#পটি (শেষ পর্ব )
চেতনার রঙে যেমন পান্নার রং হয় তেমনি স্বাস্থ্যের রঙে বদলাতে পারে পটির রং। খাবারের রং তো হরবখত রাঙিয়ে দিয়ে যায় পটিকে। বাকি পর্বের লিঙ্ক নিচে।
- কি রে ঘুমিয়ে পড়লি নাকি ?
এই একটু চোখটা লেগে এসেছিল, উঠে বসে বলি
... এরপরের গল্প কিন্তু একটু ওষুধের কচকচানি! তুমি শুনলে বোর হয়ে যাবে না তো?
- আরে বলিস কি! আমার নিজের শরীরে কী ওষুধ ঢুকবে, তা জানার এমন সুযোগ হাতছাড়া করবো?
আচ্ছা শোনো তবে!
পটির গণ্ডাখানেক ওষুধ আছে ! তাদের কাজ কম বেশি এক হলেও, কাজ করার ধরণ কিন্তু বিলকুল আলাদা।
পটির রাস্তা ইরিটেট করে যে ওষুধ কাজ করে তাদের বলে স্টিমুলান্ট ল্যাক্সাটিভ। পটির রাস্তার গায়ে জ্বলুনি ধরিয়ে দেয়।
শরীর মনে করে এ ঠিক ভালো জিনিস নয়- বিষ। ফেলে দাও এই কেমিকেলকে নিচ দিয়ে। স্টিমুলেট করো পটির রাস্তাকে ।
তথাস্তু।
কেমিকেল তো বেরোলই, সাথে বেরোলো পটি। গ্যারান্টেড পটি ঘন্টা ছয়ের মধ্যে। ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ো, আর সকালে দারুন ডাউনলোড।
- ঠিক বলেছিস রে।
আমার কোমর ব্যাথায় এক্স-রে করার আগে ডাক্তার দিয়েছিলেন। বললেন পেট পরিষ্কার থাকলে ছবি ভালো হবে। ডালকোল্যাক্স। এখন নাম পাল্টে নাকি হয়ে গেছে ডালকোফ্লেক্স।
- এর আসল নাম জেনে রাখো পিসি। বিসাকোডিল। আমরা আবার জেনেরিক নামে ওষুধ চিনি - যাকে বলে কম্পোসিশন। সেনা, বিসাকোডিল, সোডিয়াম পিকোসালফেট - সব একই গ্রূপের।
- তুই বাপু, বড্ডো খটোমটো নাম বলছিস!
- ভারতীয় আর বাঙালিদের ওপর আমার অগাধ আস্থা। যদি তন্বিতমালবনরাজমালিকা আর কুঝ্বটিকা উচ্চারণ করতে পারো তবে তবে পিকোসালফেট তো শিশু !
তবে পিসি, সব থেকে বেশি যার কথা শুনলে অবাক হবে তার নাম ক্যাস্টর অয়েল।
শরৎচন্দ্রের সময়ের পটির ওষুধ।
আসলে এক ভেজিটেবল অয়েল। Ricinus Communis নামের এক গাছ থেকে হয়। এই গাছে রিসিন বলে একটা বিষ পাওয়া যায়।
যা নাকি বিষের রাজা সায়ানাইডের থেকেও ৬০০০ গুন বেশি বিষ।
আবার এই গাছকেই বোকা বানিয়ে তার ভালোটুকু নিয়ে ক্যাস্টর অয়েল।
ক্যাস্টর অয়েল শতকের পর শতক মানুষ কে আরাম দিয়েছে সকালে।
কিন্তু এত বাজে স্বাদ আর গন্ধ যে, এখন আর ব্যবহার হয় না বললেই চলে।
- সে যাই বলিস , বিসাকোডিল কাজ কিন্তু করেছিল দুর্দান্ত। কি শান্তি পেয়েছিলাম । এক্সরে করার আগেই কোমরে ব্যাথা উধাও ।
- পিসি, ভুলেও এই শর্টকাট নিও না ঘন ঘন ! মানুষ অনেক অনেক স্টিমুলান্ট ল্যাক্সাটিভ খেয়েছে এক কালে।
সকালে শান্তি।
কিন্তু এই ল্যাক্সাটিভ অনেকদিন ধরে খেলে পটির রাস্তা ক্ষত বিক্ষত হয়ে যায়।
হাজার হলেও এগুলো পটির রাস্তা কে বিরক্ত করে পটি করায়।
তাই একদিন দুদিন ঠিক আছে কিন্তু লম্বা সময় না খাওয়াই ভালো।
- এই মরেচে, আমার সব আনন্দে জল ঢেলে দিলি, তাহলে দরকার হলে পটি করব কি করে ?
