#পটি ( পর্ব ১ )
পিসি জামাকাপড় ভাঁজ করতে করতে ক্ষুণ্ণ স্বরে বলে, তোর না এই ডাক্তারি পড়াই কাল হয়েছে। একদিন তুই কত ভালো পার্ট করেছিলি অমল ও দইওয়ালাতে, আর এখন কিসব পিলে চমকানো কথা বলছিস। বাকি পর্বের লিঙ্ক নিচে।
- তুমি তো আর নীল আর্মস্ট্রং নও যে তোমার পটি রেখে আসতে হবে চাঁদে!
চোখ প্রায় কপালে তুলে পিসি বলে ওঠে,
-চাঁদে পটি না ছাদে পটি ? কি বলছিস ?
চাঁদ, চাঁদমামায়!
আর্মস্ট্রং - এর ৪ ব্যাগ আর তার পরে এক এক করে নাকি ৯৬ ব্যাগ পটি হয়ে গেছে চাঁদে।
প্রথমটায় নিরুপায় হয়ে,
পরের গুলো শুনেছি খানিকটা গবেষণার খাতিরেই।
অন্তত তাই বলেছেন নাসা।
তবে সেঞ্চুরি করার আগে নাসা সেসব নামিয়ে আনতে চায়।
পিসি অবিশ্বাসের দৃষ্টি হেনে ঘাড় দোলায়!
- ছিঃছিঃ চাঁদে কেউ এসব রেখে আসে ?
- কেন তুমি দী-পু-দা গিয়ে জন্মদিন পালন করতে গিয়ে কি নিত্যকর্ম ব্যাগে পুরে এন্টালী নিয়ে আসো?
নাকি ভারতীয় রেল আনতে দেবে ?
তবে হ্যাঁ, তুমি ভারতীয় রেলে বসে কম্মো করলে সেটা রেলের দায়িত্ব। রেল সেটা সারা ভারত ছড়িয়ে আসবে। ষাট হাজার কিলোমিটার ট্র্যাক জুড়ে। অন্তত কিছু বছর আগে পর্যন্ত তাই করতো। প্লাটফর্মে করলে অবিশ্যি হাতে হাতকড়া।
পিসির এরপর মোক্ষম প্রশ্ন!
জোছনা রাতে চান্দ্রেয়ী পটি যদি মাথায় এসে পরে ?
- সে গুড়ে বালি পিসি! মহাজাগতিক শক্তি সেসব পারমিশন দেবে না।
চাঁদ থেকে টেকঅফ করতেই পারবে না।
কিন্তু নাসা নিয়ে এসে করবে টা কি বলতে পারিস ? পিসির নাছোড় জিজ্ঞাসা!
- চাঁদ-ফেরত পটির চুলচেরা বিচার হবে।
দ্যাখো, মানুষের পটির অর্ধেকই জীবাণু।
নাসা দেখতে চায় যে ৫০ বছর সেই জীবাণুতে কি পরিবর্তন হলো। বাতাসহীন পরিবেশে, মহাজাগতিক রশ্মির ঘাত-প্রতিঘাতে সে কেমন আছে।
কোনো নচ্ছার জীবাণু বেঁচে থাকলে সেটাকে কোনোভাবে তোমার আমার কাজে লাগানো যায় কিনা!
কোনো শুদ্ধ এন্টিবায়োটিক তৈরী হয় কিনা তাকে দিয়ে। বা মঙ্গলে আলু চাষের সার তৈরী করা যায় কিনা।
পিসি প্রায় আর্তনাদ করে বলে ওঠে, ওমাগো, পটির নোংরা জীবাণু দিয়ে আলুচাষ ? কি বলিস রে তুই অলক্ষুণে কথা। আমি তো ছোট ঘর থেকে চান না করে বেরোইই না।
- উঁহু পটির জীবাণুকে হ্যাটা করো না। ওনারা না থাকলে তুমি আমি নিকেশ হয়ে যেতাম। পেটে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন জীবাণু দিন রাত কাজ করে কতোই না ভিটামিন দেয়, রোগ প্রতিরোধ শক্তি দেয়। এমনকি ক্যান্সার প্রতিরোধেও সাহায্য করে।
পিসি জামাকাপড় ভাঁজ করতে করতে ক্ষুণ্ণ স্বরে বলে, তোর না এই ডাক্তারি পড়াই কাল হয়েছে, তুই কত ভালো পার্ট করেছিলি অমল ও দইওয়ালাতে আর এখন কিসব পিলে চমকানো কথা বলছিস।
তোর কোনো কান্ডজ্ঞান আছে খাওয়া খরচ নিয়ে ? আমি, পিসে আর বুল্টির মার জন্য দৈনিক বাজার আর রান্না করেই হাঁপিয়ে যাই। জীবাণুগুলো তো খাবে, নাকি ? সব আজগুবি ব্যাপার।
- কিন্তু পিসি, তুমি যা রান্না করো তার অর্ধেকই তোমার হজম হয় না, সেই খাবারে মোচ্ছব চলে জীবাণুদের। ভালোই চলে। সে ডাইনিং রুমের নাম কি জানো ?
