#স্ক্রিনিং (প্রথম পর্ব)
‘কি বোকা ছিলাম আমি বলুন ডাক্তারবাবু, কোথায় চোখ- চশমা আর কোথায় সার্ভিক্স ক্যান্সার, দুটোর বিজ্ঞানই আলাদা। সব কিছুর জন্য কি একই নিয়ম খাটে ? (প্রথম পর্ব, বাকি পর্বের লিঙ্ক নিচে রইল )
ঠিক এই ভয়টাই পাচ্ছিলাম।
করোনা নিয়ে উত্তাল পৃথিবী আর সংবাদমাধ্যম।
আর ঠিক সেই ফাঁকে বাসরঘরে ফুটো।
পরীক্ষার দিন সবাই পড়ে। কিন্তু সারাবছর না পড়লে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না, সে সবাই জানে।
পেটব্যথা হলে ডাক্তার-বদ্যি সবাই করি। কিন্তু পেটব্যথা প্রতিরোধের জন্য যা করবো সেটা আরো ভালো নয় কি ?
করোনার কারণে ফিরে আসার সম্ভাবনা হচ্ছে নানা ক্যান্সারের।
সাম্প্রতিক তথ্যে প্রকাশ এক অদ্ভুত প্রবণতা।
সার্ভিক্স ক্যান্সার আর ব্রেস্ট ক্যান্সারের স্ক্রিনিং টেস্টের জন্য মহিলারা হাসপাতালে আসছেন না। আমেরিকার মতো দেশে ৮০% থেকে ৮৫% মহিলা এই টেস্টের জন্য আসেননি হাসপাতালে। দুদিন আগেই প্রকাশ পেয়েছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
সন্দেহ করা হচ্ছে ক্যান্সারের অন্যতম সফল প্রাণদায়ী হাতিয়ার স্ক্রিনিং টেস্টের জন্য মহিলারা হাসপাতালে আসতে গড়িমসি করেছেন করোনা আতঙ্কে। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের আশংকা এই মহিলাদের যথেষ্ট সচেতন না করা গেলে আগামী ২ থেকে ১৫ বছরে মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়ে যাবে এই ক্যান্সারগুলি।
এই স্ক্রিনিং টেস্ট কি ? এ অনেক লম্বা আলোচনা। সেই নিয়ে আগে অনেক কথা হয়েছে। একটা নির্লজ্জ তুলনা দিই?
বাড়িতে - অফিসে আগুন লাগলে দমকল আসে। কিন্তু ততক্ষনে ক্ষতি হয় যথেষ্ট। তাই আধুনিককালে বাড়ি - অফিস বিল্ডিং তৈরী হলেই আইন অনুযায়ী দমকল বিভাগ কে খবর দেওয়া বাধ্যতামূলক। ওঁনারা নিয়মিত ব্যবধানে এসে বিল্ডিং চেক আপ করে বলে দিয়ে যান, আগুন প্রতিরোধে কি কি করতে হবে।
যাঁরা বাড়ি তৈরী করেন তাঁরা সাধারণত এই ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেটের জন্য প্রচন্ড বিরক্ত থাকেন আর সরকার কে দোষারোপ করেন। অনেকে তো এমনও বলতে ছাড়েন না 'সবই পয়সা খাওয়ার বুদ্ধি' । ওঁনারা ভাবতেই পারেন না, তাঁর স্বপ্নের সৌধতে কোনোদিন আগুন লাগতে পারে।
তবুও করতে হয় কারণ আগুন লাগলেই যদি দমকল এলে কাজ হয়ে যেত তাহলে এসব না-পসন্দ কাজ করতেই হতো না।
সার্ভিক্স ক্যান্সারে দমকলবাবুরা বলে দেন এইখানে দাহ্য পদার্থ রয়েছে বা এইখানে ইলেক্ট্রিক তার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই এক্ষেত্রে আগুন প্রতিরোধ করা যায়। এটা সার্ভিক্স ক্যান্সারের স্ক্রিনিং।
স্তন ক্যান্সারে আগুন লাগার আগে তেমন জানা যায় না। তবে স্ফুলিঙ্গ তেই যদি নেভানো যায় তাহলে বড়ো ক্ষতির হাত থেকে বাঁচি। এটা ব্রেস্ট ক্যান্সারের স্ক্রিনিং।
সার্ভিক্স ক্যান্সার হবার আগে খুব সতর্ক থাকলে দেখা যায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সার্ভিক্স ক্যান্সার ৩ টি সুনির্দিষ্ট প্রাকক্যান্সারের স্তর পেরিয়ে তবে ক্যান্সার হয়। উপসর্গহীন প্রাকক্যান্সারের গতি অত্যন্ত ধীর কিন্তু ক্যান্সার হয়ে গেলে তার গতি হার মানায় অলিম্পিক দৌড়বীরকেও। শুধু ভারতে প্রতি ঘন্টায় ৬ থেকে ৮ জন মারা যাচ্ছেন এতে। তাই সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় নিৰ্দিষ্ট ব্যবধানে স্ক্রিনিং দরকার।