-পিসি, ভয় পেয়ো না, উপায় আছে - খাও ফাইবার। ভেজিটেবিল আর ভুসি।
এর মধ্যে একটা নাম সবাই জানে।
তার নাম ইসবগুলের ভুষি।
পাউডার মত একটু খেলেই সেটা পেটের মধ্যে গিয়ে ফুলতে থাকে।
ফুলে ফুলে শেষ পর্যন্ত পটির রাস্তায় কনুই দিয়ে গুঁতো দিয়ে পেরিস্টলসিস কে বাড়িয়ে দেয়।
ট্রেন ভালো চলে। দু-তিনদিন পর থেকে মেলে আরাম।
তবে মনে রেখো, ইসবগুলের ভুষির সঙ্গে খাওয়া দরকার যথেষ্ট পরিমাণে জল।
এই জল থেকেই ইসবগুলের ভুষি ফুলতে থাকে।
একদম যদি শুকনো অবস্থায় খাওয়া যায় তাহলে ভুষি গলায় আটকে বিপত্তি হবে।
আর অল্প পরিমাণ জল খেলে ইসবগুল তার পাওনা জল নিয়ে নেবে শরীর থেকেই, তার ফলে পটি হয়ে যাবে আরো খটখটে শুকনো।
কোষ্ঠকাঠিন্য আরও বেড়ে যাবে।
তাই আশ্চর্যজনক ভাবে ভুষি আবার ডাইরিয়ার চিকিৎসা হিসেবেও ব্যবহার হয়।
- বলিস কি!
- আচ্ছা, ইসবগুল ফুলে ফুলে পেট ফেটে যাবে না তো!
- আজ্ঞে না, সেরকম পেট ফাটার সম্ভাবনা খুব কম। তবে এটাও ঠিক যে পটির রাস্তায় রোডব্লক থেকে থাকলে সেখানে জোর করে পটির ওষুধ খেলে এক্সিডেন্ট হতে পারে।
- ওমা বলিস কি ! ওখানেও রোডব্লক আর এক্সিডেন্ট?
- হ্যাঁ এটা খুব সাধারণ বুদ্ধি।
রাস্তা যদি বন্ধ থাকে সেখানে যদি তুমি জোর করে গাদাগাদি করে গাড়ির কনভয় ঢোকাও তাহলে এক্সিডেন্ট তো হতেই পারে।
তবে সাধারণভাবে রোডব্লক খুব সহজে হয় না। পটির নলে যদি টিউমার হয় বা পটির নলটা চাপে পড়ে যদি একদমই সংকুচিত হয়ে পড়ে তাহলে রোডব্লক হতে পারে।
কিছু সময় অবিশ্যি অনেকদিনের শুকনো পটি আটকে থাকলেও রোডব্লক হয়।
সেই জন্য ডাক্তারকে দিয়ে জোর করে টেলিফোনে পটির ওষুধ লিখিও না।
সামনাসামনি দেখালেও ডাক্তারের ভুল হতে পারে, কিন্তু সম্ভাবনা কম।
-কিন্তু ইসবগুল খাওয়ার তিনদিন পরে পায়খানা হবে এই ব্যাপারটা ঠিক ভাল লাগছে না।
আমার এখুনি ভালো পটি চাই।
সঙ্গে সঙ্গে রেজাল্ট।
-হ্যাঁ ঠিকই বলেছ পিসি, ইসবগুল সাধারণভাবে কোষ্ঠকাঠিন্য 'প্রতিরোধের' জন্য ব্যবহার হয়। একবার কোষ্ঠকাঠিন্য তৈরি হয়ে গেলে তখন কাজ করতে বেশ খানিকটা সময় নেয়।
- তাহলে তাড়াতাড়ি কাজ করার জন্য আর কিছু নেই?
