলতে বলতেই ৮ জন। আপিস শেষে, বৌবাজার থেকে হেঁটে মুখরুচি থেকে হালকা একটা মোচার চপ খেয়ে বারাকপুর পৌঁছতে আরও ৮ জন। সোমবার সকালে গড়িয়া থেকে জ্যাম জেলি পেরিয়ে, সেক্টর ফাইভে টেবিলে লাঞ্চ বাক্সটা রাখতে রাখতে আরও ৮ জন।
গলাটা একটু কেঁপে গিয়ে উনি খুব নার্ভাস ভাবে বললেন, কী বলছেন মশাই? স্টেডিয়াম তো ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে, ওনারা যাচ্ছেন কোথায়? ঠিক ধরেছেন। কেউ নদীর ধারে চিতায়, কেউ ইলেকট্রিক চুল্লিতে, কেউ বা গোরস্থানে।
পাড়ার লোকেরা জানছে হার্টের ব্যামো। ছ্যাঃ ছ্যাঃ ক্যান্সারের মরা কেউ বলে নাকি? বললে, বান্টির বিয়ে আর হবে কোনোদিনও? বাড়িতে শ্রাদ্ধে লোকই আসবে না। আর আমরা বসে ক্রিকেট ম্যাচ দেখছি। স্টেডিয়াম ফাঁকা হলে খবর হবে বা তাও হবে না কারণ, পরের বছর আবার এই ৬৭ হাজার মহিলার মৃত্যুমিছিল চলবে। যেরকম হয়ে চলছেই।
ওপাশ থেকে ছাগলটা বলল, ‘ততক্ষন গানটা চলুক না, হয় কিনা হয় পরে দেখা যাবে! ‘
প্রতি বছর ওই একলাখ কুড়ি জনের এটা হচ্ছে আর এটায় ভুগে ৬৭ হাজারের মৃত্যু মিছিল হচ্ছে। তাও এই তথ্য, ভারতের নাবালক ক্যান্সার রেজিস্ট্রি থেকে পাওয়া। উপরওয়ালাই জানেন সংখ্যাগুলো হয় তো, এর থেকেও ভয়ঙ্কর। এটা সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার।
শুধু আমাদের এই পেয়ারে জন্মভূমির কথা বলছি।
আচ্ছা খুব একটা বাজে তুলনা করা যাক। জালিয়ানওয়ালাবাগে কতজন মারা গিয়েছিল? কাশ্মীরে যেন প্রতি বছর কত ‘ক্যাজুয়ালটি’ হয়? ওসব খবর হয়? ইতিহাস বইয়ে জায়গা পায়? পার্লামেন্ট তোলপাড় হয়? সন্ধ্যাবেলা বোকাবাক্সের বিতর্ক দেখে রাতে জেলুসিল খেতে হয়।
সব মৃত্যুই দুঃখের। কিন্তু খবর হয় না এগুলো।
বল্লেই বলবেন, ওগুলো তো আটকে রেখে মারা। ওগুলো জেনোসাইড, ওগুলো সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই, তার সাথে তুলনা চলে? আর এই যে শুধুই মহিলা মরছে, উপায় থাকা সত্ত্বেও মরছে, এগুলো জেনোসাইড নয়! নাই বা মিললো সংজ্ঞার সাথে। এগুলো পুরোনো জন্মের পাপের ফসল, তাই তো? আমার অনেক শিক্ষিত বন্ধুদেরও বলতে শুনেছি, একাধিক শয্যাসঙ্গী না থাকলে তো সারভাইক্যাল ক্যান্সার হয় না! তাই আমার বৌ একদম সেফ।
হেল্থ ইকোনমিক্সের কচকচিতে না গিয়েও বলতে হচ্ছে গোল্ডস্টেইন সাহেব ২০১০ এ বলেছেন, এই সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারের কি ধ্বংসাত্মক প্রভাব পৃথিবীর অর্থনীতিতে। প্রাণশক্তিতে ভরপুর, উদ্যমী, কর্মঠ ৩০ থেকে ৬০ বছরের মহিলারা সাধারণত এই ক্যান্সারের শিকার। যে কোনো মৃত্যুতেই মানব সম্পদের প্রচন্ড অপচয় হয়। কিন্তু ওই যে বললাম, এই রোগের সাথে লড়াই করার জন্য খালি চাই মানুষের একটু সদিচ্ছা।
ভারতবর্ষে মহিলাদের প্রতি সম্মানে তো কোনোই খামতি নেই। তাঁদের মৃত্যুমিছিল থামানোর সব চেষ্টা চলেছে পুরোদমে। গোলাপি পতাকার ব্যানারে পাঁচ তারা হোটেলে মহিলা ক্যান্সারের বাণিজ্যিকীকরণ চলছে সারাক্ষণ। আর দৃঢ় পদক্ষেপে অল্প খরচে যে ক্যান্সারকে থামিয়ে রাখার প্রযুক্তি আমাদের হাতে চলে এসেছে, অনেক বছর আগে? সে নিয়ে কতটা হেলদোল আমাদের?
বলতে গেলে প্রায়শঃই শুনতে হয়, আকাশের দিকে তাকিয়ে চরম উদাসীন ভাবে কেউ বলছেন ‘গরম লাগে তো তিব্বত গেলেই পার’।
আফশোষ হয় কোথায় জানেন? সব ক্যান্সারে বিজ্ঞান এখনও এরকম কিছু আবিষ্কার করতে পারেনি। কিন্তু যেগুলোতে হয়েছে, তার মধ্যে ভয়ানক মারণ এই সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার। সেটা নিয়েই তেমন কিছু হয়ে উঠছে না। হোক না কিছু এবার!
ধনবান দেশগুলোতে যত আয়াশে এই সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারকে পরাস্ত করা গেছে, আমরা তা পারবো না। রামধনুর যে কোনো রঙের সরকার এলেও, এ যুদ্ধ জেতা সম্ভব না। বন্ধ হোক উপসর্গের অপেক্ষায় দিন গোনা।
আসল কথা হল, রোগ-লক্ষণহীনা সুস্থ মহিলাদের নিয়মিত প্যাপ স্মিয়ারে যে প্রাক-ক্যান্সার বা ক্যান্সার নির্ণয় হয়, তার চিকিৎসা সম্ভব অনেক ভালোভাবে, অনেক সুলভে। উপসর্গ ভিত্তিক নির্ণয়ের অপেক্ষায় থাকলে, নিরাময় হয়ে যায় দুর অস্ত। ঘটিবাটি বিক্রি করলেও নয়।
এই বিশাল দেশে অন্তত কিছু সচেতন মানুষের প্রয়াস দরকার। সংসার চালানোর সঙ্গে চলুক এটাও। সচেতন হোক সবাই তার নিজের নিজের ছোট বৃত্তে।
হ জ ব র ল -র শেষ, পংক্তিটা আর না হয় নাই বল্লাম।
সঙ্গে রইলো সারভাইক্যাল স্মিয়ার নিয়ে অল্প কিছু কথা: ক্লিক করুন এখানে!
This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice.
Search tool: Cervix Cervical Cancer Pap Smear Cancer




