ভ্যাকসিন -অতীত ও ভবিষ্যৎ (প্রথম পর্ব)
সেই শিশি চুরি হয়ে গিয়ে মাত্রাহীন স্মলপক্স সংক্রমণ শুরু হয়ে গেলো অস্ট্রেলিয়ান আদিবাসীদের মধ্যে। প্রথম পর্ব (বাকি পর্বের লিংক নিচে দেওয়া রইল )
ইংল্যান্ডে ফেরার ছুটির মঞ্জুরি আসতে আসতে পাক্কা দু বছর। সার্জন জেনারেল জন হোয়াইটের মন খারাপ। বেশ খারাপ।
ভালো করতে গিয়ে শুধু খারাপই হচ্ছে কেবলি। বহু খুঁজে শিশিতে স্মল পক্সের পুঁজ নিয়ে এসেছিলেন চিকিৎসার জন্য , সেটাও বেহাত হয়ে গিয়ে হাজার হাজার অস্ট্রেলিয়ান আদিবাসী স্মল পক্সের অতিমারীতে পুরো নিকেশ। কতিপয় যাঁরা স্মলপক্স সামলে উঠলেন তাঁরা মরলেন টিবি , হাম , আর ইনফ্লুয়েঞ্জায় । গ্রাম কে গ্রাম নিশ্চিহ্ন।
করোনা ভাইরাসের ইনফেকশন ফ্যাটালিটি রেট 'মাত্র' ১.৪% - আর তাতেই এই হাহাকার। স্মলপক্সের মারণ ক্ষমতা অভাবনীয়। ইনফেকশন ফ্যাটালিটি রেট ৩০ শতাংশ পর্যন্ত। Infection Fatality Rate হলো এক সংখ্যাতত্ত্বের হিসেবে। একটা নির্দিষ্ট সময়ে ১০০ জনের ইনফেকশন হলে যতজন মারা যান তাকে বলে ইনফেকশন ফ্যাটালিটি রেট। তবে জলাতঙ্ক আর ইবোলা ভাইরাস এর ইনফেকশন ফ্যাটালিটি রেট আরো বেশি, ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ। আর বাচ্চাদের যদি স্মলপক্স হয় তাহলে প্রতি দুজনে একজন মায়ের কোল থেকে হারিয়ে যাবে। তাই আশ্চর্যের কিছু নেই যে ডাঃ হোয়াইট শিশিতে পুঁজ নিয়ে এসেছিলেন কচিদের বাঁচাতে।
ইংল্যান্ডের মতো ছোট্ট দেশে জেলে আর জায়গাই বা কতটুকু। তাই কুখ্যাততম অপরাধীদের নিয়মিত নির্বাসন দেওয়া হতো আমেরিকায়। ১৭৮৫ এর আমেরিকান রেভলিউশন যুদ্ধের পর আমেরিকা বিলিতি অপরাধী নিতে বেঁকে বসলো। লোক লস্কর আর ইংল্যান্ডের জেল উপচে পড়া অপরাধীদের হাজার দেড়েকের এক দল নিয়ে আড়াইশো দিন জাহাজে পাড়ি দিয়ে জন হোয়াইট এলেন অস্ট্রেলিয়ায়। ১৭৮৮-এ সেই প্রথম অস্ট্রেলিয়াতে শেতাঙ্গদের কলোনি শুরু। আর যে নৌবহরে তারা এল তার নাম বিখ্যাত ফার্স্ট ফ্লিট (The First Fleet) ।
জন হোয়াইটের ইচ্ছে ছিল নির্বাসিত কুখ্যাত অপরাধীদেরও যাতে সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনা যায় তার প্রচেষ্টা করার।
এমনকি অপরাধীদের যদি ছানাপোনা হয় তাদের স্মলপক্স থেকে বাঁচানোর জন্য কাঁচের শিশিতে পুঁজ ছিল এক গোপন কুঠুরিতে। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। সেই শিশি চুরি হয়ে গিয়ে মাত্রাহীন স্মলপক্স সংক্রমণ শুরু হয়ে গেলো অস্ট্রেলিয়ান আদিবাসীদের মধ্যে।