- হ্যাঁ আছে বৈকি। এমন ওষুধ আছে যেটা দুই থেকে তিন ঘন্টার মধ্যেই কাজ করে যায়। কিন্তু সেটা কোনো ডাক্তার তোমাকে লিখে দেবেন না । শুধু মাত্র বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ডাক্তাররা এই ওষুধ খুব সাবধানে ব্যবহার করে থাকেন।
তার নাম অসমোটিক পারগেটিভ।
এই যেমন ধরো আমি পরের দিন তোমার কাছে এলে তুমি চিকেন কষা আর ফ্রাইড রাইস করলে।
করার আগে কিসমিসটা জলে যদি ভিজিয়ে রাখ তাহলে দেখতে পাবে সেই কিশমিশ এর মধ্যে অনেকটা জল ঢুকে কিসমিস ফুলে ঢোল গেছে।
এইরকমই কিছু কিছু কেমিক্যাল আছে যেইটা খেয়ে নিলে পরে সে যখন পটির রাস্তার মধ্যে দিয়ে যায় তখন সে রক্ত থেকে হু হু করে জল নিজের দিকে টেনে নেয়।
পটি হয়ে যায় পাতলা জলের মতো আর বেরিয়ে যায় তীর বেগে।
বেশ ছয় সাতবার পটি হয় । পটি রাস্তা একদম চকচকে ঝকঝকে পরিষ্কার হয়ে যায়।
- যা একটা কিছু বললেই আমি বিশ্বাস করে নেবো ?
আর শোন পরের দিন এলে স্যালাড দেব।
একদম মাংস - ফ্রায়েড রাইস নয় ।
পটির রাস্তা - তাও আবার কোনদিন ঝকঝকে হয় নাকি ?
- বিশ্বাস করো পিসি, আলবাত হয়।
এবং তার জন্যই এটা ডাক্তারদের খুব পছন্দের এক ধরনের ওষুধ।
ধরো পটির রাস্তা বা কোলনের একটা গোলমাল হয়েছে । ভেতরটা উঁকি দিয়ে দেখা দরকার যার নাম কোলোনোস্কোপি। লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে কেনা বিশ্ব বিখ্যাত কোম্পানির নরম ক্যামেরা পটির রাস্তার মধ্যে ঢুকিয়ে দেখলে সব অন্ধকার।
চারদিকে পটি আর পটি , তুমি কিছু দেখতে পেলে না।
আর সেই কোলোনোস্কোপির আগে যদি তুমি এই অসমোটিক ওষুধ দিয়ে দাও তাহলে কোলোনোস্কোপির ছবি উঠবে সুন্দর।
বড় পেটের অপারেশন এর আগেও এই ধরনের ওষুধ দেওয়া হয়।
কোন কারণে যদি পটির রাস্তায় সেলাই করার দরকার হয় তাহলে সেখানে পটি মাখামাখি থাকলে ইনফেকশনের সম্ভাবনা বেড়ে যায় অনেক গুণ।
যেহেতু অনেকখানি জলের সাথে অনেকখানি পটি হয় তার জন্য এই ওষুধগুলো খেলে পরে রক্তের লবণের পরিমাণ কমে যেতে পারে।
তার জন্য ফ্রিতে মিশিয়ে দেয়া হয় সোডিয়াম, পটাশিয়াম নানা লবণ।
এর জন্য এর আরেক নাম স্যালাইন পারগেটিভ।
- এটাতো শুনে খুব ভালো মনে হচ্ছে কিন্তু এগুলো তাহলে কেন আমরা রুটিন ভাবে খাইনা?
মাথা খারাপ? ভালো পটি হওয়ার চক্করে শরীরে লবণের ভারসাম্য নষ্ট করবে নাকি !
হার্ট- কিডনির অসুখ থাকলেও বেশ দেখে শুনে খাওয়া উচিত ।
- একটু কম ডোজে দেওয়া যায় না ? স্যালাইন পারগেটিভের সবই কি এরকম হাইপার ? এরকম মাথা গরম?