তার নাম কোলন!
সে ঘরটাকে ঘর না বলে একটা রাস্তা বলাই ভালো। সেই রাস্তা দিয়ে নেচে নেচে পটি যায়। পটির রাস্তা।
এইবার চেনা টপিক পেয়ে বাউন্ডারি হাঁকাতে উদ্যত হয় পিসি!
হ্যাঁ হ্যাঁ আমি জানি, রেক্টাম। সেটাই তো ? নিতাইয়ের রেক্টামে পাইলস হয়েছিল না?
- আঃ পিসি! রেক্টামে পাইলস হয় না। তুমি তো কোলন, রেক্টাম সব গুলিয়ে ফেলেছো।
ধমকে উঠল পিসি! শোন তুই বেশি বকিস না!
বাঙালির পটির রাস্তা মানেই রেক্টাম।
- একদমই না। তুমি গোলবাড়ির কষা মাংস কবে খেয়েছো?
- কোথায় রেক্টাম আর কোথায় কষা! প্রায় দাঁত কিড়মিড় করে পিসি।
- না পিসি, আজ যা জিভে, পরশু সেটাই পেছনে।
হাল ছেড়ে দিয়ে পিসি বলে, তুই না একদম পাগলে গেছিস।
না রে এখন আর শ্যামবাজার যাওয়া হয় না।
- আচ্ছা ধরো শ্যামবাজারের কষা মাংস খেয়ে তুমি ভূপেন বোস এভিনিউ এ ঢুকলে।
- ঢুকলাম।
- তারপর যতীন্দ্র মোহন এভিনিউ!
- গেলুম।
- ঢোকো এবার গিরিশ পার্ক রোড!
- ঢুকলাম।
- তারপর চিত্তরঞ্জন এভিনিউ!
- হলো রে বাবা হলো!
- এরপর চৌরঙ্গী রোড! বিখ্যাত কে সি দাশের মিষ্টির দোকানের পাশ দিয়ে সোওজা….
- উফফ বড্ডো বোর করছিস তুই আজ।
- এর পর আশুতোষ মুখুজ্জে রোড!
- তুই তো এক রাস্তা দিয়েই যাচ্ছিস রে!
- এরপর শ্যামাপ্রসাদ মুখুজ্জে রোড!
- ব্যাস, থাম তুই। একই রাস্তা দিয়ে নাক বরাবর যাচ্ছিস।
- সেটাই তো রহস্য পিসি!
- তুমি খোদ কলকাতার মেয়ে । তাই বুঝে যাচ্ছ যে একই রাস্তা নাম পরিবর্তন করে এগিয়ে যাচ্ছে,
কিন্তু কেউ যদি ঢাকা বা রাজস্থান থেকে আসেন তাহলে তিনি কি ভাববেন? এগুলো আলাদা রাস্তা। তাই না ?
- মানুষের পটির রাস্তাও ঠিক এমন,
ঠোঁট , মুখ, গলা , খাদ্যনালী , পাকস্থলী, ডুওডেনাম, জেজুনাম, ইলিয়াম, কোলন , রেকটাম, এনাল ক্যানাল থেকে বেরিয়ে একদম ৪৪ নং পদ্মপুকুর রোডের দোতালার টয়লেট!
তুমিও ভাববে ঠোঁট আর এনাল ক্যানাল বোধহয় কত দূর। কিন্তু সব একই রাস্তা, শুধু নাম আলাদা। পাইলস হয় এনাল ক্যানালের মুখে, একদম বেরোবার রাস্তায়।
পিসি চোখ পাকিয়ে বলে, তাহলে লিভার পিলে এসব কি ?
- লিভার আর প্যানক্রিয়াস বলো, প্লীহা তো রক্তের অংশ।
- হ্যাঁ ওই হলো!
- লিভার আর প্যানক্রিয়াস হলো একধরণের গ্ল্যান্ড যেখান থেকে নানা রস এসে মেশে পটির রাস্তায়,
এই যেমন ধরো চৌরঙ্গীতে যাবার সময় কেসি দাশের দোকান থেকে তোমাকে রাস্তায় খাবার জন্য কেউ যদি মিষ্টি দিয়ে যায়, এই আর কি!