ব্রেস্ট ক্যান্সারে প্রাকক্যান্সার স্তর তেমন নেই। প্রতি ৮ জন মহিলার ১ জনের এই ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি আছে। তাই এর লক্ষ্য খুব প্রাথমিক স্তরে ক্যানসারকে আটকে দেওয়া।
দুটো ক্ষেত্রে লক্ষ্য এক। উপসর্গের আগেই চিকিৎসা শুরু করা। যেদিন প্রথম উপসর্গ আসে সেদিন যুদ্ধ হয়ে যায় অত্যন্ত কঠিন।
সব ক্যান্সারে কি এই স্ক্রিনিং এর সুবিধে আছে ? না নেই। হাতে গোনা কিছু মারণ ক্যান্সারে এই স্ক্রিনিং আছে। সার্ভিক্স, ব্রেস্ট আর কোলন ক্যান্সার।
প্রথম বিশ্বের দেশগুলোতে স্ক্রিনিং নিয়ম করে হয়। আমাদের উপমহাদেশে তো এমনিতেই এর চল নেই তেমন। স্ক্রিনিং এর কথা বলতে গিয়ে এমন প্রশ্নও শুনতে হয়েছে আমাকে, 'ডাক্তার বাবু চোখে পাওয়ার আসার আগেই চশমা পড়লে তো চোখেরই ক্ষতি' ! বাকরুদ্ধ হয়ে যাই। গলা ঠেলে উঠে আসে এক অমোঘ তুলনা। কিন্তু সামলে নিই, দোষের ভাগ তো আমার কাঁধেও এসে পরে।
সংযুক্তা কে বুঝিয়েছিলাম পুরোটা। ও কিন্তু বুঝেছিলো। নেহাৎ ভাগ্যের জোরে ওঁর মায়েরই সার্ভিক্স ক্যান্সার রোধ করে দেওয়া গিয়েছিলো কদিন বাদেই। ইকোনমিকসের ছাত্রী সংযুক্তা হাসপাতাল থেকে মা কে সুস্থ ভাবে নিয়ে যাবার সময় বলে যায় আমার সেই অব্যক্ত অমোঘ তুলনা।
‘কি বোকা ছিলাম আমি বলুন ডাক্তারবাবু, কোথায় চোখ- চশমা আর কোথায় সার্ভিক্স ক্যান্সার, দুটোর বিজ্ঞানই আলাদা। সব কিছুর জন্য কি একই নিয়ম খাটে ? রবীন্দ্রনাথ আর ছাগলের দাড়ি থাকা সত্বেও ছাগল যে কেন....' আমি জিব কেটে থামিয়ে দিই ওঁকে। আমি নিশ্চিত ওঁর পরিবার আরো অনেকের জীবন রক্ষা করে দেবে এই জীবনেই।
মনে হলো ওঁর পরিবার আর দেশের অর্থনীতিও যেন সংযুক্তার হাতে সুরক্ষিত।
ক্যান্সার হবার পর যদি ডাক্তার দেখালেই যদি সব চিকিৎসা সফল ভাবে কাজ করতো, তাহলে তো কোনো সমস্যাই ছিল না !
করোনার প্রচারে চাপা পরে যাচ্ছে ক্যান্সারের সচেতনতা। চিকিৎসক হিসেবে প্রায়ই দেখছি করোনাকালে কত মহিলার সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে অগোচরে। যা সামান্য চিকিৎসায় হয়ে যেত তার জন্যই লাগছে বড়ো চিকিৎসা।
নিজেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য রান্নার শেষে গ্যাসের নব চেক করেন তো ?
অন্তত রাতে সদর দরজার খিল চেক করেন কি ?
তাহলে সময় থাকতে একদিন স্ক্রিনিংয়ের কথাও ভাবুন।
না জানলে জিজ্ঞেস করুন , কিন্তু ভাবুন।
(আগুন আর ক্যান্সারের তুলনা যথেষ্ট হিংস্র। আগাম মাপ চেয়ে রাখলাম। কিন্তু বিশ্বাস করুন এর থেকে আর ভালো ভাষা কলমে এলো না)
ভাবছেন তো পুরুষ, মহিলা, সদ্যজাত নির্বিশেষে আপাতসুস্থ মানুষের জন্য কি কি স্ক্রিনিং টেস্ট করানো প্রয়োজন?
ক্রমশ…
#cancerprevention
#স্ক্রিনিং
দ্বিতীয় পর্ব (স্ক্রিনিং এর লিস্ট সহ )
This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice.
Search Tool: Screening HPV pap smear Test WHO Cost cutting Cost-cutting Costcutting India Breast cancer Colon cancer Occult bleeding mammography mammogram cancer prevention