- একদম না! তোমার চেনা একটা নিস্তেজ স্যালাইন পারগেটিভ আছে। যার নাম হল গিয়ে মিল্ক অফ ম্যাগনেসিয়া !
এই ধরনের ওষুধগুলোর মধ্যে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ ভাব আছে। সেই জন্য এই ওষুধগুলো অনেক বেশী জনপ্রিয়ও বটে !
- মোদ্দা কথা যা বুঝলাম, এসব ওষুধ খেয়ে রাস্তা ঘাটে বেরোনো বেশ রিস্কি ব্যাপার।
তুই বরং আমায় এমন ওষুধ লিখে দে যাতে পটি বেশ নরম, সুন্দর হয়ে যায়!
- সুন্দর হওয়ার গ্যারান্টী দিতে পারছি না, তবে নরম হবে অবশ্যই।
তুমি স্টুল সফনার গ্রুপের ওষুধ খেয়ে দেখতে পারো।
পটি একদম মোলায়েম হয়। কারণ এই ওষুধটা কোলনে গিয়ে হালকা হালকা জল টেনে নিয়ে আসে আর পটি কে নরম করে। এমনকি যে পটি পেটের মধ্যে শুকনো হয়ে আছে, সেই পটিকেও একটু ধৈর্য ধরলেই নরম করে ফেলতে পারে।
এই গ্রুপের ওষুধের মধ্যে রয়েছে লিকুইড প্যারাফিন।
লিকুইড প্যারাফিন প্রায় বিংশ শতাব্দীর আশীর্বাদ। তৈরি হয় পেট্রোলিয়াম থেকে।
গ্যালন গ্যালন প্যারাফিন মানুষ গলাধঃকরণ করেছে সকালের শান্তির জন্য।
এখনো লিকুইড প্যারাফিন নানা ওষুধে ব্যবহার হয়।
তবে শুধু লিকুইড প্যারাফিন খেতে প্রচন্ড বদখৎ।
তার জন্য লিকুইড প্যারাফিন এর পরিমাণ কমিয়ে তার সঙ্গে অনেক সময় মিল্ক অফ ম্যাগনেসিয়া মিশিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়।
আর সাথে কড়া ফলের সুগন্ধ।
যাতে প্যারাফিন হয়ে যায় আরো বেশি গ্রহণযোগ্য।
গাড়ির ইঞ্জিন যেমন তেল পেলে কাজ করে ঠিক তেমনি ভাবে পায়খানার রাস্তা ও প্যারাফিন লুব্রিকেট করে রাখে।
তবে হ্যাঁ বেশিদিন প্যারাফিন খেলে কিছু ভিটামিন শরীরে আর ঢোকে না।
সেই ভিটামিন গুলো প্যারাফিনের সাথে মিশে শরীরে না ঢুকে বেরিয়ে যায় সোজা পটিতে।
- বলিস কি? ওষুধের এত সাইডএফেক্ট?
- শোন পিসি সব ওষুধের সাইড এফেক্ট আছে।
অনেকসময় ঠাট্টা করে বলা হয়, যে ওষুধের কোন সাইডএফেক্ট নেই সেই ওষুধের এফেক্টও নেই।
- কি দিনকাল পড়ল বল ! কোন ওষুধ এমন নেই যে একটু নিশ্চিন্তে খাওয়া যাবে।
- ল্যাকটুলোজ বলে একটা ওষুধ আছে অবশ্য, যার সাইড এফেক্ট বেশ কম।
এমনকি লিভারের মত জিনিস পুরো খারাপ হয়ে গেলেও ল্যাকটুলোজ খাওয়া যায়।
ল্যাকটুলোজ সিরাপ বেশ দামী। আর খেতেও হয় অনেকটা করেই। অনেকেই এর প্রচন্ড মিষ্টি স্বাদ ভালোবাসেন না। অনেক ডায়াবেটিসের রোগীও ভয়ে ল্যাকটুলোজ খান না পাছে সুগার বেড়ে যায়। তাদের নিশ্চিন্তি করার জন্য আজকাল খাঁটি ল্যাকটুলোজ ওষুধের গায়ে লেখা থাকে ডায়াবেটিসের জন্য সেফ।
আজ অনেক বকবক হল পিসি। তুমি মনস্থির করে বল কোনটা তুমি খেতে চাও ! তোমার ওষুধ লিখে আমি বেরিয়ে পড়ি।
- একটু ভেজিটেবল চপ খেয়ে যা! বিট দিয়ে বানিয়েছি। একদম অথেন্টিক!
