ভ্যাকসিন -অতীত ও ভবিষ্যৎ (পঞ্চম ও শেষ পর্ব)
কলকাতার কাঁঠালবাগান বস্তিতে কলেরা টিকা নিয়ে গবেষণা করতে শুরু করেন ইউক্রেনের ডাক্তার হ্যাফকিন। বাকি টা ইতিহাস (আগের পর্বের লিংক নিচে দেওয়া রইল )
বিজ্ঞানের হাত ধরে যেমন টিকার পদ্ধতি উন্নততর হয়েছে ঠিক তেমনি টিকার হাত ধরে বিজ্ঞান গবেষণাও অনেক সাবালক হয়েছে। হ্যাফকিন সাহেব যখন ভারতবর্ষে এসে কলেরা টিকা নিয়ে গবেষণা করতে শুরু করেন তখন তিনি কলকাতার কাঁঠালবাগান বস্তিতে এক আধুনিক পদ্ধতিতে গবেষণা করেছিলেন।
যাঁদের অসুখ হবার ঝুঁকি ঠিক একইরকম, এরকম বিভিন্ন বয়েসের মানুষের একদল কে টিকা দেওয়া হলো আর ঠিক সেইরকমই এক দলকে দেওয়া হল না। দুইদলকেই লিপিবদ্ধ করে পরের কয়েকমাস তাঁর রিসার্চ টিম তাঁদের জীবনযাত্রা, গতিবিধি, খাওয়া, পানীয়র উৎস এসব পুঙ্খানুপুঙ্খ লিপিবদ্ধ করে বিশ্লেষণ করেন টিকা আদৌ কার্যকরী কিনা, সাফল্য কত আর তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার হার-ই বা কত ইত্যাদি।
সেই পদ্ধতি আজও নতুন টিকার কার্যকারিতা বিচারের জন্য ব্যবহার হয়। হ্যাঁ, এমনকি আধুনিক করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন এর জন্যও এই হ্যাফকিন সাহেবের গবেষণা পদ্ধতি ব্যবহার হয়েছে। প্যারিসের পাস্তুর ইনস্টিটিউট থেকে ইউক্রেনের ডাক্তার হ্যাফকিনকে পাঠানো হয়েছিল ইন্ডিয়াতে কলেরা রোগ নির্মূল করার জন্য। অধুনা মুম্বাইয়ের প্যারেলে হ্যাফকিন ইনস্টিটিউট এখনো টিকা গবেষণার পীঠস্থান।
টিকার এখনো অনেক পথ পেরোনো বাকি। গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া কিভাবে ভ্যাকসিন দেওয়া যেতে পারে তা এখনো বিজ্ঞান পুরোপুরি আয়ত্তে আনতে পারেনি। যে কোন টিকা দেওয়া হলে এখনো দশকের পর দশক গবেষণা চলে যে, সেই টিকা অদূর ভবিষ্যৎ এবং সুদূর ভবিষ্যতে মানুষকে প্রতিকূল ভাবে প্রভাবিত করছে কিনা। অনেক টিকাতে মৃত্যু হতে পারে। হতে পারে বিবিধ নার্ভের অসুখ সহ গুলেন বারী (Guillain-Barre syndrome) বলে এক ধরনের পঙ্গুত্ব। কিন্তু মোটের উপরে এই ধরনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার হার, যে অসুখের জন্য টিকা, সেই অসুখের থেকে মৃত্যুর সম্ভাবনা থেকে অনেক অনেক কম।
টিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও কম নয়। কেনিয়াতে ৯০এর দশকে WHO এর দেওয়া আমেরিকান টিটেনাস টিকার মধ্যে জন্মনিরোধক রাসায়নিক মিশিয়ে দেবার সন্দেহের রেশ এখনো থিতিয়ে যায়নি। সাধারণ মানুষ হিসেবে বিশ্বাস করতে চাই সেসব দাবি মিথ্যে। এই সব অনেক কারণে টিকা-দ্বিধা (vaccine hesitancy) নিজেই একটা বড় সমস্যা।
এছাড়াও আরও অনেক ধরনের নৈতিক বিতর্ক রয়েছে টিকা নিয়ে। যেমন, রাষ্ট্র কি চাইলেই যেকোন শিশুকে যেকোনো টিকা দিয়ে দিতে পারে? আমরা কি একে একে মাত্রাতিরিক্ত টিকার বোঝায় ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ছি? যে টিকার সাফল্য খুব কম বা যে জীবাণু বছরে বছরে তার রূপ পাল্টায় যেমন ফ্লু ---তার টিকা আমাদের প্রতি বছর নিতে হয়। কিন্তু এর কি কোন সুদূর প্রসারী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে? সচেতন বিজ্ঞান এখনো এর উত্তর খুঁজে চলেছে।