মিষ্টির কথা শুনেই পিসি চনমনে সুরে বলে, দ্যাখ কেসি দাশের প্যাকেট কিন্তু আছে! পুজো করেই তোকে প্রসাদ দিচ্ছি।
- তবে শক্ত শক্ত নামের যতই রস আসুক, অনেক খাবার হজমই হয় না।
- তুই আগে জীবাণুগুলোর কথা আরেকটু বল দেখি, কত ঢপ শিখেছিস দেখি।
- শ্যামাপ্রসাদ মুখুজ্জে রোড কেমন একটু খোলামেলা তাই না পিসি?
পিসি ঘাড় নাড়ে, হ্যাঁ তা বটে।
- কোলনও তেমনি বেশ চওড়া। এইখানে পটি থাকে অনেকক্ষণ, আর ওই ট্রিলিয়ন জীবাণু তোমার না হজম করা খাবারে করে মোচ্ছব।
জীবাণুগুলো যদিও অকৃতজ্ঞ নয়, তোমাকে ভাড়া দেয় অনেক ভিটামিন।
আর পটির শুরুটা তরল । কোলনে পটিটা থাকতে থাকতে তরল থেকে একটু একটু করে জমাট বাঁধে। যাতে আমাদের পটি কন্ট্রোল করতে সুবিধে হয়। পটি খুব তরল হলে কিন্তু মুশকিল।
যাকে বলে টাইপ ৭ পটি। একটা হ্যাঁচ্চো হলেই প্যান্ট ভিজে যাবে।
পিসি একটু নাক সিঁটকে বলে, তোর মুখে কিছু আটকায় না। একটু জল খেয়ে মাথা ঠান্ডা কর!
- হ্যাঁ জল দাও একটু। জল খাওয়া তো ভালো। কারণ কোলন থেকে শরীর পটির বাড়তি জল শুষে নিয়ে সেই জল বাকি কাজে ব্যাবহার করতে পারে। শরীরে জলের অভাব হলেই পটি হবে খটখটে আর ৪৪ নং পদ্মপুকুর রোডের দোতালার টয়লেট থেকে সকালে বেরোবে আর্তনাদ।
জলের বোতল আমায় দিয়ে পিসি বলে তুই একটুস রেস্ট নে। আমি বরং তোর ৪৪ নং এর টয়লেট থেকে ঘুরে আসি। ঐসব জীবাণুর জন্য আমি একদম পটির পর স্নান করে বেরোই।
- তা ভালো, তবে ১০০ বছর আগে ইংল্যান্ডে জন্ম হলে তুমি এসব বলতে পারতে না। জলের বেজায় কষ্ট। এমনিতেই ঠান্ডার দেশ। শীতে বরফ জমে পাইপ ফেটে যায়। অগত্যা কাগজ দিয়েই মোছো। যার নাম টিস্যু পেপার।
পিসির গলায় বিরক্তির সুর। হ্যাঁ হ্যাঁ জানি, ওসব ম্লেচ্ছদের কাগজ এখন এদেশেও বিক্রি হয়! যত্তসব!
- আমি বরং স্নান করে শুদ্ধ হয়ে আসি। পূজো করতে বেলা হল ।
- কিন্তু পিসি, তুমি শুদ্ধ কাকে বলছো তা আমি বুঝতে পারছিনা। যতখানি পটি তুমি ডাউনলোড করবে তার থেকে বেশি পটি তোমার পেটেই থেকে যাবে।
- যে মুখে তুমি জবাকুসুম সঙ্কাশং বলবে সেই মুখ থেকেই নাক বরাবর গেলেই পটির ভান্ডার। তোমার পেটে। ঠাকুর ঘরেও সেটা নিয়েই ঢুকবে।
পিসি হতোদ্যম হয়ে বলে ওঠে,
- উফফ তাহলে বলি, পরিষ্কার হয়ে আসবো!
- অতি উত্তম পিসি, আজকে আচারি চিকেন আছে তো মেনুতে ?
- আছে! বরাভয় কণ্ঠে পিসি বলে, কেসি দাশের মিষ্টি তারপর লাঞ্চ।
আমার আবার একটু বসে থাকলেই ঘুম পায়। পিসির ডাকে ঘুম ভাঙে। আয়রে খেয়ে নে।
(ক্রমশ…)
সব পর্বের লিঙ্ক
#পটি (পর্ব-১ )
#পটি (পর্ব-২ )
#পটি (শেষ পর্ব )
This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice.
Search Tool : Potty Bowel Laxative Lactulose Dulcolax Laxative Isphagula Constipation Color Piles Bleeding PR Blood with potty Paraffin colon types of stool Bristol Stool Chart Vomiting Peristalsis Flatus Wind Fart water Rectum Anus Oesophagus small bowel large bowel Duodenum Jejunum Ileum