- পিসি তোমার জবাব নেই! তবে কাল সকালে লাল পটি হলে আবার ঘাবড়ে যেয়ো না যেনো। ও রং বিটের থেকে প্রাপ্ত।
- তোদের বাপু কোনো ঘেন্না পিত্তি নেই.. বসেছিস মানুষের পটির রংয়ের চুলচেরা বিচার করতে!
- বলছো কি পিসি! পটির রং দেখে সত্যিই বোঝা যায় বিপদ কত গুরুতর !
- পটি কি আবার রং চংয়ে হয় নাকি? একি এশিয়ান পেইন্টস! যত্তসব!
- দেখো পিসি এশিয়ান পেইন্টস এর সাথে তুলনা করলে এশিয়ান পেইন্টস কুপিত হতে পারে, তবে এটা ঠিকই সাদা থেকে লাল, যেকোনো রঙেরই পটি হতে পারে।
পটির রঙ সাধারণভাবে হলদেটে খয়রি হয়। কিন্তু পটির রঙ যদি বদলাতে থাকে তাহলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। অত্যন্ত জরুরী সেটা।
চেতনার রঙে যেমন পান্নার রং হয় তেমনি স্বাস্থ্যের রঙে বদলাতে পারে পটির রং।
খাবারের রং তো হরবখত রাঙিয়ে দিয়ে যায় পটিকে।
বাচ্চারা অনেক সময় চকলেট খেলে পটি হয় ঐরকম রঙের।
অনেক অনেক সবুজ শাকসবজি খেলে পটির রঙে আসতে পারে একটু সবজেটে আভা।
বিটের লাল পটির কথা তো আগেই বললাম।
কিন্তু যেটা অত্যন্ত মনে রাখা প্রয়োজন যে এই রঙের পরিবর্তনগুলো কিন্তু সাময়িক এবং এই রং এর সাথে যদি খাবারের কোন সংযোগ খুঁজে না পাওয়া যায় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের কাছে যাওয়া দরকার।
যেমন বিট খেলেও পটির রং লাল হয়, আর পটিতে রক্ত মিশলেও পটির রং লাল হয়।
কমোডের জল লাল হয় ।
পটিতে কখনওই রক্ত মেশার কথা নয়।
তবে হ্যাঁ, কখনো পাইলসের সমস্যার জন্য অনেক সময় পটিতে রক্ত মিশে থাকে।
তবে সে রক্ত পটির ওপরে প্রলেপের মত থাকে।
পটির সাথে মিশে নয় ।
কিন্তু অনেকদিন পটির সমস্যা হলেও ডাক্তারের কাছে যাওয়া দরকার।
কারণ অনেক সময় আমরা দেখতে পাই যে পাইলসের সমস্যা বলে উড়িয়ে দিলে পরেও কিছুদিন বাদে আবিষ্কার হয় কোনো টিউমার।
যেখান থেকে বেরোনো রক্ত পটির রং কে করে দিচ্ছে লাল।
খাদ্যনালীর প্রান্তিক অংশ থেকে যদি রক্ত বেরোয় তাহলে পটির রং হবে লাল।
অপরদিকে, সেই খাদ্যনালীর উপরের অংশ থেকে যদি রক্ত বেরোয়, তাহলে সেই লাল রক্ত, মিটার মিটার পটির রাস্তার মধ্যে দিয়ে আসার সময় রং চেঞ্জ করে কালো আলকাতরা রঙের হয়ে যায়।
কমোডের সাথে আঠার মত লেগে থাকে এই আলকাতরা পটি।
তাই কালো পটি হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া দরকার। পাকস্থলীতে আলসার হলে পরেও এই কালো পটি হতে পারে।
- বাবা বলছিস কি! আমার তো চক্ষু চড়কগাছ। তবে বলে বসিস না যেন পটির রং সাদা হয়।
- আলবাত হয়। জন্ডিসের সময় চোখ হলুদ আর পটি সাদা হয়ে যায় । লিভার বা বাইল ডাক্ট এর কোনো সমস্যার জন্যও পটির রঙ হতে পারে একদম চীনেমাটির মত সাদা।