তবে তার সাথে চাই মানুষের দায়িত্ববোধ যাতে অরণ্যের গুহা, সমুদ্রের গভীরতা, মহাবিশ্বের অন্ধকার বা বিশ্বমানের ল্যাবরেটরির নিরাপত্তা ভেদ করে অতিরিক্ত আর কোন নতুন অসুখ আমাদের আক্রমণ না করতে পারে। অন্বেষণের মাত্রাহীন উল্লাসে যেন আমরা নিশ্চিহ্ন না হয়ে যাই।
একথা অনস্বীকার্য যে টিকার ভূমিকা মানব সভ্যতায় অপরিসীম। শুধু আমার আপনার স্বাস্থ্য নয়। মানব সভ্যতার ভবিষ্যৎ দাঁড়িয়ে আছে টিকার সাফল্যের ওপর। প্রতিবেশী দেশের সাথে যুদ্ধজয়ের থেকেও বেশি দরকার টিকার গবেষণায় যথেষ্ট সরকারি তহবিল আর রাষ্ট্র ও রাজনীতির খাঁটি অনুপ্রেরণা। পসিটিভ অবসেশন (এর বাংলা প্রতিশব্দ আমার জানা নেই ) আর ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা না থাকলে নতুন কিছু করা যায় না।
তাই আমরা দেশ জুড়ে ফোনের রিং টোনে শুনতে চাইনা নতুন অসুখের টিকা 'Totally safe' । আমরা চাই নির্ভরযোগ্য নেতার অকপট উক্তি যে 'ঝুঁকি শূন্য কিছু হয় না। তবু আপনারা টিকা নিন, কারণ অসুখের ঝুঁকি , টিকার ঝুঁকি থেকে অনেক বেশি’। টিকা নিয়ে দেশ, দশ আর আপনার অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎকে আপনিই পারেন রক্ষা করতে।
আশা রাখতে ক্ষতি কোথায় যে সত্যি কথা সহজ ভাবে বললে, নাগরিকরা সাবালক হয়েই আরো বেশি করে শান্ত ভাবে টিকা নেবেন। বাড়বে দায়িত্ববোধ।
ভারতের জনমানসে কোন পদ্ধতি বা ওষুধের অন্তর্নিহিত ঝুঁকিকে জটিলতা হিসেবে দেখানো হয়। আর জটিলতাকে নিশ্চিতভাবে দেখানোর চেষ্টা চলে অবহেলা ও অপরাধ হিসেবে। এই মিথ্যা অনুভবকে মিডিয়া বা নেতা কেউই সংশোধন করার খুব চেষ্টা করেন বলে মনে হয় না। চিকিৎসক বা গুনীজনেরা অনেকসময় সঠিক বাৰ্তা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা মহাসিন্ধুতে বিন্দু।
অথচ একজন চিকিত্সক হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা বলে মানুষকে আন্তরিক ভাবে বোঝালে মানুষ বোঝে। চিকিত্সার সময় প্রিয়জনকে হারানোর ঝুঁকি মেনে নিয়েই মানুষ চিকিত্সার পথে হাঁটেন।
ঝুঁকি না নিলে বিজ্ঞানী / ডাক্তার আবিষ্কার করতে পারবেন না যুগান্তকারী কোনো ওষুধ। আবার এদিকে নিজেকে নিয়ে ঝুঁকি নেবার ক্ষমতা না থাকলে রুগী / রোগিনী কোনো ভালো চিকিৎসা নিতেই পারবেন না। তবে ঝুঁকি যেন লুকিয়ে, চাপিয়ে না দেওয়া হয়। এক হাসপাতালে ঝুঁকির কথা বললে, রুগী যে হাসপাতালে ঝুঁকি লুকিয়ে চিকিৎসা চলছে তিনি চলে যাবেন সেই দিকেই।
অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে ? মেডিকেল সাইন্স ছেড়ে দিন, একটা নির্দিষ্ট পরিমান ঝুঁকি না নিলে আপনি রাস্তা পেরিয়ে বা ওলা / উবের চেপে বাড়িও পৌঁছতে পারবেন না। ঝুঁকি কোনোদিনও শূন্য হবে না। হ্যাঁ , আমি যথেষ্ট ওয়াকিবহাল না থাকলে মিথ্যে মনে হতে পারে যে ঝুঁকি নেই। কিন্ত তা মিথ্যে।