শেতাঙ্গদের মধ্যেও সংক্রমণ হলো কিন্তু তাঁরা তখন স্মলপক্সের প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে ইংল্যান্ড থেকে এসেছেন। যা চাইলেন হলো তার উল্টো। দুঃখ পরিণত হলো ক্রোধে। শাপশাপান্ত করতে করতে ইংল্যান্ডে ফিরে এলেন ১৭৯৪ এ।
এর ঠিক ২ বছর বাদে ১৭৯৬ এ এডওয়ার্ড জেনার আবিষ্কার করলেন স্মলপক্স ভ্যাকসিন।
পৃথিবীর প্রথম ভ্যাকসিনের স্বীকৃতি ওনারই মেলে। জন হোয়াইটের সাথে জেনারের যোগাযোগ ছিল কিনা জানা নেই। কিন্তু ইনোকুলেশন বা পুঁজ / ঘায়ের থেকে নেওয়া অংশ সুস্থ মানুষের দেহে প্রবেশ করিয়ে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর প্রচলনের উল্লেখ পাওয়া যায় দশম শতাব্দীর চিনে। স্মলপক্সের জন্য বহুল প্রচলিত এই চৈনিক প্রচলনকে (variolation ) পাশ্চাত্যের দরবারে প্রথম পরিচয়ের কৃতিত্ব ডাঃ মার্টিন লিস্টারের। ১৭০০ সালে রয়েল সোসাইটিতে। তিনি তখন চীনের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ‘সামান্য’ কর্মচারী। যা হয় - সেরকম পাত্তা পেলেন না।
এদিকে সিল্ক রুটের ব্যবসায়িক পথ ধরে ইনোকুলেশন চলে এসেছে কনস্টান্টিনোপলে ( অধুনা ইস্তানবুল) সেখানে এই চিকিৎসা নজরে আসে লেডি মেরী মন্টেগুর । তৎকালীন ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের আধুনিকা স্ত্রী বিদূষী লেডি মন্টেগু অভিজাতমহলে জনসংযোগে পারদর্শিনী। না খারাপ ভাবে নেবেন না - জনসংযোগ তখনও কর্পোরেট বিশ্বের নোংরা হাতিয়ার হয়ে ওঠেনি।
লেডি মেরী মন্টেগুর কলমের খোঁচায় ডাঃ লিস্টারের প্রাথমিক প্রচেষ্টার বছর ১৭ পরে ঘুম ভাঙে ব্রিটেনের। এদিকে তদানীন্তন প্রিন্সেস অফ ওয়েলস ক্যারোলিনা উইলহেলমিনা তাঁর বাবাকে হারিয়েছিলেন ছোট্ট বয়েসে। মৃত্যুর কারণ স্মলপক্স। ক্যারোলিনার নজরে আসে লেডি মন্টেগুর সেই বার্তা । তিনি আর লেডি মন্টেগু মিলে শুরু করেন ভ্যারিওলেশনের গবেষণা ব্রিটেনের কারাবন্দি আর পথশিশুদের ওপরে। তখন ১৭২১ সাল।
(ক্রমশঃ)
টিকা -অতীত ও ভবিষ্যৎ
◉ প্রথম পর্ব https://drmanas.substack.com/p/346
◉ দ্বিতীয় পর্ব https://drmanas.substack.com/p/366
◉ তৃতীয় পর্ব https://drmanas.substack.com/p/1aa
◉ চতুর্থ পর্ব https://drmanas.substack.com/p/aa9
◉ পঞ্চম ও শেষ পর্ব https://drmanas.substack.com/p/261
This is an impartial , unsponsored health information. For public awareness and not a replacement of Medical Advice.
Search tool: vaccine tika










Very informative piece!
Today, could pacify my mind, and read this