তবে শুধু রং নয় পিসি, পটি নিয়মিত হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে নজর রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন।
অনেকেরই অল্পবিস্তর পটির সমস্যা থাকে কিন্তু যে সমস্যায় কোষ্ঠকাঠিন্য আর পাতলা পায়খানা অল্টারনেট করে আসে সেই সেই সমস্যা ডাক্তারের কাছে দেখিয়ে ট্রিটমেন্ট করা ভালো।
এছাড়া যদি বহু চেষ্টা করেও যদি পটি নরম করা না যায় তাহলেও ডাক্তারের পরামর্শ বাধ্যতামূলক।
পটির সমস্যার সাথে যদি পেট ব্যথা থাকে বা বমির ভাব থাকে তা হলেও দেখিয়ে আসা উচিত ডাক্তারকে।
অনিয়মিত পটিকে নিয়মিত করা অত্যন্ত জরুরী দরকার।
পটির সমস্যা মুখ থেকে শুরু করে এনাল ক্যনাল পর্যন্ত খাদ্যনালীর যেকোনো সমস্যা থেকে হতে পারে, যার ট্রিটমেন্ট দরকার।
সাথে সাথে পটির রাস্তার বাইরেও অন্যান্য অনেক অঙ্গের সমস্যার ছদ্দবেশী বহিঃপ্রকাশ হয় পটির সমস্যা।
যেমন ডিম্বাশয়ের টিউমারের সমস্যা কিন্তু গাইনকলজিকাল সমস্যার বদলে অবাক করে প্রকাশ পায় পটির সমস্যা নিয়ে।
তাই দেরি না করে সমস্যা হলে ডাক্তারের কাছে একবার ঘুরে এলে মন্দ হয় না। হাজার হলেও শরীরে যদি কোন সমস্যা থাকে তাহলে তার আশু নির্ণয় করলে পরে চিকিৎসা তো আরো ভালো হয় আর তোমার হাতব্যাগ থেকে পয়সা খরচ অনেক কমে।
আর ঘেন্না-পিত্তির কথা বলছো?
জেনে রেখো, পৃথিবীর সবথেকে দামি কফি তৈরি হয় পটি থেকে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় থাকে সিভেট নামের এক বেড়াল। এই বেড়াল বন থেকে বেছে বেছে কিছু কফির বিন খায়। এই সিভেট বেড়ালের পটির রাস্তায় থাকে বিশেষ কিছু এনজাইম। যার ফলে ওদের গলাধঃকরণ করা কফির বিন পায় এক বিরল রাসায়নিক মাত্রা।
সিভেটের পটি থেকে খুঁজে পাওয়া সেই বিন থেকে তৈরি হয় বিশ্ব বিখ্যাত লাক্সারি কফি।
সেই Kopi Luwak কফির এক কাপের দামই কয়েক হাজার টাকা।
এইবার ভালো করে ভেজিটেবল চপ খাওয়াও দেখি! সাথে এক কাপ কড়া কফি!
যা বকালে আজ তুমি! উফফ
( শেষ )
সব পর্বের লিঙ্ক
#পটি (পর্ব-১ )
#পটি (পর্ব-২ )
#পটি (শেষ পর্ব )
This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice.
Search Tool : Potty Bowel Laxative Lactulose Dulcolax Laxative Isphagula Constipation Color Piles Bleeding PR Blood with potty Paraffin colon types of stool Bristol Stool Chart Vomiting Peristalsis Flatus Wind Fart water Rectum Anus Oesophagus small bowel large bowel Duodenum Jejunum Ileum
