রাষ্ট্রশক্তি, আদালত, হাঙ্গামা দিয়ে ডাক্তার/ বিজ্ঞানীদের মাথায় আইন- শাসনের বন্দুক ঠেকিয়ে চিকিৎসা করতে দিলে আজকে গায়ের ঝাল মিটতে পারে। কিন্তু কাল, পরশু, তরশু সেই দেশই পিছিয়ে পড়বে। কারণ আজকের সদ্য গোঁফ ওঠা ছেলে এই হেনস্থার খবর পড়বে টিভিতে ফেসবুকে। তারপরে সুযোগ পেলেই সেই সব নবীন প্রতিভা চলে যাবে বিদেশে। বিদেশের ইউনিভার্সিটি সাদরে আলিঙ্গন করবে তাঁদের। ১৩০ কোটির দেশে একজনও কি বিজ্ঞানী নেই যিনি টিকা আবিষ্কার করতে পারতেন না ? আমি তা মনে করি না।
সুচতুর ভাবে, তিলে তিলে আমাদের প্রতিভা এবং দেশের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। তারপর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লে, পেট্রল ডিজেলের দাম বাড়িয়ে তহবিল জোগাড় করে বিদেশী প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরী হওয়া টিকা গাঁটের কড়ি খরচা করে কিনে আনতে হবে। আর নাভিশ্বাস উঠবে সাধারণ মানুষের। কারণ, সেই পেট্রল পুড়িয়েই দোকানে বাড়িতে আসে সর্ষের তেল আর মুসুর ডাল। মেডিকেল রিসার্চে রাষ্ট্রের অনীহা আর দূরদৃষ্টিহীনতার ফল এসে টান ধরায় আমাদের ভাঁড়ারে। মধ্যবিত্তের পকেটে।
বেশিরভাগ টিকার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিন্তু ১০০% থেকে অনেক কম। তবুও সবাইকে দিতে পারলে, সামগ্রিক সাফল্য ব্যক্তিগত স্তরে টিকার সাফল্যের থেকে অনেক বেশি আশাব্যঞ্জক। তার কারণ হার্ড ইমিউনিটি। এই মায়াময় ডাক্তারি ধারণা কিন্তু কল্পলোকের গল্প নয়।
যখন কাউকে টিকা দেওয়া হচ্ছে , তখন সেই মানুষটি (তাঁর নাম ধরুন 'ক') সেই অসুখের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ভাবে খানিকটা প্রতিরোধ শক্তি পাচ্ছেন। টিটেনাস টিকা ছাড়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্ষেত্রে টিকার ব্যক্তিগত প্রতিরোধ ক্ষমতা ১০০% এর অনেক কম। এবার দেখুন, 'ক' অটোরিকশায় বসে অফিস যাচ্ছেন , পাশে আছেন 'খ', এবার ক এর যেহেতু বড়ো অসুখ হলো না, ক হাঁচলেন না, কাশলেন না। নাক মুছে সেই হাত দিয়ে অটোরিকশার হাতল ধরে নামলেন না। এদিকে খ টিকা নেবেন না পণ করেছেন। তবুও খ এযাত্রায় রক্ষা পেলেন। তাহলে দেখুন খ , টিকা না নিয়েও খানিকটা সুরক্ষা পেলেন। অর্থাৎ, ক এর সুরক্ষা খানিকটা খ পেলেন - স্রেফ একসমাজে আছেন বলে। দশ হাজার ক যদি টিকা নেন তবে ব্যক্তিগত ভাবে নিজে অসুখ থেকে রক্ষা না পেলেও সামাজিক ভাবে অনেককে রক্ষা করবেন আর তার সাফল্য নিজেও পাবেন অপ্রত্যক্ষ ভাবে। একেই বলে হার্ড ইমিউনিটি।
এদিকে ‘খ’ প্রচন্ড খাদ্যরসিক। ইলিশ না খেলে মন ভরে না। খ এবার বাজারে গেলেন। গ এর থেকে মাছ কিনলেন। গ কিন্তু টিকা নিয়েছেন। টিকা না নেওয়া 'ঘ' আবার ‘গ’ এর থেকে মাছ কিনে তাঁকে টাকা দিয়েছেন। সেই টাকার থেকে খ ১০ টাকার একটা নোট পেলেন। বুক পকেটে টাকা ঢুকিয়েই মনে হলো নাক সুরসুর করছে। নাকটা একটু ডলে নিতেই খ এর নাক দিয়ে সংক্রমণ প্রবেশ করলো নিজের শরীরে। সেখান থেকে খ এর বাবা মা আর মেয়ে পেলেন সংক্রমণ। এদিকে খ এর টিকা নেওয়া থাকলে আর সে টিকা পুরোপুরি সফল না হলেও হয়তো খ এর হাঁচি কাশি কম হতো আর খ এর বাড়ির লোকজন সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতেন।
