Wonder food: ফাইবার
ফাইবার! ভিটামিন, প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট মিনারেলের সাথে এখন যুক্ত হয়েছে খাবারের এই নতুন উপাদান। সুস্থতার নতুন খুঁজে পাওয়া চাবি !
ফাইবার বা রাফেজ আপনার খাবারের মধ্যে একটি প্রয়োজনীয় উপাদান যা, আসলে মানুষের কাছে বর্জ্য। আপনার শরীর এই ফাইবার হজম করতে পারে না এবং ব্যবহারও করতে পারে না। আর সেখানেই লুকিয়ে আছে এর গোপন সাফল্যের চাবি। কীভাবে থাকে ? জেনে নেব।
সাধারণত, আধুনিক দেশগুলিতে, আমাদের খাবারে সুস্বাস্থ্যের জন্য যতটা ফাইবার থাকা উচিত ততটা থাকে না। কিন্তু আমাদের প্রায়ই বলা হয় যে ফাইবার আমাদের জন্য ভাল এবং আমাদের আরও বেশি খাওয়া উচিত।
অনেকেই রেগুলার ফাইবার খান। পটিও হয় ভালো - তবে সেখানেই উপকারের শেষ নয় বরং শুরু।
কিন্তু খেতে চাইলেই কি খাওয়া যায়? অনেকেরই ফাইবার পছন্দ না। হাত ছাড়া হয়ে যায় ফাইবারের জীবনদায়ী গুণ।
হ্যাঁ, মুখে না বললেও আমরা জানি যে কিছু মানুষের বাওয়েল ধরে রাখার সমস্যা আছে। রাস্তায় বেরোলেই পটি হয়ে যায়। এদের পটির এমন সমস্যা থাকে যে ওনারা পটি চাপতে পারেন না। পটি পেলেই লিক হয়ে যায়। মেডিক্যাল ভাষায় বলে ফিকাল আর্জেন্সি।
তাদের পক্ষে বেশি ফাইবার খাওয়া, বাওয়েল সমস্যাকে আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে। খাবারের ফাইবার এই ধরনের মানুষদের পটিকে আরো বেশি নরম বানিয়ে দেয়।
ফাইবার নরমাল মানুষের বাওয়েলকে চাঙ্গা করতেও সাহায্য করে, এবং তাই ফিকাল আর্জেন্সি সমস্যার পেশেন্ট কে হঠাৎ হঠাৎ পটি করার জন্য টয়লেটে ছুটতে হতে পারে।
সাধারণ মানুষের এবং যাদের বেশি পটি বা পটি চাপার সমস্যা রয়েছে উভয়েরই ফাইবার সম্বন্ধে যথেষ্ট জ্ঞান থাকা দরকার। কারণ ফাইবারের জীবনদায়ী কিছু গুণ থাকে।
ফাইবার কি করে কাজ করে?
প্রথমে জেনে নেওয়া দরকার ফাইবার প্রধানত দুধরনের।
দুটোর কাজ আলাদা আলাদা।
ফাইবার দু ধরনের হয়, একটি জলে মিশে যায় এবং আরেকটি অদ্রবণীয়। ভেজিটেরিয়ান খাবারে এই দুই ধরনের ফাইবারেরই সংমিশ্রণ দেখা যায়।
আধুনিক বিজ্ঞানের পরামর্শ শুনতে হলে কোষ্ঠকাঠিন্য বা কনস্টিপেশনের চিকিৎসা এই দুই ধরনের ফাইবারের সংমিশ্রণে ভালো হয়। এবং এই দুই ধরনের ফাইবারের সংমিশ্রণ সর্বোত্তম উপশম দেয়। কারণ তাদের প্রত্যেকের বাওয়েলে আলাদা আলাদা ভূমিকা রয়েছে।
অদ্রবণীয় ফাইবার
যে ফাইবার গুলি জলে মিশে যায় না, সেই ফাইবারগুলি পটির রাস্তায় গিয়ে শরীরের বন্ধু ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণেও প্রায় না ভেঙেই থেকে যায়। তাই , এটি খুব কার্যকরভাবে জল ধরে রাখে, যা আপনার পটির ওজন বাড়াতে সাহায্য করে। পটি হয় ভালো।
দ্রবণীয় ফাইবার
অন্যদিকে জলে মিশে যাওয়া ফাইবার এনজাইম-উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়া দিয়ে কার্যকরভাবে ভেঙ্গে যায়। এই ব্যাকটেরিয়া প্রাকৃতিক ভাবেই আপনার কোলনে উপস্থিত থাকে।
যে ফাইবার গুলি খাবার ও জলের সঙ্গে মিশে যায় সেই ফাইবারগুলি শরীরে খানিকটা শক্তিও যোগান দেয়। পটির গ্যাস-ও এই বিপাকের (মেটাবলিজম) ফলাফল।
এটি আপনার কোলনে বন্ধু ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বাড়ায় এবং আপনার পটি ভারী হয়। মিশে যাওয়া ফাইবার একটি জেলের মতো পদার্থ তৈরি করে যা, বাওয়েলের অন্যান্য বর্জ্য পদার্থের সাথে মিশে পটিকে মসৃণ করে। পটি করতে সুবিধে হয়।
শুধু তাই নয় এই ধরনের ফাইবার কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানো এবং রক্তে গ্লুকোজের প্রবেশকে ধীরায়িত করে, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
আমার কনস্টিপেশন। আমার খাবারে কি ফাইবার রাখা উচিত?
দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর ফাইবার খেলে কোষ্ঠকাঠিনের সমস্যা থেকে ভালো থাকা সম্ভব। তবে তার সাথে যথেষ্ট জলও খাওয়া দরকার। তবেই ভালো কাজ হবে। নইলে যতই ফাইবার খাবেন, কাজ হতে চাইবে না।
(যদি আপনার কোন মেডিক্যাল কন্ডিশনের কারণে ডাক্তারবাবু আপনাকে ফাইবার খেতে বারণ করে থাকেন তবে আপনি ওনার সাথে পরামর্শ করে নিন)
আমার উল্টো, আমি পটি চাপতে পারি না। আমার খাবারে কি ফাইবার এড়ানো উচিত?
তবুও আপনাকে ফাইবার কম খাবার পরামর্শ দেওয়া মুশকিল। তার কারণ ফাইবার ছাড়া, খাবারগুলি হয়ে যায় অস্বাস্থ্যকর। কারণ ফাইবারের অনেক গুণ। তবে কোন খাবারগুলি খেলে আপনার পেটের উপসর্গের ওপর কেমন নিয়ন্ত্রণ হবে তা বুঝে ও জেনে নেওয়া, আপনার জন্যই ভালো।
একেক রকম মানুষের শরীর এক এক রকম ভাবে ফাইবারকে ব্যবহার করে এবং এই ফাইবার গুলি প্রত্যেকের শরীরে সব সময় একই ভাবে প্রতিক্রিয়াও করে না। আমাদের শরীর সবসময় একই ভাবে প্রতিক্রিয়া না। বিশেষ কোনো খাবার যদি আপনার পটি সমস্যা সৃষ্টি করে, তার জন্য আপনি ট্রায়াল করে দেখতে পারেন ওই খাবারটি বাদ দিলে
আপনার পটি ঠিকঠাক হচ্ছে কিনা।
তবে খুব বেশি অদ্রবনীয় ফাইবার জাতীয় খাবার যদি একান্তই আপনার শরীর সহ্য করতে না পারে, তবে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সেই খাবারগুলি আপনি এড়িয়ে যেতে পারেন।
তবুও হাল ছাড়বেন না। জলে মিশে যাওয়া দ্রবণীয় ফাইবার হয়তো আপনার শরীর সহ্য করে নেবে। দ্রবণীয় ফাইবারও যদি বন্ধ করতে হয় তবে ডাক্তারের সাথে নির্দিষ্ট এই সমস্যা নিয়ে কথা বলে নিন কারণ এর অনেক সুফল।
আমার পটির সমস্যা নেই, আমি কি করবো?
একজন সাধারণ মানুষের সারাদিনের খাবারের তালিকায় দৈনিক কিছু ফল এবং শাকসবজি রাখা উচিত। প্রাণিজ খাবারে ফাইবার খুব কমই থাকে।
যেহেতু খাবারে ফাইবার, সুস্থ খাবার এবং সুস্থ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, তাই খাবার থেকে ফাইবার বাদ দেওয়ার আগে ডাক্তারবাবুর সাথে কথা বলে নিন। কারণ এই ফাইবার আপনার ভবিষ্যতের রোগ নিরাময় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে রক্ষা করতেও সাহায্য করে।
আধুনিক গবেষণা জানায় যে খাবারের নিয়মিত ফাইবার ক্যান্সার প্রতিরোধ , এমনকি আমাদের স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে।
সোর্স
খাবারে সাধারণত দু ধরনের ফাইবারই একসাথে থাকে
অদ্রবণীয় ফাইবারের সোর্স:
পুরো-গমের আটা, , বাদাম, মটরশুটি এবং সবজি, যেমন ফুলকপি, সবুজ মটরশুটি, মিষ্টি আলু, আপেল (ত্বক সহ) , এপ্রিকট (ত্বক সহ), আম, বার্লি, বাদামী চাল,গমের ভুসি যবের ভুসি, ওটমিল, কুইনোয়া, হোলগ্রেন পাস্তা, আলমন্ড বাদাম, রাজমা , মসুর ডাল, তিল বীজ, আখরোট
দ্রবণীয় ফাইবারের সোর্স
মিষ্টি আলু, ব্রকলি, শালগম, নাশপাতি, গাজর, কলা, ওটমিল, চিনাবাদাম, ব্রাসেলস স্প্রাউটস, অ্যাভোকাডো
This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice.
আরও জেনে নিতে পারেন:
https://bebodywise.com/blog/fiber-rich-foods-in-india/
https://blog.decathlon.in/articles/fiber-rich-foods-for-a-healthy-diet
যদি মিস করে থাকেন তবে পড়ে নিন এখানকার আরও কিছু পোস্ট:
♥️ ফাইব্রয়েড ঘরে ঘরে - কি সতর্কতা নেবেন?
♥️ বাড়িতে ব্লাড প্রেসার মাপার নিয়ম কানুন
Search tool: Fiber Roughage Immunity Bowel Fiscal Agency Constipation