এই উদাহরণে, এদিন 'ক' থেকে 'খ' বেঁচে গেলেও, টিকা না নেওয়া 'খ' কিন্তু নিজের বাড়ির লোককে পুরোপুরি রক্ষা করতে পারলেন না।
তাই নাগরিক সমাজের এক বৃহৎ অংশকে টিকা না দেওয়া হলে ভালো হার্ড ইমিউনিটি হবে না। টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি আর টিকা পুরোপুরি কাজ করবে না জেনেও চলুন টিকা নিয়ে নি সবাই। গণ হিস্টিরিয়াতে গণেশ কে দুধ খাইয়েছি আমরা। এবার সময় কিছু ধণাত্মক টিকা-হিস্টিরিয়ার। আর সাথে চলুক রাষ্ট্রের ওপর নিরন্তর চাপ।
যাতে মেডিকেল রিসার্চের বরাদ্দ বাড়ে। যাতে জনসচেনতা এতটাই বাড়ে যে বাজার ফেরত ১০ টাকা আমরা দিতে পারি আমাদের জেলার স্বাস্থ্য গবেষণাগারের তহবিলে। যাতে কেন্দ্রীয় গবেষণাগারগুলোর মুষ্টিমেয় বিজ্ঞানীদের অহং আর লবিবাজিকে হারিয়ে প্রতি জেলা হাসপাতালে তৈরী হয় রিসার্চ ইউনিট। সম্মান পান তৃণমূল স্তরের গবেষকরাও। যাতে মুম্বাই-কলকাতার ছেলেকে কাজ করার জন্য ম্যাসাচুসেটস এ স্বেচ্ছা নির্বাসন না নিতে হয়।
রাজনীতিবিদদের সর্বপ্রথম লক্ষ্য হোক মানুষের স্বাস্থ্য, স্বাচ্ছন্দ্য এবং শিক্ষা। ভারতের বিশাল জনসম্পদকে কাজে লাগানো হোক। প্রার্থনা থাকুক, যাতে এর পরের অতিমারী, মহামারী আর ক্যান্সারের ওষুধ যেন আসে কোচবিহার বা বিহারের ছাপড়া জেলার গবেষণাগার থেকে।
আমার কথাটি ফুরোলো, তবে নটে গাছটি না মুড়োলেই মঙ্গল।
— -------------
টিকা -অতীত ও ভবিষ্যৎ
◉ প্রথম পর্ব https://drmanas.substack.com/p/346
◉ দ্বিতীয় পর্ব https://drmanas.substack.com/p/366
◉ তৃতীয় পর্ব https://drmanas.substack.com/p/1aa
◉ চতুর্থ পর্ব https://drmanas.substack.com/p/aa9
◉ পঞ্চম ও শেষ পর্ব https://drmanas.substack.com/p/261
— ---------
Some of the references:
https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC1200696/
https://en.wikipedia.org/wiki/Timeline_of_human_vaccines
https://www.cdc.gov/training/quicklearns/biosafety/
https://www.cdc.gov/labs/BMBL.html
CDC_AA_refVal=https%3A%2F%2Fwww.cdc.gov%2Fbiosafety%2Fpublications%2Fbmbl5%2Findex.htm
Kenya dispute
https://www.scirp.org/Journal/PaperInformation.aspx...
https://www.huffpost.com/.../kenya-catholic-tetanus...
https://www.ijvtpr.com/index.php/IJVTPR/article/view/3/11
https://www.skepticalraptor.com/skepticalraptorblo.../about/
Cervical cancer alarms
Arbyn M, Weiderpass E, Bruni L, et al. Estimates of incidence and mortality of cervical cancer in 2018: a worldwide analysis. Lancet Glob Health. 2020;8(2):e191-e203. doi:10.1016/S2214-109X(19)30482-6
SUBA, Eric J US-funded measurements of cervical cancer death rates in India: scientific and ethical concerns. Indian Journal of Medical Ethics, [S.l.], v. 11, n. 3, p. 167, nov. 2016. ISSN 0975-5691. Date accessed: 18 Jun. 2021.
This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice.
Search tool: vaccine tika








